করোনায় বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৩ লাখ ৪০ হাজার

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত এ সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪ জন। ওয়ার্ল্ডোমিটারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ লাখ ৪ হাজার ৩৬৪ জনে।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর পাশাপাশি এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়েছেন ২১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৭ জন, যা মোট রোগীর ৮৬ শতাংশ। বর্তমানে ২৮ লাখ ৫ হাজার ৭৭৩ জন করোনা আক্রান্তো রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ৪৪ হাজার ৫৮৩ জনের অবস্থা গুরুতর।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এদিকে, বাংলাদেশে আরো ২৪ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩২ জনে। এছাড়া নতুন করে আরো ১ হাজার ৬৯৪ জন প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

করোনাভাইরাস প্রাকৃতিকভাবেই ধ্বংস হবে: ডব্লিউএইচও’র সাবেক বিশেষজ্ঞ

নোভেল করোনাভাইরাস বিশ্বে ভ্যাকসিন আসার আগেই প্রাকৃতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাবেক সাবেক ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ এবং বাকিংহাম মেডিক্যাল স্কুলের ডিন ক্যারোল সিকোরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, যেকোনও ভ্যাকসিন তৈরি হওয়ার আগেই এই ভাইরাসটি স্বাভাবিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সত্যিকারের সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্যারোল সিকোরা লিখেছেন, আমরা প্রায় সর্বত্রই ভাইরাসটির একই ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখছি- আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ধারণার চেয়েও বেশি বলে আমার সন্দেহ হয়।

তবে আমাদের ভাইরাসটির বিস্তার ধীরগতি রাখা দরকার। যদিও এটি আপনা-আপনি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তার এই মন্তব্য নিয়ে টুইটারে ব্যাপক আলোচনা শুরু হওয়ার আরেকটি টুইট করে বক্তব্য পরিষ্কার করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক এই কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, এটি আমার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ মতামত।

তিনি শুধুমাত্র সম্ভাব্য একটি দৃশ্য তুলে ধরেছেন। যা বর্তমানের অজানা পরিস্থিতিতে সম্ভব হতে পারে। তবে এই বিজ্ঞানী বলছেন, আসলে শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত কি হবে সেটি কেউই জানেন না। লোকজনকে সামাজিক দূরত্বের বিধান কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে রোববার পর্যন্ত বিশ্বের করোনায় মারা গেছেন ৩ লাখ ১৩ হাজারের বেশি মানুষ।

করোনার প্রাদুর্ভাবে ৮০ টি দেশে চিকিৎসা সহায়তা পাঠিয়েছে তুরস্ক!

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পরা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্তি পেতে ৮০ টি দেশে চিকিৎসা সহায়তা পাঠিয়েছে রজব তাইয়েব এরদোগানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ‘ফুয়াত ওক্তাই’ বলেন, করোনাভাইরাস মহামারী বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সংহতি প্রচেষ্টায় অবদানের অংশ হিসাবে তুরস্ক ৮০ টি দেশে চিকিৎসা সহায়তা প্রেরণ করেছে।

এক অনলাইন ইন্টারভিউতে ‘ওক্তাই’ বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা ৮০ টি দেশকে সহায়তা করার সুযোগ পেয়েছি। সেই দেশগুলোর মূল চাহিদা ছিল ফেস মাস্ক,হ্যান্ড গ্লাভস এবং ভেন্টিলেটর।

তিনি বলেন, বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ দেশ বা প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি রাষ্ট্র তুরস্কের কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সহায়তা স্বরূপ তুরস্কের চিকিৎসা সরঞ্জামাদির দ্বিতীয় চালান লিবিয়ায় এসে পৌঁছেছে।

কূটনৈতিক সূত্র মতে, ত্রিপোলিতে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ‘সেরহাত’ আকসেন ব্যক্তিগতভাবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের জরুরি অবস্থা প্রশাসনের ‘তৌফিক হরিশা’র কাছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি হস্তান্তর করেছিলেন।

এছাড়াও তারা তুরস্কের সহায়তার জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সহায়তা করার জন্য ‘হারিশা’ আঙ্কারাকে ধন্যবাদ জানায়। ১১ এপ্রিল ভাইরাসটির বিস্তার রোধে তুরস্ক যুদ্ধ-ক্ষতিগ্রস্থ উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে তাদের প্রথম চিকিৎসা সামগ্রীর চালান পাঠিয়েছিল।

