কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানের গুলিতে ভারতীয় সেনা নিহত, অফিসারসহ আহত ২

ভারতের বিভিন্ন সীমান্তে পাকিস্তান ও চীনের সৈন্যদের সঙ্গে নিয়মিত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে ভারতীয় সেনারা। আর এতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা পরাজিত হন। এবার ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানি বাহিনীর গোলায় এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন।

আহত হয়েছেন এক অফিসারসহ আরও দুজন। মঙ্গলবার রাজৌরি জেলার নিয়ন্ত্রণ রেখায় এই গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে জানায় এই সময়।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রথমে অফিসারসহ তিন সেনা জওয়ানের আহত হওয়ার কথা জানানো হয়। পরে রাতের দিকে আহত এক জওয়ান হাসপাতালে চিকিত্‍‌সাধীন অবস্থায় মারা যান।

ভারতীয় সেনা সূত্রের দাবি, এদিন রাজৌরির সুন্দরবনি সেক্টরে গোলাগুলি শুরু করে পাকিস্তান। ছোট আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি করার পাশাপাশি মর্টারশেলও ছোড়া হয়।

এতে এক অফিসারসহ তিনজন আহত হন। পরে এক জওয়ানের মৃত্যু হয়। বাকি দুজন এখনো সেনা হাসপাতালে চিকিত্‍‌সাধীন রয়েছেন।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি গোলায় জম্মু-কাশ্মীরে আট ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২ জন। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক সীমান্তে আহত হয়েছেন বিএসএফের আরও পাঁচ জওয়ান।

ইসরাইলের ফাঁদে আরবরা, আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিলিস্তিন

মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সঙ্গে দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সুসম্পর্কের হুমকি মোকাবিলায় সব দ্বন্দ্ব ও মতবিরোধ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে নির্যাতিত রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো।

ইসলামের শত্রু হিসেবে পরিচিত ইহুদি সেনাদের হানায় বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরের মধ্যে সব বিরোধ মিটিয়ে সমঝোতা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র!

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের নেতারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কোন্নয়নের চুক্তি করবেন। তাদের এ উদ্যোগে হুমকিতে পড়েছে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে আরব বিশ্বের দীর্ঘ দুই দশকের দাবি। এমন পরিস্থিতিতে গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধকরণে সম্মত হয়েছে হামাস ও ফাতাহ-এর নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো।

মঙ্গলবার বিবৃতির মাধ্যমে তারা জানিয়েছে, গাজা ও পশ্চিম তীরে ‘ক্রোধের দিন’ পালনের পরিকল্পনা করছে ফিলিস্তিনিরা। এছাড়া বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের দূতাবাসগুলোর বাইরেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

ফিলিস্তিনি দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এ ঘোষণার মাত্র সপ্তাহ দুয়েক আগেই গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া, ইসলামিক জিহাদের প্রধান জিয়াদ আল-নাখালাসহ বেশ কয়েকটি দল এবং গোষ্ঠীর নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক।

হামাসসহ ফিলিস্তিনের অন্য দলগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ বৈঠকের। কিন্তু প্রথমে আগের একতা চুক্তি মেনে চলার দাবি জানিয়ে এ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করছিলেন মাহমুদ আব্বাস। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল-আরব ঐক্যের চাপে অবশেষে মত বদলেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট।

ফিলিস্তিনি ঐক্যের বিশাল অগ্রগতি

হামাসের পলিটিকাল ব্যুরোর অন্যতম সদস্য হুসাম বাদরান মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, বেশ কয়েকটি বিষয় ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধ হতে তাগিদ দিচ্ছিল। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি করা ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভূমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা এবং ফিলিস্তিনের জনগণের পিঠে ছুরি মেরে ইহুদিদের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্কোন্নয়ন।

তিনি বলেছিলেন, আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের কারণে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা, শক্তি জোরদারকরণ এবং নিজ স্বার্থরক্ষায় সব মতপার্থক্য নিষ্পত্তি আবশ্যক হয়ে উঠেছে।

