মুসলিম তরুণদের সামাজিক সক্রিয়তা জার্মানিতে বেড়েছে

জার্মানিতে দিন দিন মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে। আর এই কারণেই মুসলিম তরুণদের সামাজিক কাজে অনেক বেশি অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। পাশাপাশি নারীরাও এসব কাজে অংশ নেন।

জার্মানির পেডাগজিকাল ইউনিভার্সিটি অফ কার্লসরুহের ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক থিওলজি ও রিলিজিয়াস এডুকেশনে গবেষণাটি করা হয়৷ গবেষণার পরিচালক ইয়র্গ ইমরান শ্র্যোটার জানিয়েছেন, ১৪ থেকে ৩৪ বছর বয়সী প্রায় সাতশ’

তরুণের ওপর জরিপ চালানো হয়েছে৷ তবে এরা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং গবেষণায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নিয়েছেন৷ জরিপটি অনলাইনে করা হয়৷

গবেষণায় দেখা গেছে, সাতশ’ তরুণের মধ্যে ৬১ ভাগ জানিয়েছেন তারা সামাজিক নানা কাজে সক্রিয়৷ এর বিনিময়ে বেশিরভাগই কোন টাকাও নেন না৷ এর বাইরে আরো ২০ ভাগ সামাজিকভাবে সক্রিয় হতে চান এবং ১১ ভাগ জানিয়েছেন, তারা আগে সম্পৃক্ত ছিলেন৷

‘‘শিক্ষিত মুসলিম তরুণদের মাঝে সামাজিক কাজে অংশ নেয়ার এই বিপুল আগ্রহ ধার্মিকতার ইতিবাচক প্রভাব বলে মনে করছি আমরা,” ইনস্টিটিউট ও গবেষণা দলের প্রধান ইয়র্গ ব্যাখ্যা করেন৷ ‘‘এতে করে সার্বিকভাবে সমাজের উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ বাড়বে,” যোগ করেন তিনি৷

ইয়র্গ বলেন, তিনটি কারণে তারা সামাজিক কাজে অংশ নিচ্ছেন বা যোগ দিতে চান৷ এক, কিছু একটা করতে চান (৮৮ ভাগ), দুই, ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে (৮১ ভাগ) এবং তিন, ছোট করে হলেও সমাজে অবদান রাখা (৭৯ ভাগ)৷

গবেষণার মূল্যায়ণে আরো বলা হয়, যারা মসজিদ কমিউনিটির অংশ তাদেরই শুধু ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করা উচিত নয়৷ দেখা গেছে, জার্মানিতে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণরা বড়দের চেয়ে মসজিদ কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগ বেশি রাখেন৷ তার মানে এই তরুণদের সামাজিক সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি৷

গবেষকরা দেখেছেন, সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়াদের ৭০ ভাগ নারী৷ তার মানে ইসলামী সমাজে পুরুষতান্ত্রিকতার প্রভাব বেশি, জার্মানিতে প্রচলিত এমন ধারণার সঙ্গে বিষয়টি সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন গবেষক দল৷ তারা মনে করছেন,

সামাজিক নানা কাজে নারীদের সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগানো যেতে পারে৷ গবেষণাটিতে সাইনাস ইনস্টিটিউট বার্লিন ও রবার্ট বশ ফাউন্ডেশন সহায়তা করেছে৷ ডয়চে ভেলে

নিউইয়র্কে প্রথম পুলিশ কমান্ডিং অফিসার হলেন পাকিস্তানি মুসলিম

প্রথম আমেরিকান মুসলিম হিসেবে নিউইয়র্ক সিটির লোকাল প্রিসিন্টের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ক্যাপ্টেন আদিল রানা। গত ৭ জুলাই পাকিস্তান বংশোদ্ভ‚ত এ ক্যাপ্টেনের নিয়োগ নিশ্চিত করে নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগ।

ক্যাপ্টেন রানার নিয়োগ প্রাপ্তিতে শুভেচ্ছা জানায়, আমেরিকার বিভিন্ন মুসলিম কমিউনিটি। একজন মুসলিম কমান্ডিং অফিসার হিসেবে নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগে আদিলই প্রথম।

নতুন ইতিহাস তৈরি করায় ক্যাপ্টেন আদিল নিজেও অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, আমরা এক সঙ্গে কাজ করে নতুন কিছু তৈরি করব। এটি আমেরিকার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।

নিইউয়র্ক পুলিশ বিভাগের চিফ ফাসতো পিসার্ডো এক টুইটবার্তায় ক্যাপ্টেন আদিলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, ক্যাপ্টেন আদিলকে প্রথম পাকিস্তানি আমেরিকান প্রিসেন্ট কমান্ডার হিসেবে শুভেচ্ছা।

সূত্র: দ্য নিউজ

চীনে সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর যা হচ্ছে তা ‘গণহত্যা’

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইগুর ও অন্য সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলছে অত্যাচার। উইগুরদের জোর করে বন্ধ্যা করে দেওয়াসহ তাদের জনসংখ্যা কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে চীনা সরকার।

চীনা কর্তৃপক্ষ এসব সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি এবং জীবনাচরণ নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তাদের বন্দিশিবিরে আটকে রাখছে। আর এমন নির্যাতন-নিপীড়নের মূল্য উদ্দেশ্য জাতিগত গণহত্যা।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) করা একটি তদন্ত প্রতিবেদন এবং জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ অ্যাড্রিয়ান জেনজের নতুন একটি গবেষণা প্রতিবেদন এসব তথ্য সামনে এনেছে।

নতুন তথ্য-প্রমাণ বলছে, জিনজিয়াংয়ের উইগুর ও অন্য সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা কমাতে নারীদের জরায়ুতে আইইউডি (ইন্ট্রা-ইউটেরিন ডিভাইস) স্থাপন করা হচ্ছে, জোরপূর্বক সার্জারি করে তাদের বন্ধ্যা করে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি অনেকক্ষেত্রে গর্ভপাতও করানো হচ্ছে। যেসব নারী একাধিক সন্তান নিচ্ছে, তাদের বন্দিশিবিরে আটক করে রাখা হচ্ছে।

ফাঁস হওয়া কিছু নথি থেকে জিনজিয়াংয়ের কারাকাক্স কাউন্টির বন্দিশিবিরে আটক ৪৮৪ জনের তথ্য জানা যায়।

তাদের মধ্যে ১৪৯ জনকে বেশিসংখ্যক সন্তান নেওয়ায় আটক করা হয়েছিল। এটি আটক করার জন্য খুব সাধারণ একটি কারণ। এ বন্দিশিবিরগুলোকে কারিগরি শিক্ষালয় বলে দাবি করে চীনা সরকার।

এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটা অংকের জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে বেশিসংখ্যক সন্তান নেওয়া নারী-পুরুষদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে বন্দিশিবিরে আটক করে কর্তৃপক্ষ।

জেনজের গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৯ সালে জিনজিয়াং কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা করে, প্রদেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সন্তানধারণে সক্ষম অন্তত ৮০ শতাংশ নারীকে জোরপূর্বক গর্ভনিরোধক সার্জারি করে দেওয়া হবে, তাদের জরায়ুতে আইইউডি স্থাপন করা হবে বা তাদের বন্ধ্যা করে দেওয়া হবে।

২০১৮ সালে চীনে যতো নারীর শরীরে আইইউডি স্থাপন করা হয়েছে, তার ৮০ শতাংশই জিনজিয়াংয়ে হয়েছে। অথচ এ প্রদেশটির জনসংখ্যা চীনের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ।

উইগুরদের জনসংখ্যা কমানোর এ ক্যাম্পেইনটি অনেকাংশেই কাজ করছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে হোতান এবং কাশগার অঞ্চলে উইগুরদের জন্মহার ৬০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। জিনজিয়াং অঞ্চলজুড়ে জন্মহার কমা অব্যাহত রয়েছে। শুধু গত বছরই জন্মহার কমেছে ২৪ শতাংশ, যেখানে গোটা চীনে জন্মহার কমেছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

১৯৪৮ সালের ‘কনভেনশন অন দ্য প্রেইভেনশন অ্যান্ড পানিশমেন্ট অব দ্য ক্রাইম অব জেনোসাইড’ অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্মহার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তা গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সূত্র: ওয়াশিংটিন পোস্ট

মার্কিন বিমান ধ্বংস করল ভেনিজুয়েলার বিমানবাহিনী

ভেনিজুয়েলার একটি সামরিক বিমান
ভেনিজুয়েলার বিমানবাহিনী আমেরিকার একটি মাদক পাচারকারী বিমান ধ্বংস করেছে। বিমানটি ভেনিজুয়েলার আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর দেশটির বিমান বাহিনী এই ব্যবস্থা নেয়।

ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনী টুইটারে দেয়া পোস্টে জানিয়েছে, ৮ জুলাই রাতে ভেনিজুয়েলার আকাশে অনুপ্রবেশকারী একটি মার্কিন বিমান শক্ত করা হয় এবং সামরিক বিমানের সাহায্যে তা ধ্বংস করা হয়েছে।

ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনীর টুইটারে এই ছবিগুলো প্রকাশ করা হয় যেখানে বিমানটির সিরিয়াল নম্বর দেখা যাচ্ছে
ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনী টুইটার দেয়া পোস্টের সঙ্গে কয়েকটি ছবি যুক্ত করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে- বিমানটি দুই ভাগ হয়ে ভেঙে পড়েছে এবং তাতে আগুন ধরে গেছে। ছবিতে বিমানের সিরিয়াল নাম্বার দেখানো হয়েছে এন৩৩৯এভি।

ফ্লাইট রাডারের তথ্য অনুযায়ী এটি ছিল একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন হকার ৮০০ বিমান। এর সর্বশেষ ফ্লাইট রুট ছিল মেক্সিকো। তবে বিমানটি ঠিক কোথায় ভূপাতিত হয়েছে তা জানা যায় নি এবং বিমানের যাত্রীদের সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।