আঙ্কারা, তিউনিসিয়ায় চিকিৎসা সহায়তা সম্বলিত তার দ্বিতীয় চালান ও পাঠিয়েছে। যা ৮ ই মে তিউনিসিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল। সেই চালানের মধ্যে ছিল সার্জিক্যাল মাস্ক, পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট, জীবাণুনাশক, গগলস, ফেস মাস্ক এবং ফেসশীল্ড।

অন্যদিকে মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের যাতায়াত সহজ করার জন্য তুর্কি সরকার উগান্ডার ‘কোভিড-১৯ জাতীয় টাস্কফোর্সকে’ ১০০টি সাইকেলও অনুদান দিয়েছিল। উগান্ডায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত কেরেম আল্প বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সাইকেলের চালানটি টাস্কফোর্সের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

উল্লেখ্য, দেশটির প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কোভিড -১৯ মোকাবিলার জন্য ত্রাণ ও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম সামগ্রী জোগাড় করার জন্য টাস্কফোর্স নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ‘আল্প’ বলেছেন, মহামারীকে কার্যকরি ভাবে প্রতিহত করতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে উগান্ডার প্রেসিডেন্টের সহায়তার আহবানে তার রাষ্ট্র তুরষ্ক সাড়া দিয়েছে।

সাইকেলগুলি সেম্বাবুল এবং কিটগাম জেলাগুলিতে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য যাতায়াত সহজ করবে কেনোনা সেখানে লড়াইয়ের সম্মুখভাগে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের হাসপাতালে পরিবহনের অভাব রয়েছে। ‘আল্পে’র তথ্যমতে, সাইকেল গুলো মহিলা ও পুরুষ উভয়ের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রুহাকানা রুগুন্দা কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে যে ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে তা সমর্থন করার জন্য ম্যাসেভেনির আহ্বানে সাড়া দেওয়ার জন্য তুর্কি জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

উগান্ডায় বর্তমানে ১৬০জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন যার মধ্যে ৬৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য। তুরস্কের বেশ কয়েকটি মানবিক সহায়তা সংস্থা দুর্বল উগান্ডীয়দের জন্য খাদ্যসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী প্রদানে অবদান রেখেছে।

শুক্রুবার ন্যাটোর সহযোগী নেতৃত্ব তুর্কী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আত্মরক্ষামূলক সরঞ্জাম বিতরণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে একটি টুইট বার্তা দিয়েছে।

এই টুইট বার্তায় তারা আরো উল্লেখ করেছে যে, এধরণের গতিবিধি ন্যাটোকে সমর্থনের একটি বার্তা। এধরণের কার্যক্রম আমাদের সদর দফতরের মিশনটি সম্পাদন করার জন্য ব্যবহার যোগ্য পণ্যের মজুদ তৈরিতে সহায়তা করে।

গত ডিসেম্বরে চীনে এই মহামারীর উদ্ভবের পর কোভিড-১৯ ভাইরাসটি কমপক্ষে ১৮৮ টি দেশ এবং অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসের কবলে পতিত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ইউরোপ এবং আমেরিকা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকলিত পরিসংখ্যান অনুসারে মহামারীটি বিশ্বব্যাপী ৪.৪ মিলিয়নেরও বেশি লোককে আক্রান্ত করেছে এছাড়াও বিশ্বব্যাপী ৩০০,০০০ এরও বেশি লোক এই মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেছে এবং পুনরায় সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া লোকের সংখ্যা ১.৫ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।

তুরস্কে বর্তমানে করোনভাইরাস সংক্রান্ত ১৪৪,৭৪৯ জনেরও বেশি রোগী পাওয়া গিয়েছে। এবং মৃতের সংখ্যা ৪০০৭ এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাভুয়েসালু সংহতি তুলে ধরে একটি বক্তব্য দিয়েছেন।

তুরস্কের বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বোর্ডের (ডিইআইকে) আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিয়েত সাভুয়েসালু বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বলেছেন যে করোনভাইরাস মহামারী চলাকালীন অন্যান্য দেশের সাথে দৃঢ় সংহতি, একটি শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য তুরস্ক রাষ্ট্রের ধারণাকে একীভূত করেছে।

তিনি ডিইআইকে সদস্যদের বলেছিলেন যে, ইইউর সাথে দেশটির শুল্ক ইউনিয়নের একটি ধারা নবায়নের পাশাপাশি ভিসা উদারকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতির প্রত্যাশা করছে এখন আঙ্কারা। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি এবং রাষ্ট্রপতি রজব তাইয়েব এরদোগান উভয়ই তাদের ইউরোপীয় সহযোগীদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

বাইরের দেশগুলিতে তুরস্কের সরবরাহ করা চিকিৎসা সহায়তার কথা উল্লেখ করে সাভুয়োসালু বলেছিলেন, সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রথমবারের মতো আমাদের দেশ সম্পর্কে এই জাতীয় ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা এটা বলছি না যে, এগুলোর দ্বারা সবকিছু সমাধান হয়ে গিয়েছে। হ্যা, তবে এটা বলতে পারি যে একটা ইতিবাচক আবাহ তৈরি হয়েছে।

তুরস্ক এমন এক রাষ্ট্র যারা তাদের মানবিক প্রচেষ্টায় গত দশকে নিজের নাম করে নিয়েছে। প্রতিদিন পৃথিবীর বহু কোণে চিকিৎসা সহায়তা প্যাকেজ প্রেরণ করে ইতোমধ্যে এই রাষ্ট্রটি রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

৩১ জানুয়ারিতে তুরস্ক চীনে প্রথমবার চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছিল। সেই সরঞ্জামাদিতে ছিল পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট, ৯৩,৫০০ মেডিকেল মাস্ক, ৫০০ চিকিৎসা প্রতিরক্ষামূলক চশমা এবং ১০,০০০ জীবাণুনাশক সরঞ্জামাদি সহ চীনকে প্রাথমিক চিকিৎসা সরবরাহ করা হয়েছিল।

তুরস্কের সহায়তা প্যাকেজগুলির বেশিরভাগই ছিল মেডিকেল মাস্ক, প্রতিরক্ষামূলক পোশাক-আশাক, হ্যান্ড গ্লাভস এবং জীবাণুনাশক। সমস্ত সরঞ্জাম সামরিক মালিকানাধীন কারখানাগুলিতে এবং সেলাইয়ের ওয়ার্কশপগুলিতে তৈরি করা হয়েছিল যে কারখানা এবং সেলাইয়ের ওয়ার্কশপগুলো সেনাবাহিনীর জন্য সামরিক ইউনিফর্ম এবং অন্যান্য পোশাক তৈরি করে থাকে।

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে এই ঐতিহ্য পালন করে আসছে যে, তারা সমস্যার সম্মুখীন হওয়া দেশগুলোতে মানবিক সহায়তা প্রেরণ করছে, এমনকি যাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে সেসব দেশও সমস্যার সম্মুখীন হলে তারা সেখানে মানবিক সহায়তা প্রেরণ করে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে দেশটির ভিত্তি স্থাপনের এক দশক পরে ১৯৩৮ সালে তুরস্ক সুদূর প্রাচ্যে কলেরার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চীনে ওষুধ পাঠিয়েছিল। একইভাবে ১৯৪১ সালে তুরস্ক গ্রীক সেনাবাহিনীর কাছে ওষুধ পাঠিয়েছিল গ্রিসের অনুরোধে। অথচ গ্রিস মুক্তিযুদ্ধের সময় তুরস্কের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।

আমেরিকা, ইতালি, স্পেন, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ইথিওপিয়া, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান সহ অন্যান্য বহু দেশে তুরস্ক কর্তৃক একই ধরণের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

অ্যাম্বুল্যান্স আটকে সিংহ দলের গর্জন, ভেতরেই ফুটফুটে সন্তানের জন্ম!

