আয়াসোফিয়ার ব্যাপারে তুরস্কের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া

তুরস্ক কর্তৃক আয়াসোফিয়াকে মসজিদিকরণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক এবং ইসলাম ধর্মীয় দলগুলো।

গেলো শুক্রবার (১০ জুলাই) আদালতের আনুষ্ঠানিক রায়ের পর অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মতো ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলগুলোও অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে তুরস্কের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। খবর আনাদোলু এজেন্সি

ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন নাহদাতাতুল উলামার নির্বাহী কাউন্সিলের প্রধান রবিকিন এমহাস বলেছেন, তুরস্কের আদালতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত আইনি প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

আয়াসোফিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যে-কোনো দেশের বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সিদ্ধান্তই সব পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারে না। তবে তুরস্কের এই পদক্ষেপ অবশ্যই সম্মান পাওয়ার যোগ্য এবং সবাই এই পদক্ষেপকে সম্মান করা উচিত।

এছাড়া দেশটির প্রাচীনতম মুসলিম সংগঠন ‘মুহাম্মদিয়া’ আয়াসোফিয়ার বিষয়ে তুরস্কের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

সংস্থাটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিষয়ক সচিব ওয়াহিদ রিদওয়ান বলেন, আয়াসোফিয়াকে মসজিদ হিসাবে পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে তুর্কি সরকার এবং জনগণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

মুসলিম প্রধান স্বাধীন দেশটি তাদের ঐতিহাসিক স্থাপনাটির বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন,আইনি ও আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে সম্পন্ন করেছে।সুতরাং এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাছাড়া এই সিদ্ধান্তটি শীর্ষ আদালতে জবাবদিহিতার চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করে এসেছে।

এছাড়াও ওয়াহিদ রিদওয়ান বলেন, ধর্মের সমন্বয়ে গড়া বিশ্ব সভ্যতার উন্নয়ন ও সহিষ্ণুতার এক উৎকৃষ্ট চিত্র এই পদক্ষেপে সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করে চাপ প্রয়োগ করার কোনো মানে হয় না। কারণ তুরস্ক সমস্ত ধর্মের দর্শনার্থীদের জন্য এই ঐতিহাসিক স্থাপনা উন্মুক্ত রাখবে। চাপ প্রয়োগে সরকার ও তুরস্কের মানুষের অবস্থান বদলাবে না। পশ্চিমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে ইসলাম সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই সংকীর্ণ।

এছাড়াও প্রোস্পারাস জাস্টিস পার্টির সংসদ সদস্য সুরাহম্যান হিদায়াত বলেছেন, সিদ্ধান্তটি তুরস্কের সার্বভৌম অধিকার। সকলেরই উচিত এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

তিনি আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, প্রত্যেকের উচিত তুরস্কের আইনি ব্যবস্থা, কর্তৃত্ব, অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব এবং জাতির দীর্ঘ ইতিহাসকে সম্মান করা। সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ (২য়) এটি বিজয় করে জাতির সামনে মসজিদ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। মসজিদে রূপান্তরের অর্থ হচ্ছে এটা প্রতিদিনই মুসলিম-অমুসলিম সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সকল দর্শনার্থী প্রতিদিনই এখানে প্রবেশ করতে পারবেন।

ইন্দোনেশিয়ার ইউনাইটেড ডেভেলপমেন্ট পার্টির এক দায়িত্বশীল আহমদ বাইদাওয়ী বলেছেন, আয়াসোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করা হল তুরস্কের সার্বভৌমত্বের অংশ। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে এই ব্যাপারে তুরস্কের নিজস্ব কর্তৃত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, মুক্ত ও সক্রিয় বৈদেশিক নীতি মেনে চলা দেশ হিসাবে ইন্দোনেশিয়া তুরস্কের সিদ্ধান্তকে পরিপূর্ণভাবে সম্মান করে।

বাইদাওয়ী বলেন,এটি আদালতের রায়ের মাধ্যমে করা হয়েছে। তাছাড়া এটি জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছে অন্যকোনো ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে নয়। সুতরাং এটি বড় কোনো ইস্যু বা সমস্যা নয়।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আরও সংবাদ

আযান ভালো লাগতো, তবে কোনো একদিন আমি মুসলিম হবো সেটা কখনো ভাবিনি’

‘আযান ভালো লাগতো, তবে কোনো একদিন আমি মুসলিম হবো সেটা কখনো ভাবিনি’
ইসলাম ডেস্ক : আফ্রিকার দেশ বেনিনের নাগরিক চিবু জেবিতোলোসি গেবাগিজি। স্কলারশিপ নিয়ে ২০১৭ সালে পড়তে যান তুরস্কে। আঙ্কারা ইউনিভার্সিটিতে প্রাণিবিদ্যার উপর পিএইচডি করছেন ২৭ বছর বয়সী চিবু। সেখানে নিজের এক শিক্ষকের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি।

তুরস্কে আসার আগে চিবু বেনিন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতেন। যখন তার ১৭ বছর বয়স, তখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল মুসলিম শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই থেকে ইসলাম সম্পর্কে কিছুটা জানাশোনা।

চিবু বলেন, ‘আমি আযান শুনতে পেতাম এবং এটা আমার ভালো লাগতো। কিন্তু কোনো একদিন আমি মুসলিম হবো সেটা কখনো ভাবিনি।’

চিবুকে তার মুসলিম কাজিন আতিকো আমাদো গত বছর পবিত্র রমজান মাসে আসমা কোপরু ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। তিনিও আঙ্কারায় পড়াশোনা করছেন।

চিবু বলেন, ‘আমি সেখানে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমি মুসলিম ছিলাম না। তবে আমি আমার মুসলিম বন্ধুদের প্রতি সংহতি জানাতে ১৪টা রোজা রাখি। মূলত এর মাধ্যমেই আমি ইসলামকে উপলব্ধি করতে শুরু করি।’

চিবুর বন্ধুদের একজন মালির নাগরিক মাহমুদ কোন্তা। তিনি আঙ্কারা ইউনিভার্সিটিতে ধর্মতত্ত্ব পড়ছেন। তিনি চিবুকে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনী শোনাতেন।

চিবু বলেন, ‘আমি ইসলাম গ্রহণের আগে কিছু দিন কোরআন অধ্যায়ন করেছি। আমার পিএইচডি সুপারভাইজর জেহরা সারিজিজেক আমার বিশ্বাস নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করতেন এবং আমাকে ইসলাম গ্রহণে উৎসাহিত করতেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত আমার অনেক খ্রিস্টান বন্ধু মেনে নিতে পারেনি। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের কারণে আমি মোটেও অনুতপ্ত নই। আমি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি।’