লাদাখে অনড় চীন, পিছু হটছে ভারত

ভারত-চীন সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ্যের জেলে শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকে ভারতের নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্য ঘিরে যখন বিতর্ক চলছে। বৈঠকে লাদাখের পরিস্থিতি নিয়ে নরেন্দ মোদী যা বলেছিলেন, তার ‘অভিসন্ধিমূলক ব্যাখ্যা’ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

বৈঠকে মোদী দাবি করেছিলেন, “ওখানে আমাদের সীমান্ত পেরিয়ে কেউ ঢোকেনি। ওখানে আমাদের এলাকায় কেউ ঢুকে বসেও নেই।” প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পরে গত কালই ভারতে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, চীনা অনুপ্রবেশ না-হলে মে মাসের গোড়া থেকে কিসের ঝামেলা চলছে লাদাখে?

দু’দেশের মধ্যে পনেরোটির বেশি সেনা পর্যায়ের বৈঠকই বা কেন হল? রোবাবার সকালে টুইট করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধী জানান, ‘চীনের আগ্রাসনের মুখে প্রধানমন্ত্রী ভারতের জমি সমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

যদি ওই জমি চীনের হয়, তা হলে আমাদের সেনারা কেন মারা গেলেন? আর কোথায়ই বা তারা মারা গেলেন?’ সিপিআই নেতা কানহাইয়া কুমারের কটাক্ষ, ‘ঘরে ঢুকে মারব বলে ক্ষমতায় এসে (এখন) কুড়ি জন জওয়ানের মৃত্যুর পর বলছে ঘরে কেউ ঢোকেইনি।

এ কেবল ফেকু নয় সঙ্গে ফাট্টু (ভীতু)।’ ভারতের সব বিরোধী নেতার একই সুর লাদাখে চীনের অনড় অবস্থান ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কারণে ভারত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

সুত্র: আনন্দবাজার

ট্রাম্পের নির্বাচনী জনসভার মারামারি

বছরের শেষে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য মহামারির মধ্যে নিজের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্চ মাসে দেশটিতে লকডাউন শুরুর পর এই প্রথম জনসভায় বক্তব্য রাখলেন ট্রাম্প।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি টুইটারে লিখেছিলেন, টুলসার ব্যাংক অব ওকলাহোমা সেন্টারের এই অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিতে প্রায় দশ লাখ লোক টিকেট চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে।

কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর পর দেখা যাচ্ছে ১৯ হাজার আসনের ওই সেন্টারটি পুরো ভরেনি, এবং জনসভায় আসা সমর্থক যারা ভেতরে জায়গা না পেয়ে বাইরে অপেক্ষমাণ, তাদের জন্য আলাদা ভাষণ দেবার ট্রাম্পের পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানের কারণে কোভিড-১৯ রোগের বিস্তার আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা করা হয়েছে। র‍্যালির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচারণা দল জানিয়েছে তাদের ছয়জন কর্মী যারা এই জনসভা আয়োজন করছিল তারা কোভিড-১৯ পজিটিভ বলে শনাক্ত হয়েছেন।

ট্রাম্পের এই জনসভা মহামারি শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় ইন-হাউজ জনসমাগমের একটি।

অনুষ্ঠানে আসা সমর্থকদের কোন ধরণের অসুস্থতার জন্য নির্বাচনী প্রচারণা দল দায়ী থাকবে না – মর্মে এক ফর্মে স্বাক্ষর করেই জনসভায় যোগ দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।

জনসভা সামাজিক দূরত্ব মেনে করতে হবে, এমন একটি আর্জি শুক্রবার ওকলাহোমার সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে।

কিন্তু ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন দল জানিয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তিকে শরীরের তাপমাত্রা মেপে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হবে, এবং প্রত্যেককে মাস্ক দেয়া হবে।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ২২ লাখের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন, এবং ১ লাখ ১৯ হাজার মানুষ মারা গেছেন।

তবে, টুলসার এই অনুষ্ঠানে এক লাখের মত মানুষ আসবেন বলে ধারণা করা হলেও শেষ পর্যন্ত উপস্থিতি তার চেয়ে অনেক কম হয়েছে।

ট্রাম্প কী বললেন?
উদ্বোধনী ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, ‘বাইরে অনেক খারাপ মানুষ ছিল, তারা খুবই খারাপ কাজ করছিল – তবে তিনি এর বিস্তারিত জানাননি।

করোনাভাইরাসের জন্য দেয়া সতর্কতার মধ্যেই জনসভায় উপস্থিত হওয়া সমর্থকদের তিনি ‘যোদ্ধা’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ’ মানুষের সংখ্যা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি।

ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘কট্টর বামদের অসহায় পুতুল’। দেশের কিছু করোনাভাইরাস কেসের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

একই সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেছেন, দেশটিতে হওয়া সাম্প্রতিক বিক্ষোভে বামপন্থীরাই মূর্তি অপসারণের কাজ করেছে।
সূত্র : বিবিসি

আমি আমার আল্লাহর ভালোবাসার জন্যই আর মিডিয়াতে কাজ করব না: অভিনেত্রী এ্যানি খান

শিশুশিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে কাজ শুরু করেছিলেন এ্যানি খান। সেই থেকে তার পথচলা শুরু। ২৩ বছর ধরে মিডিয়ার নানা মাধ্যমে কাজ করে পরিচিতি পাওয়া এ অভিনেত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আর নয় মিডিয়াতে! গুটিয়ে নিচ্ছেন নিজেকে।

বললেন, ছোট থেকেই টিভিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতাম। ২০১৫ সাল পর্যন্ত অভিনয়ে অনিয়মিত ছিলাম। তারপর থেকে এ পর্যন্ত টানা নাটকে কাজ করে মানুষের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। তবে এবার একেবারেই মিডিয়ার কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি। সার্বক্ষণিক নামাজ ইবাদতে মগ্ন আছি।

গতবছর থেকেই মনে হচ্ছিল মিডিয়া থেকে দূরে সরে যাবো। জানুয়ারির ২৬ তারিখ থেকে নিজের মধ্যে সিদ্ধান্তটা বেশি করে নাড়া দিতে থাকে। মার্চের ১৯ তারিখ শেষবার শুটিং করেছি। তারপর তো করোনায় সবকিছু বন্ধ হলো। শনিবার বিকেলে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে মিডিয়া থেকে দূরে সরে যাওয়ার বিষয় জানান এ্যানি খান।

তিনি বলেন, কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মিডিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেইনি। এ সিদ্ধান্ত আমার একান্তই ব্যক্তিগত। কারণ মৃত্যুর পর আমার হিসেব আমাকেই দিতে হবে। তাই আত্মউপলব্ধি থেকেই আমি মিডিয়ার কাজ থেকে সরে যাচ্ছি।

কী সেই উপলব্ধি, যে জন্য ২৩ বছরের মিডিয়া ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চাইছেন? উত্তরে এ্যানি বলেন, আগেও বিভিন্ন কারণে মানুষ মারা যেত কিন্তু প্রতিনিয়ত অহরহ মৃত্যুর খবরগুলো যেভাবে শুনছি আগে সেভাবে শোনা যেতো না; শুনলেও নাড়া দিত না।

বাবাকে হারালাম, চোখের সামনে কাছের মানুষগুলো ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এগুলোর কারণে রিয়ালাইজেশনগুলো এসেছে। আমি একজন মুসলিম। মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় বিষয়গুলো যতোই জানার চেষ্টা করছি ততই ধর্ম বিষয়ক জ্ঞান বাড়ছে। এতে করে অনেককিছুতে বিধিনিষেধ চলে আসছে।

তিনি বলেন, দু মিনিট পরে আমি বাঁচবো কিনা জানিনা। মৃত্যুর পরে অনন্ত কালের জন্য আমি কি সঞ্চয় করলাম? এ সবকিছু চিন্তাভাবনা মিলিয়ে আমি আর মিডিয়ার কাজে ফিরতে চাইছি না।

