ভারতের সঙ্গে বন্দর চুক্তি বাতিল করতে পারে শ্রীলঙ্কা

চীন, পাকিস্তান ও নেপালের সঙ্গে সম্পর্কে গুরুতর টানাপোড়ন শুরু হওয়ার পর এখন প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও ভারতের সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নয়া দিল্লির সঙ্গে বন্দর চুক্তি বাতিলের জন্য কলম্বোকে বেইজিং উষ্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউরেশিয়ান টাইমসের বরাত দিয়ে এখবর জানিয়েছে সাউথইস্টমনিটর।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসা সম্প্রতি বলেন যে তার দেশ ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৫০০-৭০০ মিলিয়ন ডলারের বন্দর চুক্তি পুনর্বিবেচনা করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা হলো কোয়াড দেশগুলো, বিশেষ করে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কার দূরে থাকার চেষ্টা। চীনের ভূরাজনৈতিক প্রভাব মোকাবেলার চেষ্টা করছে ভারত। কোয়াডে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া এবং প্রতিটি দেশের সঙ্গেই চীনের সম্পর্ক গোলযোগপূর্ণ।

শ্রীলঙ্কার বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সচিব শিয়ামাল সুমনারত্না বলেন, এই প্রকল্প নিয়ে ভারতের কাছ থেকে বেশ চাপ আছে বলে আমরা শুনেছি। কিন্তু আমরা ভারতের কোন প্রদেশ নই। আমরা স্বাধীন দেশ, তাদের কথায় নাচার প্রয়োজন নেই আমাদের। আমাদের ধর্মঘটের পর প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি এই সমস্যার সমাধান করবেন।

শ্রীলঙ্কার আগের সরকার ইস্ট কনটেইনার টার্মিনাল (ইসিটি) উন্নয়নের ব্যাপারে ভারত ও জাপানের সঙ্গে এমওইউ সই করেছিলো। এতে শ্রীলঙ্কার অংশ ৫১% এবং বাকিটা অন্য দুই দেশের।

শ্রীলঙ্কার বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের আশঙ্কা এতে ইসিটি’র মালিকানা ভারতের হাতে চলে যেতে পারে। তাই তারা টার্মিনালটি শ্রীলঙ্কার বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করবে এমন গ্যারান্টি চাচ্ছে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোন চুক্তি না হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসা জানিয়েছেন।

তবে এটা বিবেচনায় নেয়া গুরুত্বপূর্ণ যে শ্রীলঙ্কা যখনই আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে তখনই উদ্ধার পাওয়ার জন্য তারা চীনের দিকে ফিরেছে। এখন কোভিড মহামারীর মধ্যে আবারো সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আয়াসোফিয়া মসজিদ নিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের কিসের এতো চিন্তা?

৮৬ বছর পর পুনরায় মসজিদ হিসেবে রূপান্তরিত হওয়া ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া নিয়ে ‘চিন্তিত’ পোপ ফ্রান্সিস।

একসময়ের মসজিদ আয়াসোফিয়াকে জাদুঘর থেকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরে তুরস্কের নেয়া সিদ্ধান্তে ‘খুবই কষ্ট’ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার খ্রিস্টান ধর্মের রোমান ক্যাথলিক শাখার প্রধান এই ধর্মগুরু এ ঘটনার নিন্দাও জানিয়েছেন।

ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে ভক্তদের উদ্দেশে দেয়া সাপ্তাহিক ভাষণে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘ইস্তাম্বুল নিয়ে আমার চিন্তা হচ্ছে। আমি সান্তা সোফিয়ার চিন্তা করছি এবং আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি।’

এর আগে অমুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারাও তুরস্কের সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তের নিন্দা জানায়।

ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অফ চার্চেস হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোগানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। অর্থডক্স খ্রিস্টানদের আধ্যাত্মিক নেতাদের ইস্তাম্বুলভিত্তিক বৈশ্বিক সংগঠন প্যাট্রিয়ার্ক বার্থোলোমিউ তুরস্কের এই সিদ্ধান্তকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে।

যদিও মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোগান আয়াসোফিয়াকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

তিনি সাফ বলে দিয়েছেন, ‘তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো নেই।‘

আয়াসোফিয়া মুসলিম, খ্রিস্টান এবং বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলেও জানান এরদোগান।

৮৬ বছর পর পুনরায় মসজিদ হিসেবে রূপান্তরিত হওয়া ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়ায় আগামী ২৪ জুলাই নামাজের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার (১০ জুলাই) কামাল আতাতুর্কের সিদ্ধান্ত বাতিল ও আয়াসোফিয়া-কে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে দেশটির শীর্ষ আদালতের আনুষ্ঠানিক রায়ে দস্তখত করার পর তিনি একথা বলেন।

এদিকে, তুরস্কের ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া মসজিদ নিয়ে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে ফের তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ঐতিহাসিক এই মসজিদের ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে এ দু’দেশের মধ্যকার বিতর্ক অবশ্য এবারই প্রথম নয়। বহু দিন ধরে এ নিয়ে বিতর্ক চলে আসলেও নতুন করে তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মনে করা হচ্ছে এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে গ্রিস এবার তুরস্কের সঙ্গে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ির চেষ্টা করবে।

বলা যায়, খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীদের মধ্যে একমাত্র গ্রিসই তুরস্কের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনায় সম্মুখ ফ্রন্টে অবস্থান করছে। বহু বিষয়ে গ্রিসের সঙ্গে তুরস্কের দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। কিন্তু এবার ধারণা করা হচ্ছে গ্রিস সরকার ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া মসজিদ ইস্যুতে অভিযোগ উত্থাপন করে তুরস্কের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ ও বিদ্বেষ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে।

আয়াসোফিয়া নির্মিত হয়েছিল ষষ্ঠ শতাব্দীতে, তখনকার বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতি সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে। চতুর্থ ক্রুসেডের সময় ইউরোপের ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা এক অভিযান চালিয়ে কনস্টান্টিনোপল দখল করে তারা আয়া সোফিয়াকে অর্থডক্স গীর্জা থেকে ক্যাথলিক ক্যাথিড্রালে পরিণত করেছিল। এ নিয়ে খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘর্ষ ও দখল পাল্টা দখলের ঘটনার পর ১৪৫৩ সালে ওসমানীয় শাসনামলে এটিকে মসজিদে পরিণত করা হয়। সেসময় থেকে ১৯৩০ এর দশক পর্যন্ত এটি ছিলো মুসলিম বিশ্বের অন্যতম মসজিদ। এরপর তুরস্ক থেকে ইসলাম নিশ্চিহ্ণ করে দেওয়ার পর ১৯৩৫ সালে মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক এই মসজিদে নামাজ নিষিদ্ধ করে এবং আয়া সোফিয়াকে একটি জাদুঘরে পরিণত করেন।

তুরস্কের ইসলামপস্থীরা বহুকাল ধরেই চাইছিলেন এটিকে আবার মসজিদে পরিণত করতে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধীদলীয় এমপিরা এর বিরোধিতা করে আসছিলো। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার সমালোচনা করা হয়।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বেশ কিছুকাল আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করার কথা বলেন। গত বছর এক নির্বাচনী সভায় তিনি এই পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান। এ মসজিদটি নিয়ে বরাবরের মতোই এরদোগান সমালোচনার সম্মুখীন।