সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে নেপাল, চাপে ভারত!

চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই কয়েকদিন আগে নতুন মানচিত্র বিল পাস করে নেপালের পার্লামেন্ট। সেই উত্তেজনার রেশ না কটাতেই উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পিথোরাগড় সীমান্তে বর্ডার রোড বানাতে সেনা মোতায়েন করেছে নেপাল। দারচুলা-তিনকার মধ্যকার ওই সড়কটি মহাকালী করিডর নামেও পরিচিত। এ ঘটনা ভারতকে আরও চিন্তিত করে তুলেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, যাতায়াতের সড়ক না থাকায় ওই এলাকার গ্রামীবাসীদের ভারতের সড়ক মাড়াতে হয়। ভারতের ওপর নির্ভরতা কমাতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

একবার এ সড়কটি হয়ে গেলে নেপালের সাধারণ মানুষের ভারতের ওপর নির্ভরতা কেবল কমবে তা নয়, দেশটির আর্মড-পুলিশও এলাকাটিতে বর্ডার পোস্ট বসাতে পারবে। একইসঙ্গে দিতে পারবে টহলও।

অন্যদিকে তিনকারের কাছেই চায়না বর্ডারেও গমনাগমন সহজতর হবে সড়কটির কাজ সম্পন্ন হলে। এছাড়া পিলগ্রিম ও কৈলাস মানস সরোবরে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে।

সুত্র: সময় টিভি

ভারতের গুরুগ্রামে লাখ লাখ পঙ্গপালের হানা, জরুরি বৈঠক মন্ত্রীর

পঙ্গপালের হানায় জেরবার হয়ে উঠেছে বৃহত্তর দিল্লি। এনসিআর এলাকায় আওতায় থাকা গুরুগ্রামে পঙ্গপালের দলে ছেয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, শুধু গুরুগ্রাম নয়, ফরিদাবাদের দিকেও ধেয়ে চলেছে পঙ্গপালের দল।

পরিস্থিতি ঘোরতর হয়ে ওঠায় জরুরি বৈঠক ডেকেছেন দিল্লির পরিবেশ মন্ত্রী গোপাল রাই। বৈঠক শেষে পরিস্থিতি মোকাবিলায় এক পরামর্শ পরিষদ গঠন করা হয়েছে।পঙ্গপালের দৌরাত্ম্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তা ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

যদিও পঙ্গপালের হানার আশঙ্কা আঁচ করে আগেই গুরুগ্রাম প্রশাসনের তরফে এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছিল। পরামর্শ হিসেবে বলা হয়েছিল, জোরে জোরে সঙ্গীত বাজাতে যাতে পঙ্গপাল পালিয়ে যায়।

এই পঙ্গপালের দল শস্য ক্ষেত উজাড় করে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে, আফ্রিকার দেশগুলিতে পঙ্গপাল শষ্য খেয়ে ফেলায় সেকানে খাদ্য সঙ্কটের সৃষ্টি করেছে। সেই পরিস্থিতি আমাদের দেশেও হওয়ার উপক্রম হয়ে।

সুত্র: পুবের কলম

পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশ গ্রাসের ইসরাইলি চক্রান্ত গ্যাঁড়াকলে ফাঁসছে?!

পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশ অঞ্চলকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের ভূখণ্ড হিসেবে যুক্ত করার ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া চাপ বেড়েই চলেছে।

আর মাত্র তিন দিন পর তথা আগামী এক জুলাই থেকে পশ্চিম তীরের শতকরা ত্রিশ-ভাগ এলাকাকে ইসরাইলের অবিচ্ছেদ্য অংশ করার ইসরাইলি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে।

ইসরাইলের লিকুদ দলের প্রধান নেতানিয়াহু ও নীল-সাদা বা ব্লু-হোয়াইট দলের প্রধান বেনি গান্তজ্‌ জোট-সরকার গঠনের সময় গত এপ্রিল মাসে পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশ অঞ্চলকে ইসরাইলের অংশে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত শতাব্দির লেনদেন নামক পরিকল্পনায় সিরিয়ার গোলানসহ ইসরাইলের দখলে থাকা সব আরব-ভূখণ্ডকে ইসরাইলের অংশে পরিণত করার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অবশ্য পশ্চিম তীরের এক বড় অংশকে গিলে ফেলার ইসরাইলি দানবীয় প্রচেষ্টা বড় ব্যাপক বাধার মুখে পড়েছে। এই প্রচেষ্টার ফলে ইসরাইলিদের মধ্যে গান্তজ্-এর দল নীল-সাদা বা ব্লু-হোয়াইট দলের গ্রহণযোগ্যতা বেশ কমে গেছে বলে ইসরাইলি সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এ অবস্থায় ইসরাইলের চতুর্থ দফার সংসদ নির্বাচন হলে তাতে নেতানিয়াহুর লিকুদ দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে এবং বেনি-গান্তজ্-এর দলকে নিয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠনের ও গান্তজ্-এর কাছে প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনাও থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

তাই গান্তজ্ পশ্চিম তীরের এক বড় অংশকে এখনই গিলে ফেলার উদ্যোগের বিরোধিতা করছে যাতে নেতানিয়াহু এই ইস্যুটিকে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে ও কোয়ালিশন সরকারকে বাতিল করতে না পারে।

মার্কিন সরকার পশ্চিম তীরের এক বড় অংশকে হজম করার ইসরাইলি চক্রান্তের মূল বা প্রধান শরিক হওয়া সত্ত্বেও কখন তা গিলতে হবে তা নিয়ে তেলআবিবের সঙ্গে মতভেদ রয়েছে ওয়াশিংটনের।

নেতানিয়াহুর মত ট্রাম্পও চাচ্ছেন এ বিষয়টিকে নির্বাচনের কাজে লাগাতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে আগামী নভেম্বর মাসে। তাই পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশকে ঠিক মার্কিন নির্বাচনের প্রাক্কালেই কার্যকর করা হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন নির্বাচনের পরে এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে গেলে তা হয়ত সফল হবে না বলে ভয় পাচ্ছে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ইউসি কোহেন। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি দলগুলোর পক্ষ থেকেও ইসরাইলের এই রাক্ষুসে তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হচ্ছে।

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া আরবও মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক নেতাদেরকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিরাট অংশকে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার ইহুদিবাদী পরিকল্পনা রুখে দেয়ার জন্য মুসলিম নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানান।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ১২০ জনেরও বেশী নেতাকে লেখা গতকালের (বুধবার) চিঠিতে ইসমাইল হানিয়া আরো বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব ও মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনের নেতাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে।

ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকারের প্রতি সমর্থন এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলে ইসরাইলি পরিকল্পনা রুখে দেয়ার জন্য তাদেরকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসরাইলের আগ্রাসী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় জোট, রাশিয়া ও চীন ইসরাইলের এই হঠকারিতার নিন্দা জানাচ্ছে।

বেলজিয়ামের সংসদও ইসরাইলের এই সম্ভাব্য আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসরাইলের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিপি লিভিনি পশ্চিম তীরের কিছু অংশ দখল করার ইসরাইলি পদক্ষেপকে ইসরাইলের বড় ধরনের ঐতিহাসিক ভুল ও ইসরাইলের স্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে।

তাই নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশ ভূমি দখলের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত রাখতে বাধ্য হবেন বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সুত্র: পার্সটুডে

স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরের অধিকার পুনর্বহালের দাবি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাইডেনের

ভারত দখলকৃত স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরবাসীর অধিকার পুনর্বহাল করার জন্য নয়া দিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আমেরিকার আসন্ন নির্বাচনে ডেমক্রেট দলীয় প্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এক বিবৃতিতে তিনি ভারতের মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন (সিএএ) ও আসামে জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) বাস্তবায়ন নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, এসব ব্যবস্থা দেশটির দীর্ঘ সেক্যুলার ঐতিহ্যের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বহু-জাতিক ও বহু-ধর্মীয় গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

সম্প্রতি নির্বাচনী ওয়েবসাইটে আমেরিকান মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য জো বাইডেনের এজেন্ডাগুলো তুলে ধরা হয়।

আমেরিকান মুসলিমদের ব্যাপারে পলিসি পেপারে বলা হয়, কাশ্মীরের সব অধিবাসীর অধিকার পুনর্বহালের জন্য ভারত সরকারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভিন্নমত প্রকাশে বাঁধা, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাঁধাদান বা ইন্টারনেটের গতি কমানো গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়।

এতে আরো বলা হয় যে, আসামের এনআরসি বাস্তবায়ন ও সিএএ পাসের পর ভারত সরকারের নেয়া ব্যবস্থাগুলোর ব্যাপারে জো বাইডেন হতাশ।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

আরো পড়ুন: রিজিক ও ঋণের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে শায়েখ আয়েজ আল কারনির ৩ পরামর্শ

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানুষ যে বিষয়গুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত তার অন্যতম হলো হালাল রিজিক।

সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম, ইসলামিক স্কলার ও বিশ্বনন্দিত আরবি গ্রন্থ লা-তাহঝানের রচয়িতা শায়েখ আয়েজ আল কারনি হালাল রিজিকের সমাধানসহ মুমিনের আরও কয়েকটি পেরেশানি থেকে মুক্তির পথ বাতলে দিয়েছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন- যে কেউ তার সেই পরামর্শসমূহ মেনে চলবে রিজিক, ঋণ ইত্যাদির দুশ্চিন্তা তার আর থাকবে না।

আধামিনিটের এক ভিডিও বক্তব্যে শায়েখ আয়েজ আল কারনি বলেন, তিনটি বিষয়ের ওপর আমি কসম করছি, যে ব্যক্তি এগুলোর প্রতি যত্নবান হবে এবং জরুরি কাজ মনে করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিক দান করবেন। তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন। দুশ্চিন্তা দূর করবেন। বক্ষকে প্রশস্ত করবেন।

তার সমস্ত কাজকে সহজ করে দিবেন। প্রথম বিষয় হল, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করা। দ্বিতীয় বিষয়, পিতা-মাতার হক আদায় করা। তৃতীয় বিষয়, বেশি পরিমাণ ইস্তিগফার করা। এই তিনটি কাজ করলে মহান আল্লাহ আপনার দায়িত্ব নিবেন- এই কাজগুলির পরিক্ষিত সুফল পেয়েছেন সালেহ, আওলিয়া ও আবেদগণ।

তাদেরকে রিজিক দেয়া হয়েছে, দুঃখ-দুশ্চিন্তা দূর করা হয়েছে। অনুলেখক, কন্ট্রিবিউটর: আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম। শিক্ষক: মারকাযুদ দিরাসাহ্ আল ইসলামিয়্যাহ্- ঢাকা

আরো পড়ুন: পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববীর নকশা করেছিলেন যে ব্যাক্তি !

ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান সৌদি আরবের মক্কা শহরে অবস্থিত কাবা ঘিরে মসজিদুল হারাম। ইবরাহিম (আ) ও ইসমাইল (আ) এর দ্বারা প্রথম কাবা নির্মাণ করা মুসলিমরা হজ্জ ও উমরার জন্য মসজিদুল হারামে যান।

হজ্জের সময় এখানে উপস্থিত হওয়া মানুষের জমায়েত পৃথিবীর বৃহত্তম মানব সমাবেশের অন্যতম। অপরদিকে মসজিদে নববী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদ যা বর্তমান সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত।

গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পর মসজিদে নববীর স্থান। হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) হিজরত করে মদিনায় আসার পর এই মসজিদ নির্মিত হয়। নির্মাণের পর অনেকবার পুণ-নির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হয়েছে মুসলমানদের এই পবিত্র দুটি মসজিদ।

আর মক্কার মসজিদুল হারাম কিংবা মদিনার মসজিদে নববীর সংস্কারে একজন মিশরীয় প্রকৌশলী এবং স্থপতি অনেক ভূমিকা রেখেছেন যিনি খ্যাতি থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেছিলেন। তাই তিনি আজো অনেকেরই অজানা। সেই মহান ব্যক্তিটির নাম ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাঈল।

তিনি মিশরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত ব্যক্তি। এবং রয়েল স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়া এবং স্নাতক অর্জন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তিও ছিলেন তিনি। সবচেয়ে কম বয়সে ইসলামী আর্কিটেকচারে তিনটি ডক্টরেট ডিগ্রি প্রাপ্তির জন্য ইউরোপে গিয়েছিলেন।

এছাড়াও তিনি রাজার কাছ থেকে নীলে স্কার্ফ এবং আয়রন র‌্যাঙ্ক প্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। এছাড়াও তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনিই প্রথম প্রকৌশলী যিনি মক্কা ও মদীনা মসজিদ সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিলেন।

বাদশাহ ফাহাদ এবং বিন লাদেন কোম্পানির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি তার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন এবং স্থাপত্যকর্ম তদারকির জন্য কোনো প্রকার অর্থ গ্রহণ করতে রাজী হননি। তাদের লক্ষ লক্ষ টাকার চেক ফিরিয়ে দিয়ে বাকের বিন লাদানকে তিনি বলেন, আমি কেন পবিত্র দুটি মসজিদে আমার কাজের জন্য অর্থ গ্রহণ করব্?

তাহলে আমি কীভাবে বিচার দিবসে আল্লাহকে মুখ দেখাব? তিনি ৪৪ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন। তার স্ত্রী একটি পুত্রের জন্ম দিয়ে মারা যান। এরপর তিনি আর বিয়ে করেননি এবং তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আল্লাহর ইবাদতে পূর্ণ সময় নিবেদিত করেছিলেন।

তিনি গণমাধ্যমের যশ, খ্যাতি এবং অর্থের থেকে দূরে থেকে তিনি দুটি পবিত্র মসজিদের সেবায় ব্যয় করেছিলেন। এই প্রতিভাবান ব্যক্তিটির মসজিদুল হারাম এর মার্বেলের কাজ সম্পর্কিত একটি চমকপ্রদ গল্প রয়েছে। তিনি তাওয়াফকারিদের জন্য হারাম মসজিদের মেঝেটি ঢাকতে চেয়েছিলেন।

আর এই বিশেষ তাপ শোষণক্ষমতাসম্পন্ন মার্বেল কেবল গ্রীসের একটি ছোট পর্বতে পাওয়া যেত। তিনি গ্রীস ভ্রমণ করেন এবং হারামের জন্য প্রায় অর্ধেক পাহাড়ের পরিমাণে মার্বেল কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন এবং মক্কার দিকে ফিরে আসতেই সাদা মার্বেল চলে এসেছিল।

এবং প্রকৃতপক্ষে মক্কার পবিত্র মসজিদের মেঝেতে মার্বেলের স্থাপন সমাপ্ত হয়েছিল। এর ১৫ বছর পরে, সৌদি সরকার তাকে মদীনার পবিত্র মসজিদে অনুরূপ মার্বেল স্থাপন করতে বলে। এ ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ কামাল বলেন, যখন বাদশাহ তাকে নবীজির মসজিদটিকেও একই মার্বেল দিয়ে ঢাকতে বললেন,

তখন আমি খুব বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম, কারণ এই ধরণের মার্বেল পাওয়ার জন্য পৃথিবীতে কেবলমাত্র একটি জায়গা ছিল। এটি ছিল গ্রীস এবং আমি এরইমধ্যে তার অর্ধেক কিনে নিয়েছি। এরপর তিনি গ্রিসের একই সংস্থায় গিয়ে সিইওর সাথে দেখা করেছিলেন এবং তার প্রয়োজনের পরিমাণ সম্পর্কে জানিয়েছিলেন।

সিইও বলেছিলেন যে, ১৫ বছর আগে তিনি চলে যাবার পরে এটি বিক্রি করা হয়ে গিয়েছিল। এতে কামাল খুব মন খারাপ করেন। তিনি সভা ছেড়ে চলে গেলেন এবং অফিস থেকে বেরোনোর সময় তিনি অফিস সেক্রেটারির সাথে দেখা করলেন এবং তাকে অনুরোধ করলেন বাকী পরিমাণ মার্বেল কিনেছেন তার অবস্থান সম্পর্কে জানাতে।

জবাবে ওই ব্যক্তি বলেছিলেন যে এত পুরানো রেকর্ড থেকে জানা কঠিন হবে। তবুও কামালের অনুরোধে তিনি পুরানো রেকর্ড অনুসন্ধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কামাল তাকে হোটেলের ঠিকানা ও নম্বর দিয়েছিলেন এবং পরের দিন তার সাথে আবার দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অফিস ছাড়ার সময় তিনি ভাবছিলেন; আমি কেন জানতে চেয়েছি কে কিনেছে? নিজেকে তিনি নিজেই বলছিলেন, আল্লাহ দারুণ কিছু করবেন। পরদিন, বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে, কামাল একটি ফোন কল পেয়েছিলেন যাতে বলা হচ্ছিলো যে তিনি ক্রেতার ঠিকানা পেয়েছেন।