বিশ্ব কুদস দিবসে পাকিস্তানে ফিলিস্তিনি পতাকাবাহী জাহাজের প্রদর্শনী!

বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে ফিলিস্তিনি পতাকাবাহী জাহাজের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলনের যে অভাবনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানের ইমামিয়া স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি গ্রহণ করে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনী (রহ.) রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব কুদস দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এ দিবস পালন করা হয়।

ইহুদিবাদীদের কবল থেকে মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলার শহর আল-কুদস বা বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করার মহান লক্ষ্যে এ দিবস পালন করার আহ্বান জানান ইমাম খোমেনী। প্রতি বছর ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কুদস দিবসে ব্যাপক ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

তবে চলতি বছর বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধিবিধান পালন করার কারণে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে কুদস দিবসের বিক্ষোভ মিছিল করা সম্ভব হবে না।

এ অবস্থায় লন্ডনের ইসলামি মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে ব্রিটেনের মুসলমানরা একটি অভাবনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। ওই পরিষদ ফিলিস্তিনি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানিয়েছে।

আর এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানের ছাত্ররা বেশকিছু জাহাজে ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে তাদের মাতৃভূমি পুনরুদ্ধার ও মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল-কুদস মুক্তি আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন জানান।

সূত্র: পার্সটুডে

অনলাইনে পাকিস্তানি বরের সাথে বাংলাদেশী কনের বিয়ে!

করোনা বাধা হতে পারেনি পাকিস্তানি বর আর বাংলাদেশী কনের বিয়েতে। প্রথমে দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন হয়েছে অনলাইনে।

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় সামাজিক দূরত্ব মেনে বাংলাদেশের জয়পুরহাট শহরের কাশিয়াবাড়ি মহল্লায় কনের বাবার বাড়িতে অনলাইনে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান তাদের বিয়ে পড়ান। কনে মুরসালিন সাবরিনা ওই মহল্লার বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনের মেয়ে। আর বর পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ উমের।

কনের পরিবার ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে মুরসালিন সাবরিনা আমেরিকান অনলাইন ইউনিভার্সিটি অব দ্যা পিপলস-এ কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করছেন। একই ইউনিভার্সিটিতে মুহাম্মদ উমেরও পড়াশোনা করছেন।

ওই ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘ইয়েমার’ এর মাধ্যমে দুজনের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা দুজন বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৯ সালে উভয়ের পরিবার কথাটি জানতে পারে।

প্রথমে মুরসালিন সাবরিনার পরিবার সম্মতি দেয়নি। পরে ছেলের পারিবারিক অবস্থা খোঁজ খবর নিয়ে মোজাফফর হোসেন মেয়েকে মুহাম্মদ উমের সাথে বিয়ে দিতে রাজি হন। মুহাম্মদ উমেরের পরিবারও তাতে রাজি হয়।

পাকিস্তান থেকে মুহাম্মদ উমের ও তার পরিবার বাংলাদেশের জয়পুরহাট আসার জন্য ভিসা আবেদন করেন। মার্চ মাসে তাদের বিয়ের করার কথা ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে তাদের সিদ্ধান্ত ভেস্তে যায়।

পরে উভয় পক্ষ অনলাইনে বিয়ের জন্য একমত হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে কনের বাড়িতে অনলাইনে বিয়ে পড়ানো হয়। কনে মুরসালিন সাবরিনার বাবা মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, পাকিস্তানি ছেলের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জামাই এসে মেয়ে নিয়ে যাবেন। সুত্র: নয়া দিগন্ত