ইসরাইলকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিল হিজবুল্লাহ!

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ইহুদিবাদী ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তেল আবিবের শাসক গোষ্ঠী লেবাননে হামলা চালালে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তাদের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানা হবে।

আজ (রোববার) হিজবুল্লাহ এক ভিডিও বার্তায় ইসরাইলের স্পর্ষকাতর এলাকাসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনের বিভিন্ন ভূখণ্ড চিহ্ণিত করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তেল আবিব সরকার লেবাননে হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখালে এসব এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলের জঙ্গিবিমান অনেকবার লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। এ খবর দিয়েছে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুটনিক। ২০০৬ সালে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যকার ৩৩ দিনের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমে।

ওই প্রস্তাবে ইহুদিবাদী ইসরাইলকে লেবাননের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু ইহুদিবাদী ইসরাইলের জঙ্গিবিমানগুলো প্রায় প্রতিদিনই লেবাননের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করে জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে আসছে।

এদিকে ধারাবাহিকভাবে লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘনের দায়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এরইমধ্যে অভিযোগ জানিয়েছে বৈরুত। সুত্র: পার্সটুডে

কানাডার পার্লামেন্ট থেকে বের করে দিল ভারতীয় নেতাকে!

আমেরিকায় চলা বর্ণবিদ্বেষের বিক্ষোভের আঁচ লেগেছে কানাডাতেও। বুধবার কানাডার পার্লামেন্টে বিচ্ছিন্নতাবাদী পার্টি ব্লক কিউবেকয়েস বা বিকিউ এর এক সদস্য অ্যালান থেরিয়ানের সঙ্গে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন কানাডার নিউ ডেমোক্র‌্যাটিক পার্টি বা এনডিপির সদস্য ভারতীয় বংশোদ্ভূত জগমিত সিং। এরপর তাকে সংসদ থেকে বের করে দেয়া হয়।

কানাডায় পুলিশের চাকরিতে বর্ণবৈষম্য হচ্ছে কি না তা চিহ্নিত করতে পার্লামেন্টে প্রস্তাব আনতে চেয়েছিল এনডিপি। যা সাফ খারিজ করে বিকিউ। এরপরই জগমিত অ্যালানকে বর্ণবিদ্বেষী বলে কটাক্ষ করেন।

এমনকি নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চাননি তিনি। তারপরই জগমিতকে পার্লামেন্ট থেকে সাময়িকভাবে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেছেন,

‘‌এটা দুঃখজনক যে ব্লক কিউবেকয়েস এটা মেনে নিচ্ছে না যে আমাদের দেশে এখনও প্রথাগত বর্ণবৈষম্য, সামাজিক তারতম্য বজায় আছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই। এব্যাপারটি নিশ্চিত করতে প্রথাগত ফারাক খুঁজে বের করাই হল প্রথম পদক্ষেপ।’‌

ট্রুডোর মতে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে এব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বিকিউর প্রধান ওয়াই এফ ব্ল্যানশেট থেরিয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে জগমিতকে ক্ষমা চাওয়ার এবং তাঁর বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানান।‌‌

আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: ভারতীয় সীমান্তে চোখ রাঙাচ্ছে নেপালী সেনারা

ভারতীয় সীমান্তে চোখ রাঙাচ্ছে নেপালী সেনারা। যা দুশ্চিন্তায় পেলেছে ভারতকে। লাদাখের গারওয়াল উপত্যকায় চিন-ভারত দ্বৈরথের মতই মানচিত্র বিতর্কে অশান্তি চলছে ভারত-নেপাল সীমান্তে।

গত শুক্রবারই ভারতীয় কৃষকদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠে নেপাল পুলিশের বিরুদ্ধে। এবার ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে ইতিহাসে প্রথমবার ভারত সীমান্তে হেলিপ্যাড এবং সেনাবাহিনীর তাঁবু বিছিয়ে ফেলেছে নেপাল।

বৃহস্পতিবারই অবশেষে বড় ধাক্কাটা দিয়েছিল নেপাল। নতুন মানচিত্রের বিল নেপালের সংসদের পাস হয়ে যাওয়ার পর গতকাল তা ছাড়পত্র পেয়ে গেছে।

নতুন মানচিত্রে উত্তরাখণ্ডের বেশ কিছু এলাকা নেপালের বলে দাবি করা হয়েছে। যা নিয়ে ভারত ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতের তরফে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, নেপালও তা গ্রহণ করেছে। কিন্তু নতুন মানচিত্রের নকশা থেকে তারা কোনভাবেই পিছিয়ে আসবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।

এই অবস্থায় সীমান্তে হেলিপ্যাড তৈরির পাশাপাশি সেনা তাবু বানিয়ে নেপাল যে ভারতকেই বার্তা দিতে চাইছে তা স্পষ্ট।

সূত্র : পুবের কলম

আরো পড়ুন: আল্লাহ যেন করোনাভাইরাস থেকে আমাদের মুক্তি দেন: প্রধানমন্ত্রী

দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জীবন চলতে থাকবে, জীবন স্থবির থাকতে পারে না। তারপরেও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, দেশবাসীর কাছে এটুক বলব, আসুন সকলে মিলে দোয়া করি আল্লাহ যেন এই করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি দেন। রোববার (২১ জুন) গণভবন একনেক বৈঠকে অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের উন্নয়নে একটা ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যতটুক সম্ভব উন্নয়নের গতিটা ধরে রাখতে।’ তিনি বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশ বলে না বিশ্বব্যাপী সমস্যা।

মানুষ যেন করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে সেটিই আমরা চাই। শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এরইমধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্যসহ অনেককে হারিয়েছি।

আরো পড়ুন: আরও ভয়ংকর ভাইরাসের সম্ভাবনা, ২ দিনেই ৮ কোটি মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা!