ফিলিস্তিনি নেতাদের বৈঠকে তিনটি কমিটি করা হয়েছে। প্রথমটির কাজ ইসরায়েলি দখলদারিত্ব প্রতিরোধে ফিলিস্তিনের মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধকরণ, দ্বিতীয়টির কাজ গাজা ও পশ্চিম তীরের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং তৃতীয়টিকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা সংঘ (পিএলও) পুনরুজ্জীবিতকরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমিটিগুলোকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ জানাতে পাঁচ সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। মাহমুদ আব্বাস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সুপারিশ যা-ই হোক না কেন তিনি সেগুলোতে সম্মতি দেবেন।

হামাস-ফাতাহ পুনর্মিলন

২০০৭ সালে গাজা থেকে ফাতাহের নিরাপত্তা বাহিনীকে হামাস পদচ্যুত করার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বেশ কয়েকবার বিরোধ মেটানোর চেষ্টা হলেও তা শেষপর্যন্ত সফল হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

ফাতাহের মুখপাত্র ইয়াদ নাসের বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ ও স্বার্থ যেসব হুমকি বা বিপদের মুখে পড়েছে সেগুলোই কমিটি গঠন এবং জনসম্পৃক্ত প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এই অগ্রগতি অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছে। নাসের বলেন, বিরোধ মেটানোর এ প্রচেষ্টায় তার দল যথেষ্ট আশাবাদী।

ইসরায়েলকে প্রতিরোধ

গত এক দশকের মধ্যে হামাস-ফাতাহের বিরোধ নিষ্পত্তিতে এবারের অগ্রগতি দেখে আশায় বুক বাঁধছেন ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষজন।

দল দু’টির যৌথ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই পশ্চিম তীরে জনসম্পৃক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার অন্যতম উদ্যোক্তা এবং ফাতাহের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব জিবরিল রাজৌব বলেছেন, ফিলিস্তিনি দলগুলো ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার নিয়মগুলোতে পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে। আমরা দখলদারদের একটা জলপাই গাছও উপড়ে ফেলতে দেবো না বা বিনামূল্যে একজন ফিলিস্তিনিকেও আহত করতে দেবো না।

সূত্র: আল-জাজিরা

কলঙ্কজনক চুক্তির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জাতি অভিন্ন অবস্থান নিয়েছে: হামাস

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের পলিটব্যুরো প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে কিছু আরব দেশের সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি ফিলিস্তিনি জনগণ কখনো মেনে নেবে না।

তিনি গতকাল (মঙ্গলবার) ফিলিস্তিনের স্বশাসিত সরকারের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে এ সংকল্প ব্যক্ত করেন।

ইসমাইল হানিয়া বলেন, তেল আবিবের সঙ্গে কিছু আরব দেশের কলঙ্কজনক চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো অভিন্ন অবস্থান নিয়েছে এবং তারা ফিলিস্তিনি জাতির বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণকারীদের মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

টেলিফোনালাপে মাহমুদ আব্বাস বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ যখন ইহুদিবাদী ইসরাইলকে শত্রু মনে করছে তখন তেল আবিবের সঙ্গে যেকোনো ধরনের চুক্তি বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

গতকাল (মঙ্গলবার) ফিলিস্তিনের মজলুম জাতি তথা গোটা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তি সই করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আবাসিক দপ্তর হোয়াইট হাউজে চুক্তিতে সই করেন আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আলে নাহিয়ান এবং বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রাশেদ আল যিয়ানি।মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসার দখলদার ইসরাইলের পক্ষে চুক্তিতে সই করেছেন বর্ণবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

সূত্র: পার্সটুডে

ইসলামের শত্রু ইসরাইলকে কখনো বন্ধু না বানানোর হুঁশিয়ারি কাতারের

কথিত মুসলিম রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলেও এমন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কাতার।

দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান হতে পারে না সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ। উপসাগরীয় অন্যান্য আরব দেশের মতো কাতার ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ললওয়াহ আল-খাতের বলেন, আমরা মনে করি না এই সংকটের মূলে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ রয়েছে। তাই এই উদ্যোগ সংকটের সমাধান হতে পারে না।

কাতারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এই সংকটের মূলে রয়েছে ফিলিস্তিনি জনগণ দুঃসহ জীবনযাপন করছে কোনও দেশ ছাড়া দখলদারিত্বের মধ্যে।

আল-খাতের এমন সময় এই মন্তব্য করলেন যখন বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।

বিতর্কিত এই চুক্তির ফলে ইসরায়েলের সঙ্গে দুটি আরব দেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক, নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্ক স্থাপিত হবে।