রোজা ভঙ্গকারীদের ধরতে রাঁধুনি বেশে হোটেল ও রেস্টুরেন্টে মালয়েশিয়ার গোয়েন্দারা!

ছবি সংগ্রহ করা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পবিত্র রমজান মাসে যে সমস্ত মুসলিম রোজা রাখছেন না তাদেরকে ধরার জন্য মালয়েশিয়ার বেশ কিছু সরকারি কর্মকর্তা রাঁধুনি এবং খাদ্য পরিবেশনকারীর ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন।

মালয়েশিয়ায় যেসমস্ত মুসলিমরা রোজা রাখছেন না তাদের কে আইনের আওতায় আনার জন্য নেয়া কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশটির ৩২ জন সরকারি কর্মকর্তা স্থানীয় বিভিন্ন খাদ্য বিপণিতে ছদ্মবেশে অবস্থান করছেন।

দেশটির ‘New Straits’ ‘Times newspaper’ সহ বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম এই তথ্য দিয়েছে। ইসলামি আইন অনুযায়ী একজন মুসলিম কে পবিত্র রমজান মাসের দিনের বেলায় রোজার অংশ হিসেবে অবশ্যই সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত উপবাস থাকতে হয়, কিন্তু গুরুতর অসুস্থতা সহ বিশেষ কিছু কারণে ভাঙ্গার অনুমতি রয়েছে।

মালয়েশিয়ার দক্ষিণের রাজ্য জোহোর এর সেগামাত ডিস্ট্রিকে পবিত্র রমজান মাসে রোজা না রাখা মুসলিমদের হাতে নাতে ধরার জন্য নিয়োজিত দলটির মধ্য থেকে দুজন কর্মকর্তা কে রন্ধন শিল্পীর ছদ্মবেশ বেছে নিতে বলা হয়েছে যারা ফ্রাইড নুডলসের মত স্থানীয় বিভিন্ন জনপ্রিয় ডিশ তৈরীতে পারদর্শী।

সেগামাত মিউনিসিপাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মাসনি ওয়াকিমান বলেন, ‘আমরা এই কাজের জন্য বিশেষ কাজে পারদর্শী কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছি যারা তাদের কাজের অংশ হিসেবে ছদ্মবেশ ধারণ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকর্তারা এমন ভাবে ইন্দোনেশিয়ান এবং পাকিস্তানি সূরে কথা বলেন যাতে করে ক্রেতারা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয় যে, তাদেরকে রন্ধন শিল্পী এবং খাদ্য পরিবেশক হিসেবেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’ তবে খাদ্য বিপণি সমূহে নিয়োগ দেয়া বেশিরভাগ কর্মকর্তাই দেশটিতে অভিবাসী হয়ে আশা কর্মী।

মুহাম্মাদ মাসনি বলেন, কর্মকর্তারা যখন দেখেন দিনের বেলায় কোনো মুসলিম খাদ্যের জন্য ফরমায়েশ দিচ্ছেন তখন তারা ক্রেতাদের অজান্তে তাদের আলোকচিত্র ধারণ করে রাখেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এসমস্ত আলোকচিত্র স্থানীয় ধর্মীয় বিভাগের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ার আইন ব্যবস্থায় দুধরনের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এর একটি হচ্ছে গতানুগতিক আইন আরেকটি হচ্ছে কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে মুসলিমদের জন্য ইসলামিক আইন। উদাহরণ সরূপ দেশটির জোহোর রাজ্যে যেসমস্ত মুসলিম পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখছেন না তাদের কে ইসলামি আইন অনুযায়ী ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বচ্চ ২৪০ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়।

মালয়েশিয়ার ৩২ মিলিয়ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষ জাতিগত ভাবে মালয় মুসলিম এবং দেশটিতে একই সাথে চীন ও ভারতীয় অনেক জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যালঘুরা বসবাস করে যারা সাধারণত ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে না। সূত্র: ডেইলিমেইল ও আরটিএনএন

ঈদ উপলক্ষে তুরষ্কে তিন দিন পরিবহন ভাড়া ফ্রি করার ঘোষণা

তুরস্কে প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সব ধরনের পরিবহনের ভাড়া ফ্রি ঘোষণা করা হয়েছে। তুরস্ক সরকার তাদের দেশের জনসাধারণের ঈদকে উপভোগ্য করে তোলার জন্য প্রতিবছর ফ্রি ভাড়া ঘোষণা করে থাকে।

উক্ত ঘোষণার আওতায় শুধুমাত্র তুরস্কের নাগরিক না তুরস্কে বসবাসরত সকল দেশের নাগরিক এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। খবর ডেইলি সাবাহ’র। উল্লেখ্য, প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে তুরস্কে সব ধরনের পরিবহন বিশেষ করে বাস মেট্রোরেল এবং লঞ্চ এর ভাড়া ফ্রি করে দেওয়া হয়। এছাড়া পবিত্র রমজান মাসে পরিবহনের ভাড়ার প্রায় অর্ধেক করা হয়। খাদ্যপন্যের দামের ওপরও থাকে বিশেষ ছাড়।

মুসলিম স্বৈরশাসকরা নিজেদের দেশ ধ্বংস করে হলেও ক্ষমতায় থাকতে চায়: এরদোয়ান

মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর স্বৈরশাসকদের সমালোচনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান। বলেছেন, তারা নিজেদের দেশ ধ্বংস করে হলেও ক্ষমতায় থাকতে চায়। তিনি বলেছেন, মুসলিম বিশ্বের জন্য আজ বড় প্রয়োজন শান্তি, প্রশান্তি ও স্থিতি অবস্থার। এ জন্য উন্মুখ হয়ে রয়েছে মুসলিম জাহান।

তুর্কি গণমাধ্যম ইয়েনিসাফাক জানিয়েছে, রাজধানী আঙ্কারায় এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এরদোগান বলেন, ‘সিরিয়ার মতোই স্বৈরাচারী শাসকরা তাদের ক্ষমতা রক্ষা করার জন্য কোনো নিয়ম ও নৈতিকতার ধার ধারে না, এরা নিজেদের দেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারেন।

অথচ মুসলিমরা আজ বিশ্ব শান্তি, প্রশান্তি ও স্থির অবস্থার জন্য উন্মুখ হয়ে রয়েছে।’ তুর্কি প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী বিশ্বের বর্তমান হতাশাজনক অবস্থার জন্য যারা দায়ী তাদের প্রথম দলটি হলো মুসলমানরাই।