ভারতের এখন ‘চারদিকে শত্রু’!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদী পিক সংগৃহিত

জন্মবৈরী পাকিস্তান, পুরনো শত্রু চীন। ভারতের মাথাব্যথার জন্য এই দু’টি উপসর্গই যথেষ্ট । এর মধ্যেই সম্প্রতি মানচিত্র নিয়ে গোলমাল শুরু করেছে আরেক প্রতিবেশী নেপাল। এখন তার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করল ভুটানও। মিত্র দেশ ভুটান উজানে অভিন্ন নদী থেকে তাদের সেচের পানিও আটকে দিয়েছে। ফলে আঞ্চলিকভাবে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে ভারত।

সম্প্রতি চীন-ভারত দ্বন্দ্ব ইস্যুত কলকাতাভিত্তিক সংবাদপত্র দৈনিক আনন্দবাজারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের জেরে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। খবর বিবিসির।

নেপাল-ভারত সীমান্তে গণ্ডক নদীর ওপর যে বাঁধ রয়েছে, তার রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নেপাল বারবার বাধা দেওয়ার পর বিহার সরকার এ ব্যাপারে দিল্লির জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে। পাশাপাশি আসামের বাকসা জেলার হাজার হাজার চাষী অভিযোগ করছেন, মিত্র দেশ ভুটান তাদের সেচের জল আটকে দিয়েছে।

ভুটান সীমান্তবর্তী আসামের বাকসা জেলাতে পঁচিশটি গ্রামের বেশ কয়েক হাজার চাষী বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ, ভুটান সরকার তাদের অভিন্ন নদীগুলোর সেচের জল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে, যে ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।

আসামের বাকসা জেলার ডেপুটি কমিশনার রঞ্জন শর্মা বলেছেন, এটা আসলে লকডাউনে ভুটান সীমান্ত সিল করে দেওয়ার কারণেই হয়েছে। আমাদের চাষীরা এতদিন অবাধেই সীমান্ত পেরিয়ে ভুটানের দিকে চলে যেতেন, তারপর ছোট ছোট নদীর ধারাগুলো সুবিধা মতো চ্যানেল কেটে নিজেদের চাষের ক্ষেতে সেচের জন্য নিয়ে আসতেন।

তিনি বলেন, সীমান্ত এখানে শিথিল, দু’দিকের স্থানীয় লোকজন বিনা বাধাতেই এপার-ওপার যাতায়াত করেন, কাজেই কোনো অসুবিধা হতো না। কিন্তু এখন যে সমস্যাটা হচ্ছে, এই বিষয়টা আমি আমাদের লাগোয়া ভুটানের সামড্রুপ জোঙ্কার জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে জানিয়েছি। তিনি বিষয়টা দেখারও আশ্বাস দিয়েছেন।

ভুটান থেকে বেকি, পাগলাদিয়া, পুথিমারির মতো যে সব নদী ভারতে নেমে এসেছে, বাকসা জেলার কৃষকরা সেচের জন্য সেগুলোর অসংখ্য ছোট ছোট শাখানদী বা পাহাড়ি ঝোরার ওপরেই নির্ভরশীল। এবারের চাষের মৌসুমে সে পানি না পেয়ে তারা গভীর সঙ্কটে পড়েছেন।

ভারতের সুপরিচিত পরিবেশকর্মী মেধা পাটকর মনে করেন, নেপাল বা ভুটানের সঙ্গে ভারতের এই ধরনের বিরোধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে আসলে দুই পক্ষেরই দায় আছে।

লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে সামরিক সংঘাত ও মানচিত্র নিয়ে নেপালের সঙ্গে বিরোধ আগে থেকেই দিল্লিকে অস্বস্তিতে রেখেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, উত্তর সীমান্তের কোনো কোনো অভিন্ন নদীও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ এনে হাজির করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক ‘ছোট দেশ’গুলোর প্রতি বন্ধুত্বের পরিবর্তে কর্তৃত্বের মনোভাব পোষণ করাই সম্ভবত ভারতের জন্য পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে।