কলম্বিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ৭

কলম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে আগুনে পুড়ে অন্তত ৭ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছে। পুলিশ সোমবার এ কথা জানায়।

পুলিশ জানায়, ট্যাংকারটি উল্টে যাওয়ার পরে অনেক লোক ট্যাংকার ঘিরে ভিড় করে এবং তারা ট্যাংকারের জ্বালানি নির্গমন পাইপ বন্ধ করার চেষ্টা করে। এ সময় ট্যাংকরটি বিষ্ফোরিত হয়ে অগ্নিকুন্ড তৈরি করে।

সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দুর্ঘটনাস্থল পিউবলো ভেইজো শহরের মেয়র ফাবিনা ওসপিনো বলেন, “আমরা আশঙ্কা করছি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।”

এর পরপরই স্থানীয় পুলিশ বিষ্ফোরণে আগুনে পুড়ে ৭ জনের মৃত্যু এবং অপর ৪৬ জনের আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে।” কলম্বিয়ার ক্যারিবিয়ান উপকূলে বারানকুইল্লা ও সান্তা মারটা শহরের মাঝামাঝি সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মাগাদালিনা স্থানীয় বিভাগের গভর্নর কার্লোস কেইসিডো বলেন, আহতদের শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। গুরুতর আহতদের বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। যে সব শহরে বার্ণ ইউনিট রয়েছে গুরুতর আহতদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা বিমান বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছি।

প্রেসিডেন্ট আইভান দুকুই এক বার্তায় দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সূত্র: বাসস

লাদাখের গালওয়ানে আবারও ফিরে আসতে পারে চীনা সৈন্যরা

পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় আবারও চীনা সৈন্যদের ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গালওয়ান উপত্যকার ১৪ নম্বর পেট্রোলিং পয়েন্ট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার সরে গেছে সরানো হয়েছে। তবে চীনা বাহিনীর এই অতি সামান্য পদক্ষেপে এখনও আশার আলো দেখছে না ভারতীয় সেনাবাহিনী। বরং ভারতীয় সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকা ঢুকে পড়েছিল চীনা বাহিনী।

সেখানে মাত্র এক থেকে দুই কিলোমিটার পিছু হটেছে তারা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ফিরে যায়নি চীনের সৈন্যরা। তাই চীনা বাহিনীর আবারও ফিরে আসার সম্ভাবনাকে একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ভারতীয় সেনাবাহিনী বলছে, দু’দেশের সেনাবাহিনী যেখানে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল সেখানে পিপি ১৪ থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার সরে গেছে চীনা বাহিনী। পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৫ ও পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৭ থেকে কিছু তাঁবু গুটিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে চীনা সেনাদের হাবভাবে খুব একটা স্বস্তি পাচ্ছে না ভারত। সীমান্তে পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে তারা।

গত ৩০ জুন চীন-ভারত সেনা কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পর সীমান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। এরপরেই পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, এই আলোচনায় দু’দেশই সীমান্ত থেকে সেনা সরানোর ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে।

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় দু’দেশের সীমান্তে শান্তি ও স্থিতি ফিরিয়ে আনতে দুই দেশই তাদের বাহিনী সরিয়ে নিতে শুরু করে। মধ্যবর্তী স্থানে অন্তত তিন কিলোমিটার জুড়ে একটি নিরপেক্ষ এলাকা বা বাফার জোন তৈরি হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশই যেন নিয়ন্ত্রণ রেখায় বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলে তা নিশ্চিত করা হবে।

গোগরা হট স্প্রিং ও প্যাংগং লেক বরাবর কিছু সাঁজোয়া গাড়ি সরিয়েছে চীন। তবে তাদের বাহিনী এখনও পুরোপুরি ফিরে যায়নি। তাছাড়া প্যাংগং রেঞ্জে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ এর কাছাকাছি নিজেদের কংক্রিটের বাঙ্কার বানিয়েছিল চীন।

সেখানে তৈরি হয়েছিল শতাধিক অস্থায়ী ছাউনি। সামরিক পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছিল। তৈরি হয়েছিল অস্থায়ী বিমানঘাঁটি। সেসব এখনও পুরোপুরি সরানো হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয় ভারতীয় বাহিনী।