ইসরাইলি দখলদারির বিরুদ্ধে একজোট হল হামাস-ফাতাহ

দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও বিদেশনীতির ফারাক রয়েছে বিস্তর। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলের সঙ্গে কীভাবে কথা বলা হবে বা দুই দলের অবস্থান কী হবে তা নিয়েও রয়েছে মতের পার্থক্য। বলা হয়, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নেতৃত্বাধীন ফাতাহ সহজ অবস্থান নিয়েছে হামাসের থেকে।

হামাস চায় কথার মাধ্যমে বা আলোচনা করে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের নিরসন। অন্যিদকে হামাাস ইসরাইলের অস্তিত্বকেই মান্যতা দিতেই নারাজ। গাজার সশস্ত্র সংগঠন হামাসের মতে, আলোচনা না করে গুলি ও ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবেই একমাত্র ইসরাইলকে শায়েস্তা করা সম্ভব।

ইসরাইলের প্রতি এই দুই দলের মতের অমিল থাকা সত্ত্বেও এবার তারা হাত মেলাচ্ছে। তার কারণ, ঘনিয়ে আসছে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের সময়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আপাতত ওয়েস্টব্যাঙ্কে ও জর্ডন উপত্যকায় বসতি সম্‌প্রসারণ স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছে ইসরাইল।

তবে খুব শীঘ্রই সেই উদ্দেশ্য পূরণে শক্তি সঞ্চয় করে ময়দানে নামবেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাই আগেভাগেই ফিলিস্তিনের ইসলামি আন্দোলন হামাস এবং প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ জায়নবাদী ইসরাইলের ভূমি দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের রাজধানী রামাল্লাহ শহরে অনুষ্ঠিত এক ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে দু’দলই এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। ফাতাহ আন্দোলনের মহাসচিব জিবরিল রাজুব বলেন, ‍‌‌‌‌‌‌’আমরা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, জায়নবাদী ইসরাইলের পক্ষ থেকে আসা এই চ্যালেঞ্জকে হামাসের সঙ্গে মিলেমিশে মোকাবিলা করব।’

তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের এই ভূমিদখল পরিকল্পনা রুখে দিতে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার জন্য সবধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ রাজুবের কথায়, ‍‌‌‌‌‌‌’আজকে আমরা ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে কথা বলতে চাই এবং এ সিদ্ধান্ত আমাদের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস অনুমোদন দিয়েছেন।’

ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেওয়া হামাসের অন্যতম শীর্ষ নেতা সালেহ আল-আরুরি বলেন, এই ভিডিয়ো কনফারেন্স একটি সুযোগ এবং ইসরাইল যে বিপজ্জনক পরিকল্পনা নিয়েছে তার বিরুদ্ধে এখন থেকে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বার্থে কাজ করার কৌশলগত পথ তৈরি হবে। এ সময় হামাসের এ নেতা ইসরাইলের পরিকল্পনা নস্যাৎ করার জন্য জনগণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

দিল্লির দাঙ্গা: ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় ৯ মুসলিমকে খুন

‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় দিল্লি দাঙ্গায় ৯ জনকে খুন হতে হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ওই ঘটনায় দিল্লি পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত চার্জশিটে। আর নিহতদের সবাই ছিলেন সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের।

চার্জশিটে বলা হয়েছে. হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বানিয়ে হামলাকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। বিভিন্ন এলাকার আমজনতাকে ধরে তাদের পরিচয় জানতে চাইত। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হলে তাদের ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হতো।

কেউ তা বলতে অস্বীকার করলে খুন পর্যন্ত করত ওই অভিযুক্তরা। চার্জশিটে আরো বলা হয়েছে, ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘কট্টর হিন্দু একতা’ তৈরি করা হয়েছিল। যেখানে প্রায় ১২৫ জন সদস্য ছিল।

কোন এলাকায় কারা অশান্তি ছড়াবে, কিভাবে অশান্তি ছড়ানো হবে, কে কে থাকবে সেই এলাকায়, এমনকি অস্ত্রের জোগানও মিলত এই গ্রুপে। তবে গ্রুপের ক্রিয়েটর, অর্থাৎ যে এই গ্রুপটি তৈরি করেছিল সে এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে দিল্লি পুলিশ। তারা আরো জানিয়েছে, ৮ মার্চ ৪৭ জন গ্রুপটি ছেড়ে দিয়েছিল।

২৯ জুন অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে ৯ জনের খুনের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেই ৯ জন হলেন- হামজা, আমিন, ভুরে আলী মুরসালিন, আস মুহাম্মদ, মুশারফ, আকিল আহমেদ, হাসিম আলী ও আমির খান।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, ‘২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে গঙ্গাবিহার এলাকায় যতীন শর্মা, ঋষভ চৌধুরী, বিবেক পাঞ্চাল, লোকেশ সোলাঙ্কি, পঙ্কজ শর্মা, প্রিন্স, সুমিত চৌধুরী, অঙ্কিত চৌধুরী ও হিমাংশু ঠাকুর অন্যান্য দাঙ্গাকারীর সঙ্গে সক্রিয় ছিল। তারা ওই ৯ জন মুসলিমকে খুন করেছে।’

কিভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাদের? এ প্রসঙ্গে পুলিশ চার্জশিটে জানিয়েছে, ধর্ম জানার জন্য রাস্তায় সাধারণ মানুষকে ধরে ধরে নাম জানতে চাইত দাঙ্গাকারীরা। এমনকি, পরিচয় মিলিয়ে দেখত পরিচয়পত্রের সঙ্গে।

ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হলেই ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হতো। বলতে অস্বীকার করলেই কপালে জুটত বেধড়ক মার। এমনকি মারতে মারতে খুনও করে ফেলা হতো।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন।

উত্তেজনা মধ্যে লাদাখে মোদি, ক্ষিপ্ত চীন

পূর্ব লাদাখ সীমান্তে চীন ও ভারতের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় হঠাৎ করেই লাদাখে সফরে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৩ জুলাই, শুক্রবার লাদাখে স্বশরীরে উপস্থিতি হয়ে সেনাদের মাঝে বক্তব্যও দেন তিনি। তবে মোদির এই সফর নিয়ে ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে চীন।

সেখানে পৌঁছে প্রথমে নিমুতে ফরওয়ার্ড পোস্টে গিয়ে কম্যান্ডারদের সঙ্গে কথা বলে সীমান্তের প্রকৃত পরিস্থিতির খবর নেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর হাসপাতালে গিয়ে চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে লেহতে সেনাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন মোদি।

এ সময় চীনের নাম না করলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। মোদি বলেন, ‘সম্প্রসারণবাদের যুগ শেষ, এখন বিকাশবাদের যুগ। সম্প্রসারণবাদীরা বিশ্ব শান্তির প্রতি বিপজ্জনক। গোটা বিশ্ব সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী, সম্প্রসারণবাদের দিন শেষ হয়ে গিয়েছে।’

এদিকে মোদির হঠাৎ করে লাদাখ সফলে ক্ষেপেছে চীন। এর প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, সামরিক এবং কূটনৈতিক স্তরে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে ভারত ও চীন। এই পরিস্থিতে কোনো পক্ষেরই এমন পদক্ষেপ করা উচিত নয়, যাতে উত্তেজনা আরো বাড়ে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন লাদাখের গালওয়ানে ভারত ও চীনা বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকেই দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে একাধিক আলোচনাও হয়েছে।

দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সর্বশেষ আলোচনায় উত্তেজনা প্রশমনে দুই পক্ষই পিছু হঠার বিষয়ে সহমত হলেও লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক জায়গা নিয়ে এখনো জটিলতা রয়েছে।

ছদ্মবেশে নেপালে ঘুরে বেড়াচ্ছে চীনা গুপ্তচর

ছদ্মবেশে নেপালে ঘুরে বেড়াচ্ছে চীনা গুপ্তচর
লাদাখে চীন-ভারত সংঘর্ষের ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কয়েকদিন ধরেই প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিক্ষুপ্ত অবস্থানে ভারত। এমন পরিস্থিতিতে হিমালয় অঞ্চলে ভারতের আধিপত্য কমাতে একজোট হয়েছে চীন, নেপাল আর পাকিস্তান।

ভারতের জায়গা নিজেদের মানচিত্রে রেখে বিতর্কে নেপাল সরকার। কিন্তু এরই মধ্যে আরও এক চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে, যে নেপালের ভিতরেই ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে চীনা গুপ্তচর। করোনা মোকাবেলায় মেডিক্যাল কর্মীদের ছদ্মবেশে নেপালে ঘুরছে তারা।

চীনের গোয়েন্দা সংস্থা মিলিটারি অফ স্টেট সিকিউরিটি বা এমএসএস তাদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে নেপালে। এই সংস্থাই চীনের গুপ্তচর সংস্থা হিসেবে পরিচিত। এরাই চীনের হয়ে গোপনে বিভিন্ন দেশে কাজ করে।

জানা যাচ্ছে, পাক গুপ্তচর সংস্থাও এর মধ্যে ঢুকতে চাইছে। এরই মধ্যে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ইমরান খান। গত সপ্তাহেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে তার সরকার ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে ভারতে।

আর তারপরই প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ল দলের ভিতরেই। নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষনেতারাই ওলির পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: চীনের বিরুদ্ধে হঠাৎ ‘বন্ধু সেজে ছুরি মারা’র অভিযোগ মিয়ানমারের!
এদিকে নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা হার্ডওয়্যার কিনতে প্রায় ৩৮ হাজার ৯০০ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভারত ও চীনের মধ্যে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা পর্যালোচনা করে দেশটির সামরিক বাহিনীকে স্বাবলম্বী করতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে আনা হবে সুখোই। মিগ নির্মাণে বরাদ্দ পাবে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যাল। পাশাপাশি মিগ-২৯ আধুনিকীকরণের বরাদ্দ দেয়া হবে হ্যালকে। পাশাপাশি দৃশ্যমানের বাইরে থাকা বায়ু-বায়ু ক্ষেপণাস্ত্র আমদানিতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ দিনের বৈঠকে পিনাকা ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ১০০০ কিমি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র কিনতেও উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।