লাদাখে সংঘর্ষ হলে ভারতের রাফাল কোন কাজেই আসতো না: রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ

চীনা বিমান বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতের রাফাল জেট কোন কাজে আসতো না বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ান এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, লাদাখে চীনা বিমান বাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় বিমান বাহিনী সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে সেখানে রাফাল তেমন সুবিধা করতে পারতো না। কারণ এগুলো ৪++ প্রজন্মের ফাইটার।

গত জুনে হিমালয়ের লাদাখ অঞ্চলে রক্ষক্তয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ভারত ও চীন। এতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। লাদাখ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স বলে যে তারা ভারতে রাফাল সরবরাহের কাজ দ্রুততর করছে।

বিমান বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে রাফাল ফাইটার জেট পেলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) যুদ্ধক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ বলেন যে যুদ্ধ বেধে গেলে ফরাসি জঙ্গিবিমানগুলো ভারতকে তেমন কোন সাহায্য করতে পারতো না।

এর একটি কারণ হেলো ফরাসি ৪++ ফাইটারগুলোর এস্ট্রোনমিক্যাল কস্ট। ফ্রান্সের সঙ্গে ভারত ৩৬টি রাফাল জেট কেনার চুক্তি করেছে। প্রতিটি ফাইটারের দাম পড়েছে ভারতীয় মুদ্রায় ১,৬৪৬ কোটি রুপি।

চীনের জে-২০ স্টেলথ ফাইটার জেটের তুলনায় রাফাল জেটের দাম তিনগুণ বেশি। এর মানে হলো ভারত যে টাকায় ৩৬টি ফাইটার কিনছে সেই একই দামে চীন তিনগুণ বেশি সংখ্যক পঞ্চম প্রজন্মের জে-২০ ফাইটার হাজির করতে পারছে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফরাসি ৪++ ফাইটারের চেয়ে চীনা জঙ্গিবিমান পিছিয়ে থাকলেও সংখ্যা দিয়েই ভারতকে গুড়িয়ে দিতো চীনা বিমান বাহিনী।

শুধু দামেই নয়, জে-১৬ (রাশিয়ান সু-৩৫-এর অনুরূপ) ফাইটারের পাশাপাশি চীনা বিমান বাহিনী রাশিয়ার তৈরি যেসব সু-৩৫ ব্যবহার করে সেগুলো মোকাবেলা করাও রাফালের পক্ষে সম্ভব হতো না।

রাফালের সর্বোচ্চ গতি যেখানে ১.৮ ম্যাচ, সেখানে জে-১৬-এর গতি ২.২ ম্যাচ। রাফালের বাস্তব উড্ডয়ন উচ্চতাও জে-১৬-এর চেয়ে কম। ইঞ্জিন থ্রাস্টের দিক দিয়ে রাফালের চেয়ে চীনের জে-১৬ ও রাশিয়ার সু-৩৫ অনেক এগিয়ে আছে।

ভারত যদি ৩৬ রাফালের সবগুলো মোতায়েন করতো তারপরও কারিগরি ভারসাম্য চীনের অনুকুলে থাকতো বলে ওই রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ মনে করেন।

লাদাখে চীনা বিমান বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের কাছে চীনের তৎপরতার উপর নজর রাখছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী রাশিয়ার কাছ থেকেও ৩৩টি নতুন জঙ্গিবিমান সংগ্রহের চুক্তি করেছে। খবর সাউথ এশিয়ান মনিটরের।

পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ারফোর্সের যেকোন দু:সাহস ঠেকাতে লাদাখে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে ভারতীয় সেনা ও বিমান বাহিনী।

ভারতে সবজি রফতানি বন্ধ করল ভুটান!

ভুটানে এখন সবজি ফলনের ভর মওসুম। সবজি বিক্রি করে পয়সা আয়ের সুযোগও তাদের সামনে ছিলো। কিন্তু আকস্মিকভাবে ৬ জুলাই থেকে জাইগোয়ান ক্রসিং দিয়ে ভারতে সবজি রফতানি বন্ধ হয়ে গেছে।

শুক্রবার ফুয়েন্তসোলিংয়ে ফুড কর্পোরেশন অব ভুটান লি. (এফসিবিএল)-এর নিলাম প্রাঙ্গনে ছিলো সুনশান নীরবতা।

সম্প্রতি এফসিবিএল চুখার দামচুতে যে সবজি সংগ্রহ কেন্দ্র খোলে সেটার কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ কেন্দ্রে চাষীরা তাদের ফসল নিয়ে আসার পর সেগুলো এফসিবিএলের ফুয়েন্তসোলিং নিলাম আঙ্গিনায় নিয়ে যাওয়ার কথা। কোভিড মহামারীর কারণে এ ব্যবস্থা করা হয়েছিলো।

কিন্তু জাইগাঁও সীমান্ত পথে কেন ভারতে সবজি রফতানি বন্ধ হয়ে গেছে তা জানা জায়নি। কিছু সূত্র বলছে এটা সীমান্তের ওপারে কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর কারসাজি।

মহামারীর কারণে ২৩ মার্চ থেকে সীমান্ত ফটক বন্ধ। ফুয়েন্তসোলিংয়ের অনেকের আশঙ্কা তাদের প্রাথমিক কাস্টমার না থাকায় সীমান্তের ওপারে তারা ব্যবসা হারাবেন। এই প্রাথমিক কাস্টমার মূলত ভুটানিরা।

এই সময়ে চুখা ও পারো থেকেই বেশিরভাগ সবজি আসে। তাই এসব এলাকার চাষীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। কুয়েনসেল