চীনের হামলার জেরে বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণ স্থাগিত করলো ভারত

বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেই চলতি মাসে অযোধ্যায় বহুল আলোচিত বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে হঠাৎ লাদাখে ভারত-চীন সীমান্ত যুদ্ধ উন্মাদনা তৈরি হওয়ায় রাম মন্দির নির্মাণের কাজ আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাস্ট।

শুক্রবার (১৯ জুন) এক বিবৃতিতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে রাম মন্দির ট্রাস্ট। লাদাখ সীমান্তের পরিস্থিতিকে গুরুতর বলে আখ্যায়িত করে ট্রাস্ট জানিয়েছে, ‘এই অবস্থায় দেশকে রক্ষা করাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ।’

গত সোমবার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গালওয়ান উপত্যকায় দু’দেশের সেনাদের সংঘর্ষ হয়। এতে কর্নেল পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাসহ অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ হারায়।

সেনা হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাম মন্দির ট্রাস্ট। মৃত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আপাতত মন্দির নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাস্ট।

গত বছরের ৯ নভেম্বর দেশটির শীর্ষ আদালতের রায় ঘোষণার পর রাম মন্দির নির্মাণে ট্রাস্ট গঠনের জন্য সময় ছিল তিন মাস। ওই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন, বিতর্কিত রাম মন্দির-বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মিত হবে;

বিকল্প হিসেবে বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য মুসলিম ওয়াকফ বোর্ডকে পাঁচ একর জমি অন্যত্র দেয়া হবে।

প্রস্তাবিত মন্দিরটি হবে মোট ১২৫ ফুটের। যদিও তা বাড়িয়ে ১৬০ ফুট করার প্রস্তাব এসেছে নানা মহল থেকে। মন্দিরের প্রথম তলা হবে ১৮ ফুটের। সেখানে থাকবে রাম লালার মূর্তি। দ্বিতীয় তলা হবে ১৫ ফুট ৯ ইঞ্চির। সেখানে গড়ে তোলা হবে রামের দরবার।

তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার।

আরো পড়ুন-করোনা রোগীদের জন্য প্রয়োজনে নিজের বাড়ি দিয়ে দেব: মমতা

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও গুরুতর অসুস্থ নন এমন রোগীদের জন্য ‘সেফ হাউস’ চালু করছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেখানে দিনে দু’বার চিকিৎসকরা গিয়ে রোগীদের দেখে আসবেন। শুধু যারা গুরুতর অসুস্থ তাদেরই হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। বুধবার এ ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি জানান, রাজ্য জুড়ে মোট ১০৪টি সেফ হাউস চালু করা হবে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজনে সেফ হাউস আরও বাড়ানো হবে। এ কাজে প্রয়োজনে নিজের বাড়িটিও দিয়ে দিতে পারেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বলেন, অনেক হাসপাতালে বেড সংকটের অভিযোগ আসছে। এই বিষয় স্বচ্ছতার জন্য এখন থেকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে খালি বেডের সংখ্যা জানাতে হবে।

বেসরকারি নার্সিং হোমগুলো যেভাবে আকাশচুম্বী বিল নিচ্ছে সেই বিষয়ে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশ, ডাক্তার, মিউনিসিপ্যাল কর্মী, আশা-কর্মী যারা করোনাযুদ্ধে সম্মুখভাগে লড়ছেন তাদের অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হবে। দুর্গম এলাকায় কাজ করলে সরকারি কর্মীরা যে বোনাস পান, এখন থেকে করোনাযোদ্ধারাও সেই অর্থ পাবেন।

এছাড়া চূড়ান্ত বর্ষের মেডিকেল ও নার্সিং পড়ুয়াদেরও করোনা মোকাবিলায় কাজে লাগানো হবে বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।