করোনা মোকাবেলায় ইসরাইলের সাথে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিল আরব আমিরাত

ইসরায়েল যখন ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর দখলে উঠেপড়ে লেগেছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের একটি মুসলিম দেশ হয়েও অবৈধ ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।

করোনাভাইরাস ইস্যুতে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক যেন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস প্রতিরোধে দেশ দুটি একসঙ্গে কাজ করবে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে। কভিড-১৯ প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন করবে উভয় দেশ।

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সহযোগিতা দেবে ইসরায়েল।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই সহায়তার ঘোষণা দেন তিনি। এই পরিকল্পনা নিয়ে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এমন বিবৃতি আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে আরব আমিরাতের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম।

“কভিড-১৯ মোকাবিলায় গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের দুটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে।” তবে চুক্তিবদ্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বা অন্য কোনো তথ্য তাৎক্ষণিক উল্লেখ করেনি ইসরায়েল ও আমিরাতের কেউই।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জানান, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমিরাতের সঙ্গে একত্রে কাজ করার সরকারি ঘোষণা শিগগিরই আসবে। আমিরাত ও ইসরায়েলের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা তা ঘোষণা করবেন।

এর আগে গত সপ্তাহে আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গার্গাশ বলেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে তারা কাজ করতে পারেন। রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও করোনাভাইরাস মোকাবিলা ও প্রযুক্তি খাতে এই সহযোগিতা হতে পারে।

জর্ডান ও মিশর ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনীতিক সম্পর্ক নেই অন্যান্য আরব দেশগুলোর। কিন্তু ইরানের সঙ্গে টানাপোড়েন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চির শত্রু ইহুদি দেশটির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে আরব্য অঞ্চলের অধিকাংশ দেশ।
নেতানিয়াহু তার বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা আমাদের শত্রুদের দমন করে এবং আমাদের বন্ধুদের আরও কাছে টেনে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠব।”