সামান্যতম ভূমি দখল করলেও কঠিন জবাব: ইসরাইলকে জর্দানের হুঁশিয়ারি

জর্দান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সামান্যতম ভূমিও যদি ইহুদিবাদী ইসরাইল দখল করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেবে আম্মান। কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইসরাইলের চ্যানেল-১৩ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন উপলক্ষে জর্দান ফিলিস্তিনের ভূমি দখলের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে দফায় দফায় সতর্ক করেছে। আম্মান বলেছে, তেল আবিব যদি ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের ব্যাপারে তাদের আংশিক পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করে তাহলে জর্দান তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

গত সপ্তাহে ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের প্রধান ইয়োসি কোহেনের সঙ্গে বৈঠকের সময় জর্দানের রাজা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ প্রতিক্রিয়া দেখানোর ব্যাপারে সতর্ক করেন। ইসরাইলের চ্যানেল-১৩ এর প্রতিবেদন অনুসারে, জর্দান এরইমধ্যে আমেরিকা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশকে ভুমি দখল সংক্রান্ত ইসরাইলি পরিকল্পনার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

সম্প্রতি ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনের শতকরা ৩০ ভাগ ভূমি দখলের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। একইভাবে তিনি জর্দান উপত্যকা দখলের কথা বলেছেন।

এ নিয়ে আরব ও মুসলিম দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ইউরোপের কোনো কোনো দেশ ইসরাইলি পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। পার্সটুডে

রাশিয়ার এস-৪০০ পেতে ভারতকে দেড় বছর অপেক্ষা করতে হবে

ভারতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আনবে রাশিয়ায় তৈরি মিসাইল প্রতিরোধী ব্যবস্থা। আগামী ১৮-১৯ মাসের মধ্যে হয়তো ভারতের হাতে আসতে পারে রাশিয়ার এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম। রবিবার এমনটাই জানালেন রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী ইউরি বোরিসভ।

এদিন তিনি জানান, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনার জন্য অগ্রিম অর্থ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে আগামী ১৮-১৯ মাসের মধ্যে ভারতের হাতে এসে যাবে এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম।

উল্লেখ্য, গত অগাস্ট মাসে রাশিয়া সফরে গিয়ে সেদেশের বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে সাক্ষাত করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। প্রতিরক্ষা ছাড়াও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর দুদেশের মধ্যে দিল্লিতে একটি শীর্ষ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই ৫.৪৩ বিলিয়ন ডলারের এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম কেনার কথা চূড়ান্ত হয়। সুত্র: জিটিভি

দিল্লিতে দেড় লাখ সিসিটিভি দিয়ে নজরদারি করছে চীনা সেনাবাহিনী!

লাদাখ নিয়ে গেল জুনের ১৫ তারিখ থেকে হঠাৎ করেই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ভারত ও চীন। ওই দিন চীনা সেনাদের হাত ২৩ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর পর দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা সত্বেও কোনো সমাধান আসেনি।

বর্তমানে সেখানে দুই দেশের ভারী অস্ত্র মুজদ রয়েছে। বিপুল পরিমাণ সেনাও মোতায়েন করেছে উভয় দেশ। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের অভ্যন্তরে ৫৯টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বয়কটেরও ডাক উঠেছে।

কিন্তু বহু চীনা পণ্য রয়েছে যা ছাড়া ভারতের বাজার কার্যত চলে না। ফলে পণ্য বয়কট নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে দিল্লির আম আদমি সরকারের বসানো প্রায় দেড় লাখ সিসিটিভি নিয়ে।

দিল্লির রাস্তায় এসব সিসিটিভি ইনস্টল করা হয়েছে। এসব ডিভাইসের মাধ্যম দিল্লির বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবরে বলা হয়েছে,

দিল্লির বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন রাস্তায় সিসিটিভি বসিয়েছে আম আদমি পার্টি বা আপ সরকার। সিসিটিভিগুলো কেনা হয়েছিল চীনা সংস্থা হিকভিশনের কাছ থেকে। তারাই এই সিসিটিভি তৈরি করার পাশাপাশি ইনস্টল করার দায়িত্বেও ছিল।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য দিল্লিবাসীকে ফোনে ওই সংস্থার একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে হয়। এখানে বড় বিপদের ভয় রয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছে দিল্লির সাধারণ মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অ্যাপে নজরদারি চালাতে পারেন চীনা প্রশাসন থেকে চীনা সেনাবাহিনীও।

কারণ এর মূল সার্ভার রয়েছে চীনে। ফলে দিল্লির কোন রাস্তায় কখন কী হচ্ছে, তা একেবারে তাদের নখদর্পণে থাকছে। যা প্রশাসনের চিন্তা বাড়াচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দিল্লি সরকারের সমালোচনা করছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

বর্ষীয়ান নেতা শাহেনওয়াজ হুসেন বলেন, সিসিটিভিগুলোর মূল সার্ভার রয়েছে চীনে। ফলে দিল্লির রাস্তায় কখন কী হচ্ছে, তা পুরোটাই চীনে বসে দেখা সম্ভব হচ্ছে। যা চিন্তার বিষয়।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা সরাতে এক চুলও রাজি নয় চীন!

দফায় দফায় আলোচনা। হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। কূটনৈতিক আলোচনার রাস্তাও খোলা। তবে ফলাফল শূন্য। গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং লেকে নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা সরাতে এক চুলও রাজি নয় চীন।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উত্তেজনা কমাতে ভারত-চীন দু’পক্ষই একমত‌ এমন একাধিক বক্তব্য উঠে এলেও মিলছে না সঠিক সমাধান। ভারতীয় সেনা সূত্রের উল্লেখ করে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দু’পক্ষই সেনা সরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছে।

যদিও বেইজিংয়ের তরফে সেনা সরানোর আশ্বাস মিলেছে এমন কোনও কথা বলা হয়নি ওই বিবৃতিতে। ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের আগে থেকেই চলছিল ভারত-চীন সামরিক পর্যায়ের বৈঠক। সংঘর্ষের আগে এক বার এবং পরে দু’বার বৈঠক হয়েছে।

শেষ কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে ৩০ জুন। ম্যারাথন ওই বৈঠকের পরেও লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা কমবে, এমন আশ্বাস নেই ভারতীয় সেনার তরফে। চীন যে সেনা সমাবেশ কমাবে, এমন কোনও প্রতিশ্রুতি মেলেনি বলেই ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর।

বরং আলোচনার সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে দু’দেশই সেনা সমাবেশ বাড়িয়ে চলেছে। প্যাংগংয়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় দু’পক্ষের সেনার হাতাহাতির পর থেকে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে চীন প্রায় ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে বলে খবর। ভারতও স্থল, আকাশের পাশাপাশি প্যাংগং লেকে পাঠাচ্ছে নৌসেনার ভেসেল।

এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনা সূত্রে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত ও চিনের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার পরিস্থিতি নিয়ে সামরিক ও কূটনৈতিক দুই চ্যানেলেই আলোচনা চলছে। ৩০ জুন কোর কমান্ডার পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠক হয়েছে। উভয় পক্ষই দ্রুত ও ধাপে ধাপে সেনা সরানোর বিষয়ে প্রাধান্য দিয়েছে। গত ১৭ জুন দু’দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে কথোপকথন অনুযায়ী দায়িত্বশীল ভাবে পরিস্থিতি সামলানো হবে।

তৃতীয় কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের বিষয়ে বলা হয়েছে, দীর্ঘক্ষণ ধরে পেশাদার পদ্ধতিতে বৈঠক হয়েছে। দু’পক্ষই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা কমাতে সহমত হয়েছে। কিন্তু সেনা সরানোর প্রক্রিয়া জটিল। তাই এই পরিস্থিতিতে জল্পনা বা ভিত্তিহীন রিপোর্ট এড়িয়ে চলাই ভাল। পারস্পারিক সমঝোতায় পৌঁছাতে দু’পক্ষের মধ্যে আরও সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরের বৈঠক হবে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

ইসরায়েলকে উপকূল ছাড়ার হুঁশিয়ারি লেবাননের

লেবাননের উপকূল থেকে তেল এবং গ্যাস উত্তোলনের ব্যাপারে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলকে হুঁশিয়ার করেছে লেবানন।

সোমবার (২৯ জুন) দেশটির প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেছেন, আরব এ দেশটির উপকূলে কাউকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ দেবে না বৈরুত। খবর ইরনার।

সম্প্রতি লেবাননের একটি গ্যাসক্ষেত্রের কাছে ইসরায়েল তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ চালানোর ব্যাপারে লাইসেন্স ইস্যু করার একদিন পর লেবাননের প্রেসিডেন্ট এই হুশিয়ারি দিলেন।

প্রেসিডেন্ট আউন আরও বলেন, ইসরায়েল যদি ওই এলাকায় তেল ও গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা করে তাহলে পরিস্থিতি জটিল হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে ওই এলাকায় লেবানন তেল এবং গ্যাস উত্তোলন শুরু করবে বলেও জানান তিনি।

২০০৬ সালে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সঙ্গে ৩৩ দিনের যুদ্ধের পর ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি করে।

সম্প্রতি লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ, হিজবুল্লাহর অবস্থান ও ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাসের ব্লক নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।