মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের শিল্পখাতের উন্নয়নে কাজ করতে চায় তুরস্ক

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের (এসএমই) উন্নয়নে তুরস্ক কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান।

তিনি বলেন, ‘এসএমই শিল্পখাতে তুরস্কের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দু’দেশের শিল্পোদ্যোক্তারাই লাভবান হতে পারে।’

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন’র সাথে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের সাথে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান বলেন, মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে তুরস্ক বাংলাদেশের সাথে আর্থ-সামাজিক সম্পর্ক জোরদারে বিশেষভাবে আগ্রহী। দুই দেশের অর্থনীতিই দ্রুত বর্ধনশীল এবং শিল্পখাতে বিদ্যমান সম্ভাবনার উপযুক্ত ব্যবহার পারস্পরিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে অবদান রাখতে পারে। এছাড়া দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে তুরস্কের সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে এসএমই খাতের উন্নয়ন ঘটিয়ে এ সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব। টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর এসএমইখাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে জাতীয় এসএমই নীতি প্রণয়ন করেছে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়ে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ জানান, এসএমই খাতের উন্নয়নে তুরস্কের যেকোনো ইতিবাচক প্রস্তাব বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।

অনলাইন এ বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগসহ শিল্প মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন।

সূত্র: ইউএনবি

আরও সংবাদ

আলহামদুলিল্লাহ, সায়িদা হাতে লিখলো পুরো কোরআন

আলহামদুলিল্লাহ, ফিলিস্তিনের সায়িদা হাতে লিখলো পুরো কোরআন। জেরুজালেমের উত্তরে রামাল্লা শহরে ত্রিশ হাজার মানুষের বসবাস। রামাল্লা ফিলিস্তিনের সরকারি সদর দফতর। এখান থেকে ফিলিস্তিনের প্রশাসন তার কাজকর্ম করে থাকে। ফিলিস্তিনের মানুষ নানান সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন কাটায়। তার পরও থেমে নেই তাদের পথচলা। এরই নাম জীবন।

সেই রামাল্লার এক মেয়ে প্রাত্যহিক সব কাজ ঠিক রেখে তিন বছর সময় নিয়ে পুরো কোরআনে কারিম হাতে লেখে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ফিলিস্তিনি ওই মেয়েকে নিয়ে আরবি ভাষার কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি সামনে আসে।

ফিলিস্তিনের রামাল্লায় বসবাসকারী ২৪ বছর বয়সী সায়িদা আক্কাদ। ফিলিস্তিনের এই মেয়ে তিন বছর সময় নিয়ে পুরো কোরআনে কারিম হাতে লিখে শেষ করেছে। তার কাজে প্রতিবেশীরা অবাক। এখন তাকে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। সেটা দেখতে লোকজন ভীড় জমাচ্ছে সায়িদাদের বাড়ীতে।

সায়িদা আক্কাদ পড়াশুনা থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক সব কাজ ঠিক রেখে দীর্ঘ পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপি লিখে শেষ করেছেন।

সায়িদা আক্কাদ ২০১৪ সালে কোরআন শরিফ লেখার কাজ শুরু করেন। তিন বছর পর তার এই কাজ সম্পন্ন হয়। সায়িদার বাবা রামাল্লায় ফলের ব্যবসা করেন। সায়িদা পরিবারের বড় মেয়ে।

তার ভাষায়, ফিলিস্তিনের তো আর সমস্যা কম নয়। ইসরায়েলের কাছ থেকে অধিকৃত এলাকা ফিরে পেতে চলছে স্বাধীনতার সংগ্রাম। এরই মাঝেই আমাদের সব কাজ করতে হয়। ইচ্ছে হলেই ঘর থেকে বের হওয়া যায় না।

তাই অবসর সময়টা কাজে লাগানোর জন্য আমি কোরআন হাতে লেখার কাজ শুরু করি। আর দেখতে দেখতে কাজটি শেষও হয়ে যায়।
নিছক শখের বশে হাতে কোরআন লিখেছে বলে জানান সায়িদা।