ইসরাইলি সেনাদের উপর প্রতিশোধ মূলক হামলা হিজবুল্লাহর

লেবানন ও ইসরায়েলের বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ লেবাননের শেবা ফার্মস সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েল শীর্ষ সংবাদ মাধ্যম হারেৎজ এটিকে হিজবুল্লাহ কর্তৃক হামলা বলে উল্লেখ করেছে। এতে ইসরায়েলের কোনো হতাহত হয়নি বলেও নিশ্চিত করে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর উদৃতি দিয়ে হারেৎজ বলছে, ‘হিজবুল্লাহ সীমানা অতিক্রম করে ইসরায়েলি এলাকায় হামলা চালায়। এতে দু’পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড গোলাগুলি হয়। সংঘর্ষে শুরু হলে ওই এলাকা থেকে বেসামরিক লোক দের সরিয়ে নেয়া হয়।

সিরিয়ায় একজন ইরানি কমান্ডার ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়ার জেরে এই হামলা করেছে হিজবুল্লা। দাবি ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর। তবে কোন কমান্ডার এবং কবে এই ঘটনা সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।

ইসরায়েলের সেনা বাহিনীর মুখপাত্র ব্রি. জে. হিদাই জিলবারমান বলেন, হিজবুল্লাহ প্রথমে হামলা করতে করতে ইসরায়েলের সীমানায় প্রবেশ করে। ইসরায়েলের সেনারা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পিছু হটে।’
‘কোনো ইসরায়েলি আটক বা হতাহত হয়নি বলে জানান তিনি।’

হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের কয়েকটি সামরিক যান লক্ষ করে মিসাইল ছুঁড়েছে বলেও অভিযোগ করে দেশটির সেনাবাহিনী। রয়টার্স এক খবরে বলেছে, হিজবুল্লাহর একজন কমান্ডার গত সপ্তাহে নিহত হওয়ার জেরে যে কোনো সময় নতুন করে সংঘর্ষ বাধতে পারে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে।

এই হামলাকে সেই ভবিষ্যৎবাণির বাস্তবায়ন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়। সিরিয়া সফলভাবে ইসরায়েলের কয়েকটি ক্ষেপনাস্ত্র আকাশেই ধংস করে দেয়।

রোববার লেবাননের আল-মায়াদিন টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহর উপমহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম বলেন, গত সপ্তাহে সিরিয়ায় সদস্য আলী কামেল মোহসিনকে বিমান হামলার মাধ্যমে হত্যা করে ইসরাইল।

এই ব্যাপারে ইহুদিবাদী ইসরাইলকে তাদের হিসাব-নিকাশ করতে দেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েলকে কঠিন পরিণাতির হুমকি দেন। অন্যদিকে, গতকল অন্তত ১৯ বার লেবাননের আকাশ সীমা লঙ্ঘণ করে ইসরায়েলে গোয়েন্দা ড্রোন।

এসম হিজবুল্লাহ গুলি করে একটি ড্রোন ভূপাতিত করে। এতে উত্তেজনা বাড়ে লেবানন-হিজবুল্লাহ শিবিরে। এসবের জবাবে হিজবুল্লাহ এই হামলা করে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, হিজুল্লাহর পক্ষ থেকে এই খবর লেখা পর্যন্ত কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

নিজস্ব প্রযুক্তির ভ্রাম্যমাণ এয়ার কন্ট্রোল টাওয়ার উদ্বোধন করল ইরান

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আজ (সোমবার) নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ভ্রাম্যমাণ এয়ার কন্ট্রোল টাওয়ার উদ্বোধন করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি এবং সড়ক ও শহর উন্নয়নমন্ত্রী মোহাম্মাদ ইসলামি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন- ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড ও বন্যার মতো নানা দুর্যোগে ও সামরিক খাতের জন্য এ ধরণের কন্ট্রোল টাওয়ারের ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহনযোগ্য এই টাওয়ার সংকটময় মুহূর্তে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালাতে সহযোগিতা করবে বলে তিনি জানান।

হাতামি আরও বলেছেন, দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মাণের কারণে প্রতিটি টাওয়ার থেকে ২০ লাখ ইউরো সাশ্রয় হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিষয়ক মানদণ্ড অনুসরণ করে এসব টাওয়ারে যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বসানো হয়েছে বলে জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

এ সময় সড়ক ও শহর উন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইরানের তরুণ বিশেষজ্ঞরা সব সময় নিষেধাজ্ঞাকে সুযোগে পরিণত করেছে। তারা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রেখেছে। সুত্র: পার্সটুডে