ফিলিস্তিন ও মুসলিমবিরোধী মার্কিন পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন দিল সৌদি আরব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনা এবং ইরানের ব্যাপারে সৌদি আরবের দু’জন পদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় কোনও কোনও আরব দেশ ট্রাম্পের ষড়যন্ত্রমূলক ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থা পরিবর্তনে জন্য তারা আমেরিকা ও ইসরায়েলকে সহযোগিতা করছে।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আব্দুল জুবায়ের বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন, ট্রাম্পের ঘোষিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনায় বেশ কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চলছে জানিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান দাবি করেছেন,

ইরান এ অঞ্চলের সবার শত্রু। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি দুই কর্মকর্তার এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় কোনও কোনও আরব দেশ বিশেষ করে সৌদি আরব এ অঞ্চলের মুসলমানদের এক নম্বর শত্রু দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

আমেরিকা আরব দেশগুলোর সহযোগিতায় ফিলিস্তিন বিরোধী ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে যাতে পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়ার ব্যাপারে ষড়যন্ত্রগুলো সহজে বাস্তবায়ন করতে পারেন।

ইরান ও এ অঞ্চলে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ শক্তিগুলো পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পথে বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে মার্কিনিরা ব্যাপক অপপ্রচার ও ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা করছে।

প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকা ব্যাপক প্রচার চালিয়ে ইসলামি ইরানকে আরব দেশগুলোর এক নম্বর শত্রু এবং দখলদার ইসরাইলকে তাদের বন্ধু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে যাতে ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনাকে এগিয়ে নেয়া যায় এবং পরবর্তী পরিকল্পনাগুলো আরো সহজে বাস্তবায়ন করা যায়।

এ অবস্থায় ট্রাম্পের ঘোষিত ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ সম্পর্কে সচেতন হওয়া এ অঞ্চলের মানুষের জন্য খুবই জরুরি। কারণ এটা সবার কাছে পরিষ্কার যে ইরান হচ্ছে মজলুম ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং গত ৭০ বছর ধরে তাদের প্রতি সমর্থন দেয়া অব্যাহত রেখেছে তেহরান।

ট্রাম্পের ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ব্যাপারে ইরান যেকোনও মুসলিম দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে যাতে ফিলিস্তিন ও আরবদের বিরোধী এ পরিকল্পনার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করে তোলা যায়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি এ ব্যাপারে তেহরানের আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ শুধু ফিলিস্তিন ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়।

বরং অন্যান্য এলাকার ব্যাপারেও টার্গেট করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে যেকোনো উদাসীনতা এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো বিশেষ করে সৌদি আরবের জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। তবে ট্রাম্পের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি এরই মধ্যে প্রকাশ হয়ে পড়ায় আমেরিকা যে স্বপ্ন দেখছে তা বাস্তবায়িত হবে না।

কেননা প্রতিরোধ ফ্রন্টের নেতা জেনারেল কাসেম সোলাইমানির শাহাদাতের ঘটনা এ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে ইসরাইল-মার্কিন ঘৃণা তীব্রতর করেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট মিরর ও পার্সটুডে

ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে আবারও রকেট হামলা!

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কিরকুক প্রদেশের একটি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কে-ওয়ান ঘাঁটিতে এ হামলা হয়।

তবে তাৎক্ষণিক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কোনো দেশ বা গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। অপরদিকে আরব সাগরে ইরানের দেড়শ’ ক্ষেপণাস্ত্র জব্দ করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এএফপি, রয়টার্স।

সেনাঘাঁটিতে হামলা: ইরাকি ও মার্কিন নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ২৭ ডিসেম্বর কে-ওয়ান ঘাঁটিতে অন্তত ৩০টি রকেট হামলা হয়েছিল। এতে এক মার্কিন ঠিকাদার নিহত হন। এ ঘটনার জন্য ইরান ঘনিষ্ঠ ইরাকি সামরিক গোষ্ঠী কাতায়িব হিজবুল্লাহকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র।

পরে তাদের পাল্টা হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ২৫ হিজবুল্লাহ সেনা। এর কয়েকদিন পর ৩ জানুয়ারি বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও কাতাইব হিজবুল্লাহর সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবু মাহদি আল মুহান্দিসকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র।

এ হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরাকের দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। সোলাইমানির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের শোক পালন শেষে বৃহস্পতিবার কে-ওয়ান ঘাঁটিতে ফের রকেট হামলার ঘটনা ঘটল।

দেড়শ’ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র জব্দ: দেড়শ’ ট্যাংকবিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ও স্থল থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ ইরানের উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র জব্দ করার দাবি করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, রোববার আরব সাগরে একটি ঐতিহ্যবাহী নৌযান ডোয়ায় করে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার নোরম্যান্ডি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।

জব্দ ট্যাংকবিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি। যার মধ্যে তিনটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। নভেম্বরেও ইরানি অস্ত্র ভাণ্ডার জব্দ করার দাবি করেছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের জন্য সরবরাহ করা ইরানি অস্ত্র জব্দ করছে। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুসারে, দেশের বাইরে অস্ত্র সরবরাহ, বিক্রি ও হস্তান্তর করতে পারবে না ইরান।

ইয়েমেনে হুতি নেতাদের অস্ত্র সরবরাহেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও ইরান থেকে পাচার করা যন্ত্রাংশ দিয়ে তারা বিশাল অস্ত্র ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে।