সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলা প্রতিহত করল রাশিয়া!

সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কৌশলগত হামেইমিম বিমান ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিরিয়া বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল আলেক্সান্ডার স্কেরবিতস্কি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি গতকাল (রোববার) বলেন, হামেইমিম ঘাঁটিতে রুশ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে এবং সেখানে ড্রোন থেকে হামলার প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। বিমান ঘাঁটি থেকে পাঁচ কিলিামিটার দূরে দু’টি পাইলটবিহীন বিমান গুলি করে নামানো হয় বলে তিনি জানান।

অ্যাডমিরাল স্কেরবিতস্কি বলেন, এ ঘটনায় ঘাঁটির কোনো সেনা হতাহত হয়নি বা কোনো স্থাপনারও ক্ষতি হয়নি।

সিরিয়ার হামেইমিম বিমান ঘাঁটি (ফাইল ছবি)
সিরিয়ায় ২০১১ সাল থেকে বিদেশি মদদে যে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদ চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল ২০১৮ সালে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশের নির্মূলের মধ্যদিয়ে তার অবসান হয়।

তবে এখনো কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে অবস্থান করছে। তারা মাঝেমধ্যেই হামেইমিম বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন রুশ সেনাদের উপর ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করে। সুত্র: পার্সটুডে

চীনে ভয়াবহ বন্যায় লাখো মানুষ পানিবন্দী, এখন পর্যন্ত ১৪০ জনের মৃত্যু

লাগাতার ভারিবৃষ্টির কারণে চীনে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। কার্যত বন্যার পানিতে ভাসছে দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চল।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে হুবেই, জিয়াংজি এবং ঝেঝিয়াং প্রদেশের হাজার হাজার ঘরবাড়ি পানিতে তলিতে গেছে। উঁচু বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে লাখ লাখ মানুষ।

কিন্তু পানির চাপে বাঁধগুলোতেও ফাটল দেখা দিয়েছে। কখন ভেঙে পড়ে- সেই আশঙ্কায় পালা করে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে অধিবাসীরা। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।

খবরে বলা হয়েছে, গত ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে চীন। চলতি বছরের জুন মাস থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

কিন্তু বর্ষার শুরুতেই নতুন মাত্রায় ভারিবৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। লাগাতার এই বর্ষণে একাধিক নদীর পানি উপচে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। কোথাও কোথাও ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এবারের বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ অধিবাসী। এখন পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১৪০ জন নিহত হয়েছে।

চীনের পূর্বাঞ্চলে জিয়াংজি প্রদেশে নদী তীরবর্তী বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে এই অঞ্চলের কয়েক লাখ অধিবাসী। কিন্তু নদীর পানির চাপে বাঁধগুলোতেও ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জিয়াংজি প্রদেশের শাংগ্রাওয়ের পোয়াং অঞ্চলে সি নদীর তীরবর্তী বাঁধে পরিবারসহ আশ্রয় নিয়েছেন উ শেংসন। শনিবার রাতেও তার নির্ঘুম গেছে। অঝোর বৃষ্টির মধ্যেই বাঁধ ভেঙে পড়ার ভয়ে আরও কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে সারা রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন তিনি।

আগের রাতগুলোর মতো এ দিন রাতেও উ শেংসনের পাহারার পালা শুরু হওয়ার পরপরই ঝড়বৃষ্টি হয়। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। অদূরে মুহুর্মুহু বজ পাত হয়।

উ তখনও দুরুদুরু বুকে বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে এক সাক্ষাৎকারে রাত জেগে বাঁধ পাহারা দেয়ার সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে উ বলেন, ‘মনে মনে একটু ভয়ও পাই। কয়েকদিন ধরেই একটানা ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে।’

উ শেংসন মূলত চীনের সর্ববৃহৎ সাধুপানির হৃদ পোয়াং লেকের কাছেই ওযানলি গ্রামে একজন সরকারি কর্মকর্তা কাজ করেন।

কিন্তু একটানা বৃষ্টির কারণে গত রোববারই ইয়াংসিকিয়াং নদীর পানি উপচিয়ে লেকের পানি ২২.৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে শানগ্রাও অঞ্চলের বহু ছোট-বড় শহর ও গ্রাম তলিয়ে গেছে।