এয়ার ইন্ডিয়া বিমানে জমজমের পানি বহনে নিষেধাজ্ঞা; সমালোচনার ঝড়

জমজমের পানি মুসলমানদের কাছে পবিত্র একটি পানি। যারা সৌদিতে হজের উদ্দেশে যান তাদের বেশিরভাগই দেশে ফিরে আসার সময় সঙ্গে করে জমজমের পানি নিয়ে আসেন। জমজমের পানি বহনে এমন নিষেধাজ্ঞা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে।

সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন শেষে ফেরার সময় জমজমের পানি নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ওঠা যাবে না। ভারতীয় এই বিমান প্রতিষ্ঠানটি জমজমের পানি বহনে জারি করেছে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা।

এদিকে এয়ার ইন্ডিয়ার এমন পদক্ষেপে ভারতের কেরালা এবং হায়দরাবাদের হজযাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক প্রভুচন্দ্রন বলেন, আগে এ-৩২০ বিমানের ফ্লাইটে করে জেদ্দা থেকে হায়দরাবাদ এবং জেদ্দা থেকে কোচিনে যেতেন হজযাত্রীরা। কিন্তু এ-৩২০ বিমানের বদলে এসব হজযাত্রীরা এখন থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বহরে যুক্ত হওয়া বোয়িং ৭৩৭ বিমানের ফ্লাইটে করে চলাচল করবেন।

তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের বোয়িং বিমানের ধারণ ক্ষমতা কম। এক্ষেত্রে দুটি বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। একটি হচ্ছে কম হজযাত্রী বহন করা বা বিমানের ভেতরে জিনিসপত্র কম বহন করা। এ কারণেই ক্যানে করে জমজমের পানি বিমানের মধ্যে বহনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে।

তবে ফ্লাইট এআই৯৬৬- জেদ্দা, হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও এআই৯৬৪- জেদ্দা থেকে কোচিন রুটে চলাচলকারী হজযাত্রীদের ক্ষেত্রেই মূলত এই নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে খরচ বাঁচাতে হোটেল না থেকে রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে থাকবেন ইমরান খান

যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে খরচ কমাতে কোন হোটেলে উঠবেন না পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিন দিনের এ সফরকালে তিনি ওয়াশিংটনের পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অবস্থান করবেন তিনি।

সাধারণত রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানরা যুক্তরাষ্ট্র সফর করলেন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির বিলাসবহুল হোটেলগুলো হয় তাদের আবাসস্থল। কিন্তু সেগুলো অত্যন্ত ব্যয় বহুল। যে কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইমরান খান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইমরান রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এটিও তেমনই একটি সিদ্ধান্ত। আগামী ২১শে জুলাই থেকে ইমরান খানের যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু হচ্ছে।

এ সফরে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে চান ইমরান খান। তাই তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও তার এই সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নিচ্ছে না মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও ওয়াশিংটনের সিটি কর্তৃপক্ষ।

কোনো বিদেশী সরকার প্রধান যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণ করার পরই তার নিরাপত্তা দেখাশোনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস। অন্যদিকে এসব সফরের কারণে ওয়াশিংটনে যাতে যান চলাচল বিঘ্নিত না হয় তা নিশ্চিত করে সিটি প্রশাসন।

কারণ প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েকশ রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান ওয়াশিংটন সফর করেন। এ সময় শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে বিঘ্নিত না হয় তা নিশ্চিত করতে এক্ষেত্রে সিটি প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে কেন্দ্রীয় সরকার।

পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের বাসা ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক পল্লীর একেবারে কেন্দ্রস্থলে। সেখানে ভারত, তুরস্ক ও জাপানসহ রয়েছে কমপক্ষে এক ডজন দেশের দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রে সফরকালে কোনো সরকার প্রধান অনেক বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা,

আইনপ্রণেতা, মিডিয়া ও থিংক ট্যাংক প্রতিনিধিদের সঙ্গে। কিন্তু পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এসব বৈঠকের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই ইমরান খান অতিথিদের সঙ্গে পাকিস্তান দূতাবাসে বৈঠক করবেন।

সেটি আবার বাসভবন থেকে অনেক দূরে। তাই এই পথে ইমরান খান ও তার সফর সঙ্গীদের যাতায়াত কিছুটা হলেও ঝামেলা তৈরি করে নিরাপত্তা টিম ও নগর পরিবহন কর্তৃপক্ষের জন্য।