ইরান- চীনের চুক্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভারত, খুশি পাকিস্তান

ভারতের সাথে চুক্তি বাতিল করেছে ইরান। এতে আর্থিকভাবে বড় অংকের ক্ষতির মুখে পড়বে ভারত। তবে ইরান নতুন করে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তি করেছে চীনের সাথে। আর এ ঘটনায় বেজায় খুশি চীনের অন্যতম বন্ধু দেশ পাকিস্তান।

ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে জেহেদান পর্যন্ত একটি রেলপথ তৈরির প্রকল্পের অংশিদার ছিল ভারত। ইরানের এই প্রকল্প হাতছাড়া হয় ভারতের। এই কাজ পেয়ে গেছে চীন। বলা হচ্ছে এই বড় ধাক্কা দিয়ে ভারতের বাণিজ্য খাতে কোণঠাসা করার পথে এগিয়ে গেল চীন।

ইরানের পরম শত্রু আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সখ্যতা বাড়ার পাশাপাশি চীনের সংঘাত বেড়েছে। এদিকে ইরানের তেল আমদানিও বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। আর তাই চীনের দিকেই ঝুঁকে গেছে ইরান। তবে এতে দারুণ খুশি পাকিস্তান।

এ সমঝোতায় পাকিস্তানের খুশি হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, ইরান শিয়া প্রধান দেশ হওয়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামীদের সাহায্য করে ও লুকাতে দেয়। তবে চীনের সঙ্গে এই সমঝোতার ফলে এবার ইরানকে বালোচ নেতাদের সাহায্য বন্ধ করতে হবে। কারণ বেলুচিস্তানে চীনের সিপেক প্রকল্পগুলির বিরোধিতা করে বেলুচরা। আর বেলুচদের দমাতে পারলে স্বস্তিতে থাকবে ইমরানের প্রশাসন।

ইরানের দিল্লি বিরোধী সুর বাজতে শুরু করেছে ২০২০ সালের প্রথম ভাগ থেকেই। তখন দিল্লিতে মুসলিম অত্যাচার শুরু হয়। সিএএ নিয়ে ও দিল্লি হিংসা নিয়ে মুখ খুলেছিল ইরান। কার্যত সেই সময় ভারতের পরিস্থিতিকে খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি সেদেশ। সমালোচনার সুরে এদেশে মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে ইরান।

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান অঞ্চলে চীন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোরের রাস্তা আরও মসৃণ করার চিন্তা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলো। ৩২১৮ কিলোমিটার লম্বা এই করিডোর আসলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘ড্রিম প্রোজেক্ট’। আর ইরানের সঙ্গে চীনের নয়া চুক্তিতে এই প্রোজেক্টের দাম আরও বেড়ে গেল।

ভারতকে সরিয়ে ইরানের সঙ্গে চীনের ২৫ বছরের এ স্বাক্ষরিত চুক্তির মূল্য ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের বাণিজ্যের জন্য খুব একটা সুখের বার্তা নয়। বিশেষজ্ঞদের মত, এ বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ভারতকে আরও বেশি করে ঘিরে ধরল চীন।

আরো পড়ুন-বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআনের অনুবাদ পড়ানোর প্রস্তাব পাস করল পাকিস্তান

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় পবিত্র কোরআনের অনুবাদ শিক্ষাদানের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ।

সোমবার দেশটির সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আলী মোহাম্মদ খানের উত্থাপিত প্রস্তাবট সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয় বলে জিয়ো নিউজ উর্দূর খবরে বলা হয়েছে।

স্পিকার আসাদ কায়সারের সভাপতিত্বে চলা জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে তিনি এ প্রস্তাবনা পেশ করেন।

এতে বলা হয়, কোরআনের উর্দূ অনুবাদ পাঠদানের মাধ্যমে আমাদের প্রজন্মের সামনে জ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এ জন্য যেসব প্রদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুবাদসহ কোরআন পড়ানো হয় না সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থসহ কোরআন পড়ানো উচিত।

পরে সংসদ বিষয়কমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবটি সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সর্বাধিক জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুবাদসহ পবিত্র কোরআন শিক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

জিয়ো নিউজ জানিয়েছে, ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডিগ্রি অর্জনের জন্য অনুবাদসহ কোরআন অধ্যায়ন একটি অপরিহার্য শর্ত।

আরো পড়ুন-এবার আল-আকসা উদ্ধারের ঘোষণা এরদোগানের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান আয়া সোফিয়াকে আবারো মসজিদে পরিণত করার পর এবার ইসরাইলের কাছ থেকে “আল-আকসা মসজিদকে মুক্ত করার” প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত শুক্রবার তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য জেরুসালেম পোস্ট।

গীর্জা থাকার পর আয়া সোফিয়াকে ১৪৫৩ সালে মসজিদে রুপান্তরিত করেন উসমানিয় সুলতান মেহমুদ আল ফাতিহ। পরে ১৯৩৪ সালে তা যাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছিল। আয়া সোফিয়াকে আবারো মসজিদে রুপান্তরের ঘোষণা দেয়া হয়।

আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার ঘোষণার পর আল-আকসা মসজিদকে মুক্ত করার বার্তা দেয়া হয়েছে তুর্কি প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে।

বলা হয়েছে, আয়া সোফিয়ার পুনরুত্থান হলো বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের আবারো কতৃত্বের প্রথম পদক্ষেপ…আয়া সোফিয়ার এই উত্থান নিপীড়িত, শোষিত মুসলমানদের আশার আলো।

ভাষণটির আরবি অংশে বলা হয়েছে, আয়া সোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করা আল-আকসা মুক্তির অংশ। জেরুজালেমের পুরানো শহর যেখানে আল-আকসা মসজিদ রয়েছে তা নিয়ন্ত্রণ থেকে ইসরাইলকে বিতাড়িত করার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

এরদোগান ইসরাইলের চরম সমালোচক হিসেবেই পরিচিত।