‘ভারতে প্রতিদিন গড়ে ৫ জনের মৃত্যু হয় জেল ও পুলিশ হেফাজতে’

ভারতে প্রতিদিন গড়ে ৫জন করে ব্যক্তি বিচার বিভাগীয় ও পুলিশ হেফাজতে মারা যায় বলে এক রিপোর্টে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ইউনাইটেড এনজিও ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট টর্চার (ইউএনসিএটি)।

শুক্রবার প্রকাশিত তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ২০১৯ সালে ভারতে বিচারবিভাগীয় ও পুলিশ হেফাজতে ১৭৩১ জন ব্যক্তি মারা গিয়েছেন। মৃতদের বেশিরভাগই উপজাতি ও মুসলমান সহ দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

বিশ্বব্যাপী নির্যাতন নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এই মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে মৃতদের ১৬০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলে আর ১২৫ জনের পুলিশ হেফাজতে। ২০১৮ সালে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ১৯৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে জেল হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ১৮১৯ জনের এবং পুলিশ হেফাজতে ১৪৭ জনের প্রাণ চলে গেছে।

ওই মানবাধিকার সংস্থা পরিচালক পরিতোষ চাকমা বলেছেন, “পুলিশ হেফাজতে ১২৫ জন মৃত্যুর মধ্যে ৭৫ শতাংশই দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে দলিত ও উপজাতি সম্প্রদায়ের ১৩ জন,

১৫ জন মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, ৩৭ জনকে অবৈধভাবে মদ খাওয়া, চুরি, প্রতারণা, বেচাকেনায় জালিয়াতি, জুয়া খেলা ইত্যাদির মতো ছোট ছোট অপরাধের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ।

২০১৯ সালে পুলিশ হেফাজতে ১২৫ জন মৃত্যুর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে ১৪ জন নিহত, তারপরে তামিলনাড়ু ও পাঞ্জাবে ১১ জন, বিহারে ১০ জন, মধ্য প্রদেশে ৯ জন নিহত, গুজরাটে ৮ জন নিহত দিল্লি ও ওড়িশায় ১ জন, ঝাড়খণ্ডে ১ জন, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানে ৫ জন করে মারা গেছেন; অন্ধ্রপ্রদেশ ও হরিয়ানা ৪ জন মারা গেছেন।

কেরল, কর্ণাটক এবং জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড এবং মণিপুরে দু’জন এবং আসাম, হিমাচল প্রদেশ, তেলঙ্গানা এবং ত্রিপুরায় পুলিশ হেফাজতে ১ জন করে মারা গেছে।

১২৫ জনের মৃত্যুর মধ্যে ৯৩ জন (.৪৮.৮%) পুলিশি হেফাজতে চলাকালীন নির্যাতনের কারণে মারা গিয়েছে এবং ২৪ জন (১৯.২%) সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মারা গেছে, যেখানে পুলিশ দাবি করেছে যে তারা আত্মহত্যা করেছে (১জন), অসুস্থ (১ জন) ) এবং আহত (১ জন) এবং পাঁচ (৪%) ব্যক্তির হেফাজত মৃত্যুর কারণগুলি অজানা।

পরিতোষ চাকমা বলেন, নির্যাতনের পদ্ধতিগুলির মধ্যে রয়েছে শরীরে হাতুড়ি দিয়ে লোহার পেরেক মারা, ব্যক্তিগত অংশগুলিতে আঘাত করা এবং লঙ্কার গুঁড়ো প্রয়োগ করা ব্যক্তিগত অংশে, মুখে প্রস্রাব করা, ওরাল সেক্স করা ইত্যাদি ।

২০১৯ সালে স্বীকারোক্তি বা ঘুষ নেওয়ার জন্য নির্যাতন করা হয় এবং নির্যাতনের পদ্ধতিতে শরীরে লোহার নখের হাতুড়ি মারা (বিহারের গুফরান আলম ও তসলিম আনসারি), পায়ে রোলার লাগানো এবং জ্বালানো (জম্মু ও কাশ্মীরের রিজওয়ান আসাদ পণ্ডিত),

