রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরির আশা পাকিস্তানের!

পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর থেকে মস্কো-নয়া দিল্লি সম্পর্ক ও আফগানিস্তানে সোভিয়েত নেতৃত্বাধিন অভিযান ইসলামাবাদ-মস্কো সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছে।

মস্কোর বিরুদ্ধে আফগান মুজাহিদের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরও দুই দেশের সম্পর্ক ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রায় একই থাকে। এরপর অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং ২০১৪ সালে পাকিস্তানের উপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় মস্কো। ২০১৬ সালে তারা প্রথমবারের মতো যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়।

পাকিস্তানের কাছে রাশিয়ার গুরুত্ব

অনেক দিন ধরে পাকিস্তান তার পররাষ্ট্রনীতিকে বৈচিত্রপূর্ণ করতে চাচ্ছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কেন্দ্রীক না থেকে অন্যান্য দেশের প্রতিও মনযোগ দিচ্ছে। চীনের সঙ্গে রাশিয়ার যে কৌশলগত ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে তা থেকেও ফায়দা হাসিল করতে চাচ্ছে পাকিস্তান।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের চেয়ে আমেরিকার কাছে ভারতের গুরুত্ব অনেক বেশি। এ নিয়ে ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটন টানপড়েন পাকিস্তানে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছে।

তাই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে রাশিয়াকে দিয়ে পররাষ্ট্রনীতিকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে চাচ্ছে পাকিস্তান। সে আন্তর্জাতিক বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বদলে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থেকে সুবিধা আদায় করতে চাচ্ছে।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

পাক-রাশিয়া বাণিজ্য তেমন বড় নয়, ২০১৮ সালে মাত্র ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। এই সম্পর্ক জোরদারের পরিকল্পনা করেছে দুই দেশ।

বন্দর উন্নয়ন, পাইপলাইনে বিনিয়োগ ও জ্বালানি স্থানান্তরে রাশিয়ার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় পাকিস্তান। এসব খাতে রাশিয়ারও আগ্রহ রয়েছে।

ইসলামাবাদ জানায়, চায়না-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোর (সিপিইসি) ইউরোশিয়ান ইকনমিক জোনকে যুক্ত হতে পারে। এতে গোয়াদার বন্দরের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে। তখন পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে আরব সাগরের উষ্ণ পানিতে প্রবেশ করতে পারবে রাশিয়া।

এ পর্যন্ত দুই দেশে একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। রাশিয়া-ভারত বাণিজ্য যেখানে ১০ বিলিয়ন ডলারের সেখানে পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য খুবই স্বল্প।

সন্ত্রাসবাদ দমন

মধ্য এশিয়ায় আইএস ও সালাফিদের প্রভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে রাশিয়া। আইএস সদস্যরা সিরিয়া থেকে পালিয়ে রাশিয়ার সাবেক প্রজাতন্ত্রগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে।

আফগানিস্তানের নাজুক অবস্থার কারণে এদের অনেকে পাকিস্তানেও ঘাঁটি গেড়ে বসতে পারে। ফলে পারস্পরিক নিরাপত্তার স্বার্থে পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা হতে পারে।

রাশিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যে আন্ত:বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো আফগানিস্তানের উন্নয়ন ও সালাফি ও আইএস গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সঙ্গে অনেক বেশি সংশ্লিষ্ট বলে মনে হচ্ছে।

আফগানিস্তানে আল কায়দাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিয়ে মস্কোর উদ্বেগ থেকে সুবিধা হাসিল করতে চায় পাকিস্তান।

তালেবানদের সহযোগিতা করার ব্যাপারে রাশিয়ার মনোভাবকেও পাকিস্তান সমর্থন করে এবং দুই গ্রুপের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেয়। আরেকটি বিষয় হলো নন-ন্যাটো দেশগুলোর মধ্যে ন্যাটোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার পাকিস্তান অতীতে ন্যাটো বাহিনীর রসদ-সংশ্লিষ্ট প্রয়োজন পূরণ করেছে। ফলে ন্যাটোর তৎপরতার দৃষ্টিকোণ থেকেও রাশিয়ার উদ্যোগকে বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা

অনেক দিন ধরেই পাকিস্তানে অস্ত্র বিক্রি না করার নীতি অনুসরণ করে আসছিলো মস্কো। কিন্তু ২০১৪ সালে এতে পরিবর্তন ঘটে এবং অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জান কেনা-বেচা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়।

দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটন বেশ কিছু অস্ত্র বিক্রি চুক্তি করায় রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় ইসলামাবাদ। অস্ত্র কেনার বিষয়টিতো রয়েছেই।

ভবিষ্যত সম্পর্ক

এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খর্ব করতে রাশিয়া পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে মনযোগী হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে জোরদার করা।

এটা ঠিক যে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ-মস্কো মত অনেক বেশি মিলে যাবে। দুই দেশই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত এখনো রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হওয়ায় হয়তো কৌশলগত, নিরাপত্তা ও রাজনীতির ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা হোঁচট খাবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সতর্কতার সঙ্গে চেষ্টা করছে মস্কো।

সাধারণভাবে বলতে গেলে সবক্ষেত্রেই পাকিস্তান-রাশিয়ার সম্পর্ক এগিয়ে যাবে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে পাকিস্তানের আশা অনেক উঁচু।

সুত্র: এশিয়া টাইমস

অবশেষে মুক্তি পেলেন জামিয়ার অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী সফুরা জারগার

অবশেষে জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী সফুরা জারগার জামিন পেলেন। মঙ্গলবার দিল্লির হাইকোর্ট তাকে জামিনাদেশ দেয়। বিবিসির খবর।

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় সন্ত্রাসবাদ দমন আইনে গ্রেপ্তার করা হয় জারগারকে। এপ্রিলে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তিনমাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি।

পুলিশ তাকে দিল্লি দাঙ্গার অন্যতম ইন্ধনদাতা হিসাবে চিহ্নিত করে। তবে ওই অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করেছে সফুরা জারগারের পরিবার।

তাদের বক্তব্য, তিনি শুধু নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।

তাকে আটক করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে এমনকি ভারতের বাইরেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

এরপরও জারগারের জামিনের আবেদন তিনবার খারিজ করে দিয়েছিল আদালত। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সরকার মানবিকতার জায়গা থেকে তার জামিনে রাজি হয়।

এদিন পাঁচটি শর্তে জারগারের জামিনাদেশ দেয় আদালত। শর্তগুলোর মধ্যে আছে, প্রতি পনের দিনে একবার ফোন তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করবেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া দিল্লির বাইরে যাওয়া যাবে না, তদন্ত বাঁধাগ্রস্ত হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না।

ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রাজধানীতে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভকে ঘিরে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে ৫৩ জন মারা যাযন, যাদের অধিকাংশই ছিল মুসলিম।