ইগলা-এস মিসাইল পেতে রাশিয়ার কাছে ধর্না ধরল ভারত

চীনের সঙ্গে সীমান্তে গুরুতর অচলাবস্থার কারণে ভারত ইগলা-এস বিমান বিধ্বংসী মিসাইলের সরবরাহ দ্রুত পাঠাতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তাছাড়া জরুরি কেনাকাটার আওতায় অ্যাসল্ট রাইফেল ও বিভিন্ন রাশিয়ান সিস্টেমের জন্য গোলা বারুদেরও অর্ডার দেয়া হয়েছে।

রাশিয়ার বিজয় দিবসের প্যারেডে অংশ নিতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তিন দিনের সফরে গিয়ে এই আহ্বান জানিয়ে আসেন। জরুরি ভিত্তিতে মিসাইল ও গোলাবারুদ সরবরাহের আবেদন জানান মন্ত্রী।

মঙ্গলবার মস্কোতে রাশিয়ার ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ইউরি বরিসভের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজনাথ বলেন, রাশিয়ান পক্ষ আমাদের সবগুলো প্রস্তাবই ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। আমি আমার সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাপারে পুরোপুরি সন্তুষ্ট।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন রাশিয়া তাকে আশ্বস্ত করেছে যে বর্তমান যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। শুধু সম্পর্ক রক্ষাই নয় একে এগিয়ে নিতে শিগগিরই আরো ব্যবস্থা নেয়া হবে। খবর সাউথ এশিয়ান মনিট’র। এ ধরনের জরুরি সামরিক কেনাকাটার জন্য সরকার ৬৬.১৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে ভারত সরকার।

ইগলা-এস হলো কাঁধে বহনযোগ্য ইনফ্রারেড হোমিং সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। এর পাল্লা পাঁচ কিলোমিটার। এটি দিয়ে আগুয়ান ও পলায়মান যেকোন বিমান বা ড্রোনকে ঘায়েল করা যায়।

দুই পক্ষ ভারতের আমিথিতে যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত কারখানায় কালাশনিকভ রাইফল উৎপাদন শুরু করা নিয়েও আলোচনা করে বলে সূত্র জানায়।

এদিকে জরুরিভিত্তিতে ভারতীয় বিমান বাহিনী রাশিয়ার কাছ থেকে ৩৩টি জঙ্গিবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলোর মধ্যে ২১টি মিগ-২৯ ও ১২টি সু-৩০।

যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁদে পা না দিতে ভারতকে হুঁশিয়ারি করল চীন!

২২ জুন দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসেছিলেন চীন ও ভারতের কোর কমান্ডাররা। তবে গালওয়ান উপত্যকায় ১৫ জুনের সংঘর্ষের পর দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের সামরিক নেতাদের মধ্যে এটাই প্রথম বৈঠক।

বৈঠকের ব্যাপারে চীনের মনোভাব ইতিবাচক। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, বৈঠকে দুই পক্ষই আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উত্তেজনা কমিয়ে আনার ব্যাপারে তাদের মনোভাব প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে প্রথম কোর কমান্ডার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে খোলামেলা ও বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং উভয় পক্ষ পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে রাজি হয়।

তারা সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও প্রশান্ত জোরদার করতে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া ও একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারেও অঙ্গীকার করে। কিন্তু ভারতীয় মিডিয়া একে নেতিবাচক হিসেবে তুলে ধরে বলে যে খুবই কঠিন একটি বৈঠক হয়েছে কোর কমান্ডারদের, যা ১১ ঘন্টা ধরে চলে।

মিডিয়ার দাবি, বৈঠকে ভারত বেশ কিছু কঠোর শর্ত দেয়। এর মধ্যে প্যাংগং লেকের উত্তর তীর থেকে চীনা সৈন্য প্রত্যাহার, চীনা সৈন্যদের চীনা ভূখণ্ডের আরো ভেতরে নিয়ে যাওয়াও রয়েছে। ভারতীয় মিডিয়ার আরো দাবি,

তাদের সেনাবাহিনী সর্বাত্মক-যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত—এমন কথাও নাকি বলা হয়েছে। তাছাড়া অচলাবস্থা দেখা দিলে চুক্তি অনুযায়ী কোন পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র বা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে যে চুক্তি রয়েছে তাও নাকি ভারতীয়রা মানবে না।

যেভাবে খুশি চীনাদের মোকাবেলা করার ‘পূর্ণ ক্ষমতা’ নাকি ফিল্ড কমান্ডারদের দেয়া হয়েছে, এমনও দাবি করে ভারতীয় মিডিয়া। কিছু মিডিয়া আরো বলে যে পশ্চিম সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনী শক্তি বাড়িয়ে চলেছে।

তবে কোর কমান্ডারদের বৈঠকের পর উত্তেজনা কমবে কিনা, গালওয়ান উপত্যকায় সামরিক সংঘাতের সমস্যা মিটবে কিনা সেটা নির্ভর করবে ভারত সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও ভারতীয় সেনবাহিনীর পরবর্তী কার্যক্রমের উপর।

আসলে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের (এলএসি) পশ্চিমাংশ নিয়ে তেমন কোন বিরোধ নেই। চীন বলছে এলএসি প্যাংগং হ্রদের দক্ষিণ তীর দিয়ে গেছে, আর ভারতের দাবি হ্রদের মাঝ বরাবর গেছে। এলএসি হ্রদের উত্তর তীর দিয়ে গেছে—একথা ভারত কখনোই বলেনি।

এলএসির চীনা অংশে গালওয়ান উপত্যকা, যেখানে সবসময়ই চীনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছিলো। ওই এলাকায় বছরের পর বছর ধরে দুই পক্ষের সেনারা সহাবস্থান করেছে।

গালওয়ান উপত্যকায় গুরুতর সামরিক অচলাবস্থা ও হতাহতের কারণে হলো বহু বছরের চুক্তি ভঙ্গ করে ভারতীয়দের গ্রহণ করা একতরফা ব্যবস্থা। সংবিধানে জম্মু-কাশ্মিরের মর্যাদা পরিবর্তন

২০১৯ সালের আগস্টে ভারত সংবিধান পরিবর্তন করে অধিকৃত জম্মু-কাশ্মির অঞ্চলের রাজ্য মর্যাদা বাতিল করে একে দুটি কেন্দ্রশাসিত ভূখণ্ডে পরিণত করে। এগুলো হলো: জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখ। কেন্দ্র শাসিত লাদাখ ভূখণ্ডে চীনের নিয়ন্ত্রিত বিশাল অঞ্চলকেও অন্তর্ভুক্ত করে দেখানো হয়।

ভারতের কর্মকাণ্ড শুধু চীন-ভারত সীমান্তে শন্তি ও প্রশান্তিই শুধু নষ্ট করেনি, দক্ষিণ এশিয়াতেও উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

মে মাসের শুরু থেকেই গালওয়ান উপত্যকায় সামরিক সংঘাত দেখা দেয়। এই সমস্যা সহজেই মেটানো যায় এভাবে: ভারতীয় সেনারা তাদের মূল জায়গায় ফেরত যাবে, আর কখনো আসবে না।

৬ জুন, সামরিক নেতাদের বৈঠকে দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় আসে। কিন্তু সেই চুক্তি ভঙ্গ করে ১৫ জুন ভারতীয় সেনারা চীনা সেনাদের উপর আঘাত হানে। চীনারা পাল্টা আঘাত হানলে নাজুক অবস্থায় থাকা ভারতীয় সেনারা দ্রুত পালাতে চেষ্টা করে।

অন্ধকার রাতে তারা দুর্ঘটনাবশত গালওয়ান নদীতেই ঝাপ দেয় এবং ডুবে মরে। সীমান্ত রক্ষীদের জীবন মূল্যবান। চীনরা কখনোই এ ধরনের ট্রাজেডি দেখতে চায়নি।

এই ভয়ানক ঘটনা থেকে ভারত শিক্ষা নেবে এবং বটমলাইন স্পর্শ করবে না বলে আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি। চীনারা তাদের ভৌগলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভারতীয় সেনারা আবারো যদি গালওয়ান উপত্যকায় অভিযান চালায় তাদেরকে আবারো তাড়িয়ে দেবে চীনা সেনারা।

১৫ জুনের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে ভারতীয়রা চীনা সেনাদের সঙ্গে পাল্লা দেয়ার অবস্থায় নেই। একই ঘটনা ঘটলে আবারো ভারতীয়রা ব্যর্থ হবে। তাহলে ঝুঁকি নেয়ার দরকার কি?