এজন্য কেউ আমাকে ভণ্ড বলতে পারেন, খারাপ বলতে পারেন। তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। আমার রিয়ালাইজেশনগুলো কেমন সেটা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।

এ্যানি খান বলেন, এই করোনাকালে দেখছি অনেকেই সময় কাটছে না বা হতাশামূলক কথাবার্তা বলে যাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজে কোনো সময়ই পাচ্ছিনা। জীবনে সময় এতো স্বল্প অনুভব করছি যে মনে হচ্ছে দিনরাত ৪৮ ঘণ্টা হলে ভালো হতো।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছি, নফল নামাজ পড়ছি, কোরআন হাদিস পড়ছি। অনেককিছু থেকে পিছিয়ে ছিলাম। সবকিছু আমাকে শিখতে হচ্ছে। এসব জানতে শিখতে কখন যে সময় চলে যাচ্ছে নিজেও বুঝতে পারছিনা।

এ্যানি খান অভিনীত পাঁচটি সিরিয়াল বিভিন্ন টিভিতে প্রচার হচ্ছে। তিনি বললেন, করোনার মধ্যে আমি মোটেও কাজ করতে চাইনা। এমনিতেই সবকিছু থেকে গুটিয়ে আসতে আমার হয়তো একটু সময় লাগবে। তবে মন থেকে চাইছি আল্লাহ যেন আমাকে আর কাজে না ফেরান। ঘরে থাকবো, ইবাদত করবো। উনি চাইলে সবকিছুই সম্ভব।

যোগ করে তিনি বলেন, ঢাকায় আমাদের নিজেদের থাকার একটা জায়গা আছে। বেঁচে থাকলে আগামী বছর বিয়ে করে ফেলবো। একজন সাধারণ মেয়ে বিয়ের পর যেভাবে সংসার নিয়ে সার্ভাইভ করে আমিও তাই করতে চাই। মিডিয়া থেকে সরে গেলে আমার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো আর সামনে আনবো না।

কথায় কথা এ্যানি খান জানালেন ফেসবুক নিয়ে তিক্ত কথা। বললেন, ১৯ সেপ্টেম্বরে আমার ফেসবুক হ্যাকড হয়। ওই আইডি থেকে আমার পুরাতন ছবি আপলোড দেয়া হচ্ছে। আবোলতাবোল জিনিস পোস্ট দিচ্ছে, শেয়ার করছে।

কিছু মানুষ এ নিয়ে আমাকে ভুল বুঝে যাচ্ছে। তারা মনে করছে, আমি এগুলো আপলোড দিচ্ছি। আসলে ওগুলো আমি করছিনা। মানুষ মাত্রই পরিবর্তনশীল। আমার মধ্যেও সবকিছু নিয়ে পরিবর্তন এসেছে। ধর্ম নিয়ে সারাক্ষণ চর্চা করে অন্যরকম এক শান্তি পাচ্ছি।

মৌমাছির কামড়ে জর্দানের দশ বছর বয়সী হাফেজা সুমাইয়া মানসুরের ইন্তেকাল

জর্দানের দশ বছর বয়সী কোরআনের হাফেজা সুমাইয়া মানসুর মুতালিকা গতকাল শুক্রবার ইরবাদ জেলায় তার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তার পরিবারের সূত্রে আরবি একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, মৌমাছির কামড়ে (হুলফুটান) ছোট্ট এই কোরআনের পাখি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ক্ষতস্থানে তীব্র ব্যথার ফলে তার ইন্তেকাল হয়।

সুমাইয়া মানসুর অল্প বয়সে পবিত্র কোরআন মুখস্ত করে তার দেশে এক বিস্ময় সৃষ্টি করেন। জর্দানজুড়ে তার তিলাওয়াতের অসংখ্য ভক্ত রয়েছে।

সুমাইয়া মানসুরের মৃত্যুতে জর্দানের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তরফ থেকে শোক জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তার পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে তার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করার আহবান জানায়। সূত্র: আমিরাত নিউজ

