ভারতীয় সেনাদের ৫০ ফুট গভীর বরফের খাদে ফেলা হয়

সালটা ১৯৮৩, পঞ্জাব যেন জ্বলছে! এক দিকে খালিস্তানি জঙ্গিরা আগুন জ্বালাচ্ছে, অন্য দিকে গ্রীষ্মের গনগনে সূর্য! সেই পঞ্জাবেই পোস্টিং আমার। আচমকাই এক দিন কম্যান্ডিং অফিসার ডেকে বললেন, ‘‘বাক্স-প্যাঁটরা গোছাও।

তোমাকে গুলমার্গে হাই-অল্টিটিউড ট্রেনিংয়ে যেতে হবে।’’ গরমে ভাজাপোড়া হওয়া থেকে কাশ্মীরের গুলমার্গ! শুনেই তরুণ লেফটেন্যান্টের মনের মধ্যে যেন ‘কাশ্মীর কি কলি’র সুর বেজে উঠল।

হাই-অল্টিটিউড ট্রেনিং কী না জানলে অবশ্য গুলমার্গের নামে এমন হৃদয়-নাচন হতেই পারে। বরফচুড়োয় বসে দেশরক্ষা করার কষ্ট কেমন তা জানলে বোধহয় আমজনতার অনেকেই দ্বিতীয় বার সেই নাম করবেন না।

লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু ‘বিশেষজ্ঞ’ দেখা যাচ্ছে। হাবেভাবে তাঁরা এখনই সিয়াচেন যেতে তৈরি। সে সব দেখেই আরও বেশি করে মনে পড়ছে ওই এলাকায় দীর্ঘ দিন কাজ করার, প্রশিক্ষণের কথা। কারণ, পাহাড়ি এলাকায় শত্রুর মোকাবিলা করতে হলে ওই প্রশিক্ষণ নিতেই হবে।

প্রশিক্ষণের জন্য রওনা হওয়ার ক’দিন আগেই ফের নির্দেশ। প্রশিক্ষণ তো হবেই, কিন্তু আমাকে সঙ্গে করে আমার আগ্নেয়াস্ত্র ও ফার্স্টলাইন অ্যামিউনিশন নিয়ে যেতে হবে। ট্রেনিংয়ে আবার অস্ত্র কেন? শুনলাম, ওই প্রশিক্ষণের সময় আমাকে লাইন অব কন্ট্রোলের কাছাকাছি যেতে হবে।

লাইন অব কন্ট্রোলে ভারত নিজে থেকে গুলি চালায় না বটে, কিন্তু প্রতিপক্ষের হামলায় সঙ্কট তৈরি হলে ওই অস্ত্রই ভরসা। রওনা দিলাম। সঙ্গে দুই সহকর্মী লেফটেন্যান্ট বেণুগোপাল ও লেফটেন্যান্ট গুরিন্দর সিংহ কাঙ্গ। গুলমার্গে দু’সপ্তাহ ভালই কাটল।

এ বার রওনা শ্রীনগর-লেহ সড়ক ধরে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের এক জায়গা। সেখানে রক ক্লাইম্বিং ট্রেনিং। ট্রেনিংয়ে ঝুঁকি ছিল কিন্তু পরে বুঝলাম, সে সব কিছুই না! কারণ শেষ দফা খারদুং লা-তে, যার একটু দূরেই রয়েছে মাচুই গ্লেসিয়ার!

অনেকেই ভাবছেন, খারদুং লা তো হামেশাই ঘুরতে যাচ্ছে লোকজন। কিন্তু আপনাকে যদি রাতে ৫০ ফুট গভীর কোনও বরফের খাদ বা ক্রিভাসে ফেলে দেওয়া হয়? ভাবছেন, মাথা খারাপ হল না কি? না, মাথা খারাপ নয়। ওটাই সিয়াচেনের তুষারচুড়োয় কর্তব্যরক্ষার প্রথম পাঠ।

যেখানে টহলদারি করতে গেলে পায়ে পায়ে বিপদ, যেখানে সামান্য অসতর্কতায় বরফের অতলে তলিয়ে যাওয়ার হাতছানি, সেখানে এই ট্রেনিং নিতেই হবে। মনে আছে, ক্রিভাসের ভিতরে একটা অদ্ভুত মায়াবী আলো দেখা যেত। সেই আলো দেখতে দেখতেই পায়ের ‘ক্র্যাম্পন’ বা কাঁটাওয়ালা জুতো দিয়ে বরফের দেওয়ালে গর্ত করতে হত।

