জার্মানির বাডেন ভুইর্টেমব্যার্গ অঙ্গরাজ্যের স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করলো সরকার

জার্মানির বাডেন ভুইর্টেমব্যার্গ অঙ্গরাজ্যের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন থেকে চলমান বিতর্কের পরে স্কুলে বোরকা-হিজাব নিষিদ্ধের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাডেন ভুর্টেমব্যার্গ রাজ্য সরকার।

তবে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আপাতত বোরকা- হিজাব পরতে বাধা নেই। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে দেশটির ওই রাজ্য সরকার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এখন থেকে স্কুলে বোরকা-হিজাব বা এমন কিছু পরা যাবে না, যা মুখ ঢেকে রাখে। তবে বেশ আগে থেকেই শিক্ষিকাদের জন্য এ নিয়ম চালু করেছিল রাজ্যটি। জার্মানির এই রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় রয়েছে গ্রিন পার্টি।

বিজ্ঞাপন

ছাত্রীরা মুখ ঢেকে স্কুলে যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই বিতর্ক চলছিল সেখানে। ঘটনার সূত্রপাত এক স্কুল ছাত্রীর একটি মামলা নিয়ে। স্কুলে বোরকা বা হিজাব পরার পক্ষে আদালতে মামলা করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পরে আদালত জানায়, রাজ্যের স্কুলে আইন অনুযায়ী ছাত্রীদের মুখ ঢেকে যেতে কোনো বাধা নেই।

কিন্তু রাজ্য যদি স্কুল-আইন পরিবর্তন করে, সে ক্ষেত্রে নিয়মের পরিবর্তন হতে পারে। আদালতের এই রায়ের পরেই প্রশাসন স্কুল আইন পরিবর্তনের তোড়জোড় শুরু করে এবং গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) থেকে তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে।

স্কুল আইন পরিবর্তন করলেও বিষয়টি নিয়ে পুরো জার্মানিজুড়ে রয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল মনে করে বোরকা বা হিজাব ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে নারীদের মুখ ঢাকতে বাধ্য করা যায় না।

তাদের মধ্যে অনেক রাজনীতিবিদ জানিয়েছেন, শুধু বাডেন ভুর্টেমব্যার্গেই নয়, গোটা জার্মানিতেই বোরকা বা হিজাব বাতিল করা উচিত। আবার অনেকেই বলছেন, সকলেরই পোশাক নির্বাচনের অধিকার আছে। গণতান্ত্রিক দেশে সকলের ধর্ম চর্চারও সমান অধিকার আছে। বোরকা বা হিজাব যেহেতু ধর্মীয় পোশাক, ফলে তা পরারও অধিকার সকলের রয়েছে।

তবে বাডেন ভুর্টেমব্যার্গ প্রশাসন জানিয়েছে, স্কুলে এমনিতেই খুব বেশি ছাত্রী মুখ ঢেকে আসত না। ফলে বিষয়টি নিয়ে এত শোরগোলের কারণ নেই। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে এখনও এ বিষয়ে কোনো আইন করা হয়নি। সাধারণত কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রাপ্ত বয়স্ক ছাত্রীরা পড়ালেখা করেন। সে কারণেই আপাতত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের বিষয়টি ছাড় দেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন: এ বিজয় সুস্পষ্ট বিজয় : আয়াসোফিয়ার জুমার তেলাওয়াতে ইমাম !

আয়াসোফিয়ার জুমার তেলাওয়াতে ইমাম মসজিদ থেকে ৮৬ বছর জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পর পূনরায় মসজিদ হিসেবে রূপান্তরিত হওয়া বিখ্যাত আয়াসোফিয়ায় পূনরায় আদায় হওয়া জুমার নামাজের প্রথম রাকায়াতে ইমামের তেলাওয়াত ছিলো “ইন্না ফাতাহনা লাকা ফাতহাম-মুবিনা”

নিশ্চয়ই আমি আপনাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়। (সূরা ফাতহ : আয়াত ১)। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে সাহাবায়ে কেরামসহ মক্কা মুকাররমা গিয়ে উমরাহ পালন করেন। সেখানে হুদায়বিয়ার এই সন্ধিকে আল্লাহ জাল্লা শানুহু ফাতহুম মুবিন অর্থাৎ প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন।

নাজিল হয় সূরা ফাতহ। এই সূরার শুরুতেই ইরশাদ হয়েছে উপরোক্ত আয়াতটি। আয়াসোফিয়ায় প্রথম জুমায় এ আয়াতটিই তেলাওয়াত হয়েছে। বলা হচ্ছে – আয়াসোফিয়া জুমার নামাজ আদায়কে এমন বিজয় হিসেবে দেখছে মুসলিম বিশ্ব

আরো পড়ুন: কেউ আজান বন্ধ করতে পারবে না: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, ফেটো আর পিকেকের মতো স’ন্ত্রাসীগোষ্ঠী যতই অপতৎপরতা চালাক না কেন, তার দেশের পতাকা কেউ নামাতে পারবে না।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, কেউ ষড়যন্ত্র করে আর তুরস্কে আজান দেয়া বন্ধ করতে পারবে না। তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের চার বছরপূর্তিতে বুধবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন এরদোগান। খবর আনাদোলুর।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই রাতের আঁধারে ফেতুল্লা টেরটিস্ট অর্গানাইজেশন (ফেটো) সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশটির স্বাধীন-চেতা জনগণ নিজের জীবন তুচ্ছ করে সেদিন তুরস্কের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন।

এর পর থেকে ১৫ জুলাই গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে তুরস্কে। যুক্তরাষ্ট্রপন্থী ফেতুল্লা গুলেনকে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মনে করা হয়। ২০১৬ সালে সেনা অভ্যুত্থানের ২৫১ বেসামরিক লোক নিহত হন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২ হাজার ২০০ জন

আরো পড়ুন: কাবা শরীফের ইমাম হয়েছি মায়ের দোয়াতেই: ই’মাম আল কালবানি

‘মায়ের দু‘আ আমাকে কাবা শরীফের ই’মাম বানিয়েছে লন্ডনের এক কনফারেন্সে পবিত্র কাবা শরীফের এক ই’মাম আল কালবানি এই কাহিনী বর্ণনা করেন।

এতে তিনি তার জীবনের একটি বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার উপর কোনো কারণে রেগে গিয়ে তার মা আল্লাহর কাছে যে দু‘আ করেছিলেন তাই তার জীবনে সত্যে পরিণত হয়েছে।

‘মায়ের দু‘আ আমাকে কাবা শরীফের ই’মাম বানিয়েছে ছোটবেলায় ই’মাম কালবানি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলেন বলে জানালেন। দুষ্টুমি করে প্রায়শই তিনি মাকে রাগাতেন।

কিন্তু তার মা ছিলেন খুবই দ্বীনদার একজন মহিলা, তিনি জানতেন আল্লাহর কাছে দু‘আর কী’ শক্তি। তিনি দু‘আ করাটা তার অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন।

ছে’লের উপর যখনি রেগে যেতেন তখনি তিনি বলতেন, ‘আল্লাহ যেন তোমাকে পথ দেখান! আর তিনি যেন তোমাকে কাবার ই’মাম বানান!’

ই’মাম আল কালবানি বললেন, ‘আল্লাহ তার দু‘আ কবুল করেছেন এবং আমি আজ কাবার ই’মাম।’ কালো মানুষ শাইখ আদিল আল কালবানি পারস্য উপসাগরীয় এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে শাইখ কালবানি বলেছেন, ‘ম’সজিদুল হারামের নামাজের ই’মামতি করা অসাধারণ সম্মানের, আর এই কাজ শুধুমাত্র আরব ভূখণ্ডের আরবদের জন্যই নির্ধারিত।’

ই’মাম বলেন, যখন আপনার সন্তান খা’রাপ আচরণ করবে তখন তাকে গালমন্দ করবেন না। এতে বিপর্যয় ঘটতে পারে। আমি একজনকে জানি যিনি তার ছে’লেকে বলেছিলেন— ‘যাও ম’র’, অ’তঃপর তিনি সেটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন, যখন সেই দিনই তার ছে’লে মা’রা যায়। সুবহানআল্লাহ!

প্রিয় সন্তানের পিতা ও মাতাগণ! আপনাদের ভাষা সংবরণ করুন। আপনার ছে’লে-মে’য়েদের জন্য ভাল দু‘আ করার অভ্যাস তৈরি করুন, এমনকি যখন আপনি অনেক রেগে যান তখনও তার জন্য দু‘আ করুন।

‘মায়ের দু‘আ আমাকে কাবা শরীফের ই’মাম বানিয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তিনটি দু‘আ আল্লাহ কখনও প্রত্যাখ্যান করেন না, ছে’লেমে’য়েদের জন্য তার পিতামাতার দু‘আ, রোজাদারের দু‘আ এবং মু’সাফিরের দু‘আ’।

(বায়হাকী’, তিরমিযী, হাদীসটি সহীহ সূত্রে বর্ণিত)

আরো পড়ুন: মহানবী (সা.)-এর সময়ের পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপি!

ব্রিটেনে প্রাচীনতম কোরআন শরিফের পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশায়ই সম্ভবত কোরআনের এই অংশ লেখা হয়েছিল। রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে দেখা যায়, ‘হিজাজি’ লিপিতে লেখা এই পাণ্ডুলিপি প্রায় ১৩৭০ বছরের পুরনো।

প্রায় ১০০ বছর ধরে এই পাণ্ডুলিপি বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডবেরি রিসার্চ লাইব্রেরিতে ছিল। মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত বেশ কিছু পাণ্ডুলিপির সঙ্গে ছিল এই পাণ্ডুলিপিও। এতে ধুলো জমে ছিল। নিতান্ত কৌতূহলবশেই পিএইচডি গবেষক আলবা ফেদেলি পাণ্ডুলিপিটি হাতে নেন।

পাণ্ডুলিপিটি দেখার পর তাঁর মনে সন্দেহ হয়। এর পরেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রেডিওকার্বন অ্যাকসিলারেটর ইউনিট’-এ পাণ্ডুলিপিটির পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, দুই পাতার পার্চমেন্টের ওপর লেখা পাণ্ডুলিপিটির বয়স প্রায় ১৩৭০ বছর। ‘হিজাজি’ লিপিতে লেখা পৃষ্ঠা দুটি স্পষ্ট পড়াও যাচ্ছে।

হিজাজি লিপি হলো, আরবি ভাষার পুরনো লেখ্য রূপ। মূলত ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দ সময় পর্বে পশুর চামড়া বা পার্চমেন্টে লেখা হতো। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওকার্বন অ্যাকসিলারেটর ইউনিটের পরীক্ষায় দেখা গেছে, পাওয়া যাওয়া পৃষ্ঠা দুটিতে ভেড়া কিংবা ছাগলের চামড়ায় কোরআনের বাণীগুলো হাতে লেখা হয়েছিল।

রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে পাওয়া ফলাফল নির্দিষ্টভাবে ঠিক কোন বছর পাণ্ডুলিপিটি লেখা হয়েছে তা বলতে পারেনি। তবে এ ক্ষেত্রে ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যেই যে পাণ্ডুলিপিটির এই অংশ লেখা হয়েছে, তার সম্ভাবনা প্রবল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এডওয়ার্ড ক্যাডবেরির আর্থিক সাহায্যে পাদরি অ্যালফন্স মিনগানা ১৯২০ সালে মধ্যপ্রাচ্য থেকে স্থানীয় নানা বিষয়ের প্রায় তিন হাজার পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন। সেগুলো বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন