টানা ১০১ দিন ধরে করোনা মুক্ত নিউজিল্যান্ড!

একটানা ১০১ দিন ধরে নিউজিল্যান্ডে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত করোনাভাইরাসের একটি ঘটনাও ধরা পড়েনি।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্ন এটিকে এক ‘গুরুত্বপূণ’ মাইলফলক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি কোভিড-১৯ মোকাবেলায় যে কৌশল নিয়েছিলেন, তা আন্তর্জাতিক প্রশংসা কুড়ায়।

নিউজিল্যান্ডে এখন যে ২১জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত মানুষ আছেন , তারা সবাই দেশের বাইরে থেকে এই সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। এদের সবাইকে আলাদা করে কোয়ারেনটিনে রাখা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ২২ জন। বিবিসি

শোকাহত বৈরুতবাসীর প্রতি ফিলিস্তিনিদের সহমর্মিতা

বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় শোকাহত ফিলিস্তিনি চিত্রশিল্পী মুহাম্মদ তোতাহ গাজা সৈকতে বালির উপর লিখেছেন, ‘সালাম ইয়া বৈরুত’ অর্থাৎ ‘বৈরুতের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’। উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি এই চিত্রশিল্পী ২০১৪ সালে ইসরাইলি হামলায় তার পা হারান।

শুধু মুহাম্মদ তোতাহ নয়, গাজার প্রতিটি মানুষ বৈরুতবাসীর প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছেন নানাভাবে। বৈরুত বন্দরে ৪ আগস্টের ভয়াবহ বিস্ফোরণে দেড় শতাধিক নিহত ও পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ২ লাখ মানুষ। পার্সটুডে

কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে ৬.৮ বিলিয়ন ডলারের রেল প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে চীন-পাকিস্তান; বিচলিত ভারত

মৈত্রী হাইওয়ে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদকে চীনের জিনঝিয়াং প্রদেশের রাজধানী কাশগড়কে যুক্ত করেছে এই সড়ক।
কাশ্মীর অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা জোরদার করেছে চীন ও পাকিস্তান। এখানে দুই দেশেরই আলাদাভাবে ভারতের সঙ্গে ভূখণ্ডগত বিরোধ রয়েছে।

গত বুধবার ইসলাবাদ চায়না-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোরের (সিপিইসি) অংশ হিসেবে কাশ্মীর অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ৬.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি রেললাইন আপগ্রেড পরিকল্পনা অনুমোদন করে।

অন্যদিকে গত সপ্তাহেই থাকোট থেকে হাভেলিয়ান পর্যন্ত ১১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক উদ্বোধনের কথা ঘোষণা করেছে বেইজিং। মর্নিং। এই সড়ক হলো ইসলামাবাদ থেকে চীনের জিনঝিয়াং অঞ্চলের রাজধানী কাশগড় পর্যন্ত নির্মাণাধীন বৃহৎ সড়ক প্রকল্পের অংশ।

ভারতের ইউনিয়ন টেরিটরি জম্মু-কাশ্মীরের পশ্চিমাঞ্চলে বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে এই সড়ক গিয়েছে। সড়কটির নির্মাণ শেষ হলে তা ভারতের দাবি করা ভূখণ্ড লাদাখের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবে।

এই সড়ক উদ্বোধন পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পরিচায়ক। কাশ্মীর অঞ্চলের বিশেষ সাংবিধানিক মার্যাদা বাতিলর পর এই ঘনিষ্ঠতা আরো দৃশ্যমান হয়েছে।

সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ওয়াং দেহুয়া বলেন, চীন-পাকিস্তান পরিবহন প্রকল্পগুলো নিয়ে ভারত বেশ বিচলিত। এই অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং হাইওয়ে প্রকল্প এটা প্রমাণ করেছে।

ওয়াং বলেন, আগে কাশ্মীর ইস্যু পাকিস্তান-ভারত-চীন ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে ছিলো না। এখন সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত বিষয়টিকে জটিল করে ফেলেছে। বিশেষ করে লাদাখ ইউনিয়ন টেরিটরি গঠন করে চীনের জন্য বিষয়টিকে জটিল করে তোলা হয়েছে।

সাংবিধানিক পরিবর্তনের পর গত অক্টোবরে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে ভারত। এতে কাশ্মীর অঞ্চলকে দুই ভাগ করে দক্ষিণে জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তরে লাদাখ নামে দুটি কেন্দ্র শাসিত ভূখণ্ড তৈরি করা হয়। ইসলামাবাদ ও বেইজিং উভয়েই এর নিন্দা করে এবং ওই অঞ্চলের উপর দুই দেশেরই দাবি রয়েছে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার দেশের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। এতে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অবৈধ দখলে থাকা পাকিস্তানের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। ভারত এই মানচিত্রকে ‘রাজনৈতিক মস্করা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

অন্যদিকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বুধবার বলেছে একতরফাভাবে কাশ্মীর অঞ্চলের যেকোন পরিবর্তন ‘অবৈধ ও বাতিল’।

গত জুনে ভূখণ্ড নিয়ে ভারতের সঙ্গে চীনের বিরোধ সহিংসতায় রূপ নেয়। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের মধ্যে সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় সংঘর্ষে পাকিস্তান ও ভারতের সেনারা মারা যাচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো জামেস ডোরসে বলেন, ভারতের সঙ্গে চীনের সীমান্ত উত্তেজনা পাকিস্তানের মনোবলকেই জোরদার করেছে। তবে চীন সেখানে রণদামামা বাজাবে না। বিষয়টি চীনের জন্য দ্বিধারী তরবারির মতো। পাকিস্তানে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে চীনের। তাই দেশটিকে শান্ত রাখার মধ্যেই তাদের স্বার্থ।

সাংহাই ফুডান বিশ্ববিদ্যালয়েল সাউথ এশিয়া স্টাডিজের প্রফেসর দু ইউকাং বলেন, চীনের অবস্থান হলো ভারত ও পাকিস্তান যেন নিজেরাই নিজেদের বিরোধ মিমাংশা করে সে জন্য তাদের মধ্যে আলোচনা শুরু করানো। পাশাপাশি জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক ফোরামেও সে তার উদ্বেগ প্রকাশ করবে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট