স্বপ্নে ইঙ্গিত পেয়ে মুসলিম হন হিপহপ তারকা মাইক!

এক রাতে আমি বিস্ময়কর এক স্বপ্ন দেখে অভিভূত হলাম। যেন আমি ভিন্ন সময়ে ছিলাম-যখন কোনো গাড়ি বা উড়োজাহাজ ছিল না। আমি শহরের বাইরে এক মরুভূমিতে দাঁড়ানো ছিলাম। উষ্ট্রারোহী একটি কাফেলা শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আমার পাশেই ছিলেন কালো চুল ও দাড়িওয়ালা একজন সুদর্শন মানুষ-তার হাতে ছিল একটি লাঠি। তিনি তা দিয়ে বালুর ওপর কিছু লিখলেন এবং আমার দিকে তাকালেন। জানতে চাইলেন, তিনি যা লিখেছেন তা আমি বুঝেছি কি না।

আমি বুঝতে পারলাম না এবং ঘুম ভেঙে গেল। স্বপ্নটি আমাকে ঝাঁকুনি দিল এবং আমি দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কাঁদলাম। আমি আমার কয়েকজন বন্ধুকে স্বপ্নের কথা বললাম। তারা বলল, এটি ইসলামের দিকে ইঙ্গিত দেয়।

নিজের জীবন ও স্রষ্টার সম্পর্কে আমি যে অনুসন্ধান করছি, তার উত্তর এই স্বপ্নে আছে। তারা আমাকে স্বপ্ন অনুসরণের পরামর্শ দিল এবং আমি তা-ই করলাম। ইসলাম সম্পর্কে পড়তে শুরু করলাম। অতঃপর আখেন শহরে গেলাম এবং শাহাদাতবাক্য পাঠ করলাম।

কথাগুলো জার্মানির একজন ‘হিপহপ’ তারকা মাইক জাহ্নকের। ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবনের গতিপথ পাল্টে দেয়। বিছানাবন্দী সময়ে তিনি স্রষ্টা ও নিজের জীবন নিয়ে ভাবার অবকাশ পান।

গভীর চিন্তাভাবনার ভেতর একটি বিস্ময়কর স্বপ্ন তাঁকে ইসলামের কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণের পর একজন মুসলিমের জীবন কেমন হওয়া উচিত তা শিখতে শুরু করলাম। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শিখলাম, কোরআন তিলাওয়াত শিখলাম।

জানতে পারলাম সৃষ্টিজগৎ ও আমার জীবনের উদ্দেশ্য। স্রষ্টার ইবাদতে আমি প্রশান্তি খুঁজে পেলাম। আমি আগের চেয়ে ভালো মানুষে, সহনশীল মানুষে পরিণত হলাম। আমি আমার পুরনো ‘প্রদর্শনী’র ব্যবসা ছেড়ে দিলাম।’

মাইক জাহ্নকে আরো বলেন, ‘একটি সাধারণ জার্মান পরিবারে আমার জন্ম। সাধারণ শিশুর মতোই আমি স্কুলে যাই, পড়ালেখা সম্পন্ন করি এবং একটি পেশা বেছে নিই। সংগীতের সঙ্গে আমার আবেগ জড়িয়ে ছিল শৈশব থেকে।

অর্থ উপার্জন শুরু করার পর থেকেই আমি সংগীতের যন্ত্র ও উপকরণ সংগ্রহ করতে থাকি। নিজেই গান লিখি এবং নিজেই কম্পোজ করি। ধীরে ধীরে সংগীতশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। আমার মিউজিক পার্টনারের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পন্ন করার পর দ্বিতীয় চুক্তিতে আবদ্ধ হই, যা ছিল জার্মান সমাজে বড় ধরনের একটি চুক্তি।

সবখানে আমাদের গান বাজছিল। আয় ভালো ছিল, জীবনও ভালো কাটছিল। এর মধ্যে এক সকালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হলাম আমি।’ পাল্টে গেল জীবনের সব : ‘সড়ক দুর্ঘটনার পর কোনো কিছুই আর আগের মতো ছিল না। আমি বেশ চিন্তাশীল হয়ে উঠলাম।

জীবন নিয়ে চিন্তা করে আমি বিস্মিত হলাম। জীবনের মূলকথা কী? জীবনের উদ্দেশ্য কী? আমি কোথায় ছিলাম এবং এই জীবন কেন? রাতে বারান্দায় পা ঝুলিয়ে আকাশের দিকে, চাঁদের দিকে তাকিয়ে ভাবতাম-এই বিশাল সৃষ্টিজগতের উদ্দেশ্য কী এবং এখানে আমার ভূমিকা কী হবে?’

ভাবনায় স্রষ্টার অস্তিত্ব : ‘আমি সব সময় স্রষ্টায় বিশ্বাসী ছিলাম। নাস্তিক ছিলাম না। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধর্মও পালন করতাম না। সড়ক দুর্ঘটনার পর ভাবনায় স্রষ্টার চিন্তা প্রবল হলো।

তিনি আমার লেখার বিষয় হয়ে উঠলেন। আমি তাঁর সন্ধান শুরু করি। চিন্তার সমন্বয় করতে গিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়; আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-জীবনের উদ্দেশ্য কী?’

মৌমাছির কামড়ে জর্দানের দশ বছর বয়সী হাফেজা সুমাইয়া মানসুরের ইন্তেকাল

জর্দানের দশ বছর বয়সী কোরআনের হাফেজা সুমাইয়া মানসুর মুতালিকা গতকাল শুক্রবার ইরবাদ জেলায় তার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তার পরিবারের সূত্রে আরবি একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, মৌমাছির কামড়ে (হুলফুটান) ছোট্ট এই কোরআনের পাখি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ক্ষতস্থানে তীব্র ব্যথার ফলে তার ইন্তেকাল হয়।

সুমাইয়া মানসুর অল্প বয়সে পবিত্র কোরআন মুখস্ত করে তার দেশে এক বিস্ময় সৃষ্টি করেন। জর্দানজুড়ে তার তিলাওয়াতের অসংখ্য ভক্ত রয়েছে।

সুমাইয়া মানসুরের মৃত্যুতে জর্দানের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তরফ থেকে শোক জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তার পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে তার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করার আহবান জানায়। সূত্র: আমিরাত নিউজ

এবার সীমান্তে নেপালের সেনা বৃদ্ধি, আরো চাপে ভারত

একদিকে চীনের রক্ত চক্ষু। অপরদিকে সীমান্তে সেনা বৃদ্ধি নেপালের। শুধু তাই নয়, তৈরি করা হচ্ছে সেনা ক্যাম্প। সব মিলিয়ে আরো চাপে পড়েছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কোলকাতা২৪- এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনা বৃদ্ধির পাশাপাশি একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হেলিপ্যাড বানানোর কাজ করছে নেপাল।

স্থানীয় মানুষ জানাচ্ছে, লিপুলেখ এলাকায় হঠাৎ করেই গত কয়েকদিনে নেপালি সেনার তৎপরতা বেড়ে গেছে। এ সংক্রান্ত ছবি প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জঙ্গলের মধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্যাম্প বানানোর কাজ শুরু করেছে নেপাল।

যদিও এই ছবিতে যে ক্যাম্পগুলি দেখা যাচ্ছে সেগুলি অস্থায়ী ক্যাম্প বলা হচ্ছে। অন্তত এক একটা ক্যাম্পে ১২ থেকে ১৩ জন করে নেপাল আর্মি জওয়ান রয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এমন পরিস্থিতি আগে তারা দেখেননি। কোনো দিন নেপাল আর্মিকে অন্তত এই সমস্ত জায়গায় দেখা যায়নি।

শুধু তাই নয়, ইন্দো-নেপাল সীমান্তে ব্যাপকভাবে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে নেপাল। আর্মি বেস, রাস্তাসহ একগুচ্ছ নির্মাণ শুরু করেছে। পাশাপাশি চীন-নেপাল সীমান্তেও চলছে নির্মাণ কাজ।

কালাপানি থেকে মাত্র ৪০ কিমি দূরে একটি পোস্ট বানিয়েছে নেপাল আর্মি। সেখানেও চলছে তৎপরতা। স্থানীয়রা বলছেন, হেলিকপ্টারে করে সেনাবাহিনীর যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ভারতের তিন জায়গাকে নিজেদের দাবি করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে নেপাল। এছাড়া কয়েকদিন আগে বিহারে নেপাল সীমান্তে গুলি চালায় নেপালের সেনা। তাতে এক ভারতীয়ের মৃত্যু হয়।

এদিকে ভারতের পক্ষে নেপালের পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধান হওয়া সম্ভব বলে মনে করছে দেশটি।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও জানিয়েছেন, নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মজবুত রয়েছে। নেপালও জানিয়েছে, এতে করে দুই দেশের বন্ধুত্বে কোনো প্রভাব পড়বে না।

১৫ জুন রাতে লাদাখের গালওয়ান সীমান্তে চীনা সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ভারতের। এতে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়।

এ অবস্থায় লাদাখে অত্যাধুনিক অ্যাপাচে হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে ভারত। যাতে রয়েছে ট্যাংকবিধ্বংসী মিসাইল ও রকেট।

এদিকে থেমে নেই চীনও। দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মিও (পিএলএ) সেনা সরঞ্জাম বাড়াচ্ছে ভারত সীমান্তে। তারা প্যানগং লেকের উত্তর তীর বরাবর ঘাঁটি বসিয়েছে।

এছাড়া তিব্বতের হোতান ও কাশগড় বিমানঘাঁটিতে অত্যাধুনিক জে-১১ ও জে৮ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে বেইজিং।

এবার খুলে দেয়া হচ্ছে মক্কার ১৫শ’ মসজিদ!

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের সব দেশেই মসজিদে নামাজ আদায়ে বিধিনিষেধ ছিল। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সীমিত পরিসরে মসজিদ খুলে দেয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসে মক্কা ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য শহরে মসজিদ খুলে দেয়া হয়। এবার মক্কার মসজিদগুলো ফের খুলে দেওয়া হচ্ছে।

আগামী রোববার মক্কায় ১৫৬০টি মসজিদে ফজরের নামাজে মুসল্লিরা অংশ নেবেন। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও ব্যক্তিগত জায়নামাজ বহনসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মক্কা গ্রান্ড মসজিদে মুসল্লিদের আসতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও অন্যান্য মসজিদে একই বিধি কঠিনভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। মসজিদগুলোর খাদেমদের মুসল্লিরা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছেন কি না তা দেখতে বলা হয়েছে।

আমেরিকায় গড়ে উঠছে মুসলিম শহর, এ যেনো এক হিজাবী নগরী

কে ওই শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি।
মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিল কি সুমধুর
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী।
কি মধুর আযানের ধ্বনি!

আহা… সেই সুর মুসলিম দেশগুলোত শোনা যায় প্রতিদিন পাঁচ বার কিন্তু ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে কল্পনার বিলাসিতা ছাড়া কিছুই না।
এই কল্পনার বিলাসিতাকেই বাস্তবে প্রতিফলিত করেছে আমেরিকার একটি শহরের মুসলিমরা।

হ্যাঁ বলছিলাম বাফেলোর কথা,যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং পশ্চিম নিউ ইয়র্কের সর্ববৃহত শহর।ইরি লেকের তীরে অবস্থিত বাফেলো সিটি কানাডা-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত জুড়ে বাণিজ্য ও ভ্রমণের জন্য একটি প্রধান গেটওয়ে।নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরত্বের কানাডা সীমান্তের নায়াগ্রা ফলসের অদূরে এই নগরীর অবস্থান।

অনেকদিনের ইচ্ছা ছিলো নায়াগ্রা ফলস ঘুরতে যাবো এবং বাফেলো শহরে কয়েকজন বাংলাদেশী আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে দেখা করবো। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা যাত্রা করি বাফেলোর উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ ৮ ঘন্টা ড্রাইভ শেষে পৌঁছালাম ছবির মতো সুন্দর সাজানো গোছানো আয়তনে ৫২ বর্গমাইলের বাফেলো শহরে।

প্রায় তিন লাখ লোকের শহর বাফেলো আরাম-আয়েশের কারণে অনেকের কাছে যাদুর আবার কারো নিকট শান্তির শহর হিসেবে পরিচিত। বাফেলো সিটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে ১৫ মিনিটের মতো সময় ব্যয় হয়। এর কারণ নিরিবিলি এ শহরে ট্রাফিক জ্যাম নেই বললেই চলে।

জোহর নামাজ আদায় করলাম তাকওয়া মসজিদে।পুরো লাল কার্পেট বিছানো মসজিদের সামনের দেয়ালে লাগানো বুক সেলফে কুরআন হাদিস আর ইসলামি বই থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

অবাক হলাম “জামে মসজিদ বাফেলো”তে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে গিয়ে।বিশাল মসজিদের ভিতরের ডিজাইন আর চার্চের মতো গঠন দেখে। নামাজ শেষে কথা হলো মুসল্লি আনোয়ার হোসেনের সাথে তিনি বললেন,আল্লাহ খ্রিস্টানদের দিয়ে গির্জা বানিয়ে সেই গির্জায় মুসলমানদের নামাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

তার কথার অর্থ তখন পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে Muslim ummah of North America (MUNA) পরিচালিত বাইতুল আমান মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের শিক্ষক জনাব আব্দুল কাইয়ুম ভাইয়ের নিকট থেকে বিস্তারিত জানতে পারলাম। তিনি বলেন,

এক সময় পুরো বাফেলো সিটি ছিলো- রিলিজিয়ন নগরী। আগেকার লোকেরা ধর্মকর্ম বেশি পালন করতো। বর্তমানে তারা উল্টো পথে চলার কারণে গির্জায় লোকজন শূন্যের কোঠায়। তাই বাধ্য হয়ে গির্জা কর্তৃপক্ষ গির্জাগুলো মুসলিমদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। মুসলমানরা চার্চগুলো কিনে মসজিদ-মাদরাসা ও ইসলামি সেন্টার বানাচ্ছে।

তার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম,
শহরটিকে বর্তমানে ২২/২৩ টি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার রয়েছে। বাফেলোর ইস্ট সাইট এলাকায় জাকারিয়া মসজিদ ও মারকাজকে ঘিরেই মূলত বাংলাদেশিদের বসতি শুরু।

আশেপাশে কয়েকশ’ বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি ও বার্মিজ মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর রয়েছে। এছাড়া ইয়েমিনি ও সোমালিয়ান প্রচুর মুসলমানের বাস এ মসজিদকে কেন্দ্র করে।

প্রশস্ত রাস্তার দুপাশে নজরকাড়া দৃষ্টিনন্দন বাহারি ডিজাইনের বাড়ি আর সবুজে ছায়া ঢাকা মাঠ শহরের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করেছে। এই নিরিবিলি শান্ত শহরে ভারতীয় এক ধার্মিক চিকিৎসক ২৫/২৬ বছর আগে জাকারিয়া দারুল উলুম মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।বর্তমানে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী নিয়ে আমেরিকার সর্ববৃহৎ মাদ্রাসার খেতাব জিতে নিয়েছে।

এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী হাফেজে কোরআন ও আলেম হচ্ছে।

দুপুরের খাবারের জন্য খুঁজে পেলাম বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট আল-মদিনা,কথা হলো মালিক এন প্রধানের সাথে তিনি বললেন,
নিউইয়র্ক থেকে তুলনামূলক বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ কম এবং ইসলামি পরিবেশ থাকায় বসবাসের সুবিধার্থে নতুন অভিবাসী মুসলিমরা এ শহরে ভিড় করছেন। এভাবে দ্রুতগতিতে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাফেলোর মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

শহরটি একসময় ছিলো- কালোদের দখলে। এখন ধীরে ধীরে চলে আসছে বাংলাদেশিসহ মুসলিমদের দখলে। এ পর্যন্ত খ্রীষ্টান্দের বড় বড় গির্জা মসজিদে রূপ নেওয়ার পাশাপাশি শহরের উপকেন্দ্রে বড় একটি জেলখানা কিনে বিশাল মাদরাসা বানানো হয়েছে।

রেস্টুরেন্টের মালিকের সাথে কথা বলার ফাকে চিকেন মাছালা, গরুর গোস্তের ঝালফ্রাই , খিচুড়ি আর বিরিয়ানি একের পর এক পেটের মধ্যে চালানের মাধ্যমে নিমিষেই শেষ করি।
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে শুনছিলাম বাফেলোর একমাত্র বাংলা মাসিক পত্রিকার সাংবাদিকের কথা।

তিনি বললেন,
শহরটির আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা অন্য যে কোনো শহরের তুলনায় বেশ উন্নত। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ধর্মবর্ন নির্বিশেষে সকলে মিলেমিশে বসবাস করেন। অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলেও এসবই সত্য।

দুই দিন বাফেলো ঘুরে চোখে পড়ার মতো ঘটনা হলো এ শহরে মুসলিম নারী ও মেয়েরা হিজাব মাথায় চলাফেরা করেন। হিজাবের আধিক্যের কারণে এ শহরকে হিজাবের নগরীও বলা যায়।

এখানে রয়েছে অনেক মসজিদ, মাদরাসা ও ইসলামিক সেন্টার যার ফলে বিরাজ করছে ইসলামি পরিবেশ।আজানের সময় একসঙ্গে অনেকগুলো মসজিদ থেকে ভেসে আসে সুমধুর আজানের সুর। মনে হবে আপনি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো শহরে আছেন।

বাফেলোর নাগরিক মুহাম্মদ কাউছার বলেন,শহরের ইসলামি পরিবেশ, আইন-কানুনের যথাযথ ব্যবহারের ফলে সন্ত্রাসসহ নানাবিধ ভয়ভীতি থেকে মুক্ত এ শহর এবং পুরো আমেরিকার মধ্যে বাফেলো হচ্ছে- মুসলমানদের বসবাসের জন্য সর্বসেরা শহর।