‘ফালঙ্গা ‘যার মধ্যে পায়ের ও পেটের তলে মারধর করা হয় (কেরালার রাজকুমার), বিপরীত দিকে পা ছড়িয়ে (কেরালার রাজকুমার), ব্যক্তিগত অংশে আঘাত করে (হরিয়ানের বৃজপাল মৌর্য এবং লিনা নারজিনারি),

বড় সূঁচ দিয়ে শরীরের মধ্যে চিরে ছিঁড়ে ফেলে মারা (৩ বছরের- তামিলনাড়ুর প্রবীণ নাবালিকা (হরিয়ানার মোহাম্মদ তানভির ও লীনা নারজিনারী; আসামের মিনুয়ারা বেগম, সানুয়ারা এবং রুমেলা) এবং গর্ভবতী মহিলার পেটে লাথি মেরে (আসামের মিনুয়ারা বেগম) নির্যাতন করার মতো ঘটনা রয়েছে।

নির্যাতনের অন্যান্য পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক শক, পেট্রল ,শলাকা, হাতকড়া পেটাতে পিটুনি, সূঁচের সাহায্যে শরীর চূর্ণ করা, গরম লোহার রড দিয়ে ব্র্যান্ডিং করা, স্ট্রাইপিংয়ের পরে মারধর করা, মলদ্বারে শক্ত জিনিস দিয়ে মারা ,পা দুটো বেঁধে ঝুলিয়ে দেওয়া, ওরাল সেক্স করা জোর করে, আঙুলের নখ চেপে রাখা এবং হাত ও পা বেঁধে দুটি টেবিলের মাঝে রেখে লোহার রড দিয়ে মারধর করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বেশ কয়েকটি মামলায় বাধ্যতামূলক পোস্ট মর্টেম পরীক্ষা না করেই পুলিশ লাশ দাফন করেছে। এই ভাবে নির্যাতনের প্রমাণ নষ্ট করার সমস্ত চেষ্টা করেছে তারা।

২০১৯ সালে পুলিশ হেফাজতের সময় কমপক্ষে চার মহিলার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের পুলিশ প্রায় নিয়মিতভাবেই এসব মৃত্যুর কারণ হিসেবে অসুস্থতা, পালানোর চেষ্টা, আত্মহত্যা কিংবা দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করে।

কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এ ধরণের মৃত্যুর একটি বড় অংশই ঘটে পুলিশী হেফাজতে নির্যাতনের কারণে। এদিকে তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে পুলিশি অত্যাচারে পি জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে বেনিকস-এর মৃত্যুতে ফুঁসছে গোটা দেশ।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় (outrage on social media)। এমনকি পুলিশি হেফাজতে পি জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে বেনিকস-এর মৃত্যুর ঘটনাকে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার সঙ্গেও তুলনা করছেন অনেকে।

কোভিড কারফিউ ভঙ্গ করার ‘অপরাধে’ পুলিশি অত্যাচারে পি জয়রাজ এবং জে বেনিকস-এর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কারোর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়নি।

তুতিকোরিনের সাথানকুলাম শহরে এই বাবা-ছেলের মত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মী, এদের পুলিশি হেফাজতে দেওয়ার জন্য ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া সরকারি ডাক্তার, এদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলকর্মী কারোর বিরুদ্ধেই কোনও আইনি ব্যবস্থা নেয়নি তামিলনাড়ু সরকার। সূত্র: পুবের কলম

ভারতের বিরুদ্ধে সব ফ্রন্টে প্রস্তুত চীনা বাহিনী; যুক্ত হচ্ছে মার্শাল আর্ট যোদ্ধারা

চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধে ভারতকে আমেরিকা সমর্থন দেয়ায় এ থেকে ফায়দা হাসিল করা যাবে বলে ভারতের সেনা অফিসাররা ভাবলে সেটা বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছু হবে না।

চীনের বিশ্লেষকরা এ কথা মনে করেন। কারণ চীনে সেনাবাহিনী প্রতিটি ফ্রন্ট-দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান দ্বীপের আশেপাশে ও চীন-ভারত সীমান্তের কাছে তীব্র ও যুগপৎ মহড়া চালিয়ে উচ্চমাত্রার যুদ্ধ প্রস্তুতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে।

সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে এসে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান এম এম নারাভানে তার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে পরিস্থিতি সম্পর্কে শুক্রবার ব্রিফ করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী মনে করছে- এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হবে।

ভারতীয় মিডিয়ার খবরে দাবি করা হয়, সীমান্ত এলকায় চীন সু-৩০ ফাইটার ও এইচ-৬ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। তাই লাদাখে আকাশ বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপনাস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত।

শুক্রবার এক খবরে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম পিটিআই বলে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, তার দেশ জার্মানি থেকে সেনা কমিয়ে এনে চীনের হুমকি মোকাবেলা করার জন্য অন্যান্য স্থানে মোতায়েন করবে।

চীনকে মোকাবেলায় যে চেষ্টা চলছে ভারতকে তার একটি কার্ডে পরিণত করতে অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছে আমেরিকা। এখন চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে তারা ভারতের অভ্যন্তরীণ জাতীয়বাদী ও কট্টরপন্থীদের ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এটা ভাবা বোকামি যে আমেরিকা দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হবে আর তাতে সীমান্ত বিরোধে জড়িয়ে ভারত সুবিধা পেয়ে যাবে।

ওয়েই বলেন, সবক্ষেত্রে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) উচ্চমাত্রা যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে আছে। তবে এই উত্তেজনার পরও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বাধার সম্ভাবনা কম। এর কারণ হলো পিএলএ’র শক্তি ও কৌশলগত প্রতিরোধক।

বিশ্লেষক আরো উল্লেখ করেন, বিভিন্ন অঞ্চলে একই সঙ্গে ও তীব্র সামকির মহড়ার মাধ্যমে পিএলএ উচ্চমাত্রার যুদ্ধপ্রস্তুতির সামর্থ্য দেখিয়েছে।

সম্প্রতি তাইওয়ানের আশেপাশে মার্কিন সামরিক বিমানের আনাগোনার কারণে জুনে অন্তত ৮ বার পিএলএ’র সামরিক বিমান ওই অঞ্চলে টহল দেয়। এরপরও ভারত সীমান্তে চীনের পিএলএ’র মহড়া থেমে থাকেনি।

পিএলএ’র ৭৪ আর্মি গ্রুপ সম্প্রতি হাজার কিলোমিটার দূরে উত্তরপশ্চিম চীনে গিয়ে দিবা-রাত্রি আর্টিলারি স্ট্রাইক ড্রিল চালিয়েছে।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

ধারনার চেয়েও বেশি ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে চীন

চীনা সেনাবাহিনী লাদাখের গালওয়ান উপত্যকার সীমানা পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের ৪২৩ মিটার পর্যন্ত এলাকায় প্রবেশ করতে পেরেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ।

১৯৬০ সালে চীন ভারতীয় অংশের যে পরিমাণ ভূমি দাবি করেছিল, এখন তার চেয়েও বেশি ভূমি দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে তারা। এনডটিভি জানায়, গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় অংশে রয়েছে চীনা বাহিনীর ১৬ টি তাঁবু, একটি বড় আশ্রয়কেন্দ্রে ও অন্তত ১৪ টি গাড়ি।

সোমবার (২৯ জুন) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘর্ষের ১০ দিন পর গত ২৫ জুন তোলা উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ভারতের অভ্যন্তরে ৪২৩ মিটার ঢুকে গেছে চীন।

১৯৬০ সালে ‘রিপোর্ট অব দ্য অফিসিয়্যালস অব দ্য গভর্নমেন্টস অব ইন্ডিয়া এন্ড দ্য পিপল’স রিপাবলিক অব চায়না অন দ্য বাউন্ডারি কোশ্চেন’ এ বেইজিং এর পক্ষ থেকে যে পরিমাণ ভূখণ্ড দাবি করার কথা জানা গেছে, তার চেয়ে এর পরিমাণ বেশি।

রবিবার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনের নাম উল্লেখ না করে বলেন, “লাদাখে ভারতের দিকে যারা খারাপ নজর দিয়েছে, তাদের আমরা উপযুক্ত জবাব দিয়েছি। ভারত বন্ধুত্বের মর্যাদা রাখতে জানে। কিন্তু শত্রুকেও উপযুক্ত জবাব দিতে পারে।”

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে উত্তেজনার পর গত ১৫ জুন (সোমবার) উভয় পক্ষ সংঘাতে জড়ায়। এতে ভারতের ২০ সেনা নিহত ও অপর ৭৬ জন আহত হয়।

ভারত দাবি করে আসছে, চীনের অন্তত ৪৫ জন হতাহত হয়েছে। তবে চীন সরকারিভাবে কোনও হতাহতের খবর জানায়নি। দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করার অভিযোগ এনেছে।

আরো পড়ুন-প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বাইডেনই: ট্রাম্প

সদ্য হওয়া তিনটি জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত, তাঁকে বেশ খানিকটা পিছনে ফেলে দিয়েছেন তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। একটি খবরের চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও প্রায় বলেই ফেললেন যে, বাইডেনই প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন, কারণ দেশের কিছু মানুষ তাঁকে ভালবাসেন না।

সাক্ষাৎকারের শুরুটা হয়েছিল বাইডেনকে আক্রমণ করেই। অতিমারি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং লকডাউনের জেরে আর্থিক মন্দা নিয়ে দেশের তাবড় সেলিব্রিটিরা পর্যন্ত মুখ খুলেছেন।

সেই সঙ্গে বর্ণবিদ্বেষ-বিরোধী আন্দোলনে ট্রাম্পের সেনা পাঠানোর হুমকিও ভাল চোখে নেননি অনেকেই। সাক্ষাৎকারটির ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বাইডেনও প্রেসিডেন্টকে বিঁধে বলেছেন, ‘‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ট্রাম্প শিশুদের মতো আচরণ করেছেন। মনে হচ্ছে ওঁকে ছাড়া আমাদের সকলের উপরেই প্রভাব ফেলেছে এই অতিমারি।’’

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর এই বক্তব্যেরই প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল ট্রাম্পের কাছে। যার জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথমে বাইডেনের এক গুচ্ছ সমালোচনা করেন। তার পরেই বলেন, ‘‘একটা লোক ভাল করে কথা পর্যন্ত বলতে পারে না।

অথচ উনিই আপনাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। কারণ এ দেশেরই কিছু মানুষ আমায় ভালবাসেন না হয়তো।’’ তার পরেই তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি আমার কাজটাই করছি।’’

বেশ কিছু সমীক্ষা আবার এ-ও বলছে, আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে বাড়ছে বর্তমান প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা। মিশিগান, ফ্লরিডা, টেক্সাস, পেনসিলভ্যানিয়া, ভার্জিনিয়ার মতো প্রদেশে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত চাইছেন, ট্রাম্পই ফের প্রেসিডেন্টের গদিতে বসুন।

অথচ আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদেরই সমর্থন করারই প্রবণতা ছিল এত দিন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সচিব সারা ম্যাথিউস সাংবাদিকদের জানান, ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এমন সমর্থন পেয়ে প্রেসিডেন্ট অভিভূত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্রথম থেকেই ভারতের সঙ্গে

সুসম্পর্ক গড়ে তোলায় জোর দেন ট্রাম্প। তাই নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা সফরে এলে হাউডি মোদী ও ট্রাম্প ভারতে গেলে কেমছো ট্রাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। সারা বলেছেন, ‘‘আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতিতে ভারতীয়-মার্কিন নাগরিকদের অবদানকে প্রেসিডেন্ট গুরুত্ব দেন।’’

এ দিকে, মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল তোলার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের অর্থ খরচ করার অধিকার ট্রাম্প প্রশাসনের নেই বলে রায় দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত।