পাকিস্তানের জন্য হুমকি হতে রাফালের বহু বছর লাগবে

এটা বেশ স্পষ্ট যে, সু-৩০এমকেআই ও টুইট-ইঞ্জিন মিগ-১৯ ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) চাহিদা মেটাতে না পারার কারণেই আধুনিক ও উন্নত মাল্টিরোল ফাইটার রাফাল কেনা সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বিভিন্ন মহড়ায় দৃশ্যমান ডগফাইটে রাশিয়ান ফাইটারগুলোর দক্ষতা দেখা গেছে তবে সম্ভবত এগুলোর দুর্বলতা নেটওয়ার্ক ইলেক্ট্রনিক, বিয়ন্ড ভিজুয়াল রেঞ্জ (বিভিআর) যুদ্ধের ক্ষেত্রে। ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি এফ-১৬-এর লড়াইয়ে এটা দেখা গেছে।

একজোড়া সু৩০ ডেটালিংক স্থাপনা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা পরস্পরকে সহায়তা করতে পারেনি। বহুল আলোচিত এন০১১এম ‘বারস’ এয়ারবোর্ন ইনটারসেপ্টর রাডারের সামর্থ নিয়েও সন্দেহ করা হচ্ছে।

কারণ ২৭ ফেব্রুয়ারি পিএএফের দুই ডজন ফাইটার ওড়াওড়ি করলেও টহলরত কোন সু-৩০, একটিও রাডার গাইডেড আর-৭৭ বিভিআর মিসাইল ছুঁড়তে পারেনি। রাশিয়ান বিমানের এসব দুর্বলতা আইএএফ জানে।

আর সে কারণেই তারা সেই ২০১২ সাল থেকে সু-৩০ বাদ দিয়ে পশ্চিমা মাল্টি-রোল কমব্যট এয়ারক্রাফট সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

তাদের পছন্দের সঙ্গে রাফাল মিলে যায়। দূরপাল্লা, টিকে থাকা ও ভার বহনের ক্ষমতার ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ইঞ্জিনের এফ-১৬এ ও জেএফ-১৭ রাফালের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না।

একেকটি রাফালের দাম পড়েছে ১২০ মিলিয়ন ডলার। আর পূর্ণ লজিস্টিক সাপোর্ট ও অস্ত্রসহ এর দাম পড়বে দ্বিগুণ। এক রাফালের দামে পিএএফ চারটি জেএফ-১৭ ব্লক-থ্রি কিনতে পারে। এতে ভারতীয় রাফালের অতিরিক্ত অস্ত্র বহনের ক্ষমতা বাতিল হয়ে যায়।

নির্মাতার দাবি অনুযায়ী রাফালের মেটেওর মিসাইলের পাল্লা ১০০+ কিলোমিটার। তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেছিলেন, রাফাল থাকলে ২৭ ফেব্রুয়ারি দেখতে হতো না।

তবে মনে হয় মোদিকে তার এয়ার স্টাফরা জেএফের আসন্ন পিএল-১৫ বিভিআর মিসাইল সম্পর্কে ব্রিফ করেনি। এসব মিসাইল নতুন এইএসএ রাডার-গাইডেড। এগুলো রামজেট-চালিত মেটেওরের চেয়ে অনেকদূর যেতে পারে।

সে কারণে ২০১৫ সালে ফ্লাইট গ্লোবাল ম্যাগাজিনের সঙ্গে সাক্ষাতকারে মার্কিন বিমান বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হার্বার্ট কার্লিসলে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে চীনের পিএল-১৫ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলকে হারানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা উচিত।

জঙ্গিবিমানের কাছে পিএল-১৫ ও মেটেওর মিসাইল থাকলে সেগুলো ক্লোজ কমব্যাটে যাওয়ার আগে স্বাভাবিকভাবেই দূর পাল্লার বিভিআর কমব্যাটে লিপ্ত হবে।

এবার আসা যাক রাফাল, এফ-১৬ ও জেএফ-১৫-এর ক্লোজ কমব্যাটের ক্ষমতার কথায়।

তিনটি এয়ারক্রাফটেরই থ্রাস্ট-টু-ওয়েট রেশিও ১:১। এগুলো সমানতালে উপরে ওঠা ও গতি বাড়াতে পারে। কিন্তু মোড় ঘোরার ক্ষেত্রে অ্যাসপেক্ট রেশিও ও ডানায় অস্ত্রের ওজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটার।

জেএফ-১৭ ও এফ-১৬এ জঙ্গিবিমানের অ্যাসপেক্ট রেশিও অনেক ভালো, ৩.৭ প্রতিটির। অন্যদিকে রাফালের ২.৬। ভালো অ্যাসপেক্ট রেশিও বিমানের এরোডিনামিক এফিশিয়েন্সি বাড়িয়ে দেয়। ডানায় ভার বহনের ক্ষেত্রে রাফাল কিছুটা ভালো অবস্থায় আছে।

এখানে বিবেচনা করা হয় বিমানের প্রতি ইউনিট এরিয়াকে কতটা ভার বহন করতে হচ্ছে। রাফালের যেখানে ৬৪ পাউন্ড/বর্গফুট, সেখানে জেএফ-১৭ ও এফ-১৬এ-এর ৭৭ পাউন্ড/বর্গফুট।

ডানায় ভার কম থাকলে বিমানের মোড় ঘোরার ক্ষমতা বেশি হয়। ফলে অ্যাসপেক্ট রেশিও ও ডানার ভার—এই দুইয়ের বিবেচনায় তিনটি বিমানের ক্ষমতাই প্রায় এক।

ভারতীয় বিমান বাহিনীতে রাফালের অন্তর্ভুক্তি ফলাও করে মিডিয়া প্রচার করেছে। এমন ভাব দেখানো হচ্ছে যে এখনই ভারত আকাশে রাজত্ব করে বেড়াবে। এটা মনে রাখতে হবে যে পূর্ণ অভিযানিক সামর্থ্য অর্জন করতে রাফালের অন্তত দুই বছর লাগবে।

অন্যদিকে ৩৭ বছর ধরে এফ-১৬ ওড়াচ্ছে পিএএফ। আফগান যুদ্ধ, স্থানীয় সন্ত্রাস দমন, আর সর্বশেষ ভারতের বিরুদ্ধে অপারেশন ‘সুইফ রিটর্টে’র মতো উত্তপ্ত পরিবেশেও তাদের বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তারা এসব অপারেশনে প্রায় অর্ধ ডজন শত্রু বিমান ঘায়েল করেছে। এক দশকের বেশি সময় আগে জেএফ-১৭ পুরোপুরি অপারেশনাল হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এসব ফাইটার বদলে ফেলা হবে।

যুদ্ধে পারদর্শী এসব জঙ্গিবিমান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পুরোপুরি মিশে গেছে। এই দক্ষতা রাতারাতি অর্জন করা যায় না। তাই রাফাল পাকিস্তানের জন্য সত্যিকারের হুমকি হতে অনেক বছর লাগবে।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর ক্ষমতা রাফাল তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে বলে যে কথা বলা হয় ডাহা অতিরঞ্জিত। তবে এটাও পাকিস্তানের হালকাভাবে দেখা উচিত নয়। কারণ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিজের কথা প্রমাণ করার জন্য পাতানো অভিযান পরিচালনা করতে রাফাল ব্যবহার করতে পারেন।

সুত্র: পাকিস্তান পলিটিকো

যদি সারা পৃথিবীও ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় তাহলেও পাকিস্তান দিবে না: ইমরান খান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, যদি সারা পৃথিবীও ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় তাহলেও ইসলামাবাদ তা করবে না এবং কখনো ফিলিস্তিনি জনগণের ইচ্ছার সাথে সাংঘর্ষিক কোন সিদ্ধান্ত নেবে না।

ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে বাহরাইনের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন।

ইমরান খান স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তান সরকার কখনো ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থনের বিষয়ে মৌলিক নীতির সঙ্গে আপোস করবে না। আমরা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেব না যা নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাইরে যায়।

পাক প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “যখন ফিলিস্তিনি পক্ষগুলো ইহুদীবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি মেনে নিচ্ছে না তখন আমরা কিভাবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করি?” সূত্র: পার্সটুডে

বলিউডের অশ্লীলতায় ধর্ষণের রাজধানী নয়াদিল্লি: ইমরান খান

পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান যৌন সহিংসতা বন্ধে ধর্ষককে জনসম্মুখে ফাঁসি বা রাসায়নিক প্রয়োগ করে খোজা বানিয়ে দেয়ার মতো কঠোরতর শাস্তি নিশ্চিত করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন তিনি। গেল বুধবার লাহোরের মহাসড়কে গাড়িতে এক নারী গণধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে পুরো পাকিস্তান। জোরালো দাবি উঠেছে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতার বন্ধের।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, গাড়িতে গণধর্ষণের ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত নারী কারো বোন বা মেয়ে। দেশটির পুলিশ প্রতিবেদন অনুযায়ী পাকিস্তানে যৌন অপরাধের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিষয়টিকে বিস্ময়কর বলে আখ্যা দিয়েছেন ইমরান খান।

বলেন, ধর্ষণকারীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিৎ। আমার মতে তাদেরকে জনসম্মুখে ফাঁসি দেয়া উচিৎ। ধর্ষণকারী, শিশু নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

দুর্ভাগ্যবশত, ধর্ষককে প্রকাশ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহল গ্রহণ করবে না। এ শাস্তি বাস্তবায়ন করলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমাদের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে জিএসপি-প্লাস সুবিধা দেয়া হয়েছে তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, অপরাধের শাস্তির নিয়ম অনুযায়ী ধর্ষককে রাসায়নিক বা সার্জিক্যালি খোজা করে দেয়া যায়। অনেক দেশে এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, গাড়িতে ধর্ষণে অভিযুক্ত সন্দেহভাজন আবিদ আলী ২০১৩ সালেও গণধর্ষণে জড়িত ছিল। আমাদের উচিৎ এ ধরনের অপরাধীকে স্থায়ীভাবে খোজা করতে নতুন আইন প্রণয়ন করা।

তিনি আফসোস করে বলেন, যৌন নির্যাতনকারীর কোনো নথি দেশটিতে নেই। যার কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে শিশু নির্যাতনকারীরা পাকিস্তানে প্রবেশ করে একই অপরাধ করছে।

শুধু পুলিশ নয়; যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবাইকে লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। ইতিহাস বলছে, সমাজে যখন অশ্লীলতা বেড়ে যায় তখন, দুটি জিনিস ঘটে। যৌন অপরাধ বেড়ে যায় এবং পারিবারিক নিয়মনীতি ভেঙে পড়ে। বলেন ইমরান খান।

অশ্লীলতা বেড়ে যাওয়ায় ইংল্যান্ডে বিয়ে বিচ্ছেদের হার ৭০ শতাংশের কাছাকাছি বলে উদাহরণ দেন তিনি।bপশ্চিমাদেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে ইমরান খান বলেন, আমাদের পারিবারিক ব্যবস্থা এখনো ভালো আছে।

আমাদের উচিৎ বিচার ব্যবস্থা এবং পরিবার নৈতিক মূল্যবোধ অক্ষত রাখা। কিন্তু পারিবারিক নৈতিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে গেলে পুনরায় তা ঠিক করা হয়তো সম্ভব হবে না।
ইমরান খান বলেন, বলিউডের অশ্লীলতার কারণে নয়াদিল্লি ধর্ষণের রাজধানীতে পরিণত হয়েছে।

এর আগে, বুধবার রাতে পাঞ্জাবের লাহোরের শহরের পার্শ্ববর্তী মহাসড়ক দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন ৩০ বছর বয়সী এক নারী। পথিমধ্যে নির্জন স্থানে গাড়ির জ্বলানি ফুরিয়ে যায়।

তখন সহযোগিতার জন্য পুলিশকে ফোন করেন ওই নারী। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলে যায়। দুই সন্তানকে গাড়ি থেকে বের করে অস্ত্রের মুখে ওই নারীকে মহাসড়কে ধর্ষণ করে।

পালিয়ে যাওয়ার আগে ধর্ষকরা ওই নারীর স্বর্ণালঙ্কার এবং অর্থকড়ি নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। রোববার পাকিস্তানের পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহ একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ধর্ষণে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছে।
ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিদর্শক ইনাম ঘানি জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সন্দেহভাজন দুই ধর্ষণকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ধর্ষকদের প্রকাশ্য ফাঁসি চান ইমরান খান!

ধর্ষণ মামলায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেই সঙ্গে যৌন হেনস্থাকারীদের জাতীয় রেজিস্টার তৈরির পরিকল্পনাও করেছেন তিনি।

ইমরান খান মনে করেন, ধর্ষণের মামলার অপরাধীর প্রকাশ্যে ফাঁসি অথবা নপুংসক করে দেয়ার মতো ‘দৃষ্টান্তমূলক’ শাস্তিই প্রাপ্য।

সোমবার পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার মতে ধর্ষকদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়া উচিত। কিন্তু আমার উপদেষ্টারা বলেছেন, এমন আইন হলে ইইউর সঙ্গে বাণিজ্যে অসুবিধার মুখে পড়তে হতে পারে।

গত সপ্তাহে লাহোরের কাছে হাইওয়ের উপর দুষ্কৃতিকারীরা পিস্তল উঁচিয়ে গাড়ি থামাতে বাধ্য করে মা ও মেয়েকে। এরপর তাদের দু’জনকেই ধর্ষণ করা হয়। ওই গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় চলছে পাকিস্তানজুড়ে।

মঙ্গলবার দেশটির মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে হুশিয়ারি করা হয়।

ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না কাতার ও পাকিস্তান!

ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে কাতারও পাকিস্তান। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোলওয়াহ রাশিদ আল-খাতের জানিয়েছেন, বাহারাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে না দোহা।

রাশিদ আল-খাতের বলেন, “আমরা মনে করি না যে, ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের সঙ্গে দ্বন্দ্বের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং এটি কোনো জবাবও হতে পারে না।” আমেরিকার ব্লুমবার্গ টেলিভিশনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

রশিদ আল-খাতের বলেন, “এই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের করুণ অবস্থা এবং সমস্ত সূচকের নিচেই তাদের জীবন মান। ফিলিস্তিনিরা এখন এমন একটি জাতি যাদের কোনো দেশ নেই এবং তারা দখলদারিত্বের অধীনে বসবাস করছে।” সাক্ষাৎকারে তিনি কাতারের উপরে সৌদি জোটের অবরোধের বিষয়েও কথা বলেন।

এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন আমরা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেব না যা নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাইরে যায়। ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে বাহরাইনের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ইসরাইলকে যেকোনো ধরনের স্বীকৃতি ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষ থেকে প্রতিরোধের মুখে পড়বে।

ইমরান খান অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যদি, সারা পৃথিবীও ইসরা্লকে স্বীকৃতি দেয় তাহলেও ইসলামাবাদ তা করবে না এবং কখনো ফিলিস্তিনি জনগণের ইচ্ছার সাথে সাংঘর্ষিক কোন সিদ্ধান্ত নেবে না। ইমরান খান স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তান সরকার কখনো ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থনের বিষয়ে মৌলিক নীতির সঙ্গে আপোস করবে না।

পাক প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন- “যখন ফিলিস্তিনি পক্ষগুলো ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি মেনে নিচ্ছে না তখন আমরা কিভাবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করি? পার্সটুডে

ভারতীয়দের সব তথ্য হাতিয়ে নিয়ে চীনে পাচার করে আলিবাবা!

ভৌগোলিক আগ্রাসনের পর এ বার সাইবার জগতেও আগ্রাসনের অভিযোগ চীনের বিরুদ্ধে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থা তথা ভারতীয়দের স্পর্শকাতর নথিপত্র চীনে পাচার করছে সে দেশের বহুজাতিক সংস্থা আলিবাবা।

ওই সংস্থার অন্তত ৭২টি সার্ভারের মাধ্যমে তা করা হচ্ছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের। এ নিয়ে শীঘ্রই তদন্তও শুরু করবে ভারত।

মঙ্গলবার ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, মূলত ফ্রি ট্রায়ালের লোভনীয় অফারেই দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যক সংস্থার কাছে ‘ফাঁদ’ পাতছে আলিবাবা।

ইউরোপীয় সার্ভারের তুলনায় এ দেশে আলিবাবার ওই সার্ভারে তথ্যাদি জমা রাখার খরচ তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় সেই ফাঁদে পা-ও দিচ্ছে ভারতীয় সংস্থাগুলি। এর পর ট্রায়ালের সময়সীমা শেষ হলে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রাখার জন্য সেই সার্ভারগুলিকেই বেছে নিচ্ছেন দেশীয় সংস্থা কর্তৃপক্ষ।

গোয়েন্দাদের অভিযোগ, চিনা কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অঙ্গ হিসাবেই ভারতীয়দের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি চিনের রিমোট সার্ভারে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে বহু ভারতীয়ের গোপন তথ্য চিনে পাচার হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আলিবাবা কর্তৃপক্ষের কোনও বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই এ দেশে আলিবাবার অন্তত ৭২টি সার্ভার চিহ্নিত করেছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। শীঘ্রই এ নিয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলেও গোয়েন্দা সূত্রে খবর।

গত মে মাসে পূর্ব লাদাখে চিনা আগ্রাসনের পর থেকে সাম্প্রতিক কালে দু’দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। উত্তেজনা কমাতে আলোচনার টেবিলে বসলেও দু’পক্ষের মধ্যে দোষারোপ-পাল্টা দোষারোপের পালা থামেনি।

ভৌগোলিক ক্ষেত্রে চিনা আগ্রাসনের জবাবে সে দেশের ২০০টিরও বেশি অ্যাপ ভারতে নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই আবহে চিনের বেসরকারি সংস্থাগুলি এ বার শি চিনফিং সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সাইবার জগতেও ভারতের বিরুদ্ধে ‘পরোক্ষ যুদ্ধ’ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠছে। সুত্র: আনন্দবাজার

ভারতে মুঘল মিউজিয়ামের নাম বদলে শিবাজির নাম!

আগ্রার ‘মুঘল মিউজিয়াম’এর নাম বদলে দিল ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকার। এখন থেকে ওই মিউজিয়ামের নাম হবে ‘ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ মিউজিয়াম’। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আগ্রা ডিভিশনের উন্নয়নমূলক কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে গিয়ে সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী।

সেখানেই তিনি প্রশ্ন তোলেন ‘মুঘলরা কিভাবে ভারতীয়দের নায়ক হতে পারে?

মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র এব্যাপারে জানান ‘মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নির্মাণাধীন মুঘল মিউজিয়ামের নাম সরকারি ভাবে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের নামে ঘোষণা করেছেন।

তিনি পরিস্কার জানিয়ে দেন যে তার সরকার সবসময় জাতীয়বাদী মতাদর্শকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে এবং যা কিছু আমাদের মানসিকতাকে আঘাত দিতে পারে তা দূর হবে। যে সব জিনিসপত্র দেশের গৌরব সেগুলিকে তুলে ধরা উচিত।’

এসময় তিনি প্রশ্ন তোলেন ‘মুঘলরা কিভাবে ভারতীয়দের নায়ক হতে পারে? শিবাজী মহারাজের নাম-ই আমাদের জাতীয়বাদ ও আত্মসম্মানের অনুভূতি জাগিয়ে তুলবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের সময় তাজ মহলের কাছে শিল্পগ্রামে এই মিউজিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর হয়। তাজ মহলের পূর্বদিকের গেটের কাছেই ৬ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই মিউজিয়াম। মুঘল সাম্রাজ্যে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র, তাদের সংস্কৃতি, পোশাক সহ সবকিছুর প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতেই এই মিউজিয়াম নির্মাণের ভাবনাচিন্তা নেওয়া হয়।

তিন বছর উত্তরপ্রদেশের শাসন ক্ষমতায় এসে রাজ্যের একাধিক জায়গার নাম পরিবর্তন করতে দেখা গেছে যোগী সরকারকে। তার মধ্যে অন্যতম এলাহাবাদের নাম পাল্টে রাখা হয় প্রয়াগরাজ।

করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ভেন্টিলেটর দেবে তুরস্ক!

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ভেন্টিলেটরসহ আরও চিকিৎসা সামগ্রী দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে তুরস্ক। এছাড়াও তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির অঙ্গীকার পূণর্ব্যক্ত করেছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভাসুগলো।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের সাথে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠককালে এ অঙ্গীকার পূণর্ব্যক্ত করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, তুরস্কের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আরো ভেন্টিলেটর ও মাস্কসহ করোনা চিকিৎসা সামগ্রী প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র শিক্ষা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারকরণসহ দু’দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয় ।

দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, উভয় দেশের সম্পর্কের নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এসময় মেভলুত চাভাসুগলো। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে উভয় দেশের মধ্যে পরবর্তী FOC ( Foreign Office Consultation) ও JEC (Joint Economic Commission) এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠককালে বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সে দেশে প্রত্যাবর্তনে তুরস্ক সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে উল্লেখ করেন মেভলুত চাভাসুগলো। . অত্যন্ত আন্তরিক ও ফলপ্রসু এ আলোচনায় ডি-৮ এর কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার বিষয়ে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত পোষন করেন।

উভয় দেশের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনের অধিকারের বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়। এসময় ফিলিস্তিনের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি ড. মোমেন তুলে ধরেন।

ড. মোমেনের ৪ দিনের সফরে বর্তমানে তুরস্কে অবস্থান করছেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছালে ইস্তাম্বুলের ডেপুটি গভর্নর ইসমাইল সানলি তাকে স্বাগত জানান।

সোমবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্যে তুরস্কের রাজধানী অঙ্কারায় সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেন। এছাড়া উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন। যুগান্তর

সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমেই কেবল ফিলিস্তিন মুক্ত হবে: হিজবুল্লাহ

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর উপপ্রধান শেখ নাঈম কাসেম বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হলে ফিলিস্তিনিদের জন্য কোনো উপকার হবে না, বরং এতে দখলদার তেল আবিব সরকারের স্বার্থ রক্ষা করবে।সশস্ত্র প্রতিরোধই দখলদার ইসরাইলের কাছ থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড মু্ক্ত করার একমাত্র পথ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানের পবিত্র নগরী কোমে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্ব অবসানের কৌশল শীর্ষক একটি বৈঠকে এক ভার্চুল বক্তৃতায় শেখ নাঈম এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দখলদার গোষ্ঠিটি ক্ষমতাধর শক্তিগুলোর কাছ থেকে সামরিক এবং রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছে। ফলে ওই শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে তৈরি করা আইনের ওপর নির্ভর করে দখলদারদের বিতাড়িত করা যাবে না।

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর উপপ্রধান শেখ নাঈম কাসেম
শেইখ নাঈম কাসেম আরো বলেন, দখলদার ইসরাইলকে রক্ষা করতে এবং তাকে বৈধতা দেয়ার বিষয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ রয়েছে।ফলে এসব শক্তিগুলোর কাছে ধর্না দিলে ফিলিস্তিনসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোর অনুকূলে কোনো লাভ হবে না।

তিনি আরো বলেন, “ফিলিস্তিন এবং জেরুজালেম আল কুদস মুক্ত করার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত। এক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে হবে।” তবে সশস্ত্র প্রতিরোধের দিকেই আমাদেরকে নজর দিতে হবে বলেও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন তিনি। হিজবুল্লাহর এ নেতা বলেন, “ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড আমরা কিভাবে ফিরে পেতে পারি? নিশ্চিতভাবেই লড়াই, জিহাদ এবং প্রতিরোধের মাধ্যমে আমরা এটা ফিরে পাবো।একমাত্র এই পথই আমাদের জন্য খোলা আছে।” পার্সটুডে

বোরকা পরায় শপিং মলে ঢুকতে বাধা মুসলিম নারীকে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বোরকা পরায় শপিং মলে ঢুকতে বাধা দেওয়া হল এক মুসলিম নারী ও তার মেয়েকে। ঘটনার জেরে অপমানিত হয়ে স্থানীয় রামপুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই নারী।

জানা গেছে, রামপুরহাট পুরসভার ১১ নং ওয়ার্ড তথা ভাড়শালার মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা সামিনা বেগম তার মেয়ে সহ চার আত্মীয় মিলে সোমবার রাত ৮ নাগাদ রামপুরহাট দেশ বন্ধু রোডের একটি অত্যাধুনিক শপিং মলে যান।

কিন্তু অন্যান্য আত্মীয়দের ঢুকতে দেওয়া হলেও, অভিযোগকারিণী ও তার মেয়েকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় শপিং মলের তরফে।

তাদের জানানো হয়, বোরকা এলাও নেই। তারা বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর ওই ভদ্র মহিলার স্বামী কাউসার শেখ তাদের ফের শপিং মলে পাঠান। ফের তাদের একইভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয় মাস্ক পরে আসতে হবে।

মহিলার বলেন, বোরকা মুসলিম নরাীদের ধর্মীয় লেবাস। তাই এভাবে বাধা দেওয়া যায় না। তাহলে বোরকা পরলে শপিং মলে যাওয়া যাবে না? আমি চাই, এভাবে যেন কাউকে অপমানিত হতে না হয়। উনি কি করে জানলেন যে বোরকার নিচে মাস্ক নেই? আর বোরকা থাকলে মাস্কের কী দরকার?

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, শপিং মলের ম্যানেজারকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।