এবার আন্দামান দ্বীপে চীনের বিরুদ্ধে সেনা পাঠাবে ভারত

এবার আন্দামান দ্বীপে চীনের বিরুদ্ধে সেনা পাঠাবে ভারত
লাদাখে চীন ও ভারতের মধ্যে সংঘাতের জের ধরে দুই দেশের যুদ্ধাংদেহী অবস্থা। দুই দেশ ব্যাপকভাবে সেনা ও অস্ত্রের মজুদ করেছে ওই এলাকায়। এর মধ্যেই নতুন চিন্তায় ভারত।

আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় চীনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় ভারতের নতুন এ চিন্তা দেখা দিয়েছে।

ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে আন্দামান-নিকোবরের কাছ দিয়ে জ্বালানি তেল আমদানি করে চীন। সেই বিষয়টি মাথা রেখেই এখন আন্দামান-নিকোবর কমান্ডের গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা নিয়েও নড়েচড়ে বসেছে ভারত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দাবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে ওই দ্বীপপুঞ্জে ভারত অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর কাজ শুরু করেছে।

এই সময়ের খবরে বলা হয়েছে, মহাসাগরের ওপর আন্দামান-নিকোবরের অবস্থান দিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের ‘সম্প্রসারণবাদ কৌশল’ মোকাবেলায় এই এলাকা ভারতের জন্য বেশি জরুরী হয়ে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতি দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় ভারত নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানোর চিন্তা করছে।
এর আগে ২০০১ সালে প্রথম আন্দামান-নিকোবর কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।

এটি দেশটির প্রথম ও একমাত্র থিয়েটার কমান্ড, যেখানে সেনা, বিমান এবং নৌসেনা একটিই অপারেশনাল কমান্ডারের অধীনে রয়েছে।

এদিকে লাদাখের উত্তেজনার পর থেকে ভারত ও চীনের মধ্যে নানা পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। সামরিক প্রস্তুতি ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তিও প্রয়োগ হচ্ছে। ভারত ইতিমধ্যে ৫৯টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে।

এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারতের একটি ওয়েবসাইটের অ্যাকসেস বন্ধ করে দিলে চীন। এখন থেকে চীনে ভারতীয় এই ওয়েবসাইট দেখা যাবে না বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
ভারতের ব্যবস্থা গ্রহণের সেই পথে হেঁটেই এবার চীনের মূল ভূখণ্ডে উইওনিউজ অ্যাকসেস বন্ধ করে দিল চীন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ওয়েবসাইটটি লাদাখে চীনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লেখালেখি করছিল। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে এই পদক্ষেপ নেয় বেইজিং।

মার্চ মাসেই চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ব্লক করা হয়েছে উইঅন ওয়েবসাইটকে। ভারতে চীনা রাষ্ট্রদূতও এই ওয়েবসাইটের চীনবিরোধী কনটেন্ট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

শুধু লাদাখে ভারত-চীন সংঘর্ষ নয়, করোনা বিস্তারে চীনের ভূমিকা নিয়ে এই ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু পছন্দ হয়নি বেইজিংয়ের।

গত সোমবার রাতে কথিত ‘ডিজিটাল স্ট্রাইক’ চালিয়ে মোদী সরকার। বন্ধ করে দেয় চীনের সঙ্গে সম্পর্কিত ৫৯টি মোবাইল অ্যাপ।

এর পরই এই ইস্যুতে বিবৃতি দেয় ভারত সরকার। আর সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব অ্যাপের ডেটা গিয়ে জমা হত ভারতের বাইরে থাকা কোনো সার্ভারে।

সেসব সার্ভার চীনে রয়েছে বলেই জানা যায়। তাই এসব অ্যাপ ভারতের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।