তার পর আইস-অ্যাক্স দিয়ে গর্ত খুঁড়ে পেরেক লাগিয়ে তাতে দড়ি বেঁধে সেই দড়ি বেয়ে উঠে আসতে হত। এক বার, দু’বার নয়, বার বার এই প্রশিক্ষণ নিতে হয়, যাতে বিপদে নিজেই নিজেকে রক্ষা করতে পারি। মনে পড়ে, আমি ছিলাম ‘লিডার’। শারীরিক সক্ষমতার জন্য আমি আগে উঠতাম, তার পর বেণু এবং সব শেষে দশাসই গুরিন্দর।

লেহ বা লাদাখ গেলেই অনেকের শরীর খারাপ লাগে, হাঁপ ধরে যায়। সেখানে গালওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং সো হ্রদ কিংবা আরও উপরে সিয়াচেন যাঁরা পাহারা দেন কিংবা প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাতাহাতি করেন, তাঁদের সক্ষমতা এক বার ভেবে নিন।

ওই প্রশিক্ষণের সময়েই সিয়াচেন চিনিয়েছিলেন মেজর ভি পি সিংহ। পরে আমাদের আর এক কর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল বি কে শর্মা সিয়াচেন হিমবাহ দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘‘ওই যে দেখছ সিয়াচেন, ওর তাপমাত্রা মাইনাস ৪৫ ডিগ্রির নীচেও নেমে যায়। মানুষের পক্ষে বাঁচা কার্যত অসম্ভব।’’

ওই কথার দু’বছরের মধ্যেই পাকিস্তানের অভিসন্ধি আগাম জানতে পেরে ভারতীয় সেনা সিয়াচেনে ঘাঁটি তৈরি করে। এখনও জওয়ানরা বছরভর ঘাঁটি গেড়ে থাকেন ওই হিমবাহে। বাঁচার অযোগ্য পরিবেশ, ধূ-ধূ বরফের প্রান্তর, পদে পদে তুষারধস,

বরফের চোরা ফাটল এবং তুষারক্ষত বা ফ্রস্টবাইটের হাতছানি তো রয়েছেই, আর আছে মানসিক ক্লান্তি। এই সব সয়েও অতন্দ্র পাহারা দেওয়ার নামই ‘ডিউটি’। যাঁরা ঘরে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঙ্কার দেন, রণনীতি সমরকৌশল নিয়ে ‘মতামত’ দেন, তাঁরা কোনও দিনই এই পরিস্থিতির মর্ম বুঝতে পারবেন না।

তবে লাদাখে ভাল লাগত এ পাহাড় থেকে ও পাহাড় চরকিপাক দিতে। লাদাখের পাহাড় বাকি হিমালয়ের পর্যটন কেন্দ্রের মতো গাছে ঢাকা, ফুলে ভরা সুন্দর নয়। বরং রুক্ষ মরুভূমির মতো নেড়া নেড়া পাহাড়গুলোকে ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’ বলা যায়। ট্রেনিংয়ের নিয়ম মেনেই রোজ ওই নেড়া পাহাড়ে টহল দিতে যেতে হত।

ওই টহলদারি যেমন পাহারা দিতে শেখায়, পাহাড়ি যুদ্ধের কৌশল শেখায়, তার থেকেও বেশি শেখায় পাহাড় চিনতে, প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হতে। কারণ, উচ্চতা বাড়লে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করে। শরীরে আচমকা অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে যে কোনও শক্তসমর্থ মানুষও ধরাশায়ী হবে, মৃত্যুও অস্বাভাবিক নয়।

তাই বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে হেঁটে আমাদের খাপ খাওয়াতে হয়। সে ভাবেই ওই এলাকায় চড়াই-উতরাই পেরিয়ে যেতে হত। আমি তখন সেই অর্থে নতুন অফিসার, কিন্তু ওই টহলদারি বুঝিয়ে দিয়েছিল, আমার বাহিনীর কত সেনা ওই কঠিন জায়গায় দিনের পর দিন পরিবার-পরিজন ছেড়ে পড়ে রয়েছে।

টহলদারি কোনও বার হত মাচুই হিমবাহে, কোনও দিন হত প্যাংগং হ্রদের দিকে, কোনও দিন বা গালওয়ান উপত্যকায়। ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার কল্যাণে প্যাংগং সো বা লেকের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

নীল আকাশের নীচে ওই হ্রদ কি সেই আশির দশকের মাঝে আরও সুন্দর ছিল? কী জানি, হয়তো বা কঠোর প্রশিক্ষণ এবং রুক্ষ প্রকৃতিতে ওই নীল নিসর্গই আমাদের মনে অক্সিজেন জোগায়। সুত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

পাকিস্তানের উপকূলীয় নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক ফ্রন্টের সুরক্ষা দেবে তুরস্কের নির্মিত করভেট

পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য তুরস্কের ন্যাশনাল শিপ (মিলজেম) প্রকল্পের তৈরি দুটো করভেট জাহাজের জন্য ইস্পাত কাটার যে উদ্বোধন হয়েছে, সেটা সংবাদে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এই নৌ প্ল্যাটফর্মে শুধু নৌ নিরাপত্তার উপাদানই নেই, বরং সাগর, উপকূল এবং আকাশ সুরক্ষার জন্যও সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।

এটা অর্জনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির নৌবাহিনীতে শক্তি বাড়বে এবং এটা উপকূলীয়, এবং বাণিজ্যিক সমুদ্র পথের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যেটা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

তুরস্কের নৌবাহিনীর করভেটের আদলে তৈরি চারটি আদা-শ্রেণীর জাহাজ পাকিস্তানের কাছে সম্প্রতি বিক্রি করেছে তুরস্ক, যেটা তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় ধরণের অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই জাহাজগুলো পাকিস্তানের হাতকে আরও শক্তিশালী করবে। এই অত্যাধুনিক করভেটগুলোর মাধ্যমে পুরনো জাহাজগুলো বদলে ফেলার মাধ্যমে পাকিস্তান তাদের নৌ রুটগুলোকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষা করতে পারবে, এবং একই সাথে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বও আরও জোরদার হবে।

ডেইলি সাবাহের সাথে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাতকারে নৌ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা কনসালটেন্ট অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আল্প কিরিক্কানাত বলেছেন, এই করভেটগুলো পাকিস্তান নৌবাহিনীকে বিভিন্ন সুবিধা দেবে।

বিশেষ করে কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে – নির্মানাধীন গোয়াদর ও করাচিতে এগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি জল, স্থল ও আকাশে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলার ক্ষেত্রেও এগুলো ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুনঃ করভেট নির্মাণ: পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ডিফেন্স টেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চুক্তি

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তান টাস্ক ফোর্স-৮৮ (টিএফ-৮৮) গঠন করে, যেখানে চীন অর্থায়ন করেছে বলে জানা যায়। গোয়াদর বন্দর এবং এটার সাথে সংলগ্ন সমুদ্র পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।

গোয়াদর বন্দরটি সিপিইসি’র গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ। তেল ও নৌ বাণিজ্যের আন্তর্জাতিক নৌ রুটের গুরুত্বপূর্ণ অংশে এটা দাঁড়িয়ে আছে। কারণ এটার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য যুক্ত হয়েছে।

কিরিক্কানাত বলেন, “টাস্ক ফোর্স-৮৮ এর অনেকগুলো নৌ উপাদান রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে যে করভেটগুলো কিনছে, এগুলোও টাস্ক ফোর্স-৮৮ এর সাথে যুক্ত হতে পারে”।

আর কোন চাহিদা?

যদিও তুরস্কের নৌবাহিনীর আদা-শ্রেণীর করভেট জাহাজের দিকে মনোযোগ দিয়েছে পাকিস্তানের নৌবাহিনী, তবে দেশের চারপাশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সামরিক ক্রয়ে আরও বৈচিত্র আনতে পারে পাকিস্তান।

দ্বিতীয় জাহাজের জন্য ইস্পাত কাটা অনুষ্ঠানের পর প্রতিনিধিত্বকারী যে ছবিটি সম্প্রচার করা হয়েছে, সেখানে ১৬ সেলের একটি ভার্টিক্যাল লঞ্চিং সিস্টেমের (ভিএলএস) ছবি রয়েছে। এই ভিএলএস তুরস্কের কোন আদা-শ্রেণীর করভেটে নেই।

কিরিক্কানাত বলেছেন যে, জাহাজে কি ধরণের অস্ত্র সিস্টেম থাকবে, এটা বলার যদিও সময় আসেনি এখনও। নির্মাণকালীন সময়ে সেটার পরিবর্তনও হতে পারে। পাকিস্তানের জন্য যদি এগুলোর পরিকল্পনা থাকে, তার অর্থ হলো আকাশপথের ক্রমবর্ধমান হুমকির মোকাবেলার জন্যই পাকিস্তান আদা-শ্রেণীর করভেটে এগুলো সংযোজন করতে বলেছে।

কিরিক্কানাত বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে সব ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত ভিএলএসসহ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের জন্য অতিরিক্ত চাহিদা দেয়া হয়েছে। পাকিস্তান সম্ভবত মনে করছে সাগরে তারা এগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারে।

মুসলমানদের পরিচয় বদলে দিতে কাশ্মীরে ২৫ হাজার ভারতীয়কে নাগরিকত্ব দিচ্ছে মোদী সরকার

