বিজয়ী হলে প্রথম দিনেই ট্রাম্পের ‘মুসলিম নিষিদ্ধ’ আইন বাতিল করবো: বাইডেন

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে যদি বিজয়ী হতে পারি তাহলে অত্যন্ত গৌরববোধ করে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ট্রাম্পের মুসলমান নিষিদ্ধ করার সকল নির্দেশ বাতিল করবো। মুসলিম-বিদ্বেষমূলক কোন কিছুর চিহ্ন রাখবো না হোয়াইট হাউজ এবং ফেডারেল প্রশাসনে।

সোমবার (২০ জুলাই) মুসলিম-আমেরিকানদের বৃহত্তম পলিটিক্যাল এ্যাকশন কমিটির সাথে এক ভার্চুয়াল কনফারেন্সে এ সংকল্পের পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বাইডেন বলেন, আমাদের সংবিধান সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের মানুষের অধিকার সুসংহত করেছে। সেই চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সবসময়েই আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।

তিনি ট্রাম্পের ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি বিদ্বেষের বিষবাস্প ছড়িয়েছেন সমগ্র আমেরিকায়।

বাইডেন আরো বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে ইসলামিক ফোবিয়ার নগ্ন প্রকাশ ঘটেছে। স্কুলেও কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা আক্রান্ত হয়েছে বিদ্বেষমূলকভাবে। কমিউনিটিতে হেইট ক্রাইম বেড়েছে। ইসলাম ধর্মকে ঘৃণা করেন এবং মুসলমানদের সহ্য করতে পারেন না এমন কিছু অ-আমেরিকানকে ট্রাম্পের মন্ত্রী পরিষদে নেয়া হয়েছে। একটি বিষয় আমার মনে হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আর তা হচ্ছে আমাদের স্কুলে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ানো হয় না। সেটি গুরুত্বের সাথে করার পদক্ষেপ নেব।

‘মিলিয়ন মুসলিম ভোট সামিট’ শিরোনামের এই ভিডিও কনফারেন্সে জানানো হয় যে, গত এপ্রিলেই আনুষ্ঠানিকভাবে বাইডেনকে সমর্থন দিয়েছে মুসলিম আমেরিকানরা।

সোমবার অনুষ্ঠিত ওই কনফারেন্সে মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ মুসলমানেরা অংশ নেন। তারা বাইডেনকে আশ্বাস দেন যে, কমপক্ষে ১০ লাখ মুসলমান ভোটার মিশিগান, উইসকনসিন, পেনসিলভেনিয়া এবং ফ্লোরিডায় বাইডেনের পক্ষে মাঠে থাকবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পরই লিবিয়া, সোমালিয়া, নর্থ কোরিয়া, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেনের নাগরিকদের ভিসা নিষিদ্ধের বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারি করেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

আরও সংবাদ

করোনা আক্রান্ত মা যতক্ষণ বাঁচলেন, হাসপাতালের জানালায় ততক্ষণ বসেছিলেন ফিলিস্তিনী যুবক!

মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দিশেহারা বিশ্ব। একের পর এক স্বজন হারাচ্ছে মানুষ। ভাইরাসটির সংক্রমণে থাকা রোগী বা মৃত কারো সঙ্গেই দেখা করতে পারছেন না স্বজনেরা। দাফনও হচ্ছে স্বজন ছাড়া। এর মধ্যে ঘটেছে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। আইসিইউ-তে করোনা আক্রান্ত মা যতক্ষণ বাঁচলেন, ততক্ষণ হাসপাতালের জানালার পাশে বসেছিল ছেলে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ফিলিস্তিনে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে। যার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মায়ের সঙ্গে দেখা করার কোনো উপায় ছিল না। তাই দূর থেকেই মাকে বিদায় জানালো ছেলে।

ভাইরাল ছবিতে দেখা যায়, হাসপাতালের কয়েকতলা উপরের কাচের জানালার পাশে বসে ভেতরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এক ব্যক্তি। ৩০ বছরের যুবক কেন এমনভাবে হাসপাতালের জানালার পাশে বসে আছেন? সেই খবর নিতেই বেরিয়ে এলো হৃদয়বিদারক তথ্য।

জানা গেছে, ওই যুবকের নাম জিহাদ আল সুয়াইতি। তার মা করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন। সরকারি হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি মাকে দেখতে যাওয়ার অনুমতি স্বাভাবিকভাবে পায়নি ছেলে। তাই জানালার পাশে বসে মায়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

শেষ সময়েও মায়ের কাছ থেকে সরে যেতে চায়নি এ যুবক। জানালা দিয়েই মায়ের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া দেখেছে ছেলে। যতদিন মা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, ততদিন রাতে ওই জানালার ধারে বসে থাকতেন এ যুবক। মহম্মদ সাফা নামে একজন ছবিটি শেয়ার করে এ ব্যাপারে লিখেছেন।

আগে থেকেই লিউকোমিয়ার রোগী মায়ের শরীরে করোনা সংক্রমণ করে। পরে তাকে পাঁচদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছিল।

যুবক জানান, তার অসহায় লাগতো। তাই হাসপাতালের জানালার পাশে বসে থাকতেন এবং মাকে দেখতেন।

সূত্র : নিউজ ১৮।