জেরুজালেমকে এবার ইসরায়েলের রাজধানী না বানানোর ঘোষণা দিল ইতালি

বলপূর্বক দখলকৃত ফিলিস্তিনের নগরী জেরুজালেমকে ইসরায়েল নিজের রাজধানী দাবি করলেও আন্তর্জাতিক আইনে তা বৈধ নয়। ফলে জেরুজালেম কখনোই ইসরায়েলের রাজধানী হতে পারে না। এমন মত দিয়েছেন ইতালির একটি আদালত। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ রায় দেন রোম কোর্ট হিসেবে পরিচিত ট্রাইব্যুনাল ডি রোমা। রবিবার (৯ আগস্ট) প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে খবরটি জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাভিও ইনসিন্না নামের ইতালির জনপ্রিয় একজন টেলিভিশন উপস্থাপকের অনুষ্ঠানে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে দেশটির দুইটি সংগঠন আদালতের শরণাপন্ন হয়। তাদের আবেদনের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে অভিমত জানান বিচারক।

আদালত তার রায়ে বলেছেন, ওই অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে এটা উল্লেখ করতে হবে যে, ‘আন্তর্জাতিক আইনে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।’

মিডল ইস্ট মনিটর মনিটর জানিয়েছে, টেলিভিশনের ওই অনুষ্ঠানটি ছিল গত ২১ মে তারিখের। সেখানে একজন প্রতিযোগীর কাছে ইসরায়েলের রাজধানীর নাম জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে তিনি ‘তেল আবিব’ বললে তার উত্তরকে ভুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বলা হয়, সঠিক উত্তর হবে ‘জেরুজালেম’।

ইতালির পররাষ্ট্র নীতি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি নিয়েছে দেশটিতে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ওই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়।

১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেম নিজেদের দখলে নেয় ইসরায়েল। এ শহরেই মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল আকসা মসজিদ অবস্থিত। মক্কা ও মদিনার পর এটি মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র স্থান।

১৯৮০ সালে পুরো জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। শহরটিকে তারা ইহুদিবাদী রাষ্ট্রের ‘শাশ্বত এবং অবিভক্ত রাজধানী’ দাবি করতে থাকে। তবে এই দখলদারিত্বকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দেয়নি। আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে বলপূর্বক ইহুদি বসতি স্থাপনকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর সেরা চুক্তি নামের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে।

আবু দিস নামের একটি ছোট গ্রামকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই পরিকল্পনায় জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরের অংশবিশেষ ও গাজা উপত্যকা নিয়ে নামমাত্র একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে, যে রাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না। তবে ট্রাম্পের কট্টর ইসরায়েল ঘেঁষা ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়

আরো পড়ুন: এথেন্সে নামাজের স্থানগুলো বন্ধের নির্দেশ,বৈষম্যের শিকার মুসলিমরা !

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে বিপুলসংখ্যক মুসলিম মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র রাজধানী এথেন্সেই কোনো মসজিদ নেই। মুসলিমরা গ্যারেসজসহ কোনো কোনো স্থানকে নামাজের স্থান হিসেবে ব্যবহার করছিল।

কিন্তু ওইসব স্থানও বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অথচ বারবার প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও নগরীতে একটি মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে না। এর ফলে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন সেখানকার বিপুলসংখ্যক মুসলিম। এ ব্যাপারে টিআরটি ওয়ার্ল্ড একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রিসের এথেন্সে অনুমোদনহীন স্থানগুলোতে নামাজ না পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

এসব স্থানের কোনো কোনোটিতে ১৯৮৯ সাল থেকে নামাজ চলত। ফলে মুসলিমরা মারাত্মক বিপদে পড়েছেন। গ্রিসের এক মুসলিম বলেছেন, এটি আমাদের নিজ বাড়ির মতো ছিল। যেখানে আমরা প্রতিদিন পাঁচবার সালাত আদায় করেছি। এখন এটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

আমরা তাহলে এখন কোথায় যাব? গ্রিস কর্তৃপক্ষ বলছে, আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় অভিযোগ জানানোর পরেই বন্ধের আদেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যপারে খালিদ বাদার নামে এক মুসলিম বলেন, গ্রিসে মুসলিমদের বেশিরভাগ জায়গায় অনুমতির জন্য যোগ্য হিসেবে ধরা হয় না।

আর আমরা আরো ভালো কোথাও যেতে চাইলে ব্যয়বহুল ভাড়া ও বাড়িওয়ালাদের বৈষম্যমূলক আচরণ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নতুন নির্দেশের কারণে এথেন্সের ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত স্থানগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা বহু বছর ধরে গ্রিসে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও কাজ করছে। কিন্তু তারা বলছেন, অন্য জনগণের চোখে তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ পায়। একজন মুসলিম বলেন, আমরা খুব খারাপ লাগে। কারণ গ্যারেজ বা গুদামে নামাজ পড়তে কারণ সেখানে মসজিদের সুবিধা নেই।

আমাদের অবশ্যই একটি মসজিদ থাকা প্রয়োজন। এভাবে বেসমেন্টে গোপনে নামাজ পড়াটা অসম্মানের। গ্রিসের মুসলিম এসোসিয়েশনের প্রধান নামিল ইগহান্দর বলেন, আমি রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে বলে আশা করেছিলাম। আজ তারা মসজিদ না দিয়ে কবস্থানের মতো স্থান দিচ্ছেন।

আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের স্থান মসজিদকে বিদ্রুপে পরিণত করেছে। অথচ গ্রিস সর্বদা তার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যে গর্বিত করে এসেছে। কিন্তু এখানে দীর্ঘ সময় ধরে মুসলমানদের সাথে মর্যাদাহানিকর আচরণ করা হচ্ছে এবং তারা ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

আরো পড়ুন: ১৬০০ বছর যাবত কাবার তত্বাবধান করে আসছে বনু শাইবা গোত্র !

দেড় শতাধিক প্রযুক্তিবিদ ও নির্মাতা বুধবার (২৭ জুলাই) পবিত্র কা’বা ঘরকে কিসওয়া তথা গিলাফ (বিশেষ কালো কাপড়) দ্বারা আচ্ছাদিত করেছেন।

গত সপ্তাহে কা’বার সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক সালেহ বিন জয়নুল আবিদীন আল-শাইবির হাতে পবিত্র কা’বা ঘরের জন্য প্রস্তুতকৃত নতুন কিসওয়াটি বাদশাহ সালমানের পক্ষ থেকে তুলে দেন মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল-ফয়সাল।

মক্কার উম্মুল জাউদে অবস্থিত কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সে কিসওয়ার কাপড়টি তৈরি করা হয়। এটি প্রাকৃতিক রেশমের তৈরি বিশেষ একটি কাপড় যা কালো বর্ণের। কিসওয়ার কাপড়টি ১৪ মিটার লম্বা। এর ওপরের তৃতীয় ভাগে একটি বেল্ট রয়েছে যা চওড়ায় ৯৫ সে.মি. ও লম্বায় ৪৭ মিটার।

বেল্টটিতে ১৬ টি স্কয়ার আকৃতির কাপড়ের অংশ রয়েছে যেগুলো আবার আরেকটি এমন স্কয়ার আকৃতির কাপড় দ্বারা বেষ্টিত যাতে বিভিন্ন ইসলামিক মোটিফ (আয়াত বা হাদিস সম্বলিত ক্যালিগ্রাফি) খোদাইকৃত রয়েছে।

পুরো কিসওয়ার কাপড়টি আলাদা চার অংশে বিভক্ত। পবিত্র কা’বা ঘরের দেয়ালের চারপাশ ঢেকে রাখার জন্যই মূলত চারটি অংশে পুরো কিসওয়া তৈরি করা হয়। তাছাড়া,দরজার জন্য আলাদা ভাবে একটি পর্দা তৈরি করা হয় যা দিয়ে কা’বা ঘরের দরজা ঢেকে রাখা হয়। পর্দা তৈরি করা একটি বহু-পর্যায় প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। কারণ কাপড়টির চার অংশের সমন্বয়ে কিসওয়াটিকে প্রথমে কা’বা ঘরে লাগানো হয়।

পরবর্তীতে, উপরের তৃতীয় অংশে বেল্ট এবং ইসলামিক মোটিফ খচিত টুকরাগুলো কিসওয়ায় সংযোজন করা হয়। এই পর্যন্ত ১১০ জনেরও বেশি তত্ত্বাবধায়কের পবিত্র কা’বা ঘরের তত্বাবধান করার সৌভাগ্য হয়েছে। তত্বাবধানের ঐতিহাসিক রীতিটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পালিত হয়ে আসছে।

তত্ত্বাবধায়করা তাদের খোদা প্রদত্ত উত্তরাধিকার রক্ষা করে চলেছেন এমনকি এটা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারাও সমর্থিত। তত্বাবধান স্বরূপ বনু শাইবা গোত্র ১৬ শতাব্দী যাবত পবিত্র কা’বা ঘরের চাবি নিজেদের কাছে রাখার গৌরব অর্জন করেছে। ইসলামের পূর্বে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ’র বংশধরেরা কা’বা ঘরের দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতেন।

পরবর্তীতে তার অন্যতম বংশধর গোত্র বনী শাইবা তখন থেকে এখনব্ধি এই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বর্তমানে পবিত্র কা’বা ঘরের তত্ত্বাবধায়ক তারাই। তারা সেই গোত্র যাদেরকে মক্কা বিজয় সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বার চাবি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কা’বা ঘরের রক্ষণাবেক্ষণ একটি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী সম্মানিত দায়িত্ব। পবিত্র কা’বা ঘর খোলা,

বন্ধ করা, ঝাড়ু দেওয়া, ধৌত করা, কিসওয়া পরিধান করানো এবং কিসওয়ার কোনো অংশ যদি মেরামত করতে হয় তবে মেরামত করাও এই ঐতিহ্যবাহী দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। জমজম ও গোলাপজলের পানি দ্বারা কা’বা ঘর ধৌত করা হয়। কা’বার ঘরের চার পাশের দেয়ালগুলো সুগন্ধযুক্ত পানি দিয়ে মুছে পরিস্কার করে সেখানে নামাজ পড়া হয়।

মসজিদুল হারামের অন্যতম দায়িত্বশীল আনাস আল-শাইবী আরব নিউজকে জানান, আমাদের পূর্বপুরুষ দাদা কুসাই বিন কিলাব যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরও দাদা ছিলেন তিনি এই কা’বা ঘরের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তার বড় ছেলে আব্দুল -দারের কাছে এই দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন এবং তিনি তার পুত্রদের।

এভাবে বংশপরম্পরায় ঐতিহ্যবাহী দায়িত্বটি আমাদের পর্যন্ত চলে এসেছে। তিনি বলেন, কা’বা ঘরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বটি মহান আল্লাহ পাকের একটি আশীর্বাদ যা কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। এই পবিত্র ঘরের চাবি সিনিয়র তত্ত্বাবধায়কের ঘরে স