প্রায় ২৫ হাজার ভারতীয়কে ভারত শাসিত কাশ্মীরে নাগরিকত্ব সনদ দিয়েছে দিয়েছে দেশটির সরকার। এর মাধ্যমে বিজেপি সরকার কাশ্মীরে জনসংখ্যার বিন্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলো।

এই নাগরিকত্ব সনদের ফলে এখন থেকে সেখানে অ-কাশ্মীরিরা স্থায়ী বসতি গড়তে পারবে এবং সরকারি চাকরির সুযোগ পাবে।
ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সরকারের এই পদক্ষেপে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে কাশ্মীরের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।

তাদের অভিযোগ, নতুন এই আইনকে হাতিয়ার করে দেশের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যের জনসংখ্যার বিন্যাস বদলানোর ছক করছে বিজেপি সরকার।

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ৩৫এ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরের রাজ্য ও স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি সরকার। বাতিল করা হয় কাশ্মীরের নাগরিকত্ব সুরক্ষা আইনও। এর আগে জম্মু-কাশ্মীরের নিজস্ব সংবিধান ছিল। সেই সংবিধান অনুযায়ী, বাইরের রাজ্যের কেউ ভূস্বর্গের স্থায়ী নাগরিক হতে পারতেন না।

জমি, স্থাবর সম্পত্তির মালিকও হতে পারতেন না।
তবে এখন থেকে কিছু শর্ত পূরণ করে ভারতীয়রা কাশ্মীরের নাগরিকত্বের জন্য তহশিলদারের কাছে আবেদন করতে পারবেন। শর্ত পূরণ করলে যে কাউকে এই সনদ দিতে কোনো কর্মকর্তা অকারণে দেরি করলে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

আরো পড়ুন-প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বাইডেনই: ট্রাম্প

সদ্য হওয়া তিনটি জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত, তাঁকে বেশ খানিকটা পিছনে ফেলে দিয়েছেন তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। একটি খবরের চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও প্রায় বলেই ফেললেন যে, বাইডেনই প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন, কারণ দেশের কিছু মানুষ তাঁকে ভালবাসেন না।

সাক্ষাৎকারের শুরুটা হয়েছিল বাইডেনকে আক্রমণ করেই। অতিমারি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং লকডাউনের জেরে আর্থিক মন্দা নিয়ে দেশের তাবড় সেলিব্রিটিরা পর্যন্ত মুখ খুলেছেন।

সেই সঙ্গে বর্ণবিদ্বেষ-বিরোধী আন্দোলনে ট্রাম্পের সেনা পাঠানোর হুমকিও ভাল চোখে নেননি অনেকেই। সাক্ষাৎকারটির ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বাইডেনও প্রেসিডেন্টকে বিঁধে বলেছেন, ‘‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ট্রাম্প শিশুদের মতো আচরণ করেছেন। মনে হচ্ছে ওঁকে ছাড়া আমাদের সকলের উপরেই প্রভাব ফেলেছে এই অতিমারি।’’

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর এই বক্তব্যেরই প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল ট্রাম্পের কাছে। যার জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমে বাইডেনের এক গুচ্ছ সমালোচনা করেন। তার পরেই বলেন, ‘‘একটা লোক ভাল করে কথা পর্যন্ত বলতে পারে না।

অথচ উনিই আপনাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। কারণ এ দেশেরই কিছু মানুষ আমায় ভালবাসেন না হয়তো।’’ তার পরেই তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি আমার কাজটাই করছি।’’

বেশ কিছু সমীক্ষা আবার এ-ও বলছে, আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বাড়ছে বর্তমান প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা। মিশিগান, ফ্লরিডা, টেক্সাস, পেনসিলভ্যানিয়া, ভার্জিনিয়ার মতো প্রদেশে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত চাইছেন, ট্রাম্পই ফের প্রেসিডেন্টের গদিতে বসুন।

অথচ আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদেরই সমর্থন করারই প্রবণতা ছিল এত দিন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সচিব সারা ম্যাথিউস সাংবাদিকদের জানান, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এমন সমর্থন পেয়ে প্রেসিডেন্ট অভিভূত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্রথম থেকেই ভারতের সঙ্গে

সুসম্পর্ক গড়ে তোলায় জোর দেন ট্রাম্প। তাই নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা সফরে এলে হাউডি মোদী ও ট্রাম্প ভারতে গেলে কেমছো ট্রাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। সারা বলেছেন, ‘‘আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতিতে ভারতীয়-মার্কিন নাগরিকদের অবদানকে প্রেসিডেন্ট গুরুত্ব দেন।’’

এ দিকে, মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তোলার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের অর্থ খরচ করার অধিকার ট্রাম্প প্রশাসনের নেই বলে রায় দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত।