এবার আল আকসা ‘স্বাধীন’ করার ঘোষণা দিল তুরস্ক!

‘হায়া সোফিয়া’কে মসজিদ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর এবার ইসরাইলের কাছ থেকে আল আকসা মসজিদ উদ্ধার করার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান। প্রাচীন চার্চ হায়া সোফিয়াকে ১৪৫৩ সালে মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছিল।

তবে ১৯৩৪ সালে একে জাদুঘরে পরিণত করে তৎকালীন তুর্কি সরকার। গত সপ্তাহে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে একে জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়েছে।

এবার তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়, হায়া সোফিয়াকে মসজিদ হিসেবে পুনঃরূপান্তরের মাধ্যমে আল আকসা মসজিদ স্বাধীন করার যাত্রা শুরু হয়েছে।

ওয়েবসাইটে বলা হয়, ‘হায়া সোফিয়া পুনরুদ্ধার মুসলমান ও সকল নির্যাতিত, নিষ্পেষিত মানুষের আশার পুনর্জাগরণের প্রথম পদক্ষেপ।’

এই তুর্কি ভাষণের আরবি অনুবাদে বলা হয়, হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর হলো আল আকসায় স্বাধীনতার প্রত্যাবর্তনের অংশ। প্রসঙ্গত, জেরুজালেমের ওল্ড সিটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইসরাইল, যেখানে আল আকসা অবস্থিত।

উজবেকিস্তানের বুখারা থেকে স্পেনের আনাদুলিয়া পর্যন্ত ইসলামের পুনর্জাগনের সঙ্গে এই হায়া সোফিয়ার পুনরুদ্ধারকে সংযুক্ত করা হয়েছে পুরো ভাষণে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি আন্দোলনের সমর্থক ও ইসরাইলের কড়া সমালোচক। ২০০৯ সালে তিনি দাভোসে এক আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে মঞ্চে তৎকালীন ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজকে দেখতে পেয়ে ওয়াকআউট করেন।

এরপর ইসরাইলের গাজা অবরোধ ভাঙতে গাজায় সাহায্যসমেত একটি জাহাজ প্রেরণ করে তুরস্ক। সেখানে ইসরাইল সামরিক অভিযান চালিয়ে ১০ জন তুর্কি নাগরিককে হত্যা করে।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

ফিলিস্তিন দখলে ইসরাইলি পরিকল্পনা মেনে নিবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর দখলে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের ন্যাক্কারজনক পরিকল্পনা মেনে নিবে না বলে জানিয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীর এবং জর্দান উপত্যকা দখলের ব্যাপারে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল যে ন্যাক্কারজনক পরিকল্পনা নিয়েছে, তার সম্ভাব্য জবাব দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোশেফ বোরেলকে লেখা এক চিঠিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ১১ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করার ব্যাপারে ইসরাইলের এই পরিকল্পনা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তার সদস্য দেশগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। ২৭ জাতির এ সংস্থার উচিত– দ্রুত ইসরাইলি পরিকল্পনার সম্ভাব্য জবাব প্রস্তুত করা। ইসরাইলের এ দখল পরিকল্পনার জবাব প্রস্তুত করার সময় খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

জোসেফ বোরেলকে লেখা ওই চিঠিতে ফ্রান্স, ইতালি, হল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, পর্তুগাল ও মালটা রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত ১৫ মে বোরেলের সঙ্গে বৈঠকের সময় ইসরাইলের সম্ভাব্য জবাব তৈরির আহ্বান জানান। মন্ত্রীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বোরেল তার অফিসের সহকর্মীদের সম্ভাব্য জবাব প্রস্তুত করার তালিকা করতে বলেন।

আরো পড়ুন-বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআনের অনুবাদ পড়ানোর প্রস্তাব পাস করল পাকিস্তান

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় পবিত্র কোরআনের অনুবাদ শিক্ষাদানের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ।

সোমবার দেশটির সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আলী মোহাম্মদ খানের উত্থাপিত প্রস্তাবট সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয় বলে জিয়ো নিউজ উর্দূর খবরে বলা হয়েছে।

স্পিকার আসাদ কায়সারের সভাপতিত্বে চলা জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে তিনি এ প্রস্তাবনা পেশ করেন।

এতে বলা হয়, কোরআনের উর্দূ অনুবাদ পাঠদানের মাধ্যমে আমাদের প্রজন্মের সামনে জ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এ জন্য যেসব প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুবাদসহ কোরআন পড়ানো হয় না সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থসহ কোরআন পড়ানো উচিত।

পরে সংসদ বিষয়কমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবটি সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সর্বাধিক জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুবাদসহ পবিত্র কোরআন শিক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

জিয়ো নিউজ জানিয়েছে, ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডিগ্রি অর্জনের জন্য অনুবাদসহ কোরআন অধ্যায়ন একটি অপরিহার্য শর্ত।

আরো পড়ুন-এবার আল-আকসা উদ্ধারের ঘোষণা এরদোগানের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান আয়া সোফিয়াকে আবারো মসজিদে পরিণত করার পর এবার ইসরাইলের কাছ থেকে “আল-আকসা মসজিদকে মুক্ত করার” প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত শুক্রবার তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য জেরুসালেম পোস্ট।

গীর্জা থাকার পর আয়া সোফিয়াকে ১৪৫৩ সালে মসজিদে রুপান্তরিত করেন উসমানিয় সুলতান মেহমুদ আল ফাতিহ। পরে ১৯৩৪ সালে তা যাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছিল। আয়া সোফিয়াকে আবারো মসজিদে রুপান্তরের ঘোষণা দেয়া হয়।

আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার ঘোষণার পর আল-আকসা মসজিদকে মুক্ত করার বার্তা দেয়া হয়েছে তুর্কি প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে।

বলা হয়েছে, আয়া সোফিয়ার পুনরুত্থান হলো বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের আবারো কতৃত্বের প্রথম পদক্ষেপ…আয়া সোফিয়ার এই উত্থান নিপীড়িত, শোষিত মুসলমানদের আশার আলো।

ভাষণটির আরবি অংশে বলা হয়েছে, আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করা আল-আকসা মুক্তির অংশ। জেরুজালেমের পুরানো শহর যেখানে আল-আকসা মসজিদ রয়েছে তা নিয়ন্ত্রণ থেকে ইসরাইলকে বিতাড়িত করার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

এরদোগান ইসরাইলের চরম সমালোচক হিসেবেই পরিচিত।