“ভারতীয়দের আচরণ জানোয়ারের থেকেও অধম”

নিজের ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনের কিছু কথা বলার পর ভারতের প্রসঙ্গ আসে। যেখানে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বিদেশে ভারতের চিত্রটা কেমন? বিদেশীরা কীভাবে দেখছেন ভারতকে। এরই উত্তরে এমনটা জানান গায়িকা।

‘ভারত আর বসবাস করার মতো জায়গা নয়! ভারতীয়রা তো জানোয়ারের থেকেও অধম।’ বিস্ফোরক মন্তব্যটি করে খবরের শিরোনামে উঠে এলেন মোনালি ঠাকুর। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কথাই বলেন।

আক্ষেপের সঙ্গে মোনালি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমি ভীষণ লজ্জিত হই যখন দেখি বিদেশীরা ভারতবর্ষকে বসবাসের যোগ্যই মনে করে না। তাদের ধারণা ভারত একেবারেই নিরাপদ স্থান নয়।

এগুলো শুনলে সত্যি খুব কষ্ট হয়। আগে আমাদের দেশের সংস্কৃতি-ঐতিহ্য নিয়ে কত প্রশংসা হত! আর এখন এই কথাগুলি কানে আসে। যা খুবই দুঃখের’।

একই সঙ্গে তিনি বলে চলেন, ‘এসবের জন্য আমরা ভারতীয়রাই দায়ী। দিনের পর দিন নিজেদের ঐতিহ্যকে অসম্মান করে চলেছি। দেখতে গেলে, আমরা লোক দেখানোর জন্যই যেন উন্নত হচ্ছি।

কিন্তু আসলে অধ্যপতনই ঘটছে। মানুষ যেন পশুর মতো হয়ে উঠছে। যদিও পশুদের পাশবিক প্রবৃত্তিটা খুবই স্বাভাবিক৷ সেটাই ওদের ন্যাচারাল ইন্সটিঙ্কট। কিন্তু আমরা তো মানুষ! আমরা তো ওদের থেকেও খারাপ।

পশুদের থেকেও আমাদের আচরণ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।’ এভাবে কথায়, কথায় মোনালি দেশের বড় এক সমস্যার কথা জানালেন। প্রসঙ্গত, এক সময় মোনালির পরিবার দেউলিয়া হয়ে যায়। পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয় আর্থিক অভাবের কারণে।

এমনকি গ্র্যাজুয়েশনও কম্পলিট করতে পারেননি তিনি। তবে সেসব বাধা পেরিয়ে আজ তিনি বলিউডের প্রথম সারির সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে একজন।

সুত্র: ইনকিলাব

আরো পড়ুন: সন্ত্রাসীদের জন্ম দেয় ইহুদীবাদী ইসরাইল, আর দোষ চাপে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঘাড়ে

মধ‍্যপ্রাচ‍্যে সন্ত্রাসীদের জন্ম দেয় ইহুদীবাদী ইসরাইলে,দোষ চাপে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঘাড়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা বাসিনা শাবান একথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন,সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লিবিয়ায় সন্ত্রাসবাদের উৎস হচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। তিনি গতকাল (রোববার) সিরিয়ার বার্তা সংস্থা সানাকে এ কথা বলেছেন।

ইহুদিবাদী ইসরাইল সিরিয়ায় আহত আইএস জঙ্গিদেরকে সেখানে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে এবং এখনও তাদের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে।

ইহুদিবাদীদের ছড়িয়ে দেওয়া সন্ত্রাসবাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ভেঙে দেওয়া। তবে তাদের এই অশুভ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে না।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা বলেন, প্রতিরোধ সংগ্রামের মূলেই রয়েছে ফিলিস্তিন ইস্যু এবং তা ভবিষ্যতেও প্রধান ইস্যু হিসেবে থাকবে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মুসলিম সম্প্রদায়কেই দায়ী করে অস্ট্রেলীয় সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং বলেছেন, “আজ হয়তো তারা হামলার শিকার, কিন্তু তারা সাধারণত অপরাধী”

বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও শোক প্রকাশ চলছে তখন তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্রিটিস গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, কুইন্সল্যান্ডের সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং এক বিবৃতিতে দাবি করেন,

“অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ক্রমবর্ধমান মুসলিম উপস্থিতির ফলে আমাদের কমিউনিটিতে ভীতি বৃদ্ধি পাওয়াই এর মাধ্যমে উন্মোচিত হয়।”

“বরাবরের মতোই বামপন্থী রাজনীতিক ও গণমাধ্যম এই গুলির ঘটনার পেছনে অস্ত্র আইন অথবা জাতীয়তাবাদী আদর্শধারীদের দোষারোপ করবে কিন্তু এগুলো আসলে সস্তা আবোল-তাবোল কথা।”

“নিউজিল্যান্ডের রাস্তায় আজকের এই রক্তপাতের পেছনে প্রকৃতপক্ষে দায়ী হচ্ছে অভিবাসন পদ্ধতি যা মুসলিম চরমপন্থীদের নিউজিল্যান্ডে অভিবাসনের সুযোগ দিচ্ছে।”

ফ্রেজার অ্যানিং অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল নির্বাচনে মাত্র ১৯ ভোট পেয়েছিলেন। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যালকম রবার্টস তথ্য গোপনের অভিযোগে বাদ পড়ায় ফ্রেজার সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন।

এদিকে সিনেটর ফ্রেজারের এই মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। ডেভিড জিলেট নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী পোস্টে লিখেছেন, “মূর্খ ফ্রেজার অ্যানিং দেখালো সে কতবড় বর্ণবাদী ধর্মান্ধ।”

মানসৌরি যাকারিয়া নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “আপনাদের সমস্যা কী? আপনাদের নিজেদের উন্মাদকে দায়ী করুন তার অপরাধের জন্য। আপনার দেশের দায় স্বীকার করুন এবং দেশকে বাঁচানোর জন্য পদক্ষেপ নিন। যদি তা না পারেন, অন্তত মুখ বন্ধ রাখুন।”

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন, নেতানিয়াহু, আমাদের পবিত্র মসজিদে তোমার সৈন্যরা ময়লা জুতা পায়ে ঢুকে যায়। এটি আমাদের কলিজায় আঘাত লাগে।

আমাদের সেজদার জায়গায় তোমাদের পায়ের আঘাতের প্রতিশোধ আমরা নেবোই। গতকাল বৃহস্পতিবার এক নির্বাচনী সমাবেশে ইসরাইলি বাহিনী আল আকসার অসম্মান করছে অভিযোগ করে এসব কথা বলেছেন রিসেপ তায়িপ এরদোগান।

এরদোগান বলেন, ইসরাইলি বাহিনী আন্তর্জাতিক মিডিয়ার উপস্থিতিতেও ফিলিস্তিনিদের ওপর যে নির্যাতন চালাচ্ছে তা গোপন কোনো বিষয় নয়। শিশুদের ওপর ইসরাইলী নির্মমতা বিশ্ব বিবেককে কাপিয়ে তোলে।

শিশুদের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন কার নির্দেশে হয়? এ সময় এরদোগান বলেছেন, ‘পৃথিবীতে যদি একজন জালেম থাকে, তবে সেটি হচ্ছে ইসরাইলের প্রধামন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু।

কেউ যদি অত্যাচারী শাসক দেখতে চায়, তাহলে সে যেন নেতানিয়াহুকে দেখে নেয়। তিনি আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহুর মানসিকতাই হলো শিশু নিপীড়ন। অথচ সে বলছে আমি নাকি তুরস্কে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করে রেখেছি।

তুরস্কের কারাগারগুলোতে নাকি অনেক সাংবাদিক বন্দি। আসলে আগামী নির্বাচনে ভোট বাড়াতেই নেতানিয়াহু আমাকে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।’

এর আগে গত মঙ্গলবার টুইটারে এরদোগানকে স্বৈরশাসক অবিহিত করে নেতানিয়াহুর দেয়া পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় এরদোগান বলেন, ‘আমরা সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যাচারকারীদের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করি না।’

এ সময় সিসি সরকার কর্তৃক মিসরে ইখওয়ানুল মুসলিমীনের ৯ সদস্যকে ফাঁসির সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, ‘এ ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করেছে। মিসরের পুতুল সরকার অন্যায়ভাবে ৯ জন যুবকের মৃত্যুর আদেশ দিয়েছে।

অথচ পশ্চিমা বিশ্ব এ অন্যায়ের কোনো প্রতিবাদ করেনি।’ এর আগে গত বুধবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লুও ইসরাইল কর্তৃক আল আকসা মসজিদের অসম্মানের অভিযোগ করেছিলেন।

মসজিদুল আকসায় ইসরাইলি বাহিনীর জুতা পায়ে প্রবেশের বিষয়ে মুসলিম নেতাদের নীরবতারও সমালোচনা করেন এরদোগান।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) জুমআর নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে খ্রিষ্টান সন্ত্রাসীর হামলায় শহীদ হয়েছেন বাংলাদেশি অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ।

তিনি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মধুরহাইল্যা গ্রামের জামাল উদ্দিন সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় শোকের মাতম চলছে তার গ্রামের বাড়িতে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার পরিবার-স্বজনরা।

ড. সামাদের পরিবার জানায়, মেধাবী আব্দুস সামাদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষে সেখানেই কৃষিতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পিএইচডি করেন নিউজিল্যান্ডে।

পরবর্তীতে তিনি ওই বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। ২০১৩ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে নাগরিকত্ব নিয়ে স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে স্থায়ীভাবে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে বসবাস শুরু করেন।

এ সময় তিনি সেখানকার ‘মসজিদে নুর’ নামে একটি মসজিদের মোয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। ড. আব্দুস সামাদ পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। তার বড় ভাই আসাদ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।

অন্য দুই ভাই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। নিহতের ছোট ভাই হাফেজ হাবিরুর রহমান জানান, তারা এই হত্যাকান্ডে অত্যন্ত মর্মাহত। তারা চান দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক এবং ড. সামাদের লাশ অবিলম্বে বাংলাদেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর কর