গোরক্ষকদের হাতুড়ির আঘাতে জখম গুরুগ্রামে চালক, দাঁড়িয়ে দেখল পুলিশ

দিল্লির কাছেই সাতসকালে গোমাংস নিয়ে যাওয়ার ‘অপরাধে’ হাতুড়ি নিয়ে এক ট্রাকচালকের উপরে হাতুড়ি নিয়ে হামলা করল এক দল ‘গোরক্ষক’।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আজ সকাল ন’টা নাগাদ হরিয়ানার গুরুগ্রামে মাংস ভর্তি একটি পিক-আপ ট্রাককে তাড়া করে ধরে এক দল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, ট্রাকচালক লুকমানকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হাতুড়ি দিয়েও আঘাত করা হয় তাঁকে। ঘটনাস্থলে হাজির থাকলেও হস্তক্ষেপ
করেনি পুলিশ।

২০১৫ সালে উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে গোমাংস রাখার ‘অপরাধে’ গণপিটুনিতে খুনের মতোই এ ক্ষেত্রেও ট্রাকে থাকা মাংস ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে পাঠাতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে পুলিশ।

আহত লুকমানকে ওই ট্রাকে তুলেই গুরুগ্রামের বাদশাপুর গ্রামে নিয়ে গিয়ে ফের মারধর করা হয়। এ বার বাধা দেয় পুলিশ। তবে পুলিশের সঙ্গেও বচসাতে জড়িয়ে পড়ে দুষ্কৃতীরা। লুকমানকে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি পুলিশ।

ট্রাকের মালিক জানিয়েছেন, তিনি ৫০ বছর ধরে মাংসের ব্যবসা করছেন। ওই ট্রাকে মোষের মাংস ছিল। নরেন্দ্র মোদী জমানায় তথাকথিত ‘গোরক্ষক’দের একের পর এক হামলার ঘটনা নিয়ে বারবার অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। এমন ঘটনার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

তথাকথিত গোরক্ষকদের হামলা ছাড়াও নানা কারণে গণপিটুনির ঘটনা মোদী জমানায় বেড়েছে বলে দাবি নানা শিবিরের। ২০১৮ সালে গণপিটুনিতে খুনকে ‘ঘৃণ্য’ অ্যাখ্যা দিয়ে তা রুখতে নির্দেশিকা জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। তাতে যে কাজ বিশেষ হয়নি তা দেখিয়ে দিল গুরুগ্রাম। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

নিজের অফিসকে করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র বানালেন ভারতীয় মুসলিম ব্যবসায়ী