এতিমখানায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ১৫ শিশুর মৃত্যূ

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে দেশটির রাজধানী পোর্ট-অ্য-প্রিন্সের কেন্সকফ এলাকার এতিমখানাটিতে আগুন লাগে। ক্যারিবিয়ান দেশ হাইতির একটি এতিম খানায় ভয়াবহ আগুনে ১৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন লাগার অন্তত দেড় ঘণ্টা পর সেখানে উপস্থিত হন। তবে তারা এসেছিলেন মোটরসাইকেলে করে। তাদের কাছে আগুন নেভানোর মতো কোনও সরঞ্জাম ছিল না।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) জানায়, ‘চার্চ অব বাইবেল আন্ডারস্টান্ডিং’ নামে একটি অলাভজনক ধর্মীয় গ্রুপের অধীনে পরিচালিত হয় এতিমখানাটি। কিন্তু সেখানে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ছিল। জেনারেটর সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় বৃহস্পতিবার রাতে শিশুরা মোমবাতি জ্বালিয়েছিল।

সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে নবজাতক থেকে শুরু করে ১০-১১ বছরের শিশুও রয়েছে। পরে কর্মীদের বিক্ষোভের কারণে গ্রুপটির পরিচালিত আরেকটি এতিমখানা থেকে শতাধিক শিশুকে সরিয়ে নেয় পুলিশ।

ফিলিস্তিন ও মুসলিমবিরোধী মার্কিন পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন দিল সৌদি আরব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনা এবং ইরানের ব্যাপারে সৌদি আরবের দু’জন পদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় কোনও কোনও আরব দেশ ট্রাম্পের ষড়যন্ত্রমূলক ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থা পরিবর্তনে জন্য তারা আমেরিকা ও ইসরায়েলকে সহযোগিতা করছে।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আব্দুল জুবায়ের বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন, ট্রাম্পের ঘোষিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনায় বেশ কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চলছে জানিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান দাবি করেছেন,

ইরান এ অঞ্চলের সবার শত্রু। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি দুই কর্মকর্তার এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় কোনও কোনও আরব দেশ বিশেষ করে সৌদি আরব এ অঞ্চলের মুসলমানদের এক নম্বর শত্রু দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

আমেরিকা আরব দেশগুলোর সহযোগিতায় ফিলিস্তিন বিরোধী ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে যাতে পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়ার ব্যাপারে ষড়যন্ত্রগুলো সহজে বাস্তবায়ন করতে পারেন।

ইরান ও এ অঞ্চলে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ শক্তিগুলো পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পথে বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে মার্কিনিরা ব্যাপক অপপ্রচার ও ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা করছে।

প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকা ব্যাপক প্রচার চালিয়ে ইসলামি ইরানকে আরব দেশগুলোর এক নম্বর শত্রু এবং দখলদার ইসরাইলকে তাদের বন্ধু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে যাতে ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনাকে এগিয়ে নেয়া যায় এবং পরবর্তী পরিকল্পনাগুলো আরো সহজে বাস্তবায়ন করা যায়।

এ অবস্থায় ট্রাম্পের ঘোষিত ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ সম্পর্কে সচেতন হওয়া এ অঞ্চলের মানুষের জন্য খুবই জরুরি। কারণ এটা সবার কাছে পরিষ্কার যে ইরান হচ্ছে মজলুম ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং গত ৭০ বছর ধরে তাদের প্রতি সমর্থন দেয়া অব্যাহত রেখেছে তেহরান।

ট্রাম্পের ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ব্যাপারে ইরান যেকোনও মুসলিম দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে যাতে ফিলিস্তিন ও আরবদের বিরোধী এ পরিকল্পনার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করে তোলা যায়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি এ ব্যাপারে তেহরানের আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ শুধু ফিলিস্তিন ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়।

বরং অন্যান্য এলাকার ব্যাপারেও টার্গেট করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে যেকোনো উদাসীনতা এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো বিশেষ করে সৌদি আরবের জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। তবে ট্রাম্পের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি এরই মধ্যে প্রকাশ হয়ে পড়ায় আমেরিকা যে স্বপ্ন দেখছে তা বাস্তবায়িত হবে না।

কেননা প্রতিরোধ ফ্রন্টের নেতা জেনারেল কাসেম সোলাইমানির শাহাদাতের ঘটনা এ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে ইসরাইল-মার্কিন ঘৃণা তীব্রতর করেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট মিরর ও পার্সটুডে