আবারও বাঁধা দিয়ে ভারতের হাইওয়ে তৈরির কাজ বন্ধ করল নেপাল

কিছুদিন আগে ভারতের উত্তরখণ্ডের ধারাচুলা থেকে লিপুলেখ পর্যন্ত রাস্তা তৈরির কাজে বাঁধা দিয়েছিল নেপাল। তারপরই তিনটি ভারতীয় ভূখণ্ডকে নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধান সংশোধন করে নেপাল সরকার।

এর জেরে দু’দেশের মধ্যে এখনও উত্তেজনা চলছে। তারমধ্যেই ফের বিহারের সীতামারি জেলার নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভারতের একটি হাইওয়ে তৈরির কাজ বন্ধ করে দিল নেপাল। বিষয়টি নিয়ে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি শুরু হয়েছে দিল্লি ও কাঠমন্ডুর মধ্যে।

সীতামারি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিহারের ৬৩১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নেপালের সীমান্ত রয়েছে। এতদিন ধরে এই সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা সারাইয়ের কাজ করছে বিহার সরকার। তাতে কোনওদিনই কোনও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু কিছুদিন ধরেই বিহারের সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজে বাধা দিচ্ছে নেপালের সরকার।

কিছুদিন আগে পূর্ব চম্পারণ জেলার নেপাল সীমান্তের কাছে থাকা লালবকেয়া নদীর উপর একটি বাঁধ তৈরির কাজে বাধা দিয়েছিল তারা। তারপর ভারতের সীতামারির এক বাসিন্দাকে সীমান্তের ওপার থেকে গুলি চালিয়ে মেরেই ফেলেছে নেপালের সীমান্তরক্ষীরা।

এবার বিহারের উত্তরপ্রান্তে অবস্থিত সীতামারি থেকে ভিট্টামোড় পর্যন্ত হাইওয়ে তৈরির কাজ বন্ধ করে দিল তারা। ভারত নো ম্যানস ল্যান্ডের উপর দিয়ে এই রাস্তা বানাচ্ছে বলে অভিযোগ কাঠমান্ডুর। যদিও সেই দাবি মিথ্যা বলে দাবি করেছে ওই হাইওয়ে তৈরির কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতীয় কর্মকর্তারা।

সুত্রঃ ইনসাফ ২৪

আরো পড়ুন-ঐতিহাসিক ‘আয়া সোফিয়া’-কে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের পক্ষে তুরস্কের আদালতের রায়

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া-কে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের পক্ষে রায় দিয়েছে দেশটির শীর্ষ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকা মামলার রায়ে আয়া সোফিয়া-কে জাদুঘরে রুপান্তর সংক্রান্ত আইনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আয়া সোফিয়া-কে মসজিদে রুপান্তর করতে আইনগত কোনো বাঁধা থাকলো না।

আজ বুধবার ( ৮ জুলাই) তুরস্কের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ইয়েনি শাফাক’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণা না করা হলেও তুরস্কের আরেকটি প্রভাবশালী দৈনিক ডেইলি সাবাহ‘র আংকারা প্রতিনিধির সূত্রে খবরটি প্রকাশ করে ইয়েনি শাফাক।

আশাকরা হচ্ছে লিখিত রায় প্রকাশ পেলে আগামী শুক্রবার থেকেই আয়া সোফিয়াতে নামাজ আদায় শুরু হতে পারে। এ রায়ের মাধ্যমে তুরস্কের ইসলাম প্রিয় জনতার দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হতে যাচ্ছে।

আয়া সোফিয়া-কে মসজিদে রুপান্তর না করতে প্রাশ্চাত্যের দেশগুলো এবং রাশিয়াসহ নানা মহলের ব্যাপক চাপ ছিল। চাপকে উপেক্ষা করে এই রায় ঘোষিত হলো। এর মাধ্যমে প্রায় ৮০-৯০ বছরের দাবি, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক কুটনীতির সমাপ্ত হবে।

আয়াসোফিয়াকে ইসলাম প্রিয় জনগন ইস্তান্বুল বিজয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিম্বল মনে করে। আর এটাকেই জাদুঘরে রুপান্তর করেছিল একদলীর সেক্যুলার সরকার। এরপর কেটে গেছে প্রায় ৮৫ বছর। এই রায়ের মাধ্যমে ইস্তাম্বুল তার সিম্বল পুনরায় ফিরে পাবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ এব্যাপারে আদালতের রায় দেবার কথা ছিল, পরে তা পিছিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

আয়া সুফিয়া মসজিদ নিয়ে বিতর্কের মূল কারণ হচ্ছে, এটিকে মসজিদ বলা হবে নাকি জাদুঘর বলা হবে তা নিয়ে। কারণ এক সময় এই স্থাপনাটি গীর্জার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত।

এটি নির্মিত হয়েছিল ষষ্ঠ শতাব্দীতে, তখনকার বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতি সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে। চতুর্থ ক্রুসেডের সময় ইউরোপের ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা এক অভিযান চালিয়ে কনস্টান্টিনোপল দখল করে তারা আয়া সোফিয়াকে অর্থডক্স গীর্জা থেকে ক্যাথলিক ক্যাথিড্রালে পরিণত করেছিল। এ নিয়ে খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘর্ষ ও দখল-পাল্টা দখলের ঘটনাও ঘটে।

প্রায় ১০০০ বছর ধরে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা। পরে ১৪৫৩ সালে যখন সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহের ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে ইস্তাম্বুল অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তখন একে পরিণত করা হয় মসজিদে। সেসময় থেকে ১৯৩০ এর দশক পর্যন্ত এটি ছিলো মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ। এর পর তুরস্ক থেকে ইসলাম নিশ্চিহ্ণ করে দেওয়ার পর ১৯৩৫ সালে কামাল পাশা আতাতুর্ক ঐতিহাসিক এ মসজিদটিকে জাদুঘরে পরিণত করে।

তুরস্কের ইসলামপস্থীরা বহুকাল ধরেই চাইছিলেন এটিকে আবার মসজিদে পরিণত করতে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধীদলীয় এমপিরা এর বিরোধিতা করে আসছিলো। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার সমালোচনা শুরু হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বেশ কিছুকাল আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার কথা বলেন। গত বছর এক নির্বাচনী সভায় তিনি এই পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেন। এ মসজিদটি নিয়ে বরাবরের মতোই এরদোগানের সমালোচনা করে আসছে পশ্চিমারা।

আয়া সোফিয়া মসজিদে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত অনুষ্ঠানের ঘটনায় এথেন্সের সমালোচনার পর নতুন করে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যকার বাদানুবাদ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন তুঙ্গে উঠে। মসজিদের ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে দু’দেশের মধ্যকার বিতর্ক অবশ্য এবারই প্রথম নয়। বহুদিন ধরে এ নিয়ে বিতর্ক চলে আসলেও নতুন করে তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মনে করা হচ্ছে এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে গ্রিস এবার তুরস্কের সঙ্গে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ির চেষ্টা করবে। এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ ও বিদ্বেষ চরিতার্থ করার চেষ্টা করবে।

আয়া সোফিয়ার ব্যাপারে গ্রিসের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও দাবির প্রতিক্রিয়ায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তুরস্কের বিরুদ্ধে গ্রিসের কর্মকর্তাদের অভিযোগ আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো নেই।

এথেন্স এই স্থাপনাটিকে গীর্জা হিসেবে দাবি না করলেও তারা বলেছে, এটি একটি প্রাচীন জাদুঘর এবং এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা বিষয়ক ইউনিসেফের নীতিমালার লঙ্ঘন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গ্রিসের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, এথেন্সে অনেক মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে