ভারতীয় মুসলিমদের যে ক্ষতি করেছে মোদি সরকার

নব্বইয়ের দশকে আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে (এএমইউ) পড়ার সময় প্রথম যার সাথে আমার শারীরিক হাতাহাতি হয়, সে ছিল একজন কাশ্মীরী মুসলিম। হোস্টেলে টিভি সেটে যখন ক্রিকেট দেখছিলাম আমরা, তখন পাকিস্তানকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিল সে, যদিও আমাদের দল ভালো ক্রিকেট খেলছিল।

পুরোপুরি জাতীয়তাবাদী ছিলাম আমি। ভারতের বিজয় তুলে ধরে বানানো ফিল্মগুলো আমি পছন্দ করতাম। ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা হিন্দুস্তান হামারা’ গানটা শুনলেই আমার গলার মধ্যে একটা দলা পাকিয়ে উঠতো।

ক্রিকেট ম্যাচে ভারতের হেরে যাওয়ার বিষয়টি টক অব দ্য টাউন হয়ে উঠলে হৃদয় ভেঙ্গে যেতো আমার। সব মিলিয়ে ভারতের জন্য আমার হৃদয়ে ক্ষরণ হতো এবং সবসময় আমি এখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই যদিও আমার কথিত ‘অদেশপ্রেমিক’ মুসলিম বন্ধু আর খানিকটা ‘দেশপ্রেমিক’ হিন্দু বন্ধুরা পশ্চিমা দেশগুলোর সবুজ প্রান্তরের জন্য দেশ ছাড়ার পথ বেছে নেয়।

অন্যদিকে, এএমইউ-এর মতো জায়গায় আমার উদার দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আমি আলাদা হয়ে ছিলাম। আমার মতো মুসলিমদের ব্যঙ্গ করে ‘উদারীকৃত’ বলে ডাকা হতো। একইসাথে মুসলিম ও উদার হতে পেরে আমি ছিলাম গর্বিত। পরিচয় ছিল আমার কাছে একটা বেছে নেয়ার বিষয়।

এরপর সময় গেছে। ভারত বদলে গেছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে, গুজরাটে দাঙ্গা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বেড়েছে, এবং শেষ পর্যন্ত সরকার বদলে গেছে। এই সবকিছুই আমাদের পরিচয়ের উপর একটা ছায়া ফেলেছে। জীবনে প্রথমবারের মতো নিজেকে আরও বেশি মুসলিম মনে হচ্ছে আমার।

নিজের পরিচয় বেছে নেয়ার সুযোগ আছে বলে যেটা মনে হতো একসময়, সেটা ধসে পড়েছে। গতানুগতিক মুসলিম নামধারী হওয়ায় মেট্রোপলিটন শহরে বাড়ি ভাড়া পাওয়ায় অসম্ভব হয়ে গেছে আমার জন্য। আমার নাম জানার পর মানুষের ভাবভঙ্গি পালটে যায় এবং চেহারায় একটা সন্দেহ দেখা দেয়।

আমি অফিসে ঢুকলে সবাই কথাবার্তা বন্ধ করে দেয়। সময়ের সাথে সাথে আমাদের বেছে নেয়ার সুযোগগুলো সীমিত হয়ে গেছে। আমার পরিচয় নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। আমি একজন মুসলিম। এর বেশিও নয়, কমও নয়।

মোদি সরকার এসে শক্ত অবস্থান নেয়ার পর থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়ে গেলো। এটা আমাকে অস্থির করেছে। আমার প্রতিষ্ঠিত মুসলিম পরিচয়ের কারণে যে কোন সময় আমার জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে।

প্রকাশ্যে বিতর্ক করা আমি কমিয়ে দিলাম। প্রকাশ্যে ফোন কল রিসিভ করে সালামু আলাইকুম বলা বন্ধ করে দিলাম। সন্তানদের বললাম যাতে ট্রেন বা বাসে সফরের সময়ে আমাকে আব্বা বলে না ডাকে। এমনকি আমার নামটাও একটি ঘুরিয়ে নিলাম আমি।

