ইরানের পরমাণু কর্মসূচি থামানো সম্ভব নয়: ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান

ইহুদিবাদী ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান শাবতাই শাবিত বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ইরান তার আণবিক কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১৯৮৯ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মোসাদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শাবিত গত জুন মাসে ইসরাইলের দৈনিক পত্রিকা টাইমস অব ইসরাইলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন। তার এ সাক্ষাৎকার গত বুধবার প্রকাশিত হয়েছে।

৮০ বছর বয়সী গুপ্তচর প্রধান হেড অব মোসাদ নামে একটি বই লিখেছেন যা ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়। ওই বইয়েও তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা যাবে না।

ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় সেন্ট্রিফিউজ দেখা যাচ্ছে
সাক্ষাৎকারে টাইমস অব ইসরাইলের পক্ষ থেকে মোসাদের সাবেক প্রধানকে ইরানরে পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, “সবচেয়ে খারাপ বিষয় হচ্ছে পরমাণু কর্মসূচির সিদ্ধান্ত থেকে ইরান সরবে না এবং তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি টিকিয়ে রাখা এবং তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ইরানের প্রত্যয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে তিনি দাবি করেন ইরানের পরমাণু কর্মসূচির একটি সামরিক দিক আছে যা ইসরাইল এবং তার প্রধান মিত্র আমেরিকা কখনো বলতে বাদ রাখে নি।

আরও সংবাদ

নবজাতককে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেলেন দরিদ্র বাবা

কুমিল্লায় অর্থের অভাবে নবজাতককে হাসপাতাল ভর্তি করে পালিয়ে গেলেন হতদরিদ্র বাবা। আর অন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মায়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে গত ৭ দিন ধরে ওই শিশুর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে আসছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নজরে এলে চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিলেন পুলিশ সুপার।

৫ জুলাই দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জমজ সন্তানের জন্ম দেন সদর উপজেলার আড়াইওরা গ্রামের হতদরিদ্র মিজান দম্পতি। জন্মের পরপরই ছেলে শিশু মারা যায় আর জীবন সংকটে মেয়ে শিশুর।

এমন পরিস্থিতিতে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় ওইদিনই শিশুকে ভর্তি করা হয় নগরীর ঝাউতলা এলাকার কুমিল্লা মা ও শিশু স্পেশালাইজড হাসপাতালে।

এরপর থেকেই শিশুটির বাবা মিজান উধাও। আর শিশুর মা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তির সময় যে ফোন নম্বর দেয়া হয়েছিল, সে নম্বর কখনও বন্ধ থাকে আবার কখনও খোলা থাকলেও কেউ ফোন রিসিভ করেন না। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাবাকে খুঁজে না পেলেও মায়ের সন্ধান পান এবং শিশুর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাকে জানান। ৮ জুলাই মা হাসপাতালে এলেও আর্থিক জোগান না থাকায় বিভিন্ন স্থানে পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতা চাইতে থাকেন।

বিষয়টি কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের নজরে আসার পর তিনি চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব নেন। এই খবর জানার পর শিশুর বাবা ও স্বজনরা রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালে ছুটে আসেন। তারা জানান টাকা না থাকায় লজ্জায় শিশুটিকে নিতে হাসপাতালে আসেননি তারা।

কুমিল্লা মা ও শিশু স্পেশালাইজড হাসপাতাল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এমরান জানান, শিশুটি অপরিপক্ক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছে। তার ওজন সাড়ে ৭শ গ্রাম। তবে আগের চেয়ে সুস্থ রয়েছে।

ওই হাসপাতালের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদিউল আলম চৌধুরী জানান, মানবিক দিক বিবেচনা করেই আমরা অভিভাবকহীন এ শিশুর চিকিৎসা সেবা চালিয়েছি। শিশুটির জীবন রক্ষা করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। তাই শিশুটির চিকিৎসা ব্যয়ের দায়িত্ব নিয়েছি। তবে, এটা ভালো খবর যে শিশুটি তার বাবা-মাকে ফিরে পেয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৭ দিনে চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। শিশুটিকে পুরোপুরি সুস্থ করতে আরও অর্থের প্রয়োজন।