পবিত্র রমাজানে বিশ্বের ১০ মিলিয়ন মুসলমানকে খাদ্য সহায়তা পাঠাবে তুরস্কে

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে দশ মিলিয়ন মানুষকে সহায়তা পাঠাবে তুরস্কের আল হেলাল আল আহমার বা তুর্কিশ রেড ক্রিসেন্ট। এই সংবাদ জানিয়েছে ইয়ানী শাফাক।

তুরস্কের আল হেলাল আল আহমারের প্রধান করীম কিনিক জানিয়েছেন, সারা বিশ্বে যুদ্ধ বিধ্বস্ত, দরীদ্র অঞ্চলের মানুষদের কাছে এই সহায়তা পাঠানো হবে। লকডাউনের কারণে, অন‍্যান‍্য বছরের থেকে এবছর তুরস্কের মানুষের জন্য একটু বেশী সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তুরস্কের আল হেলাল আল আহমার এবারে ফিলিস্তীন, বসনিয়া হারজেগোভিনা, সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ , রাখাইন সহ ১৬ টি দেশে সহায়তা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে রমজান শুরু হয়ে ২৩ মে তে সমাপ্ত হবার কথা রয়েছে। গতবছর ৩৮ টি দেশ ও ৪০০ টি অঞ্চলে সহায়তা পাঠিয়েছিল তুরস্কের আল হেলাল আল আহমার। এবছর রমজান সহায়তার জন্য ২০৭ মিলিয়ন তুর্কি লিরা ( ৩২ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন করীম কিনিক।

তুরস্কে এবছর ৬ লক্ষ দশ হাজার পরিবারকে (২.৫ মিলিয়ন জনগণ) সহায়তা রমজান সহায়তা দেবে উক্ত সংস্থা। এছাড়া লকডাউন সহ বিভিন্ন কারণে ঘরে থাকা তিন মানুষের জন্য ৩ মিলিয়ন ইফতার , সেহরী ও খাবারের আয়োজন করার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। এছাড়া করোনা ভাইরাস ও বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দিনরাত পরিশ্রম করা ৪০০০ জন স্টাফকে ইফতার দেওয়া হবে। এছাড়া ৫ লক্ষ ৫০ হাজার পরিবার কে ব্যাক্তিগত পার্সোনাল কেয়ার প‍্যাক ও স্যানিটাইজার বিতরণ সহ ২ লক্ষ ৫০ হাজার পরিবার কে মাসিক ৫৮ আমেরিকান ডলার অনুদান প্রদান করার কথা ঘোষণা করেছে আল হেলাল আল আহমার। এছাড়া নিত‍্যপ্রয়োজনী দ্রব্যের জন‍্য তুরস্কে একটি কোড নাম্বার দেওয়া হবে যাতে মেসেজের মাধ্যমে জনগণ প্রয়োজনীয় দ্রব্য পেতে পারেন।

আরো পড়ুন-সৌদিতে করোনা রোগীদের জন্য জমজমের পানি বিতরণ

সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে হারামাইন প্রেসিডেন্সির প্রধান প্রফেসর ড. শায়েখ আবদুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আস সুদাইস করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য জমজমের পানি সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন।

শায়েখ সুদাইসের ঘোষণার পর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদেরকে জমজমের পানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। এছাড়া মক্কা ও মদিনা অধিদপ্তরও তাদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য জমজমের পানি বিতরণ করছেন।

সম্প্রতি মদিনা সফরকালে সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীদের মাঝে জমজমের পানি বিতরণ করেন হারামাইনের প্রেসিডেন্ট শায়েখ সুদাইস।

উল্লেখ্য, জমজম মসজিদে হারামের কাছে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ কূপ। পবিত্র কাবা ও এই কূপের মধ্যে দূরত্ব মাত্র ৩৮ গজের। হজ ও উমরা আদায়কারীর জন্য বিশেষভাবে এবং পৃথিবীর সব মুসলমানের জন্য সাধারণভাবে জমজমের পানি পান করা মুস্তাহাব। সহিহ হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে জমজম থেকে পানি পান করেছেন। -সহিহ বোখারি: ১৫৫৬

সাহাবি হজরত আবু জর (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি বরকতময়, স্বাদ অন্বেষণকারীর খাদ্য।’ -সহিহ মুসলিম: ২৪৭৩

কোনো কোনো হাদিসে জমজমের পানিকে ‘রোগীর ঔষধ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের সঙ্গে পাত্রে ও মশকে করে জমজমের পানি বহন করতেন। তা অসুস্থদের ওপর ছিটিয়ে দিতেন এবং তাদের পান করাতেন। -সুনানে তিরমিজি

এ বর্ণনা থেকে এ কথাও জানা যায় যে, জমজমের পানি বহন করা জায়েজ। আর যারা জমজম কূপের কাছে নয়, তাদের পান করানো নববী সুন্নত।

জমজমের পানি পান করার সময় একটি বড় কাজ হলো- দোয়া করা। হজরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্য নিয়ে পান করবে তা পূরণ হবে।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩০৬২

বিখ্যাত বুজুর্গ ও মনীষীরা জমজমের পানি পানের সময় বিভিন্ন দোয়া করতেন।

আরো পড়ুন: করোনাক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় ৪১বার ভয়াবহ টর্নেডোর আঘাত, নিহত ৩৩ !

একদিকে নভেল করোনাভাইরাসের হানায় মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে গোটা যুক্তরাষ্ট্র, তার মধ্যেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে তাণ্ডব চালিয়েছে শক্তিশালী টর্নেডো। এতে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৩৩ জন, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।

গত রোববার দিনের শুরু থেকেই মধ্য টেক্সাসে আঘাত হানতে শুরু করে টর্নেডো। সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে এটি একে একে লুইজিয়ানা, আরাকানসাস, মিসিসিপি, টেনেসি, আলাবামা, জর্জিয়া ও ক্যারোলিনার ওপর দিয়ে যায়। এর আঘাতে শুধু মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন।

এছাড়া দক্ষিণ ক্যারোলিনায় মারা গেছেন নয়জন। সেখানে ঝড়ের আঘাতে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। মিসিসিপি, লুইজিয়ানা, আলাবামার গভর্নরেরা অঙ্গরাজ্যগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে অন্তত ৪১বার টর্নেডো আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে।

সোমবার সকালেও উত্তর ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও ক্যারোলিনায় বেশ কয়েকবার ঝড়-বজ্রঝড় আঘাত হেনেছে। নিউ জার্সি থেকে ফ্লোরিডায় ব্যাপক ঝড় ও নিউ ইংল্যান্ডে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন এ অঞ্চলের অন্তত চার কোটি মানুষ।

এছাড়া মিসিসিপি নদীর তীরবর্তী ১৬ কোটি বাসিন্দাকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। করোনার হানায় বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। এ পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৮১ হাজার ৯১৮ জন, মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬০৮।

এই মহামারির কারণে ইতিহাসে প্রথমবার একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই বিপর্যয় ঘোষণা করা হয়েছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