ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে আবারও রকেট হামলা!

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কিরকুক প্রদেশের একটি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কে-ওয়ান ঘাঁটিতে এ হামলা হয়।

তবে তাৎক্ষণিক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কোনো দেশ বা গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। অপরদিকে আরব সাগরে ইরানের দেড়শ’ ক্ষেপণাস্ত্র জব্দ করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এএফপি, রয়টার্স।

সেনাঘাঁটিতে হামলা: ইরাকি ও মার্কিন নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ২৭ ডিসেম্বর কে-ওয়ান ঘাঁটিতে অন্তত ৩০টি রকেট হামলা হয়েছিল। এতে এক মার্কিন ঠিকাদার নিহত হন। এ ঘটনার জন্য ইরান ঘনিষ্ঠ ইরাকি সামরিক গোষ্ঠী কাতায়িব হিজবুল্লাহকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র।

পরে তাদের পাল্টা হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ২৫ হিজবুল্লাহ সেনা। এর কয়েকদিন পর ৩ জানুয়ারি বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও কাতাইব হিজবুল্লাহর সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবু মাহদি আল মুহান্দিসকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র।

এ হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরাকের দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। সোলাইমানির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের শোক পালন শেষে বৃহস্পতিবার কে-ওয়ান ঘাঁটিতে ফের রকেট হামলার ঘটনা ঘটল।

দেড়শ’ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র জব্দ: দেড়শ’ ট্যাংকবিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ও স্থল থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ ইরানের উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র জব্দ করার দাবি করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, রোববার আরব সাগরে একটি ঐতিহ্যবাহী নৌযান ডোয়ায় করে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার নোরম্যান্ডি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।

জব্দ ট্যাংকবিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি। যার মধ্যে তিনটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। নভেম্বরেও ইরানি অস্ত্র ভাণ্ডার জব্দ করার দাবি করেছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের জন্য সরবরাহ করা ইরানি অস্ত্র জব্দ করছে। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুসারে, দেশের বাইরে অস্ত্র সরবরাহ, বিক্রি ও হস্তান্তর করতে পারবে না ইরান।

ইয়েমেনে হুতি নেতাদের অস্ত্র সরবরাহেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও ইরান থেকে পাচার করা যন্ত্রাংশ দিয়ে তারা বিশাল অস্ত্র ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে।

বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের পথে চীন, একমাসেই আর্থিক ক্ষতি ৩০ লাখ কোটি

করোনাভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৫০০ ছাড়িয়েছে। সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। বিবিসি রিপোর্টে বলা হয়েছে, মৃতের তালিকা হংকং, ফিলিপাইন্সের নাগরিকরাও রয়েছেন।

প্রতিদিন বাড়ছে নভেলা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা। তবে কিছুটা হলেও আশার খবর শোনাচ্ছে সে দেশের হাসপাতালগুলো। স্থানীয় প্রশাসন জানাচ্ছে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরছেন।

চীন থেকে ইতিমধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এমন পরিস্থিতিতে একমাসেই চীনের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, একেবারে তলানিতে পৌঁছে গিয়েছে চীনের অর্থনীতি।

বলা হচ্ছে, ৩০ বছরের ইতিহাসে সব থেকে তলানিতে দেশের অর্থনীতি। যা চীনের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা। জানা গেছে, গত চার বছরের মধ্যে চীনের সংস্থাগু’লিতে হঠাৎ করেই কমে গিয়েছে লাভের পরিমাণ।

ভাইরাসের আতঙ্কে বাইরের বিভিন্ন সংস্থাও চীনে থাকা অফিসগুলোর ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছে। সমস্ত কর্মীদের ফিরিয়ে আনছে সেখান থেকে। কমিউনিস্ট চীনের শেয়ার বাজারেও বড় পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে।

অর্থনীতির কারবারিরা বলছেন, গত একমাসে শুধুমাত্র করোনাভাইরাসের জন্যে ৪২০ বিলিয়ন ডলার যা ভারতীয় মূল্যে ৩০ লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। যা চীনের জন্যে যথেষ্ট মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কীভাবে বিশাল এই ক্ষতি মোকাবিলা করা যায় তা রীতিমত চ্যালেঞ্জের কমিউনিস্টদের কাছে।

এদিকে চীনের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ভারতের। আবার ভারতেরই প্রতিবেশি পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মায়ানমারের সঙ্গেও চীনের সীমান্ত। নেপাল, ভারত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়ায় দুটি দেশেই জারি বিশেষ সতর্কতা।