প্রধানমন্ত্রীকে দাঁড়িয়ে রেখে চেয়ারে আয়েশি ভঙ্গিতে বসা প্রধানমন্ত্রী কন্যা এলাগ্রেস

তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী। চেয়ারটাতে বসার কথা তাঁর। কিন্তু জাস্টিন ট্রুডো দাঁড়িয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আছে ৯ বছর বয়সি একটি কন্যাশিশু! যেনতেন বসা না, দুই পা টেবিলে তুলে দিয়ে আয়েশি ভঙ্গিতে বসা। যেন প্রধানমন্ত্রীর এই চেয়ারটি কোনো ব্যাপারই না তার কাছে!

শিশুটির নাম এলা গ্রেস মার্গারেট ট্রুডো। এলা প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর সন্তান। ছবিটি কানাডার প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছেন। শুধু প্রকাশ না, তিনি তা নিজের ফেসবুকের ‘কভার ফটো’ হিসেবেও দিয়েছেন।

আজ ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। দিবসটি মনে করিয়ে দিতেই ছবিটি প্রকাশ করেছেন জাস্টিন ট্রুডো। ছবিতে ক্যাপশনে ট্রুডো লিখেছেন, ‘শুভ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস।’

ছবির মন্তব্যে জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘দিনটি আমাদের কন্যা, নাতনি, বোন, ভাতিজিদের। নিশ্চিত করতে হবে এমন একটা পৃথিবী যেখানে তাদের কথাটা শোনা হয়, যেন স্বপ্নপূরণের জন্য সব ধরণের সহযোগিতা তারা পায়।’

শুধু তাই না দিবসটি উপলক্ষে বিবৃতিও দিয়েছেন ট্রুডো। তিনি বলেছেন, ‘কানাডাসহ পুরো বিশ্বে এগিয়ে যাবার জন্য নারীরা নিজেদের পরিবর্তন করার পাশাপাশি সমাজকে বদলে দিচ্ছে। তাঁরা দেখিয়েছে পর্যাপ্ত সুযোগ ও সমর্থন পেলে তাঁরা সর্বোচ্চটুকু অর্জন করতে পারবে, আমাদের পৃথিবীকে বদলে দিতে পারবে।’

আরো পড়ুন-করোনায় আক্রান্তদের বাড়ি ভাড়াসহ সব দায়িত্ব নিলেন ট্রুডো

করোনায় আক্রান্তদের বাড়ি ভাড়াসহ সব দায়িত্ব নিলেন ট্রুডো কানাডায় করোনা আক্রান্তদের বাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে জনগণের সব দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। কানাডার সংবাদমাধ্যম সিটিনিউজ১১৩০ এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো নিজে ও তার স্ত্রী সোফিয়া ১৪ দিনের আইসোলেশনে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর শরীরের এখনো করনো ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেনি। এছাড়া স্ত্রী সোভি করোনায় আক্রান্ত হলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল। এর মধ্যে ট্রুডো ঘোষণা দিয়েছেন, করোনা মোকাবিলায় খুব শিগগিরই তার সরকার ‘সিগনিফিক্যান্ট ফিসক্যাল স্টিমুলাস’ নামে একটি বিশেষ প্যাকেজ চালু করতে যাচ্ছে।

এ প্যাকেজটি গত সপ্তাহে ঘোষণা দেয়া ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, কোভিড-১৯- এর কারণে বাড়ি ভাড়া, মুদি কেনাকাটা বা শিশুদের অতিরিক্ত সেবায় অর্থ খরচ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। আমরা কানাডিয়ানদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করব।

তিনি আরও বলেন, আপনারা নিজের স্বাস্থ্য, পরিবারের স্বাস্থ্য, চাকরি, সঞ্চয়, বাড়ি ভাড়া, ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে চিন্তিত আছেন। আমি জানি, (করোনার কারণে) বৈশ্বিক অর্থনীতির কারণে আপনার অনিশ্চয়তায় আছেন। আপনাদের নিরাপদ রাখতে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তাতে দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়বে।

তবে এটা সত্য যে, আমরা অর্থনৈতিকভাবে এখন যে অবস্থানে আছি তা আপনাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিতে যথেষ্ট। আমরা মানি যে আমাদের আরও অনেক কিছু করণীয় রয়েছে। আমরা চাই না কোনো কানাডিয়ান বাড়ি ভাড়া দিতে পারবেন কি-না, বাজার-ঘাট করতে পারবেন কি-না, বা তাদের ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করতে পারবেন কি-না, এটা নিয়ে চিন্তা করুক,’ যোগ করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কানাডায় ৩৪১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন ১১ জন।