খ্রিষ্টান থেকে যেভাবে বিশ্বসেরা ইসলামিক স্কলার ইউসুফ এসটেস!

ইউসুফ এসটেস আমেরিকান ইসলাম প্রচারক যিনি ১৯৯১ সালে খ্রিষ্টান থেকে মুসলিম হন।দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন পুরষ্কার অনুষ্ঠানে ৮ ই আগস্ট ২০১২ এ এসটসকে বর্ষসেরা ইসলামিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে নামকরণ করা হয়েছিল।

তার মুসলিম হওয়ার বর্ননা তিনি,”story of Yousuf estes” শিরানামের একটা ভিডিও তে নিজের মুখে বলেছিলেন।সেই ভিডিওর সারসংক্ষেপ অনুবাদ করার চেষ্টা করলাম।আমি (yousuf estes) মুসলিম হওয়ার আগে আমি সবাইকে খ্রিষ্টান হতে বলতাম,আমার সাথে সবসময় বাইবেল রাখতাম,ওইসময় আমি খুব প্যাশানেট ছিলাম, সবাইকে খ্রিষ্টান ধর্মের শান্তিরর শিক্ষা দিতে চাইতাম।

আমার সেই মুসলিম বন্ধু র সাথে সাক্ষাৎ এর পূর্বে ইসলাম সম্পর্কে আমার খুব খারাপ ধারনা ছিল।এমনকি আমি মুসলিমদের সাথে সাক্ষাৎ করতে ও ভয় পেতাম, যখন আমার বাবা মুসলিম এর সাথে ব্যবসা করতে বললো আমি শুরুতে না করে দিলাম,এবং বাবাকে বললাম, এই মুসলিম রা টেরোরিস্ট, কিডনাপার।

কিন্তু পরবর্তীতে বাবার জন্য, ব্যবসার লক্ষে যখন মিশরের মুসলিম ব্যক্তির সাথে মিলিত হলাম তখন বিস্মিত হলাম তাকে দেখে কারণ আমি এমন একজন কে আশা করছিলাম যার লম্বা জামা থাকবে,মাথায় বড় টুপি থাকবে। কিন্তু সে নরমাল, আমার মত পোশাকে ছিল, আমার মত পোশাকে তাকে দেখে আমি ভাবলাম, আমি তাকে খ্রিষ্টান এ কনভার্ট করতে পারবো।

কিন্তু আল্লাহর অন্য উদ্দেশ্য ছিল।
একটা বিষয় যা আমাকে ওই ব্যক্তির প্রতি আকৃষ্ট করেছিল তা হলো, সে ছিল শান্ত, চুপচাপ,ভদ্র এবং সে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো।আরও বিস্ময় র ব্যাপার হলো,সোমবার ও বৃহস্পতিবার যখন আমি তাকে কিছু খাইতে দিতে যাইতাম সে বলতো, সে রোজা আছে।আমার বাবা আমাকে বলতো, লোকটা ব্যবসায় অত্যন্তপরিমান সৎ।

আমি তখনও ভেবেছিলাম, আমি যদি এই লোককে খ্রিষ্টান বানাতে পারি তাহলে তাকে সেইন্ট বা সাধু বানাবো গির্জার কারণ সে ভালো লোক ছিল।

কিন্তু একদিন যখন আমরা তাকে খ্রিষ্টান বানানোর জন্য চেষ্টা করছিলাম, সে আমাদের কে জিজ্ঞাসা করলো বাইবেল সম্পর্কে।

আমি বললাম, আমাদের খ্রিষ্টান বিভিন্ন গোএের বিভিন্ন বাইবেল এর ভার্সান আছেন। এরপর আমি তার কাছে শুনলাম আপনাদের কুরআন এর কত ভার্সান আছে। সে বললো আমাদের কুরআন এর একটায় ভার্সান এবং সেটা যেমন পূর্বে ছিল তেমন অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে।

আমি যখন তার কাছে শুনলাম তোমাদের কাছে “GOD” মানে কি!

সে তখন আমাকে সূরা ইখলাস শুনালো।
এরপর একদিন আমরা তাকে বললাম তোমরা কি “জিযাছ” এ বিশ্বাস করো সে বললো হা করি।এটা শুনে আমি বিস্মিত হলাম।

এরপর মিশরীয় সেই বন্ধু বললো, তুমি কি জানো তার মিরাক্কেল জন্ম হয়েছিল এবং সে বললো আমরা জানি তার মিরাক্কেল করার ক্ষমতা ছিল,সে মানুষের রোগ ভালো করতে পারতো,যারা অন্ধ ছিল তাদের ভালো করতে পারতো।

এগুলো শুনে আমি অবাক হালাম, কারণ বাইবেল এ ছিল কিন্তু একজম মুসলিম এগুলো জানে কীভাবে এবং বিশ্বাস করে কীভাবে।

তখন আমি তাকে বললাম, জিযাছ(ঈসা আঃ) সম্পর্কে কি বলবে,আমরা তাকে ঈশ্বরের পুত্র বলি তোমরা কি বলো?

সে বললো আমরা তাকে, ম্যারি(মরিয়ম) এর পুত্র বলি।এবং ঈশ্বর হলো ক্রিয়েটর এবং আমরা বিশ্বাস করি ঈসা (আঃ) আল্লাহর কাছে জীবিত আছেন এবং তিনি আবার ফিরে আসবেন।

তখন আমি অবাক হলাম এবং ভাবলাম মুসলিম রা ও খ্রিষ্টানদের জিযাস(ঈসা আঃ) সম্পর্কে একই বিশ্বাস ধারণ করে কিন্তু তারা জিযাছ যে ঈশ্বরের পুত্র এটা মানে না।

এরপর আমি ভাবলাম, এই মুসলিম ব্যক্তির সাথে তো আমার খ্রিষ্টান ধর্মের প্রায় সব ই মিল আছে আমি তাকে সহজেই খ্রিষ্টান করতে পারবো!

আমি যখনই এখন তার কথা ভাবি তখন শুধু মনে হয় সে কত ধৈর্যশীল ছিল আমার প্রতি কারণ আমি সবসময় তাকে খ্রিষ্টান হতে বলতাম।অবশেষে সে একদিন আমাকে বললো,যদি তোমার ধর্ম আমার ধর্ম থেকে উত্তম হয় তাহলে আমি তোমার ধর্ম গ্রহন করবো কিন্তু তোমার প্রমান করতে হবে যে তোমার ধর্ম সেরা।

আমি বললাম, প্রমান!ধর্ম তো বিশ্বাস এর ব্যাপার! প্রমান কীভাবে করবো? সে তখন বললো ইসলামে আমাদের বিশ্বাস এবং প্রমান দুইটাই আছে।

সে মাঝে মাঝে কুরআন তেলাওয়াত করতো এবং এর ইংরেজি অর্থ আমাকে বলতো। মাঝে মাঝে সে দ্রুত কুরআন তিলাওয়াত করতো তখন আমি তাকে বলতাম ধীরে পড়ো সে বললো কেনো?

আমি তখন বললাম, আমার শুনতে ভালো লাগে।সে বললো, তুমি তো বুঝো না,

আমি বললাম, না বুঝলেও তুমি যখন কুরআন পড়ো আমার মনে হয় আমি কাদি।আমি জানি না, আমার কেনো এমন মনে হয়।

এরপর আমি তার কাছ থেকে কুরআন এর অর্থ জানতে চাইতাম যা ই সে তেলাওয়াত করতো।

সে খুব লজিক্যাল পথে বিশ্লেষণ করতো যে আল্লাহ আছে।সে বলতো এই পাহাড়, সাগর,চাদ,সূর্য এগুলো এক্সিডেন্ট করে হতে পারে না, এটার সৃষ্টিকর্তা আছে। এরপরই সে কুরআন থেকে এগুলোর সৃষ্টি সম্পর্কে আমাকে উদাহরণ দিল আয়াত এর মাধ্যমে। প্রমান করে দিল যে সৃষ্টিকর্তা আছে।

এরপর সে আমাকে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ সম্পর্কে বললো ।সে বললো আল্লাহ সবকিছু র পরিচালনাকারী।

সে বললো,ব্যক্তির সবকিছু তার নিয়তের উপর নির্ভরশীল।এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যদি হেদায়ত আসে তোমার জন্য তখনই তুমি মুসলিম হতে পারো!

আমি বললাম সেটা কীভাবে?

সে বললো,শোনা,তোমাকে জানতে হবে ইসলাম কি। ইসলাম মানে তোমাকে সমার্মণ করতে হবে, আত্মসমার্পন করতে আল্লাহর কাছে, তোমাকে আদেশ মেনে চলতে হবে আল্লাহ র এবং তোমাকে শান্ত হতে হবে।

সে বললো,আমরা ইসলাম জোর করে প্রসার করি না, তরবারীর মাধ্যমে জোর করে ইসলামের দাওয়াত দেই না, ইসলাম এর দাওয়াত দেয় হয় হৃদয় এর দ্বারা এবং সেই মিশরীয় ব্যক্তি তার ব্যবহার, চলা ফেরা,কথা বার্তা দ্বারা আমাকে মুগ্ধ করেছিল ইসলামের প্রতি।

একদিন রাতে আমি ইসলাম নিয়ে ভাবতে লাগলাম,আমি শুনলাম যে, ক্যাথলিক ধর্মযাজক মুসলিম হয়ে গেছে।এটা আমাকে আরও ভাবাল।তারপর আমি আমার স্ত্রী কে বললাম বিষয়টা তখন দেখলাম সে ও আগ্রহী মুসলিম হতে।

এরপর আমি আমার সেই মিশরীয় মুসলিম বন্ধু কে ডাকলাম আবার,অনেক প্রশ্ন করলাম, আমি চাচ্ছিলাম আমার সেই বন্ধু