এবার সীমান্তে নেপালের সেনা বৃদ্ধি, আরো চাপে ভারত

একদিকে চীনের রক্ত চক্ষু। অপরদিকে সীমান্তে সেনা বৃদ্ধি নেপালের। শুধু তাই নয়, তৈরি করা হচ্ছে সেনা ক্যাম্প। সব মিলিয়ে আরো চাপে পড়েছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কোলকাতা২৪- এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনা বৃদ্ধির পাশাপাশি একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হেলিপ্যাড বানানোর কাজ করছে নেপাল।

স্থানীয় মানুষ জানাচ্ছে, লিপুলেখ এলাকায় হঠাৎ করেই গত কয়েকদিনে নেপালি সেনার তৎপরতা বেড়ে গেছে। এ সংক্রান্ত ছবি প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জঙ্গলের মধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্যাম্প বানানোর কাজ শুরু করেছে নেপাল।

যদিও এই ছবিতে যে ক্যাম্পগুলি দেখা যাচ্ছে সেগুলি অস্থায়ী ক্যাম্প বলা হচ্ছে। অন্তত এক একটা ক্যাম্পে ১২ থেকে ১৩ জন করে নেপাল আর্মি জওয়ান রয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এমন পরিস্থিতি আগে তারা দেখেননি। কোনো দিন নেপাল আর্মিকে অন্তত এই সমস্ত জায়গায় দেখা যায়নি।

শুধু তাই নয়, ইন্দো-নেপাল সীমান্তে ব্যাপকভাবে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে নেপাল। আর্মি বেস, রাস্তাসহ একগুচ্ছ নির্মাণ শুরু করেছে। পাশাপাশি চীন-নেপাল সীমান্তেও চলছে নির্মাণ কাজ।

কালাপানি থেকে মাত্র ৪০ কিমি দূরে একটি পোস্ট বানিয়েছে নেপাল আর্মি। সেখানেও চলছে তৎপরতা। স্থানীয়রা বলছেন, হেলিকপ্টারে করে সেনাবাহিনীর যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ভারতের তিন জায়গাকে নিজেদের দাবি করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে নেপাল। এছাড়া কয়েকদিন আগে বিহারে নেপাল সীমান্তে গুলি চালায় নেপালের সেনা। তাতে এক ভারতীয়ের মৃত্যু হয়।

এদিকে ভারতের পক্ষে নেপালের পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধান হওয়া সম্ভব বলে মনে করছে দেশটি।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও জানিয়েছেন, নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মজবুত রয়েছে। নেপালও জানিয়েছে, এতে করে দুই দেশের বন্ধুত্বে কোনো প্রভাব পড়বে না।

১৫ জুন রাতে লাদাখের গালওয়ান সীমান্তে চীনা সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ভারতের। এতে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়।

এ অবস্থায় লাদাখে অত্যাধুনিক অ্যাপাচে হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে ভারত। যাতে রয়েছে ট্যাংকবিধ্বংসী মিসাইল ও রকেট।

এদিকে থেমে নেই চীনও। দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মিও (পিএলএ) সেনা সরঞ্জাম বাড়াচ্ছে ভারত সীমান্তে। তারা প্যানগং লেকের উত্তর তীর বরাবর ঘাঁটি বসিয়েছে।

এছাড়া তিব্বতের হোতান ও কাশগড় বিমানঘাঁটিতে অত্যাধুনিক জে-১১ ও জে৮ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে বেইজিং।

এবার খুলে দেয়া হচ্ছে মক্কার ১৫শ’ মসজিদ!

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের সব দেশেই মসজিদে নামাজ আদায়ে বিধিনিষেধ ছিল। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সীমিত পরিসরে মসজিদ খুলে দেয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসে মক্কা ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য শহরে মসজিদ খুলে দেয়া হয়। এবার মক্কার মসজিদগুলো ফের খুলে দেওয়া হচ্ছে।

আগামী রোববার মক্কায় ১৫৬০টি মসজিদে ফজরের নামাজে মুসল্লিরা অংশ নেবেন। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও ব্যক্তিগত জায়নামাজ বহনসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মক্কা গ্রান্ড মসজিদে মুসল্লিদের আসতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও অন্যান্য মসজিদে একই বিধি কঠিনভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। মসজিদগুলোর খাদেমদের মুসল্লিরা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছেন কি না তা দেখতে বলা হয়েছে।

আমেরিকায় গড়ে উঠছে মুসলিম শহর, এ যেনো এক হিজাবী নগরী

কে ওই শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি।
মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিল কি সুমধুর
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী।
কি মধুর আযানের ধ্বনি!

আহা… সেই সুর মুসলিম দেশগুলোত শোনা যায় প্রতিদিন পাঁচ বার কিন্তু ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে কল্পনার বিলাসিতা ছাড়া কিছুই না।
এই কল্পনার বিলাসিতাকেই বাস্তবে প্রতিফলিত করেছে আমেরিকার একটি শহরের মুসলিমরা।

হ্যাঁ বলছিলাম বাফেলোর কথা,যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং পশ্চিম নিউ ইয়র্কের সর্ববৃহত শহর।ইরি লেকের তীরে অবস্থিত বাফেলো সিটি কানাডা-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত জুড়ে বাণিজ্য ও ভ্রমণের জন্য একটি প্রধান গেটওয়ে।নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরত্বের কানাডা সীমান্তের নায়াগ্রা ফলসের অদূরে এই নগরীর অবস্থান।

অনেকদিনের ইচ্ছা ছিলো নায়াগ্রা ফলস ঘুরতে যাবো এবং বাফেলো শহরে কয়েকজন বাংলাদেশী আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে দেখা করবো। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা যাত্রা করি বাফেলোর উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ ৮ ঘন্টা ড্রাইভ শেষে পৌঁছালাম ছবির মতো সুন্দর সাজানো গোছানো আয়তনে ৫২ বর্গমাইলের বাফেলো শহরে।

প্রায় তিন লাখ লোকের শহর বাফেলো আরাম-আয়েশের কারণে অনেকের কাছে যাদুর আবার কারো নিকট শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত। বাফেলো সিটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে ১৫ মিনিটের মতো সময় ব্যয় হয়। এর কারণ নিরিবিলি এ শহরে ট্রাফিক জ্যাম নেই বললেই চলে।

জোহর নামাজ আদায় করলাম তাকওয়া মসজিদে।পুরো লাল কার্পেট বিছানো মসজিদের সামনের দেয়ালে লাগানো বুক সেলফে কুরআন হাদিস আর ইসলামি বই থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

অবাক হলাম “জামে মসজিদ বাফেলো”তে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে গিয়ে।বিশাল মসজিদের ভিতরের ডিজাইন আর চার্চের মতো গঠন দেখে। নামাজ শেষে কথা হলো মুসল্লি আনোয়ার হোসেনের সাথে তিনি বললেন,আল্লাহ খ্রিস্টানদের দিয়ে গির্জা বানিয়ে সেই গির্জায় মুসলমানদের নামাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

তার কথার অর্থ তখন পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে Muslim ummah of North America (MUNA) পরিচালিত বাইতুল আমান মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের শিক্ষক জনাব আব্দুল কাইয়ুম ভাইয়ের নিকট থেকে বিস্তারিত জানতে পারলাম। তিনি বলেন,

এক সময় পুরো বাফেলো সিটি ছিলো- রিলিজিয়ন নগরী। আগেকার লোকেরা ধর্মকর্ম বেশি পালন করতো। বর্তমানে তারা উল্টো পথে চলার কারণে গির্জায় লোকজন শূন্যের কোঠায়। তাই বাধ্য হয়ে গির্জা কর্তৃপক্ষ গির্জাগুলো মুসলিমদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। মুসলমানরা চার্চগুলো কিনে মসজিদ-মাদরাসা ও ইসলামি সেন্টার বানাচ্ছে।

তার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম,
শহরটিকে বর্তমানে ২২/২৩ টি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার রয়েছে। বাফেলোর ইস্ট সাইট এলাকায় জাকারিয়া মসজিদ ও মারকাজকে ঘিরেই মূলত বাংলাদেশিদের বসতি শুরু।

আশেপাশে কয়েকশ’ বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি ও বার্মিজ মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর রয়েছে। এছাড়া ইয়েমিনি ও সোমালিয়ান প্রচুর মুসলমানের বাস এ মসজিদকে কেন্দ্র করে।

প্রশস্ত রাস্তার দুপাশে নজরকাড়া দৃষ্টিনন্দন বাহারি ডিজাইনের বাড়ি আর সবুজে ছায়া ঢাকা মাঠ শহরের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করেছে। এই নিরিবিলি শান্ত শহরে ভারতীয় এক ধার্মিক চিকিৎসক ২৫/২৬ বছর আগে জাকারিয়া দারুল উলুম মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।বর্তমানে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী নিয়ে আমেরিকার সর্ববৃহৎ মাদ্রাসার খেতাব জিতে নিয়েছে।

এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী হাফেজে কোরআন ও আলেম হচ্ছে।

দুপুরের খাবারের জন্য খুঁজে পেলাম বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট আল-মদিনা,কথা হলো মালিক এন প্রধানের সাথে তিনি বললেন,
নিউইয়র্ক থেকে তুলনামূলক বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ কম এবং ইসলামি পরিবেশ থাকায় বসবাসের সুবিধার্থে নতুন অভিবাসী মুসলিমরা এ শহরে ভিড় করছেন। এভাবে দ্রুতগতিতে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাফেলোর মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

শহরটি একসময় ছিলো- কালোদের দখলে। এখন ধীরে ধীরে চলে আসছে বাংলাদেশিসহ মুসলিমদের দখলে। এ পর্যন্ত খ্রীষ্টান্দের বড় বড় গির্জা মসজিদে রূপ নেওয়ার পাশাপাশি শহরের উপকেন্দ্রে বড় একটি জেলখানা কিনে বিশাল মাদরাসা বানানো হয়েছে।

রেস্টুরেন্টের মালিকের সাথে কথা বলার ফাকে চিকেন মাছালা, গরুর গোস্তের ঝালফ্রাই , খিচুড়ি আর বিরিয়ানি একের পর এক পেটের মধ্যে চালানের মাধ্যমে নিমিষেই শেষ করি।
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে শুনছিলাম বাফেলোর একমাত্র বাংলা মাসিক পত্রিকার সাংবাদিকের কথা।

তিনি বললেন,
শহরটির আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা অন্য যে কোনো শহরের তুলনায় বেশ উন্নত। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ধর্মবর্ন নির্বিশেষে সকলে মিলেমিশে বসবাস করেন। অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলেও এসবই সত্য।

দুই দিন বাফেলো ঘুরে চোখে পড়ার মতো ঘটনা হলো এ শহরে মুসলিম নারী ও মেয়েরা হিজাব মাথায় চলাফেরা করেন। হিজাবের আধিক্যের কারণে এ শহরকে হিজাবের নগরীও বলা যায়।

এখানে রয়েছে অনেক মসজিদ, মাদরাসা ও ইসলামিক সেন্টার যার ফলে বিরাজ করছে ইসলামি পরিবেশ।আজানের সময় একসঙ্গে অনেকগুলো মসজিদ থেকে ভেসে আসে সুমধুর আজানের সুর। মনে হবে আপনি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো শহরে আছেন।

বাফেলোর নাগরিক মুহাম্মদ কাউছার বলেন,শহরের ইসলামি পরিবেশ, আইন-কানুনের যথাযথ ব্যবহারের ফলে সন্ত্রাসসহ নানাবিধ ভয়ভীতি থেকে মুক্ত এ শহর এবং পুরো আমেরিকার মধ্যে বাফেলো হচ্ছে- মুসলমানদের বসবাসের জন্য সর্বসেরা শহর।