বিহারের মাধিতে মুসলাম না থাকায়, ২০০ বছরের পুরানো মসজিদে আজান দিয়ে নামাজ পড়ছেন হিন্দুরা

দিনের পর দিন ভারতে ধর্মের নামে বিভেদ বেড়েই চলেছে। কিন্তু ভারত তো এরকম ছিল না। সহনশীলতা, ধর্মে ধর্মে সমন্বয়ই ছিল ভারতের পরিচয়। সেই সম্প্রীতির পরিচয় এখনো ধরে রেখেছে বিহারের নালন্দা জেলার গ্রাম মাধি।

জানা গেছে, ওই গ্রামে এখন একজনও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে না। তার পরেও গ্রামের ২০০ বছর প্রাচীন মসজিদটিতে নামাজ পড়া বন্ধ হয়নি। মসজিদের দেখভাল থেকে নামাজ পড়া, সবই করেন হিন্দুরাই।

ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই চারটি ছবি পোস্ট করে জানিয়েছে, বিহারের নালন্দার মাধি গ্রামের হিন্দু অধিবাসীরা সেখানকার মসজিদ দেখভালের পাশাপাশি পেনড্রাইভের সহায়তায় আযানও দেয়।

মসজিদটি অনেক পুরনো। বর্তমানে সেখানে কোনো মুসলিম বাসিন্দা নেই। সে কারণে হিন্দুরাই ওই মসজিদের দেখভাল করে। গালফ নিউজের একটি প্রতিবেদনে রবিবার জানানো হয়েছে,

বিহারের ২০০ বছর পুরনো ওই মসজিদে আযানের পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন হিন্দুরা। গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, ঠিক কবে ওই মসজিদের প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেটা তাদের জানা নেই।

একসময় ওই গ্রামে অনেক মুসলিম পরিবার বাস করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিয়েছেন। সে কারণে, আজ ওই গ্রামে একজনও মুসলমান নেই। গ্রামের বাসিন্দারা আরো জানান,

কোনো মুসলমান না থাকার কারণে প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছিল মসজিদটি। পরে হিন্দুরা এগিয়ে আসেন দেখভালের জন্য। তারাই মসজিদটি সংস্কার করেন। কিন্তু তারা আযান দিতে জানেন না।

এর সমাধানে একটি পেনড্রাইভে আযানের ধ্বনির রেকর্ড রাখা হয়েছে। সেটিই দিনে পাঁচ ওয়াক্ত বাজানো হয়। আর সেই আযানের সঙ্গেই গলা মেলান গ্রামের হিন্দু বাসিন্দারা। গ্রামের হিন্দু পুরোহিত আরো জানান,

সকাল সন্ধ্যা মসজিদ চত্বর পরিষ্কার করে তারাই নামাজ পড়েন মসজিদে। শুধু তাই নয়, গ্রামের কোনো সঙ্কটের সময়ও গ্রামবাসীরা ওই মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কাছে সুরাহা চান। বর্তমানে, ভারতের প্রায় সর্বত্রই জাত, ধর্ম, ভাষার ভিত্তিতে ভেদাভেদ বাড়ছে।

খাদ্যের ধর্মবিচারও চলছে। খাবার ডেলিভারি করছেন কোন ধর্মের মানুষ, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে। এই অবস্থায় বিহারের ওই গ্রাম কিন্তু ভারতের চিরন্তন ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। এই অবস্থায় বিহারের ওই গ্রাম কিন্তু ভারতের চিরন্তন ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে।

ফিলিস্তিনের ভূমি দখলের নেতানিয়াহু’র ঘোষণা; ইসরাইলকে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের জর্দান উপত্যকাকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার ব্যাপারে যু’দ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে ঘোষণা দিয়েছেন তা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

গতকাল (বুধবার) জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দোজারিচ এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন। বিবৃতিতে বলা হয়, নেতানিয়াহুর ঘোষিত পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে তা হবে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লংঘন।

জাতিসংঘ মহাসচিব মনে করেন- নেতানিয়াহুর এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে শান্তি প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, চলমান সংকটের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য শান্তি আলোচনা শুরুর ব্যাপারে যে চেষ্টা চলছে নেতানিয়াহুর পদক্ষেপ তাতে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।

মঙ্গলবার যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহু জর্দান উপত্যকাকে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে যদি তিনি বিজয়ী হতে পারেন তাহলে এ পদক্ষেপ নেবে।

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ইসরাইলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা রয়েছে। নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা সারা বিশ্বে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ এর নিন্দা জানিয়েছে।

ইসরাইলের মিত্র কয়েকটি দেশ জর্দান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশও নিন্দাবাদে যুক্ত হয়েছে। জর্দান উপত্যকায় রয়েছে পশ্চিম তীরের চার ভাগের এক ভাগ এলাকা। সুত্র: পার্সটুডে