আমার খাবারের তালিকা থেকে মাংস চলে গেলো। যখন সফরে থাকি, তখন তো এটা আরও বেশি কঠোরভাবে অনুসরণ করি। কখনও আমি কল্পনাও করিনি যে, নিজের পরিচয় গ্রহণ করার সুবিধাটুকু আমাকে এভাবে পঙ্গু করে দিতে পারে। এই নতুন ভারতে একই সাথে মুসলিম আর উদারপন্থী হওয়ার পরিণতি সত্যিই ভয়াবহ।

আমি আতঙ্কের মধ্যে বাস করতে শুরু করলাম। আমার পরিচয় নিয়ে আরও বেশি ভাবতে শুরু করলাম আমি, যতটা আর বাকি জীবনে কখনও করিনি। আমি এখনও দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ি না এবং এখনও রমজানে রোজা রাখি না। কিন্তু আমি এখনও মুসলিম।

সোশাল মিডিয়ায় আমার নামটা দেখেই মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সহ-নাগরিকদের বিরুদ্ধে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে আমাকে দূরে ঠেলে দেয়া হলো এবং আমার নামে ট্রোল করা হলো।

অদ্ভুত বিষয় হলো, যখন আমি জাত প্রথার বিরুদ্ধে লিখলাম, তখন আমার সমালোচনা করা হলো সবচেয়ে বেশি। ওয়েবসাইটের প্রতিটি পাতায় আমাকে কাফির, জিহাদি, দেশবিরোধী, মোল্লা, কাটুয়া বলে গালাগালি দেয়া হলো।

তালেবান এবং আইসিসের সাথে আমার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হলো। আমার উদার চিন্তা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা হলো: “একজন মুসলিম কিভাবে গণতন্ত্রকে সমর্থন করতে পারে?”

আমি যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করলেই প্রতিপক্ষ আমাকে পাকিস্তানে চলে যেতে বললো, একজন এমনকি সৌদি আরবে চলে যেতেও বলেছে। সবসময় আমার মাথার উপর ঘৃণার মেঘ ঝুলে আছে। আমি এর উপস্থিতি সম্পর্কে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে শুরু করলাম।

এই পুরো প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো আমাকে এটা উপলব্ধি করানো যে, আমার একমাত্র পরিচয় হলো মুসলিম। অন্য কোন পরিচয় আমার জন্য নয়। ধীরে ধীরে আমি নিজেও আমার দেশপ্রেমিক পরিচয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে শুরু করলাম।

আমি মনে করি যে কোন দমনমূলক ব্যবস্থার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও দুর্ভাগ্যজনক অংশ হলো যখন চরম বৈষম্যের মধ্যেও আশাবাদী পরিচয় দিয়ে অনেকে ঝিম ধরে বসে থাকে। একজন একজন করে আশাবাদী মানুষ যখন তাদের আশা হারাতে শুরু করেন, তখন বৈষম্যের শিকড় একটু একটু করে গভীর হয়।

সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্টের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আমাকে আকর্ষণ করে, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে শুধু, যে কিনা দেয়ালের লেখাটা পড়তে পারছিল। গণতন্ত্রের একজন উদ্বিগ্ন নাগরিক হিসেবে আমার যে উদ্বেগ, সেটা সন্ধ্যার আকাশের মতো ভেতরে ভেতরে মিলিয়ে যাচ্ছিল।

মানুষ আশা হারায় যখন সে আর ভালোবাসা পায় না। অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে গেলে এবং বৈষম্যের শিকার হলে মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে ভারত যখন ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হেরে গেলো, তখন আমার এ জন্য খারাপ লাগেনি যে ভারত হেরে গেছে। বরং খারাপ লেগেছে এই উপলব্ধি থেকে যে আমার ভেতরের একটা কিছু মরে গেছে।

অন্য কারণে আমি বরং একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম। বিশ্বকাপের বিজয়কে মোদি তার ব্যক্তিগত প্রচারণার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন না, এটা ভেবে ভালো লেগেছিল।

চীনা আগ্রাসনের খবর যখন আসলো, তখন বিষয়টাকে আমি দেখেছি একজন বহিরাগতের দৃষ্টিতে। নিহত সেনাদের জন্য আমার খুবই যন্ত্রণা লেগেছে, কিন্তু সেটা লেগেছে একজন মানুষ হিসেবে।

তারা এবং আমি উভয়েই যে ভারতীয়, সেই ভাবনা থেকে নয়। অন্যান্য ভারতীয়দের মতো অনুপ্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রীর বিড়বিড় করা, মিথ্যা বলা দেখে প্রচণ্ড বিরক্ত লেগেছে আমারও। একজন নেতা চরম অপমাণিত হয়েছে, যার সরকার আমাকে এবং আমার মতো আরও অনেককে চরম অপমান করে যাচ্ছে।

এই লেখাটা পরিচয় গোপন করে লিখলাম কারণ আমার একটা পরিবার আছে। চাকরি আছে। অনেক প্রতিবেশীদের মাঝখানে আমাকে বাস করতে হয়। এটা একটা নতুন ভারত এবং আমি একজন কাপুরুষ। পরিচয় গোপন রাখা ছাড়া আমার উপায় নেই।

তথ্য ও সুত্র: দ্য ওয়্যার, সাউথ এশিয়ান মনিটর

মাস্ক ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট, সব সাংবাদিক কোয়ারেন্টাইনে

প্রথমে করোনা ভাইরাসকে পাত্তাই দেননি তিনি। করেছিলেন ঠাট্টা মশকরা। হাস্যকরভাবে বলেছিলেন, এটি একটি সাধারণ ফ্লু মাত্র। তার এমন আচরণ ও মানসিকতার জন্য ভুগতে হয়েছে দেশের কয়েক লাখ মানুষকে। দেননি ঠিকমত লকডাউনও। তিনি আর কেউ নন, আলোচিত বা সমালোচিত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো।

সেই বলসোনারো নিজেই এখন করোনায় আক্রান্ত। শুরু থেকেই মাস্ক পরায় ব্যাপক অনীহা তার। তাই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ব্রাজিলের প্রেস অ্যাসোসিয়েসন। দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে তার নামে।

একটি মামলা হয়েছে, তিনি মাস্ক না পরে অনেক মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন এই কারণে। আর অন্য মামলাটি হয়েছে দেশে সংক্রমণ ঠেকাতে তিনি সঠিক পথ অবলম্বন করেননি, করোনা রোধে ব্যর্থ হয়েছেন এই কারণ দেখিয়ে।

শুধু এখানেই শেষ নয়। করোনা পজিটিভ হওয়ার পরও মাস্ক না পরেই দিয়ে যাচ্ছেন দেশটির বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার। জানা গেছে, নিজের করোনা শনাক্তের খবরও তিনি গণমাধ্যমকে দিয়েছেন মাস্ক না পরেই।

জাইর বলসোনারো করোনা পজিটিভ এই খবর জানানোর পর চমকে যান দেশটির সাংবাদিকরা। ওই সময় ওই স্থানে উপস্থিত টিভি চ্যানেলের সকল কর্মীদের পাঠানো হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে।

ফৌজদারির মামলার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে আবেদন জানিয়েছে ব্রাজিলের প্রেস অ্যাসোসিয়েশন।

মুসলিম তরুণদের সামাজিক সক্রিয়তা জার্মানিতে বেড়েছে

জার্মানিতে দিন দিন মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে। আর এই কারণেই মুসলিম তরুণদের সামাজিক কাজে অনেক বেশি অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। পাশাপাশি নারীরাও এসব কাজে অংশ নেন।

জার্মানির পেডাগজিকাল ইউনিভার্সিটি অফ কার্লসরুহের ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক থিওলজি ও রিলিজিয়াস এডুকেশনে গবেষণাটি করা হয়৷ গবেষণার পরিচালক ইয়র্গ ইমরান শ্র্যোটার জানিয়েছেন, ১৪ থেকে ৩৪ বছর বয়সী প্রায় সাতশ’

তরুণের ওপর জরিপ চালানো হয়েছে৷ তবে এরা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং গবেষণায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নিয়েছেন৷ জরিপটি অনলাইনে করা হয়৷

গবেষণায় দেখা গেছে, সাতশ’ তরুণের মধ্যে ৬১ ভাগ জানিয়েছেন তারা সামাজিক নানা কাজে সক্রিয়৷ এর বিনিময়ে বেশিরভাগই কোন টাকাও নেন না৷ এর বাইরে আরো ২০ ভাগ সামাজিকভাবে সক্রিয় হতে চান এবং ১১ ভাগ জানিয়েছেন, তারা আগে সম্পৃক্ত ছিলেন৷

‘‘শিক্ষিত মুসলিম তরুণদের মাঝে সামাজিক কাজে অংশ নেয়ার এই বিপুল আগ্রহ ধার্মিকতার ইতিবাচক প্রভাব বলে মনে করছি আমরা,” ইনস্টিটিউট ও গবেষণা দলের প্রধান ইয়র্গ ব্যাখ্যা করেন৷ ‘‘এতে করে সার্বিকভাবে সমাজের উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ বাড়বে,” যোগ করেন তিনি৷

ইয়র্গ বলেন, তিনটি কারণে তারা সামাজিক কাজে অংশ নিচ্ছেন বা যোগ দিতে চান৷ এক, কিছু একটা করতে চান (৮৮ ভাগ), দুই, ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে (৮১ ভাগ) এবং তিন, ছোট করে হলেও সমাজে অবদান রাখা (৭৯ ভাগ)৷

গবেষণার মূল্যায়ণে আরো বলা হয়, যারা মসজিদ কমিউনিটির অংশ তাদেরই শুধু ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করা উচিত নয়৷ দেখা গেছে, জার্মানিতে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণরা বড়দের চেয়ে মসজিদ কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগ বেশি রাখেন৷ তার মানে এই তরুণদের সামাজিক সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি৷

গবেষকরা দেখেছেন, সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়াদের ৭০ ভাগ নারী৷ তার মানে ইসলামী সমাজে পুরুষতান্ত্রিকতার প্রভাব বেশি, জার্মানিতে প্রচলিত এমন ধারণার সঙ্গে বিষয়টি সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন গবেষক দল৷ তারা মনে করছেন,

সামাজিক নানা কাজে নারীদের সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগানো যেতে পারে৷ গবেষণাটিতে সাইনাস ইনস্টিটিউট বার্লিন ও রবার্ট বশ ফাউন্ডেশন সহায়তা করেছে৷ ডয়চে ভেলে

নিউইয়র্কে প্রথম পুলিশ কমান্ডিং অফিসার হলেন পাকিস্তানি মুসলিম

প্রথম আমেরিকান মুসলিম হিসেবে নিউইয়র্ক সিটির লোকাল প্রিসিন্টের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ক্যাপ্টেন আদিল রানা। গত ৭ জুলাই পাকিস্তান বংশোদ্ভ‚ত এ ক্যাপ্টেনের নিয়োগ নিশ্চিত করে নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগ।

ক্যাপ্টেন রানার নিয়োগ প্রাপ্তিতে শুভেচ্ছা জানায়, আমেরিকার বিভিন্ন মুসলিম কমিউনিটি। একজন মুসলিম কমান্ডিং অফিসার হিসেবে নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগে আদিলই প্রথম।

নতুন ইতিহাস তৈরি করায় ক্যাপ্টেন আদিল নিজেও অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, আমরা এক সঙ্গে কাজ করে নতুন কিছু তৈরি করব। এটি আমেরিকার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।

নিইউয়র্ক পুলিশ বিভাগের চিফ ফাসতো পিসার্ডো এক টুইটবার্তায় ক্যাপ্টেন আদিলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, ক্যাপ্টেন আদিলকে প্রথম পাকিস্তানি আমেরিকান প্রিসেন্ট কমান্ডার হিসেবে শুভেচ্ছা।

সূত্র: দ্য নিউজ

চীনে সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর যা হচ্ছে তা ‘গণহত্যা’

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইগুর ও অন্য সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলছে অত্যাচার। উইগুরদের জোর করে বন্ধ্যা করে দেওয়াসহ তাদের জনসংখ্যা কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে চীনা সরকার।

চীনা কর্তৃপক্ষ এসব সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি এবং জীবনাচরণ নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তাদের বন্দিশিবিরে আটকে রাখছে। আর এমন নির্যাতন-নিপীড়নের মূল্য উদ্দেশ্য জাতিগত গণহত্যা।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) করা একটি তদন্ত প্রতিবেদন এবং জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ অ্যাড্রিয়ান জেনজের নতুন একটি গবেষণা প্রতিবেদন এসব তথ্য সামনে এনেছে।

নতুন তথ্য-প্রমাণ বলছে, জিনজিয়াংয়ের উইগুর ও অন্য সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা কমাতে নারীদের জরায়ুতে আইইউডি (ইন্ট্রা-ইউটেরিন ডিভাইস) স্থাপন করা হচ্ছে, জোরপূর্বক সার্জারি করে তাদের বন্ধ্যা করে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি অনেকক্ষেত্রে গর্ভপাতও করানো হচ্ছে। যেসব নারী একাধিক সন্তান নিচ্ছে, তাদের বন্দিশিবিরে আটক করে রাখা হচ্ছে।

ফাঁস হওয়া কিছু নথি থেকে জিনজিয়াংয়ের কারাকাক্স কাউন্টির বন্দিশিবিরে আটক ৪৮৪ জনের তথ্য জানা যায়।

তাদের মধ্যে ১৪৯ জনকে বেশিসংখ্যক সন্তান নেওয়ায় আটক করা হয়েছিল। এটি আটক করার জন্য খুব সাধারণ একটি কারণ। এ বন্দিশিবিরগুলোকে কারিগরি শিক্ষালয় বলে দাবি করে চীনা সরকার।

এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটা অংকের জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে বেশিসংখ্যক সন্তান নেওয়া নারী-পুরুষদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে বন্দিশিবিরে আটক করে কর্তৃপক্ষ।

জেনজের গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৯ সালে জিনজিয়াং কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা করে, প্রদেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সন্তানধারণে সক্ষম অন্তত ৮০ শতাংশ নারীকে জোরপূর্বক গর্ভনিরোধক সার্জারি করে দেওয়া হবে, তাদের জরায়ুতে আইইউডি স্থাপন করা হবে বা তাদের বন্ধ্যা করে দেওয়া হবে।

২০১৮ সালে চীনে যতো নারীর শরীরে আইইউডি স্থাপন করা হয়েছে, তার ৮০ শতাংশই জিনজিয়াংয়ে হয়েছে। অথচ এ প্রদেশটির জনসংখ্যা চীনের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ।

উইগুরদের জনসংখ্যা কমানোর এ ক্যাম্পেইনটি অনেকাংশেই কাজ করছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে হোতান এবং কাশগার অঞ্চলে উইগুরদের জন্মহার ৬০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। জিনজিয়াং অঞ্চলজুড়ে জন্মহার কমা অব্যাহত রয়েছে। শুধু গত বছরই জন্মহার কমেছে ২৪ শতাংশ, যেখানে গোটা চীনে জন্মহার কমেছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

১৯৪৮ সালের ‘কনভেনশন অন দ্য প্রেইভেনশন অ্যান্ড পানিশমেন্ট অব দ্য ক্রাইম অব জেনোসাইড’ অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্মহার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তা গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সূত্র: ওয়াশিংটিন পোস্ট

মার্কিন বিমান ধ্বংস করল ভেনিজুয়েলার বিমানবাহিনী

ভেনিজুয়েলার একটি সামরিক বিমান
ভেনিজুয়েলার বিমানবাহিনী আমেরিকার একটি মাদক পাচারকারী বিমান ধ্বংস করেছে। বিমানটি ভেনিজুয়েলার আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর দেশটির বিমান বাহিনী এই ব্যবস্থা নেয়।

ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনী টুইটারে দেয়া পোস্টে জানিয়েছে, ৮ জুলাই রাতে ভেনিজুয়েলার আকাশে অনুপ্রবেশকারী একটি মার্কিন বিমান শক্ত করা হয় এবং সামরিক বিমানের সাহায্যে তা ধ্বংস করা হয়েছে।

ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনীর টুইটারে এই ছবিগুলো প্রকাশ করা হয় যেখানে বিমানটির সিরিয়াল নম্বর দেখা যাচ্ছে
ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনী টুইটার দেয়া পোস্টের সঙ্গে কয়েকটি ছবি যুক্ত করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে- বিমানটি দুই ভাগ হয়ে ভেঙে পড়েছে এবং তাতে আগুন ধরে গেছে। ছবিতে বিমানের সিরিয়াল নাম্বার দেখানো হয়েছে এন৩৩৯এভি।

ফ্লাইট রাডারের তথ্য অনুযায়ী এটি ছিল একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন হকার ৮০০ বিমান। এর সর্বশেষ ফ্লাইট রুট ছিল মেক্সিকো। তবে বিমানটি ঠিক কোথায় ভূপাতিত হয়েছে তা জানা যায় নি এবং বিমানের যাত্রীদের সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।