করোনাকালে বাসায় বসে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্ত করলেন গৃহিণী নাসমা

করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিরোধ করতে অন্যান্য দেশের মতো মিশরেও লকডাউন বাস্তবায়ন করা হয়। আর এই অবসরকে কাজে লাগিয়ে পূর্ণ কোরআন মুখস্ত করেছেন মিশরীয় গৃহিনী নাসমা ফুলি। -আলওয়ান, খবর ওয়ান , আল-আরাবি আল-ইয়াওম

নাসমা ফুলি বলেন, আমি আরো দেড় বছর আগে পবিত্র কোরআনের হাফেজা হওয়ার সংকল্প করি। সংকল্প অনুযায়ী ঘরের কাজের পাশাপাশি সপ্তাহের ২ দিন বৃহস্পতি ও শুক্রবার ব্যতীত বাকি পাঁচদিন কোরআনের ৫ পৃষ্ঠা করে মুখস্থ করতে শুরু করি। এভাবে ১৯ পারা মুখস্ত করতে পারি।

তিনি বলেন , এরমধ্যে হঠাৎ পাওয়া করোনার অবসরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। শুধু তাই নয় , একই সঙ্গে আমি পেছনের মুখস্ত করা পারাগুলোও নিয়মিত তিলাওয়াত করতাম। আর এভাবে আমার চর্চার পরিমান বাড়িয়ে দিই।

নাসমা জানান , তিনি মেয়েকে কোরআনের মুখস্ত করা পাঠ শোনাতেন। করোনা আসার পর মেয়েই তাকে বাকি পারাগুলো মুখস্ত করতে জোর দেয় এবং সহযোগিতা করেন । তিনি বলেন , করোনার অবসরে মাত্র ৪০ দিনে কোরআন মুখস্ত সম্পন্ন করে নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করছি

রাসুল সা. এর সময়ের কুরআনের পাণ্ডুলিপি রয়েছে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে

বিশ্বে কুরআনের সবচেয়ে পুরনো পাণ্ডুলিপির সন্ধান পেয়েছে ব্রিটেনের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ওই কুরআন খুঁজে পাওয়া যায়। রেডিওকার্বন পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই পাণ্ডুলিপি অন্তত ১৩৭০ বছর আগের। খবর বিবিসির।

জানা যায়, প্রায় ১০০ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সবার অগোচরে পড়েছিল ওই পাণ্ডুলিপি। এটি যে কুরআনের অন্যতম একটি পুরনো পাণ্ডুলিপি তা অনুধাবন করতে পারেনি লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ। তাই লাইব্রেরির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বই এবং ডকুমেন্টের মধ্যে কুরআনের এই পাণ্ডুলিপিটি রেখে দেয়া হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই পাণ্ডুলিপির বয়স কত তা জানার জন্য রেডিওকার্বন পরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু যখন এর ফলাফল সামনে আসে তখন অনেকটা ‘চমকপ্রদ’ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সংগ্রহের পরিচালক সুসান ওররাল বলেন, আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি যে এই পাণ্ডুলিপি এত পুরনো হবে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওকার্বন অ্যাকসেলেটর ইউনিট এই পরীক্ষা চালায়। সেখানে দেখা যায়, ওই পাণ্ডুলিপিটি ভেড়া বা ছাগলের চামড়ায় লেখা হয়েছে। বিশ্বে কুরআনের যতগুলো পুরনো পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে, এটি সেগুলোর একটি।

পরীক্ষার পর ওই পাণ্ডুলিপির বিভিন্ন রকম সময়কাল পাওয়া যায়। তবে এটা ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ সালের মধ্যে লেখা হয়েছে এমন সম্ভবনা রয়েছে ৯৫ ভাগ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৪০ বছর বয়সে নবুওয়ত প্রাপ্ত হন। তখন থেকে তার ওপর ওহীর মাধ্যমে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়।

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিস্ট্রিয়ানিটি অ্যান্ড ইসলামের অধ্যাপক ডেভিড থমাস বলেন, এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে যিনি এই পাণ্ডুলিপি লিপিবদ্ধ করেছেন তিনি হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর সময়ে জীবিত ছিলেন।

তিনি বলেন, যিনি এটা লিখেছেন তিনি মুহাম্মদ (সা.)-কে হয়তো খুব ভালোভাবে জানতেন। তিনি হয়তো তাকে দেখে থাকবেন, তিনি হয়তো তাঁকে ধর্মপ্রচার করতেও দেখেছেন। তিনি হয়তো মুহাম্মদ (সা.)-কে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন।

এ ধরনের পাণ্ডুলিপি বিষয়ে ব্রিটিশ লাইব্রেরির বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ ইসা ওয়ালি বলেছেন, এই ‘উত্তেজনাকর আবিষ্কার’ মুসলিমদের ‘আনন্দিত’ করবে। হিজাজি আরবি স্ক্রিপ্টে লেখা পাণ্ডুলিপিতে কুরআনের কয়েকটি সুরা রয়েছে। ইকনা।