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে গোটা বিশ্ব। ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন মারা গেছেন ৪ লাখ ৫১ হাজারের বেশি মানুষ।

কিন্তু গবেষকদের তথ্য বলছে, করোনাভাইরাসের চেয়ে ভয়ংকর একাধিক মারণ ভাইরাস রয়েছে পৃথিবীতে। যা খুব সহযেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এর আগে ১৯১৮ থেকে ১৯১৯ সালে এমন একটি মহামারি দেখা দিয়েছিল। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আক্রমণে তখন বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। শক্তিশালী এসব ভাইরাস বর্তমান সময়ে ছড়িয়ে পড়লে মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সারা বিশ্বে পৌঁছে যাবে এবং প্রায় ৮ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক এক প্রধান এ আশঙ্কা করেছিলেন বেশ কয়েক মাস আগে। তার সতর্ক বার্তা নিয়ে দ্য গ্লোবাল প্রিপেয়ার্ডনেস মনিটরিং বোর্ড (জিপিএমবি) এর ‘এ্যা ওয়ার্ল্ড এট রিক্স’ শিরোনামে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে এ সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছিল।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জিপিএমবি তাদের এ গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছিল, জিপিএমপির গবেষকরা বলছেন, আলোচিত ইবোলা, জিকা বা ডেঙ্গুর মতো করেই এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এজন্য বিশ্বনেতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে এমন মহামারি প্রতিরোধে সব প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল ওই গবেষণা রিপোর্টে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক প্রধান ও নরওয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আল হাদ আজ সি এর নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। তিনি বর্তমানে জিপিএমবি এর সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে ২০১৬ সালে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয় অজানা রোগে। ওই এলাকার আরও প্রায় ১১৫ জন অল্প সময়ের ব্যবধানে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে জানা যায়, তারা সবাই একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত। যার নাম ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস বা অ্যান্থ্রাক্স।

বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে বের করেন, ১৯৪১ সালে একটি বলগা হরিণ মারা গিয়েছিল। ৭৫ বছর আগে মারা যাওয়া ওই হরিণটি থেকে রোগটি ছড়িয়েছে। আবহাওয়া অধিক উষ্ণ হওয়ায় সেখানকার বরফায়িত মাটি বা পারমাফ্রস্ট গলে বেরিয়ে এসেছিল সেই অ্যান্থ্রাক্স।

২০১৫ সালে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা তিব্বতে গলিত তুষারের স্রোত থেকে ২৮টি নতুন ধরনের ভাইরাস খুঁজে পান। বায়োরিভ নামে একটি ওয়েবসাইটে ওই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, গবেষকরা ১৬৪ ফুট গর্ত খুঁড়ে ১৫শ’ বছরের পুরনো গ্লাসিয়ার থেকে দুটি নমুনা সংগ্রহ করেন।

পরে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে তারা মোট ৩৩ ধরনের ভাইরাসের সন্ধান পান। যার মধ্যে ২৮টি ভাইরাসই আগে কখনো কেউ খুঁজে পাননি। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত গলছে তিব্বত থেকে শুরু করে মেরু অঞ্চলসহ উত্তর গোলার্ধের তুন্দ্রা, সাইবেরিয়া আলাস্কা এবং গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলের বরফ।

ভয়ের কথা হলো, গবেষণায় বেরিয়ে আসছে, এসব বরফের স্তরে স্তরে এখনো টিকে আছে আদিম সব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ জীবাণু। যার বেশিরভাগই আধুনিক যুগের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে। মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ওইসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে পরিচিত নয়।

ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া নিয়ে বিজ্ঞানীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং গবেষণা চলছে। এখন নিশ্চিতভাবেই তা আরো বেড়েছে। এরই মধ্যে তারা অনেক ভয়ঙ্কর ভাইরাসের অস্তিত্বের খোঁজ পেয়েছেন।

সেগুলো সুবিধাজনক পরিবেশ পেলে অর্থাৎ উষ্ণতা আরেকটু বাড়লে প্রকৃতিতে ছড়াতে শুরু করবে। এসব ভাইরাস মহামারী ছড়াতে সক্ষম। ফ্রান্সের এআইএক্স মার্সেই ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. জন মাইকেল ক্ল্যাভেরিয়ে গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান,

আমরা প্রথমবারের চেষ্টাতেই ত্রিশ হাজার বছরের পুরনো সুপারভাইরাসকে জাগিয়ে তুলতে পেরেছি। সেটা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যামিবাকে সংক্রমিত করতে পেরেছে। কিন্তু পারমাফ্রস্টের মধ্যে আরো কি কি ধরনের জীবাণু লুকিয়ে আছে তা আসলে আমরা জানি না। এটা অনুমান করাও সম্ভব না।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) মহামারি নিয়ে একটি গবেষণা প্রোগ্রাম শুরু করে ‘প্রেডিক্ট’ নামে। এটির কাজ ছিল জুনটিক (যেসব ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষে ছড়াতে পারে) ভাইরাস শনাক্ত করা যেগুলো মানব সমাজে মহামারি ঘটাতে সক্ষম এবং বিশ্বকে এই ধরনের ভাইরাস মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা।

এর গবেষকরা দেখেছেন, ২১ শতকের শুরুর দিকে যতগুলো নতুন ভাইরাস কিংবা নতুন করে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়া ভাইরাস তার ৭৫ শতাংশই অন্য প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। ‘প্রেডিক্ট’ ১ হাজার ১০০টি ভিন্ন ধরনের ভাইরাস আবিষ্কার করে।