বুকের উপর ছিঁড়ে পড়ল চলন্ত ফ্যান সাথে সাথেই মারা গেল গর্ভবতী মহিলা

বিদ্যুতপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হলো ছ’মাসের এক গর্ভবতী মহিলার । সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়ার ব্লকের বিধাননগরের মেজবানগছে । মৃত ওই মহিলার নাম অনুপমা কুমারী। বয়স ১৮ বছর বলে জানা গিয়েছে।

মৃত মহিলার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তানসম্ভবা হওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন আগে বাপের বাড়িতে আসেন ওই মহিলা । সোমবার দুপুরে ওই মহিলা টেবিল ফ্যান চালু করে বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল। ওই ঘরে মহিলার সঙ্গে তার সন্তানও ছিল । মায়ের বুকের উপর ফ্যান পড়ে যাওয়া দেখে চিতকার করে ওঠে অনুপমার সন্তান । চিতকারে পরিবারের লোকজন ছুটে যায় । তাঁরা দরজা খোলার চেষ্টা করে । বাইরে থেকে ডাকাডাকি করেও কোন লাভ হয়নি ।

কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজন কোনরকম ভাবে দরজা খোলে ।দরজা খোলার পর পরিবারের লোকজন দেখতে পায় ওই গর্ভবতী মহিলার উপর টেবিল ফ্যানটি পড়ে আছে। সাডা়শব্দহীন অবস্থায় পড়ে আছে অনুপমা কুমারীর নিথর দেহ ।

এই দেখে পরিবারের লোকজন বাড়ির বিদ্যুতের মেন সুইচ বন্ধ করে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় বিধাননগর থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিস । এরপর পুলিস এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার সময় কাজের জন্য বাড়ির বাইরে ছিল মৃতার স্বামী ।

আরো পড়ুন: এবার আয়া সোফিয়ায় শুরু হচ্ছে মাদরাসা ও কুরআন শিক্ষা !

দীর্ঘ ৮৬ বছর পর গত ২৪ জুলাই তুরস্কের ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জুমআ আদায়ের মাধ্যমে পুনরায় নামাজ শুরু হয়। এবার আয়া সোফিয়ায় শুরু হচ্ছে মাদরাসা ও কুরআন শিক্ষা।

সেখানে শেখানো হবে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনুল কারিম। খবর ডেইলি সাবাহ আরবির। ৯১৬ ধরে গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত হয় তুরস্কের ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া। অতপর ৪৮৩ বছর মসজিদ হিসেবে ব্যবহার হয় এ ঐতিহাসিক স্থাপনা। অবশেষ গত ৮৬ বছর ধরে মসজিদের পরিবর্তে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

গত ১০ জুলাই আদালতের এক রায়ের মাধ্যমে এটিকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের ঐতিহাসিক রায় দেন আদালত। আদালতের রায়ের আলোকে গত ২৪ জুলাই পবিত্র জুমআ আদায়ের মাধ্যমে নামাজ পড়া শুরু হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ান এ দিন কুরআন তেলাওয়াত করেন।

মসজিদের ইমাম তরবারি হাতে ‍নিয়ে খুতবা দেন। তরবারি হাতে ইমামের খুতবা প্রসঙ্গে দেশটির ধর্মীয় নেতা বলেন, জুমআর নামাজের সময় তরবারি হাতে নিয়ে খুতবা দেয়া আমাদের ঐতিহ্য। এটি আমাদের বিজয়ের নিশানা।

আয়া সোফিয়ায় শুক্রবার জুমআর নামাজ পড়ানোর পর তুরস্কের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রধান আলি ইরবাস সাংবাদিকদের বলেন, তুরস্কে প্রায় পাঁচশ বছর তরবারি হাতে খুতবা দেয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা এখন থেকে আমাদের এ ঐতিহ্য আবার ধারণ করব।

ধর্মীয় নেতা বলেন, আমি আশা করি, অনেক লোক এ মসজিদে নামাজ পড়বেন। তারা তাদের ধর্ম এখান থেকে শিখবেন। আমরা আয়া সোফিয়ায় মাদরাসাও পুনরায় চালু করব। যেভাবে আয়া সোফিয়ার প্রতিটি কোনে কোনে এক সময় কুরআন শেখানো হতো, এখন আবার আয়া সোফিয়ায় কুরআন শেখানো হবে।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া তুরস্কের ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য অন্যতম পছন্দের জায়গা। ১৯৮৫ সালে আয়া সোফিয়াকে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ লিস্টে যুক্ত করা হয়। তুরস্কে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং অন্যান্য তুর্কি নেতারা দীর্ঘদিন ধরে আয়া সোফিয়াকে জাদুঘর থেকে পুনরায় মসজিদে প্রত্যাবর্তনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

অবশেষে গত ১০ জুলাই তুরস্কের একটি কোর্ট ১৯৩৪ সাল আয়া সোফিয়াকে জাদুঘরে পরিণত করার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন, যা আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করা পথকে সহজ করে দেয়। প্রত্মতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে স্থাপনাটি আগের মতো পর্যটকদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকবে

আরো পড়ুন: এবার ৩০ জুলাই পবিত্র হজ্ব !

সৌদি আরবের আকাশে সোমবার কোথাও জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ২২শে জুলাই থেকে জিলহজ মাস শুরু হবে। সে হিসাবে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ৩০শে জুলাই পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। আর ১০ই জিলহজ ৩১শে জুলাই মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা।

চলতি বছরে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সীমিতাকারে হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। তবে করোনার সংক্রমণ কম রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে প্রত্যেক হাজির জন্য সাধারণ সময়ের তুলনায় চারগুণ স্থান বরাদ্দ করা হয়েছে।

গলফ নিউজের তথ্য মতে, এ বছর সৌদিতে বসবাসরত ১৬০ দেশের মুসলিম নাগরিকরা হজে অংশগ্রহণ করবে। এতে বিদেশিদের মধ্য থেকে ৭০ শতাংশ লোক হজে অংশগ্রহণ করবে। আর সৌদির স্থানীয়দের মধ্য থেকে ৩০ শতাংশ লোক হজে অংশ নেবে। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মানুষ এবারের হজে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

তবে বাইরের কোনো দেশ থেকে হজ উপলক্ষে কেউ সৌদিতে আসার সুযোগ পাবে না। হজের আগে এক সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন এই ১০ হাজার হজ পালনকারী। আর হজ পালন শেষে আরও এক সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে তাদের।

সে হিসেবে, গত ১৯ জুলাই সৌদিতে বসবাসকারী ১৬০ টি দেশের ১০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার মধ্যেদিয়ে মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ফরজ ও ইসলাম ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মীয় জামায়েত পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

এর আগে গত ৬ জুলাই হজের সময় হাজীদের অবশ্যই পালনীয় নানা স্বাস্থ্যবিধির ঘোষণা দেয় সৌদি সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী, জামাতে নামাজ পড়ার সময় মাস্ক পরতে হবে এবং প্রত্যেকের মাঝে দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে তাকে জরিমানা করা হবে, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ জন পবিত্র হজ্ব পালন করেন। তার মধ্যে সৌদি আরবের স্থানীয় নাগরিক ছিলেন ২ লাখ ১১ হাজার ৩ জন। আর সৌদিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৬ জন।

আরো পড়ুন: এ বিজয় সুস্পষ্ট বিজয় : আয়াসোফিয়ার জুমার তেলাওয়াতে ইমাম !

আয়াসোফিয়ার জুমার তেলাওয়াতে ইমাম মসজিদ থেকে ৮৬ বছর জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পর পূনরায় মসজিদ হিসেবে রূপান্তরিত হওয়া বিখ্যাত আয়াসোফিয়ায় পূনরায় আদায় হওয়া জুমার নামাজের প্রথম রাকায়াতে ইমামের তেলাওয়াত ছিলো “ইন্না ফাতাহনা লাকা ফাতহাম-মুবিনা”

নিশ্চয়ই আমি আপনাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়। (সূরা ফাতহ : আয়াত ১)। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে সাহাবায়ে কেরামসহ মক্কা মুকাররমা গিয়ে উমরাহ পালন করেন। সেখানে হুদায়বিয়ার এই সন্ধিকে আল্লাহ জাল্লা শানুহু ফাতহুম মুবিন অর্থাৎ প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন।

নাজিল হয় সূরা ফাতহ। এই সূরার শুরুতেই ইরশাদ হয়েছে উপরোক্ত আয়াতটি। আয়াসোফিয়ায় প্রথম জুমায় এ আয়াতটিই তেলাওয়াত হয়েছে। বলা হচ্ছে – আয়াসোফিয়া জুমার নামাজ আদায়কে এমন বিজয় হিসেবে দেখছে মুসলিম বিশ্ব

আরো পড়ুন: কেউ আজান বন্ধ করতে পারবে না: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, ফেটো আর পিকেকের মতো স’ন্ত্রাসীগোষ্ঠী যতই অপতৎপরতা চালাক না কেন, তার দেশের পতাকা কেউ নামাতে পারবে না।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, কেউ ষড়যন্ত্র করে আর তুরস্কে আজান দেয়া বন্ধ করতে পারবে না। তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের চার বছরপূর্তিতে বুধবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন এরদোগান। খবর আনাদোলুর।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই রাতের আঁধারে ফেতুল্লা টেরটিস্ট অর্গানাইজেশন (ফেটো) সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশটির স্বাধীন-চেতা জনগণ নিজের