নির্বাচনে হারলে ফলাফল মানবেন না ট্রাম্প!

নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ততই কমছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভোট নিয়ে এমনই জরিপ রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু সেই ফলাফল মানতে নারাজ ট্রাম্প। ভোটে হারলে সেই নির্বাচনকেই তিনি মানবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বর্ণবাদী পতাকা কনফেডারেট ফ্ল্যাগের সমর্থনেও কথা বলেছেন ট্রাম্প।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তাকে সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা রিপোর্টের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সেই সমীক্ষা অনুযায়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের থেকে প্রায় ১৫ পয়েন্ট পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প। দেখা গিয়েছে ৫৫ শতাংশ জনগণ বাইডেনকে সমর্থন করছেন।

ট্রাম্পের সমর্থন মাত্র ৪০ শতাংশ। কিন্তু ট্রাম্প এই সমীক্ষা মানতে নারাজ। তার বক্তব্য, এত দ্রুত এ সব সমীক্ষা তিনি মানতে রাজি নন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনের কয়েক মাস আগেও এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

সাক্ষাৎকারে বিরোধী প্রার্থী জো বাইডেনকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। বলেছেন, বাইডেন মানসিক ভাবে সুস্থ নন। যুক্তরাষ্ট্রকে চালানোর মতো ক্ষমতা তার নেই। বাইডেন প্রেসিডেন্ট হলে অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে দেশ। পুলিশের ফান্ড কমিয়ে দেওয়া হবে।

মানুষের ধর্মীয় অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে। কিছু দিন আগেই জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ঘটনা ঘটেছে অ্যামেরিকায়। তার পরে ডেমোক্র্যাটরা পুলিশ বিভাগের সংস্কারের দাবি করেছে। দাবি উঠেছে, প্রয়োজনে পুলিশের বাজেট কমানো হোক। সে বিষয়টিকে উল্লেখ করেই বাইডেনের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প

অবশেষে মঙ্গলের পথে মুসলিম বিশ্বের প্রথম নভোযান ‘হোপ’

গত সপ্তাহে দুই দফা উৎক্ষেপণের ঘোষণা দেয়ার পরও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় মঙ্গল অভিযানের নির্ধারিত সময় থেকে সরে আসতে হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। অবশেষে সবকিছু অনুকূলে নিয়ে মঙ্গলের পথে যাত্রা শুরু করেছে মুসলিম বিশ্বের প্রথম নভোযান।

সফলভাবে যাত্রা শুরু করা আরব আমিরাতের এই মঙ্গল অভিযানের নাম “হোপ”।
জাপানের তেনিগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় ২০ জুলাই ৬টা ৫৮ মিনিটে মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস হয়ে এইচ২-এ রকেটে করে মঙ্গল গ্রহের দিকে যাত্রা শুরু করেছে হোপ। ৫০ কোটি কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এটি পৌঁছবে মঙ্গলে; তারপর লাল এই গ্রহটির আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশ্লেষণ গবেষণা এগিয়ে নিতে তথ্য পাঠাবে পৃথিবীতে।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫০ বছর পূর্তিতে এটি মঙ্গলে পৌঁছবে। রকেটটির সফল উৎক্ষেপণ দেখে উচ্ছ্বাসিত আরব আমিরাতের উন্নত প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও এই হোপ মিশনের লিড বৈজ্ঞানিক সারাহ আল আমিরি।

অনুভূতি-উত্তেজনা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, এটা আমার দেশের নাগরিকদের তেমন অনুভূতি যেমনটা ৫১ বছর আগে ঠিক এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো-১১ মিশন চন্দ্রে পৌঁছার পর সেখানকার নাগরিকদের হয়েছিল।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে বড় বড় নতুন স্বপ্ন দেখার দুয়ার খুলে দিল আরব আমিরাতে এই মঙ্গল অভিযান। ‘আজ আমি সত্যি খুবই আনন্দিত যে আরব আমিরাতের শিশুরাও নতুন বাস্তবতা, নতুন সম্ভাবনার পথে তাদের যাত্রা দেখল।’ আর আরব আমিরাতের নতুন এই পৃষ্ঠা পৃথিবীর মঙ্গল অধ্যায়ে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে বলেও আশার কথা জানান তিনি।

এর আগে মঙ্গলে যেসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে সেখানে প্রাধান্য পেয়েছে ভূতাত্ত্বিক গবেষণা। তবে, হোপকে পাঠানো হচ্ছে মঙ্গলের জলবায়ু নিয়ে বিশদ গবেষণা করার লক্ষ্যে। ৬ বছর ধরে হোপকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে এই অভিযান সম্পর্কে আরব আমিরাতের উন্নত প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ও মঙ্গল অভিযান হোপ’র উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক সারাহ আল আমিরি গত জুনে এক ভার্চুয়াল সেমিনারে বলেছিলেন,

এই অভিযানে বিশাল চ্যালেঞ্জ আছে। তবে, এই চ্যালেঞ্জ এমন যা অর্জন করা সম্ভব বা উৎরানো যায়। এই অভিযান বিদ্যমান প্রযুক্তি চত্বরে মানিয়ে চলার পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তি প্রকৌশলীদের নতুন করে সক্ষমতা বাড়াবে। এর ফলে স্পেসক্রাফট বিষয়ক আরও দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি হবে যারা আরব আমিরাতের অর্থনীতির বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও ওই সেমিনারে জানিয়েছিলেন সারাহ।

জ্বালানি তেল নির্ভর অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে এবং জ্বালানি খাতের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে ২০০০ সালের মাঝামাঝি কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত।