৩০০ খ্রিস্টানের জীবন বাঁচানো নাইজেরিয়ান ইমামকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করলো আমেরিকা

৮৪ বছর বয়সী নাইজেরিয়ান ইমামকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১ম ‘আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করেছে, কারণ ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় নাইজেরিয়ার ইয়েলওয়া গ্রামে এক সহিংসতায় নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে প্রায় ৩০০ এর কাছাকাছি খ্রিস্টানের জীবন বাঁচিয়েছিলেন।

তারই স্বীকৃতি স্বরূপ এই সন্মানীয় পুরস্কারে ভূষিত করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। “আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত” তথ্যে জানায় ইমাম আবুবকর আবদুল্লাহি অন্য-

ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের রক্ষা করার জন্য নিঃস্বার্থভাবে নিজের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করেছিলেন, তার হস্তক্ষেপ ব্যতীত খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওতগুলি মানুষ নিহত হতেন “।

গত বুধবার বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পিও এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এই পুরস্কারটি বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার অসাধারণ সমর্থককে সম্মান করে।

“আসন্ন বিপদের মুখে ইমাম আব্দুল্লাহর সাহসী পদক্ষেপ ধর্মীয় বিভাজনে তার প্রচারের ইতিহাসের সাহস দেখায় আন্তঃধর্মী বোঝাপড়া ও শান্তি প্রচারের জন্য তার জীবদ্দশায় প্রতিশ্রুতি দেয়।”

ইমাম আবুবকর তার এই মহৎ কাজের জন্য ব্রাজিলের ‘ইভানির দোস সান্তোস’, ইরাক থেকে ‘উইলিয়াম ও পাসকাল ওয়ার্দা’ এবং সাইপ্রাসের ‘সাল্পি এসকিডিজিয়ান ওয়েইডুড’ পুরস্কার পেয়েছেন।

কি ঘটেছিল সেদিন-
নাইজেরিয়ার একজন ইমাম যখন তার গ্রামে শত শত ভীতসন্ত্রস্ত পরিবারকে ছুটে আসতে দেখলেন, তখন তিনি তার নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এই পরিবারগুলো পালিয়ে আসছিলো মূলত খ্রিষ্টান অধ্যুষিত একটি প্রতিবেশী গ্রাম থেকে। পালিয়ে আসা লোকজন জানান, শনিবার দুপুরের দিকে ৩০০ জনের মতো সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়।

সন্দেহ করা হচ্ছে, হামলাকারীরা গবাদিপশু পালক এবং তাদের বেশিরভাগই মুসলিম। গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, আক্রমণকারীরা অাকস্মাৎ তাদের গ্রামের ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে এবং বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।

হামলা থেকে যারা বেঁচে যেতে সক্ষম হয়, তারা প্রতিবেশী মুসলিম-অধ্যুষিত একটি গ্রামের দিকে পালিয়ে যেতে শুরু করেন। এই গ্রামেরই ইমাম তখন তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। পালিয়ে আসা লোকজনকে তিনি একটি গোপন আশ্রয়ে নিয়ে যান।

২৬২ জনকে তিনি আশ্রয় দেন তার নিজের বাড়িতে এবং গ্রামের মসজিদে। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
প্রথমে আমি নারীদেরকে লুকিয়ে রাখার জন্যে আমার নিজের বাড়িতে নিয়ে যাই। তারপর পুরুষদের নিয়ে যাই মসজিদে, বিবিসিকে একথা বলেন ওই ইমাম।

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে প্রায়ই এধরনের হামলার ঘটনা ঘটে যেখানে যাযাবর পশুপালকরা স্থানীয় লোকজনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। মূলত জমিজমা কিংবা চারণভূমি দখল করা নিয়েই এই সংঘর্ষ ঘটে।

ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা’র অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সম্প্রতি এক বাংলাদেশি সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক বলে মনে করেন না ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মিলার এসব কথা বলেন। মেরুল বাড্ডায় বৌদ্ধ মন্দিরে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে অপরকে শ্রদ্ধা করে।’

মিলার বলেন, ‘আমার প্রথম ৮ মাসের দায়িত্ব পালনকালে আমি বাংলাদেশের আটটি বিভাগেই ঘুরেছি। মসজিদ, মন্দির ও চার্চে গিয়ে ইমাম পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন আমি এসেছি একটি বৌদ্ধ মন্দিরে,

আমার কাছে যেমনটা মনে হয়েছে, এখানকার ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসের লোকজন একে অপরকে শ্রদ্ধা করে। তাই আমি মনে করি, তার অভিযোগ সঠিক নয়, বরং ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। যদিও কোন দেশই সংখ্যালঘুদের অধিকার দিতে সফলতা পায়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ অঞ্চলের প্রধান ইস্যুগুলো কী তা যুক্তরাষ্ট্র ভালোভাবেই জানে।’ প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সরকার ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নালিশ করেছেন এক হিন্দু নারী।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, ৩৭ মিলিয়ন অর্থাৎ ৩ কোটি ৭০ লক্ষ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান গুম হয়ে গেছে। সংখ্যালঘুদের জায়গা দখল করা হচ্ছে। বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। একইসাথে তিনি ট্রাম্পের সহায়তা চান। সুত্র: ইনসাফ