ঠিক যেন হডিউড ছবির দৃশ্য। অ্যাম্বুল্যান্সের বাইরে পাহারারত একদল সিংহ। আর ভিতরে নিশ্চিন্তে ভূমিষ্ঠ হচ্ছে শিশু। পশুরাজ আর মানুষের সহাবস্থান। ভাবতেও অবাক লাগে। এমনই দৃশ্য বাস্তবের মাটিতে ধরা পড়ল। ঘটনাস্থল ভারতের গুজরাটের গীর অরণ্য।

বুধবার রাতে হঠাৎই প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয় বছর তিরিশের আফসানা রফিকের। তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে ডাকা হয় অ্যাম্বুল্যান্স। আফসানার গ্রাম ভাখা থেকে হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। অ্যাম্বুল্যান্সে শুয়ে যাত্রা শুরু হয় অন্তঃসত্ত্বার।

কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই যন্ত্রণা তীব্রতর হয়ে ওঠে। তখনও ৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা বাকি। রসুলপুর পাটিয়া এলাকাতে আসতেই ব্রেক কষতে হয় অ্যাম্বুল্যান্স চালককে। কেন? রাতের অন্ধকারে পথ আটকে বসে রয়েছে একদল সিংহ! শিহরণ জাগানোর মতোই পরিস্থিতি।

বিশ্রামরত সিংহের দলকে দেখে ভালই বোঝা যাচ্ছে, অ্যাম্বুল্যান্সকে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য সেখান থেকে উঠতে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয় তারা। এদিকে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছেন আফসানা। তাহলে উপায়? কীভাবে এগোনো যায়?

অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা স্বাস্থ্যকর্মী জগদীশ মাকওয়ানা ঠিক করেন, আর বিলম্ব না করে সেখানেই প্রসব করাতে হবে। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। এক আশাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সফলভাবেই প্রসব করান তিনি। গভীর সিংহ গর্জনের মধ্যেই জন্ম নিল ফুটফুটে কন্যা সন্তান। গর্বের জন্মই বটে। মা ও সন্তান দু’জনই সুস্থ।

সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে জগদীপ বলেন, বাইরে একদল সিংহ বসে। মাঝেমধ্যে গর্জেও উঠছে তারা। বুক দুরুদুরু অবস্থা। কী করবেন বুঝে উঠতে না পেরে বনদপ্তরের এক কর্মকর্তাকে ফোন করেন তিনি।

কর্মকর্তা জানান, সিংহরা নিজে থেকে পথ না ছাড়লে তারা যেন তাদের সরানোর চেষ্টা না করেন। অ্যাম্বুল্যান্স যেন সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। অগত্যা ফোনে ডাক্তারের পরামর্শ মতোই অস্ত্রোপচার শুরু করেন জগদীপ।

বাইরে সিংহের দল আর ভিতরে শিশুর ডেলিভারির প্রক্রিয়া। অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা। স্বস্তি মিলল শিশু ভূমিষ্ঠ হতেই। তবে বাচ্চাটি জন্মানোর পরও ২০-২৫ মিনিটে সেখানেই আটকে ছিল অ্যাম্বুল্যান্স। সিংহবাহিনী পথ ছাড়লে অবশেষে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেয় গাড়ি। সংবাদ প্রতিদিন

আরব আমিরাতের চিকিৎসা সহায়তা ফিরিয়ে দিল ফিলিস্তিন!

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঠানো চিকিৎসা সহায়তা ফিরিয়ে দিয়েছে ফিলিস্তিন। এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মেডিক্যাল সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে আমিরাত ফিলিস্তিনের সাথে সমন্বয় না করায় তারা সহায়তাটি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে দেশটি।

এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাই খাইলা বলেছেন, আমিরাতের পাঠানো মেডিক্যাল সহায়তা তার দেশ প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ আরব আমিরাত সরাসরি আমাদের সঙ্গে মেডিক্যাল সহায়তার বিষয়ে যোগাযোগ করেনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমাদের সঙ্গেই তাদের প্রথম যোগাযোগ করা প্রয়োজন ছিল। বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ম্যানের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইসরাইলের তেলআবিবের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে সহায়তা পৌঁছানোর পরে ফিলিস্তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত মঙ্গলবার আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবি থেকে ইত্তিহাদ এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ফিলিস্তিনিদের জন্য করোনার সহায়তা ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইসরাইলের মধ্যে সরকারি সূত্র না থাকে সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে এটি প্রথম সরকারি ফ্লাইট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনে এখন পর্যন্ত ৪২৩ জন করোনায় আক্রান্ত ও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা